hadith book logo

তাফসীরুল কুরআন বিল কুরআন

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৫৯৮

অধ্যায়- ২৬ : যুদ্ধের কারণ

সত্যের বিজয় ও মিথ্যার ধ্বংস নিশ্চিত করা :

وَاِذْ يَعِدُكُمُ اللهُ اِحْدَى الطَّآئِفَتَيْنِ اَنَّهَا لَكُمْ وَتَوَدُّوْنَ اَنَّ غَيْرَ ذَاتِ الشَّوْكَةِ تَكُوْنُ لَكُمْ وَيُرِيْدُ اللهُ اَنْ يُّحِقَّ الْحَقَّ بِكَلِمَاتِهٖ وَيَقْطَعَ دَابِرَ الْكَافِرِيْنَ – لِيُحِقَّ الْحَقَّ وَيُبْطِلَ الْبَاطِلَ وَلَوْ كَرِهَ الْمُجْرِمُوْنَ

স্মরণ করো, যখন আল্লাহ তোমাদেরকে প্রতিশ্রুতি দেন যে, দু’টি দলের একদল তোমাদের আয়ত্তাধীন হবে; অথচ তোমরা চাচ্ছিলে যে, নিরস্ত্র দলটি তোমাদের আয়ত্তাধীন হোক। আর আল্লাহ চাচ্ছিলেন যে, তিনি সত্যকে তাঁর বাণী দ্বারা প্রতিষ্ঠিত করবেন এবং কাফিরদেরকে নির্মূল করবেন। এটা এজন্য যে, তিনি সত্যকে সত্য ও অসত্যকে অসত্য প্রতিপন্ন করেন, যদিও অপরাধীরা এটা পছন্দ করে না। (সূরা আনফাল- ৭, ৮)

لِيَمِيْزَ اللهُ الْخَبِيْثَ مِنَ الطَّيِّبِ وَيَجْعَلَ الْخَبِيْثَ بَعْضَهٗ عَلٰى بَعْضٍ فَيَرْكُمَهٗ جَمِيْعًا فَيَجْعَلَهٗ فِيْ جَهَنَّمَ اُولٰٓئِكَ هُمُ الْخَاسِرُوْنَ

এটা এজন্য যে, আল্লাহ খারাপ লোকদেরকে ভালো হতে পৃথক করবেন এবং খারাপ লোকদেরকে একে অপরের উপর রাখবেন। অতঃপর সকলকে একত্র করে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন; মূলত এরাই ক্ষতিগ্রস্ত। (সূরা আনফাল- ৩৭)

ফিতনা দূর করা :

وَاتَّقُوْا فِتْنَةً لَّا تُصِيْبَنَّ الَّذِيْنَ ظَلَمُوْا مِنْكُمْ خَآصَّةًۚ وَاعْلَمُوْاۤ اَنَّ اللهَ شَدِيْدُ الْعِقَابِ

তোমরা এমন ফিতনাকে ভয় করো, যা বিশেষ করে তোমাদের মধ্যে যারা যালিম কেবল তাদেরকেই ক্লিষ্ট করবে না। জেনে রেখো, নিশ্চয় আল্লাহ শাস্তিদানে খুবই কঠোর। (সূরা আনফাল- ২৫)

জাহেলিয়াতকে দূর করা ও ইসলামকে বাঁচিয়ে রাখা :

لِيَهْلِكَ مَنْ هَلَكَ عَنْ ۢبَيِّنَةٍ وَّيَحْيٰ مَنْ حَيَّ عَنْ ۢبَيِّنَةٍؕ وَاِنَّ اللهَ لَسَمِيْعٌ عَلِيْمٌ

যে ব্যক্তি ধ্বংস হবে, সে যেন সত্য স্পষ্টভাবে প্রকাশের পর ধ্বংস হয়। আর যে জীবিত থাকবে, সে যেন সত্যকে স্পষ্টভাবে প্রকাশের পর জীবিত থাকে; নিশ্চয় আল্লাহ সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ। (সূরা আনফাল- ৪২)

ব্যাখ্যা : অর্থাৎ এতে প্রমাণ হয়ে যাবে যে, যে ব্যক্তি জীবিত আছে তার জীবিত থাকাই উচিত ছিল এবং যে ধ্বংস হয়ে গেছে তার ধ্বংস হয়ে যাওয়াই সমীচীন ছিল। এখানে জীবিত থাকা ও ধ্বংস হওয়া বলতে কোন ব্যক্তিদেরকে নয়, বরং ইসলাম ও জাহেলিয়াতকে বুঝানো হয়েছে। কুরাইশ সেনাদল অগ্রসর হওয়ার পর মূলত প্রশ্ন দেখা দিয়েছিল, ইসলামী দাওয়াত ও জাহেলী ব্যবস্থা এ দু’য়ের মধ্যে আরব ভূখন্ডে কার বেঁচে থাকার অধিকার আছে? যদি মুসলিমরা সেসময় সাহসের সাথে মুকাবিলা করতে এগিয়ে না আসত, তাহলে এরপর ইসলামের জন্য আর বেঁচে থাকার কোন সুযোগ থাকত না। পক্ষান্তরে মুসলিমদের ঘর থেকে বের হয়ে পড়া এবং প্রথম পদক্ষেপেই কুরাইশ শক্তির উপর চূড়ান্ত আঘাত হানার কারণে এমন অবস্থা সৃষ্টি হয়ে গিয়েছিল, যার ফলে ইসলাম দৃঢ়ভাবে পা রাখার জায়গা পেয়ে গিয়েছিল এবং এর পরের সমস্ত মুকাবিলায় জাহেলিয়াত একের পর এক পরাজয় বরণ করেছিল।