hadith book logo

তাফসীরুল কুরআন বিল কুরআন

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২৯

অধ্যায়- ৭ : আরবি ভাষায় কুরআন নাযিলের কারণ

প্রত্যেক নবীকে তাঁর জাতির ভাষায় পাঠানো হয় :

وَمَاۤ اَرْسَلْنَا مِنْ رَّسُولٍ اِلَّا بِلِسَانِ قَوْمِهٖ لِيُبَيِّنَ لَهُمْؕ فَيُضِلُّ اللهُ مَنْ يَّشَآءُ وَيَهْدِيْ مَنْ يَّشَآءُؕ وَهُوَ الْعَزِيْزُ الْحَكِيْمُ

আমি প্রত্যেক রাসূলকেই তার স্বজাতির ভাষায় পাঠিয়েছি। তাদের নিকট পরিষ্কারভাবে এ ব্যাখ্যা দান করার জন্য যে, আল্লাহ যাকে ইচ্ছা বিভ্রামত্ম করেন এবং যাকে ইচ্ছা সৎপথে পরিচালিত করেন এবং তিনি মহাপরাক্রমশালী ও প্রজ্ঞাময়। (সূরা ইবরাহীম- ৪)

ব্যাখ্যা : আরবি ভাষায় কুরআন নাযিল করার অর্থ এ নয় যে, এটা শুধু আরবরাই বুঝবে। অন্যরা বুঝতে পারবে না। মানবজাতির ব্যাপক ও সার্বজনীন হেদায়াতের জন্য যাই পেশ করা হবে তা অবশ্যই মানবসমাজে প্রচলিত ভাষাগুলোর যে কোন একটিতেই পেশ করা হবে। অতঃপর এর হেদায়াত পেশকারী এটিকে যে জাতির ভাষায় নাযিল করছেন প্রথমে সে জাতিকে এর শিক্ষা দ্বারা পুরোপুরি প্রভাবিত করার চেষ্টা করবেন। তারপর এ জাতিই অন্যান্য জাতির কাছে এর শিক্ষা পৌঁছানোর মাধ্যম হিসেবে পরিণত হবে। কোন দাওয়াতকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সম্প্রসারিত করার জন্য এটি একটি বাস্তব ও স্বাভাবিক পদ্ধতি।

মুহাম্মাদ ﷺ ও তাঁর জাতির ভাষা ছিল আরবি :

فَاِنَّمَا يَسَّرْنَاهُ بِلِسَانِكَ لِتُبَشِّرَ بِهِ الْمُتَّقِيْنَ وَتُنْذِرَ بِهٖ قَوْمًا لُّدًّا

আমি কুরআনকে তোমার ভাষায় সহজ করে দিয়েছি, যাতে তুমি এর দ্বারা মুত্তাক্বীদেরকে সুসংবাদ দিতে পার এবং ঝগড়াটে সম্প্রদায়কে সতর্ক করতে পার। (সূরা মারইয়াম- ৯৭)

বুঝার সুবিধার্থে আরবি ভাষায় অবতীর্ণ করা হয়েছে :

اِنَّا جَعَلْنَاهُ قُرْاٰنًا عَرَبِيًّا لَّعَلَّكُمْ تَعْقِلُوْنَ

আমি এটা আরবি ভাষায় কুরআনরূপে (অবতীর্ণ) করেছি, যাতে তোমরা বুঝতে পার। (সূরা যুখরুফ- ৩)

মানুষ যাতে উপদেশ গ্রহণ করতে পারে :

وَكَذٰلِكَ اَنْزَلْنَاهُ قُرْاٰنًا عَرَبِيًّا وَّصَرَّفْنَا فِيْهِ مِنَ الْوَعِيْدِ لَعَلَّهُمْ يَتَّقُوْنَ اَوْ يُحْدِثُ لَهُمْ ذِكْرًا

এভাবেই আমি কুরআনকে আরবি ভাষায় অবতীর্ণ করেছি এবং তাতে বিশদভাবে বিবৃত করে দিয়েছি সতর্কবাণী, যাতে তারা ভয় করে অথবা তাদের জন্য এটা উপদেশবাণীতে পরিণত হয়। (সূরা ত্বা-হা- ১১৩)

ব্যাখ্যা : অর্থাৎ এরা নিজেদের গাফলতি থেকে সজাগ হবে, ভুলে যাওয়া শিক্ষাকে স্মরণ করবে এবং পথ ভুলে কোন পথে যাচ্ছে আর এর পরিণাম কী হবে- সে সম্পর্কে অনুভূতি জাগবে।

বিরোধীরা যাতে কোন অভিযোগ তুলতে না পারে :

وَلَوْ جَعَلْنَاهُ قُرْاٰنًا اَعْجَمِيًّا لَّقَالُوْا لَوْلَا فُصِّلَتْ اٰيَاتُهٗؕ اَ اَعْجَمِيٌّ وَّعَرَبِيٌّ ؕ قُلْ هُوَ لِلَّذِيْنَ اٰمَنُوْا هُدًى وَّشِفَآءٌ

আমি যদি কুরআন অনারবি ভাষায় অবতীর্ণ করতাম তবে তারা অবশ্যই বলত, এর আয়াতগুলো কেন বিশদভাবে বর্ণনা করা হলো না? কী আশ্চর্য যে, এর ভাষা অনারবি অথচ রাসূল আরবি। বলো, মুমিনদের জন্য এটা পথপ্রদর্শক ও ব্যাধির প্রতিকার। (সূরা হা-মীম সাজদা- ৪৪)