hadith book logo

তাফসীরুল কুরআন বিল কুরআন

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৮২

পর্ব- ২১ : নারীর মর্যাদা অধ্যায়- ১ : ইসলাম নারীকে মর্যাদা দিয়েছে

সৃষ্টির শুরু হতেই নারীরা মানবজাতির একটি অংশ :

هُوَ الَّذِيْ خَلَقَكُمْ مِّنْ نَّفْسٍ وَّاحِدَةٍ وَّجَعَلَ مِنْهَا زَوْجَهَا لِيَسْكُنَ اِلَيْهَا

তিনিই তোমাদেরকে এক ব্যক্তি হতে সৃষ্টি করেছেন ও তা হতে তার স্ত্রীকে সৃষ্টি করেছেন, যাতে করে সে তার নিকট প্রশান্তি লাভ করে। (সূরা আ‘রাফ- ১৮৯)

নারী-পুরুষ উভয়কেই একে অপরের সহযোগী ও দায়িত্বশীল করা হয়েছে :

وَالْمُؤْمِنُوْنَ وَالْمُؤْمِنَاتُ بَعْضُهُمْ اَوْلِيَآءُ بَعْضٍۘ يَأْمُرُوْنَ بِالْمَعْرُوْفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَيُقِيْمُوْنَ الصَّلَاةَ وَيُؤْتُوْنَ الزَّكَاةَ وَيُطِيْعُوْنَ اللهَ وَرَسُوْلَهٗؕ اُولٰٓئِكَ سَيَرْحَمُهُمُ اللهُؕ اِنَّ اللهَ عَزِيْزٌ حَكِيْمٌ

মুমিন নর ও মুমিন নারী একে অপরের বন্ধু, এরা সৎকাজের নির্দেশ দেয় এবং অসৎকাজ থেকে নিষেধ করে, সালাত কায়েম করে, যাকাত দেয় এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে। অচিরেই আল্লাহ এদের প্রতি দয়া করবেন; নিশ্চয় আল্লাহ পরাক্রমশালী ও প্রজ্ঞাময়। (সূরা তাওবা - ৭১)

সৎকর্মের পুরস্কার পাওয়ার ক্ষেত্রে নারী-পুরুষ সমান :

مَنْ عَمِلَ صَالِحًا مِّنْ ذَكَرٍ اَوْ اُنْثٰى وَهُوَ مُؤْمِنٌ فَلَنُحْيِيَنَّهٗ حَيَاةً طَيِّبَةًۚ وَلَنَجْزِيَنَّهُمْ اَجْرَهُمْ بِاَحْسَنِ مَا كَانُوْا يَعْمَلُوْنَ

মুমিন পুরুষ ও নারীর মধ্যে যে ব্যক্তি সৎকর্ম করবে, অবশ্যই তাকে আমি পবিত্র জীবন দান করব এবং তাদেরকে তাদের কর্মের শ্রেষ্ঠ পুরস্কার দান করব। (সূরা নাহল- ৯৭)

فَاسْتَجَابَ لَهُمْ رَبُّهُمْ اَنِّي لَاۤ اُضِيْعُ عَمَلَ عَامِلٍ مِّنْكُمْ مِّنْ ذَكَرٍ اَوْ اُنْثٰىۚ بَعْضُكُمْ مِّنْ ۢبَعْضٍ

অতঃপর তাদের প্রতিপালক তাদের আহবানে সাড়া দিলেন যে, আমি তোমাদের পুরুষ অথবা নারীদের মধ্য হতে কোন আমলকারীর আমল নষ্ট করব না, তোমরা পরস্পর এক। (সূরা আলে ইমরান- ১৯৫)

ব্যাখ্যা : আমার দৃষ্টিতে তোমরা সবাই সমান। আমার কাছে নারী-পুরুষ, চাকর-মনিব, সাদা-কালো ও বড়-ছোটর মধ্যে ইনসাফ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে কোন ভিন্ন নীতি নেই। ফলে তাদের মধ্যে কোন বিষয়ে মীমাংসা করার সময় আলাদা আলাদা মানদন্ড কায়েম করা হয় না।

আল্লাহ উভয়কেই জান্নাত দেবেন :

وَمَنْ يَّعْمَلْ مِنَ الصَّالِحَاتِ مِنْ ذَكَرٍ اَوْ اُنْثٰى وَهُوَ مُؤْمِنٌ فَاُولٰٓئِكَ يَدْخُلُوْنَ الْجَنَّةَ وَلَا يُظْلَمُوْنَ نَقِيْرًا

মুমিন অবস্থায় পুরুষ অথবা নারীর মধ্যে যারা সৎকাজ করে তারাই জান্নাতে প্রবেশ করবে এবং তাদের প্রতি অণুপরিমাণও যুলুম করা হবে না। (সূরা নিসা- ১২৪)

مَنْ عَمِلَ سَيِّئَةً فَلَا يُجْزٰۤى اِلَّا مِثْلَهَاۚ وَمَنْ عَمِلَ صَالِحًا مِّنْ ذَكَرٍ اَوْ اُنْثٰى وَهُوَ مُؤْمِنٌ فَاُولٰٓئِكَ يَدْخُلُوْنَ الْجَنَّةَ يُرْزَقُوْنَ فِيْهَا بِغَيْرِ حِسَابٍ

যে ব্যক্তি মন্দ আমল করবে সে শুধু তার আমলের অনুরূপ শাস্তিই পাবে। আর মুমিন অবস্থায় পুরুষ অথবা নারীদের মধ্যে যারা সৎকাজ করে তারাই জান্নাতে প্রবেশ করবে; সেখানে তারা অসংখ্য রিযিকপ্রাপ্ত হবে। (সূরা মু’মিন - ৪০)

আল্লাহর কাছে সম্মানের ক্ষেত্রেও নারী-পুরুষ সমান :

اِنَّ اَكْرَمَكُمْ عِنْدَ اللهِ اَتْقَاكُمْؕ اِنَّ اللهَ عَلِيْمٌ خَبِيْرٌ

নিশ্চয় আল্লাহর কাছে তোমাদের মধ্যে তারাই অধিক সম্মানিত, যারা তোমাদের মধ্যে বেশি মুত্তাক্বী। আল্লাহ সবকিছু জানেন ও সবকিছুর খবর রাখেন। (সূরা হুজুরাত- ১৩)

নারীরা যা উপার্জন করবে তাতে তাদের অধিকার রয়েছে :

لِلرِّجَالِ نَصِيْبٌ مِّمَّا اكْتَسَبُوْاؕ وَلِلنِّسَآءِ نَصِيْبٌ مِّمَّا اكْتَسَبْنَ

পুরুষ যা অর্জন করে তা তার প্রাপ্য এবং নারী যা অর্জন করে তা তার প্রাপ্য। (সূরা নিসা- ৩২)

পিতার সম্পদে নারীদের অংশ রয়েছে :

وَلِلنِّسَآءِ نَصِيْبٌ مِّمَّا تَرَكَ الْوَالِدَانِ وَالْاَقْرَبُوْنَ۪ مِمَّا قَلَّ مِنْهُ اَوْ كَثُرَؕ نَصِيْبًا مَّفْرُوْضًا

নারীদের জন্যও পিতামাতা ও আত্মীয়স্বজনের পরিত্যক্ত সম্পদে অংশ রয়েছে। কম হোক বা বেশি হোক, এসব অংশ নির্ধারিত। (সূরা নিসা- ৭)

নারীদের প্রতি অন্যায় করতে নিষেধ করা হয়েছে :

يَاۤ اَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا لَا يَحِلُّ لَكُمْ اَنْ تَرِثُوا النِّسَآءَ كَرْهًا

হে ঈমানদারগণ! জোরপূর্বক নারীদের উত্তরাধিকারী হওয়া তোমাদের জন্য হালাল নয়। (সূরা নিসা- ১৯)