১
তাফসীরুল কুরআন বিল কুরআন
লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৬০৭
অধ্যায়- ৩৫ : বনু নাযীরের যুদ্ধ
ওহুদ যুদ্ধে আবদুল্লাহ ইবনে উবাই বিশ্বাসঘাতকতা করে মদিনা সনদের শর্তভঙ্গ করলে মহানবী ﷺ বনু নাযীরের মহল্লায় উপস্থিত হয়ে মুক্তিপণ দিতে অনুরোধ জানান। এমতাবস্থায় আমর বিন জাহ্শ নামক এক ইয়াহুদি মহানবী ﷺ কে হত্যা করার ষড়যন্ত্র করে। সৌভাগ্যক্রমে মহানবী ﷺ এ চক্রান্তের কথা জানতে পেরে তাদেরকে মদিনা ত্যাগ করার নির্দেশ দেন। কিন্তু নির্দেশ অমান্য করে তারা আবদুল্লাহর নেতৃত্বে যুদ্ধের প্রস্তুতি গ্রহণ করলে মহানবী ﷺ তাদেরকে অবরুদ্ধ করতে বাধ্য হন। অবশেষে তাদেরকে ৪র্থ হিজরীর রবিঊল আওয়াল মাসে মদিনা হতে বহিষ্কার করেন। অতঃপর তারা মদিনা হতে বিতাড়িত হয়ে সিরিয়া ও খায়বারে গিয়ে বসবাস করতে থাকে।
মুনাফিকরা বনু নাযীরকে মদিনা ছাড়তে বাধা দেয় :
اَلَمْ تَرَ اِلَى الَّذِيْنَ نَافَقُوْا يَقُوْلُوْنَ لِاِخْوَانِهِمُ الَّذِيْنَ كَفَرُوْا مِنْ اَهْلِ الْكِتَابِ لَئِنْ اُخْرِجْتُمْ لَنَخْرُجَنَّ مَعَكُمْ وَلَا نُطِيْعُ فِيكُمْ اَحَدًا اَبَدًا وَاِنْ قُوْتِلْتُمْ لَنَنْصُرَنَّكُمْؕ وَاللهُ يَشْهَدُ اِنَّهُمْ لَكَاذِبُوْنَ
তুমি কি মুনাফিকদেরকে দেখনি? তারা আহলে কিতাবদের মধ্যে যারা কুফরী করেছে তাদের ঐ সব সঙ্গীকে বলে- তোমরা যদি বহিষ্কৃত হও, তবে অবশ্যই আমরাও তোমাদের সাথে দেশত্যাগী হব এবং আমরা তোমাদের ব্যাপারে কখনো কারো কথা মান্য করব না। আর যদি তোমরা আক্রান্ত হও, তবে অবশ্যই আমরা তোমাদেরকে সাহায্য করব; কিন্তু আল্লাহ সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে, তারা মিথ্যাবাদী। (সূরা হাশর- ১১)
মুনাফিকরা তাদেরকে মিথ্যা আশ্বাস দিয়েছিল :
لَئِنْ اُخْرِجُوْا لَا يَخْرُجُوْنَ مَعَهُمْۚ وَلَئِنْ قُوْتِلُوْا لَا يَنْصُرُوْنَهُمْۚ وَلَئِنْ نَّصَرُوْهُمْ لَيُوَلُّنَّ الْاَدْبَارَ ثُمَّ لَا يُنْصَرُوْنَ
বস্তুত তারা বহিষ্কার হলে মুনাফিকরা তাদের সাথে দেশ ত্যাগ করবে না এবং তারা আক্রান্ত হলে মুনাফিকরা তাদেরকে সাহায্যও করবে না। আর যদি তারা সাহায্য করতে আসেও, তবে অবশ্যই তারা পৃষ্ঠপ্রদর্শন করবে। অতঃপর তারা আর কোন সাহায্যপ্রাপ্ত হবে না। (সূরা হাশর- ১২)
তারা শয়তানের মতোই প্রতারণামূলক আশ্বাস দিয়েছিল :
كَمَثَلِ الشَّيْطَانِ اِذْ قَالَ لِلْاِنْسَانِ اكْفُرْۚ فَلَمَّا كَفَرَ قَالَ اِنِّيْ بَرِيْٓءٌ مِّنْكَ اِنِّۤيْ اَخَافُ اللهَ رَبَّ الْعَالَمِيْنَ
তাদের দৃষ্টান্ত শয়তানের মতো- যে মানুষকে বলে, কুফরী করো। অতঃপর যখন সে কুফরী করে তখন শয়তান বলে- তোমার সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই, আমি জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহকে ভয় করি। (সূরা হাশর- ১৬)
তাদের বাগানের গাছপালা কেটে ফেলা হয় :
مَا قَطَعْتُمْ مِّنْ لِّيْنَةٍ اَوْ تَرَكْتُمُوْهَا قَآئِمَةً عَلٰۤى اُصُوْلِهَا فَبِاِذْنِ اللهِ وَلِيُخْزِىَ الْفَاسِقِيْنَ
তোমরা যে খেজুর গাছগুলো কেটেছ এবং যেগুলো কান্ডের উপর স্থির রেখে দিয়েছ, তা তো আল্লাহর অনুমতিক্রমেই করেছ। এটা এজন্য যে, আল্লাহ পাপাচারীদেরকে লাঞ্ছিত করবেন। (সূরা হাশর- ৫)
ব্যাখ্যা : বনু নাযীর গোত্রের দুর্গ অবরোধকালে তাদের আত্মসমর্পণের জন্য তাদের বাগানগুলো নষ্ট করার অনুমতি থাকলেও কোন কোন মুসলিম এ মনে করে সেগুলো নষ্ট করেননি যে, অবরোধ শেষে এগুলো তো মুসলিমদেরই হবে। আবার কেউ কেউ ইয়াহুদিদের মনে কষ্ট দেয়ার জন্য কিছু গাছ কেটে দিয়েছিল। তখন আল্লাহ তা‘আলা উক্ত আয়াত নাযিল করে উভয় দলের কার্যক্রমকেই সঠিক বলে ঘোষণা করেন।
প্রথম আক্রমণেই তাদেরকে বহিষ্কার করা হয় :
هُوَ الَّذِيْۤ اَخْرَجَ الَّذِيْنَ كَفَرُوْا مِنْ اَهْلِ الْكِتَابِ مِنْ دِيَارِهِمْ لِاَوَّلِ الْحَشْرِؕ مَا ظَنَنْتُمْ اَنْ يَّخْرُجُوْا وَظَنُّوْاۤ اَنَّهُمْ مَّانِعَتُهُمْ حُصُوْنُهُمْ مِّنَ اللهِ
তিনিই সেই সত্তা, যিনি আহলে কিতাবদের মধ্যে যারা কাফির তাদেরকে প্রথম সমাবেশেই তাদের আবাসভূমি হতে বিতাড়িত করেছিলেন। অথচ তোমরা কল্পনাও করনি যে, তারা নির্বাসিত হবে। তারা মনে করেছিল, তাদের দুর্ভেদ্য দুর্গগুলো তাদেরকে আল্লাহ হতে রক্ষা করবে। (সূরা হাশর- ২)
তাদের ঘরবাড়ি ভেঙ্গে তছনছ করে ফেলা হয় :
فَاَتَاهُمُ اللهُ مِنْ حَيْثُ لَمْ يَحْتَسِبُوْاۗ وَقَذَفَ فِيْ قُلُوْبِهِمُ الرُّعْبَ يُخْرِبُوْنَ بُيُوْتَهُمْ بِاَيْدِيْهِمْ وَاَيْدِى الْمُؤْمِنِيْنَۗ فَاعْتَبِرُوْا يَاۤ اُولِى الْاَبْصَارِ
কিন্তু আল্লাহ তাদের উপর এমন এক দিক হতে চড়াও হলেন, যা ছিল তাদের ধারণাতীত এবং তিনি তাদের অন্তরে ভয়ের সঞ্চার করলেন। ফলে তারা তাদের বাড়িঘর ধ্বংস করে ফেলল- নিজেদের হাতে এবং মুমিনদের হাতেও। অতএব হে চক্ষুষ্মান ব্যক্তিগণ! তোমরা উপদেশ গ্রহণ করো। (সূরা হাশর- ২)
বহিষ্কার না হলেও তারা শাস্তি পেত :
وَلَوْلَاۤ اَنْ كَتَبَ اللهُ عَلَيْهِمُ الْجَلَآءَ لَعَذَّبَهُمْ فِى الدُّنْيَاؕ وَلَهُمْ فِى الْاٰخِرَةِ عَذَابُ النَّارِ
আল্লাহ তাদের নির্বাসনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ না করলেও তাদেরকে পৃথিবীতে (অন্য) শাস্তি দিতেন; আর পরকালে তাদের জন্য রয়েছে জাহান্নামের আযাব। (সূরা হাশর- ৩)
কারণ তারা ইসলামের বিরোধিতা করেছে :
ذٰلِكَ بِاَنَّهُمْ شَآقُّوا اللهَ وَرَسُوْلَهٗۚ وَمَنْ يُّشَآقِّ اللهَ فَاِنَّ اللهَ شَدِيْدُ الْعِقَابِ
এটা এজন্য যে, তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধাচরণ করেছিল। আর কেউ যদি আল্লাহর বিরুদ্ধাচরণ করে, তবে (জেনে রেখো) নিশ্চয় আল্লাহ শাস্তি দানে খুবই কঠোর। (সূরা হাশর- ৪)
কষ্ট ছাড়াই তাদের সম্পদ মুসলিমদের হাতে চলে আসে :
وَمَاۤ اَفَآءَ اللهُ عَلٰى رَسُوْلِهٖ مِنْهُمْ فَمَاۤ اَوْجَفْتُمْ عَلَيْهِ مِنْ خَيْلٍ وَّلَا رِكَابٍ وَّلٰكِنَّ اللهَ يُسَلِّطُ رُسُلَهٗ عَلٰى مَنْ يَّشَآءُؕ وَاللهُ عَلٰى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيْرٌ
আল্লাহ তাদের (ইয়াহুদিদের) নিকট হতে যে ফাই (সম্পদ) তাঁর রাসূলকে দান করেছেন, তার জন্য তোমরা ঘোড়া কিংবা উষ্ট্রে আরোহণ করনি। আল্লাহ যার উপর ইচ্ছা তাঁর রাসূলদেরকে বিজয়ী করেন; আল্লাহ সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান। (সূরা হাশর- ৬)
এ সম্পদ বণ্টনের নিয়ম বলে দেয়া হয় :
مَاۤ اَفَآءَ اللهُ عَلٰى رَسُوْلِهٖ مِنْ اَهْلِ الْقُرٰى فَلِلّٰهِ وَلِلرَّسُوْلِ وَلِذِى الْقُرْبٰى وَالْيَتَامٰى وَالْمَسَاكِيْنِ وَابْنِ السَّبِيْلِ كَيْ لَا يَكُوْنَ دُوْلَةً ۢبَيْنَ الْاَغْنِيَآءِ مِنْكُمْؕ وَمَاۤ اٰتَاكُمُ الرَّسُوْلُ فَخُذُوْهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوْا وَاتَّقُوا اللهَؕ اِنَّ اللهَ شَدِيْدُ الْعِقَابِ
আল্লাহ এই জনপদবাসীর নিকট হতে তাঁর রাসূলকে যা কিছু দিয়েছেন, তা আল্লাহর, তাঁর রাসূলের, (রাসূল ﷺ এর) স্বজনদের, ইয়াতীমদের, অভাবগ্রস্ত ও মুসাফিরদের জন্য বরাদ্দ। (এ পদ্ধতি এজন্য যে) যাতে তোমাদের মধ্যে যারা ধনী শুধু তাদের মধ্যেই সম্পদ আবর্তন না করে। অতএব রাসূল তোমাদেরকে যা দেয়, তা গ্রহণ করো এবং যা হতে নিষেধ করে, তা হতে বিরত থাকো। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো; নিশ্চয় আল্লাহ শাস্তি দানে খুবই কঠোর। (সূরা হাশর- ৭)
মুনাফিকরা বনু নাযীরকে মদিনা ছাড়তে বাধা দেয় :
اَلَمْ تَرَ اِلَى الَّذِيْنَ نَافَقُوْا يَقُوْلُوْنَ لِاِخْوَانِهِمُ الَّذِيْنَ كَفَرُوْا مِنْ اَهْلِ الْكِتَابِ لَئِنْ اُخْرِجْتُمْ لَنَخْرُجَنَّ مَعَكُمْ وَلَا نُطِيْعُ فِيكُمْ اَحَدًا اَبَدًا وَاِنْ قُوْتِلْتُمْ لَنَنْصُرَنَّكُمْؕ وَاللهُ يَشْهَدُ اِنَّهُمْ لَكَاذِبُوْنَ
তুমি কি মুনাফিকদেরকে দেখনি? তারা আহলে কিতাবদের মধ্যে যারা কুফরী করেছে তাদের ঐ সব সঙ্গীকে বলে- তোমরা যদি বহিষ্কৃত হও, তবে অবশ্যই আমরাও তোমাদের সাথে দেশত্যাগী হব এবং আমরা তোমাদের ব্যাপারে কখনো কারো কথা মান্য করব না। আর যদি তোমরা আক্রান্ত হও, তবে অবশ্যই আমরা তোমাদেরকে সাহায্য করব; কিন্তু আল্লাহ সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে, তারা মিথ্যাবাদী। (সূরা হাশর- ১১)
মুনাফিকরা তাদেরকে মিথ্যা আশ্বাস দিয়েছিল :
لَئِنْ اُخْرِجُوْا لَا يَخْرُجُوْنَ مَعَهُمْۚ وَلَئِنْ قُوْتِلُوْا لَا يَنْصُرُوْنَهُمْۚ وَلَئِنْ نَّصَرُوْهُمْ لَيُوَلُّنَّ الْاَدْبَارَ ثُمَّ لَا يُنْصَرُوْنَ
বস্তুত তারা বহিষ্কার হলে মুনাফিকরা তাদের সাথে দেশ ত্যাগ করবে না এবং তারা আক্রান্ত হলে মুনাফিকরা তাদেরকে সাহায্যও করবে না। আর যদি তারা সাহায্য করতে আসেও, তবে অবশ্যই তারা পৃষ্ঠপ্রদর্শন করবে। অতঃপর তারা আর কোন সাহায্যপ্রাপ্ত হবে না। (সূরা হাশর- ১২)
তারা শয়তানের মতোই প্রতারণামূলক আশ্বাস দিয়েছিল :
كَمَثَلِ الشَّيْطَانِ اِذْ قَالَ لِلْاِنْسَانِ اكْفُرْۚ فَلَمَّا كَفَرَ قَالَ اِنِّيْ بَرِيْٓءٌ مِّنْكَ اِنِّۤيْ اَخَافُ اللهَ رَبَّ الْعَالَمِيْنَ
তাদের দৃষ্টান্ত শয়তানের মতো- যে মানুষকে বলে, কুফরী করো। অতঃপর যখন সে কুফরী করে তখন শয়তান বলে- তোমার সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই, আমি জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহকে ভয় করি। (সূরা হাশর- ১৬)
তাদের বাগানের গাছপালা কেটে ফেলা হয় :
مَا قَطَعْتُمْ مِّنْ لِّيْنَةٍ اَوْ تَرَكْتُمُوْهَا قَآئِمَةً عَلٰۤى اُصُوْلِهَا فَبِاِذْنِ اللهِ وَلِيُخْزِىَ الْفَاسِقِيْنَ
তোমরা যে খেজুর গাছগুলো কেটেছ এবং যেগুলো কান্ডের উপর স্থির রেখে দিয়েছ, তা তো আল্লাহর অনুমতিক্রমেই করেছ। এটা এজন্য যে, আল্লাহ পাপাচারীদেরকে লাঞ্ছিত করবেন। (সূরা হাশর- ৫)
ব্যাখ্যা : বনু নাযীর গোত্রের দুর্গ অবরোধকালে তাদের আত্মসমর্পণের জন্য তাদের বাগানগুলো নষ্ট করার অনুমতি থাকলেও কোন কোন মুসলিম এ মনে করে সেগুলো নষ্ট করেননি যে, অবরোধ শেষে এগুলো তো মুসলিমদেরই হবে। আবার কেউ কেউ ইয়াহুদিদের মনে কষ্ট দেয়ার জন্য কিছু গাছ কেটে দিয়েছিল। তখন আল্লাহ তা‘আলা উক্ত আয়াত নাযিল করে উভয় দলের কার্যক্রমকেই সঠিক বলে ঘোষণা করেন।
প্রথম আক্রমণেই তাদেরকে বহিষ্কার করা হয় :
هُوَ الَّذِيْۤ اَخْرَجَ الَّذِيْنَ كَفَرُوْا مِنْ اَهْلِ الْكِتَابِ مِنْ دِيَارِهِمْ لِاَوَّلِ الْحَشْرِؕ مَا ظَنَنْتُمْ اَنْ يَّخْرُجُوْا وَظَنُّوْاۤ اَنَّهُمْ مَّانِعَتُهُمْ حُصُوْنُهُمْ مِّنَ اللهِ
তিনিই সেই সত্তা, যিনি আহলে কিতাবদের মধ্যে যারা কাফির তাদেরকে প্রথম সমাবেশেই তাদের আবাসভূমি হতে বিতাড়িত করেছিলেন। অথচ তোমরা কল্পনাও করনি যে, তারা নির্বাসিত হবে। তারা মনে করেছিল, তাদের দুর্ভেদ্য দুর্গগুলো তাদেরকে আল্লাহ হতে রক্ষা করবে। (সূরা হাশর- ২)
তাদের ঘরবাড়ি ভেঙ্গে তছনছ করে ফেলা হয় :
فَاَتَاهُمُ اللهُ مِنْ حَيْثُ لَمْ يَحْتَسِبُوْاۗ وَقَذَفَ فِيْ قُلُوْبِهِمُ الرُّعْبَ يُخْرِبُوْنَ بُيُوْتَهُمْ بِاَيْدِيْهِمْ وَاَيْدِى الْمُؤْمِنِيْنَۗ فَاعْتَبِرُوْا يَاۤ اُولِى الْاَبْصَارِ
কিন্তু আল্লাহ তাদের উপর এমন এক দিক হতে চড়াও হলেন, যা ছিল তাদের ধারণাতীত এবং তিনি তাদের অন্তরে ভয়ের সঞ্চার করলেন। ফলে তারা তাদের বাড়িঘর ধ্বংস করে ফেলল- নিজেদের হাতে এবং মুমিনদের হাতেও। অতএব হে চক্ষুষ্মান ব্যক্তিগণ! তোমরা উপদেশ গ্রহণ করো। (সূরা হাশর- ২)
বহিষ্কার না হলেও তারা শাস্তি পেত :
وَلَوْلَاۤ اَنْ كَتَبَ اللهُ عَلَيْهِمُ الْجَلَآءَ لَعَذَّبَهُمْ فِى الدُّنْيَاؕ وَلَهُمْ فِى الْاٰخِرَةِ عَذَابُ النَّارِ
আল্লাহ তাদের নির্বাসনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ না করলেও তাদেরকে পৃথিবীতে (অন্য) শাস্তি দিতেন; আর পরকালে তাদের জন্য রয়েছে জাহান্নামের আযাব। (সূরা হাশর- ৩)
কারণ তারা ইসলামের বিরোধিতা করেছে :
ذٰلِكَ بِاَنَّهُمْ شَآقُّوا اللهَ وَرَسُوْلَهٗۚ وَمَنْ يُّشَآقِّ اللهَ فَاِنَّ اللهَ شَدِيْدُ الْعِقَابِ
এটা এজন্য যে, তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধাচরণ করেছিল। আর কেউ যদি আল্লাহর বিরুদ্ধাচরণ করে, তবে (জেনে রেখো) নিশ্চয় আল্লাহ শাস্তি দানে খুবই কঠোর। (সূরা হাশর- ৪)
কষ্ট ছাড়াই তাদের সম্পদ মুসলিমদের হাতে চলে আসে :
وَمَاۤ اَفَآءَ اللهُ عَلٰى رَسُوْلِهٖ مِنْهُمْ فَمَاۤ اَوْجَفْتُمْ عَلَيْهِ مِنْ خَيْلٍ وَّلَا رِكَابٍ وَّلٰكِنَّ اللهَ يُسَلِّطُ رُسُلَهٗ عَلٰى مَنْ يَّشَآءُؕ وَاللهُ عَلٰى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيْرٌ
আল্লাহ তাদের (ইয়াহুদিদের) নিকট হতে যে ফাই (সম্পদ) তাঁর রাসূলকে দান করেছেন, তার জন্য তোমরা ঘোড়া কিংবা উষ্ট্রে আরোহণ করনি। আল্লাহ যার উপর ইচ্ছা তাঁর রাসূলদেরকে বিজয়ী করেন; আল্লাহ সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান। (সূরা হাশর- ৬)
এ সম্পদ বণ্টনের নিয়ম বলে দেয়া হয় :
مَاۤ اَفَآءَ اللهُ عَلٰى رَسُوْلِهٖ مِنْ اَهْلِ الْقُرٰى فَلِلّٰهِ وَلِلرَّسُوْلِ وَلِذِى الْقُرْبٰى وَالْيَتَامٰى وَالْمَسَاكِيْنِ وَابْنِ السَّبِيْلِ كَيْ لَا يَكُوْنَ دُوْلَةً ۢبَيْنَ الْاَغْنِيَآءِ مِنْكُمْؕ وَمَاۤ اٰتَاكُمُ الرَّسُوْلُ فَخُذُوْهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوْا وَاتَّقُوا اللهَؕ اِنَّ اللهَ شَدِيْدُ الْعِقَابِ
আল্লাহ এই জনপদবাসীর নিকট হতে তাঁর রাসূলকে যা কিছু দিয়েছেন, তা আল্লাহর, তাঁর রাসূলের, (রাসূল ﷺ এর) স্বজনদের, ইয়াতীমদের, অভাবগ্রস্ত ও মুসাফিরদের জন্য বরাদ্দ। (এ পদ্ধতি এজন্য যে) যাতে তোমাদের মধ্যে যারা ধনী শুধু তাদের মধ্যেই সম্পদ আবর্তন না করে। অতএব রাসূল তোমাদেরকে যা দেয়, তা গ্রহণ করো এবং যা হতে নিষেধ করে, তা হতে বিরত থাকো। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো; নিশ্চয় আল্লাহ শাস্তি দানে খুবই কঠোর। (সূরা হাশর- ৭)