hadith book logo

তাফসীরুল কুরআন বিল কুরআন

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৪৪১

অধ্যায়- ১ : সৃষ্টির পূর্বে ফেরেশতাদের সাথে আলোচনা

আদম (আঃ) কে সৃষ্টির পূর্বে ফেরেশতাদের সাথে আলোচনা :

وَاِذْ قَالَ رَبُّكَ لِلْمَلَآئِكَةِ اِنِّيْ خَالِقٌ ۢ بَشَرًا مِّنْ صَلْصَالٍ مِّنْ حَمَإٍ مَّسْنُوْنٍ

স্মরণ করো, যখন তোমার প্রতিপালক ফেরেশতাদেরকে বললেন, আমি গন্ধযুক্ত ঠনঠনে শুকনো মাটি হতে মানুষ সৃষ্টি করব। (সূরা হিজর– ২৮)

ফেরেশতাদের আপত্তি :

وَاِذْ قَالَ رَبُّكَ لِلْمَلَآئِكَةِ اِنِّيْ جَاعِلٌ فِى الْاَرْضِ خَلِيْفَةًؕ قَالُوْاۤ اَتَجْعَلُ فِيْهَا مَنْ يُّفْسِدُ فِيْهَا وَيَسْفِكُ الدِّمَآءَ وَنَحْنُ نُسَبِّحُ بِحَمْدِكَ وَنُقَدِّسُ لَكَ

স্মরণ করো, যখন তোমার রব ফেরেশতাদেরকে বললেন, নিশ্চয় আমি পৃথিবীতে প্রতিনিধি পাঠাব। তখন তারা বলল, আপনি কি এমন কাউকে সৃষ্টি করবেন, যারা সেখানে বিবাদ সৃষ্টি করবে এবং রক্তপাত করবে? অথচ আমরাই তো আপনার প্রশংসা জ্ঞাপন করি এবং আপনার পবিত্রতা বর্ণনা করি। (সূরা বাক্বারা– ৩০)

আল্লাহর জবাব :

قَالَ اِنِّۤيْ اَعْلَمُ مَا لَا تَعْلَمُوْنَ

তিনি বললেন, নিশ্চয় আমি যে বিষয়ে জ্ঞান রাখি, তোমরা তা জান না। (সূরা বাক্বারা– ৩০)

আল্লাহ আদম (আঃ) কে সব জিনিসের নাম শিক্ষা দিলেন :

وَعَلَّمَ اٰدَمَ الْاَسْمَآءَ كُلَّهَا ثُمَّ عَرَضَهُمْ عَلَى الْمَلَآئِكَةِ فَقَالَ اَنْۢبِئُوْنِيْ بِاَسْمَآءِ هٰۤؤُلَآءِ اِنْ كُنْتُمْ صَادِقِيْنَ ‐ قَالُوْا سُبْحَانَكَ لَا عِلْمَ لَنَاۤ اِلَّا مَا عَلَّمْتَنَاؕ اِنَّكَ اَنْتَ الْعَلِيْمُ الْحَكِيْمُ

তিনি আদমকে সব জিনিসের নাম শিখিয়ে দিলেন, অতঃপর তা ফেরেশতাদের সামনে উপস্থিত করলেন এবং বললেন, যদি তোমরা সত্যবাদী হও, তবে আমাকে এসব বস্তুর নাম বলে দাও। তারা বলেছিল, আমরা আপনার পবিত্রতা বর্ণনা করছি। আপনি আমাদেরকে যা শিক্ষা দিয়েছেন তাছাড়া আমাদের কোন জ্ঞান নেই, নিশ্চয় আপনি মহাজ্ঞানী ও প্রজ্ঞাময়। (সূরা বাক্বারা– ৩১, ৩২)

ফেরেশতাদের উপর আদম (আঃ) কে সম্মান দিলেন :

قَالَ يَاۤ اٰدَمُ اَنْۢبِئْهُمْ بِاَسْمَآئِهِمْۚ فَلَمَّاۤ اَنْۢبَاَهُمْ بِاَسْمَآئِهِمْ قَالَ اَلَمْ اَقُلْ لَّكُمْ اِنِّۤيْ اَعْلَمُ غَيْبَ السَّمَاوَاتِ وَالْاَرْضِ وَاَعْلَمُ مَا تُبْدُوْنَ وَمَا كُنْتُمْ تَكْتُمُوْنَ

আল্লাহ বললেন, হে আদম! তুমি তাদেরকে ঐসব বস্তুর নাম জানিয়ে দাও। অতঃপর যখন তিনি তাদেরকে ঐগুলোর নামসমূহ জানিয়ে দিলেন তখন বললেন, আমি কি তোমাদেরকে বলিনি যে, নিশ্চয় আমি আকাশসমূহ ও জমিনের অদৃশ্য বিষয়াবলি সম্পর্কে ভালোভাবে অবগত আছি? (তাছাড়া) তোমরা যা প্রকাশ কর এবং যা গোপন কর, তাও আমি জানি। (সূরা বাক্বারা– ৩৩)

ফেরেশতারা আদম (আঃ) কে সিজদা করল :

فَسَجَدَ الْمَلَآئِكَةُ كُلُّهُمْ اَجْمَعُوْنَ

অতঃপর সকল ফেরেশতাই একত্রে {আদম (আঃ) কে} সিজদা করল। (সূরা সোয়াদু ৭৩)

ইবলিস আদম (আঃ) কে সিজদা করতে অস্বীকার করায় কাফির হয়ে গেল :

وَاِذْ قُلْنَا لِلْمَلَآئِكَةِ اسْجُدُوْا لِاٰدَمَ فَسَجَدُوْاۤ اِلَّاۤ اِبْلِيْسَؕ اَبٰى وَاسْتَكْبَرَ وَكَانَ مِنَ الْكَافِرِيْنَ

(স্মরণ করো) যখন আমি ফেরেশতাদেরকে বলেছিলাম, তোমরা আদমকে সিজদা করো, তখন ইবলিস ব্যতীত সকলে সিজদা করেছিল। সে অস্বীকার করল ও অহংকার করল, ফলে সে কাফিরদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেল। (সূরা বাক্বারা– ৩৪)

আল্লাহ ইবলিসকে এর কারণ জিজ্ঞেস করলেন :

قَالَ يَاۤ اِبْلِيْسُ مَا مَنَعَكَ اَنْ تَسْجُدَ لِمَا خَلَقْتُ بِيَدَيَّؕ اَسْتَكْبَرْتَ اَمْ كُنْتَ مِنَ الْعَالِيْنَ

আল্লাহ বললেন, হে ইবলিস! আমি যাকে নিজের হাতে সৃষ্টি করেছি, তাকে সিজদা করতে তোমাকে কিসে বাধা দিল? তুমি অহংকার করলে, নাকি তুমি শ্রেষ্ঠ মর্যাদাশীলদের একজন? (সূরা সোয়াদু ৭৫)

ইবলিস যুক্তি খাটিয়ে উত্তর দিল :

قَالَ اَنَاْ خَيْرٌ مِّنْهُ خَلَقْتَنِيْ مِنْ نَّارٍ وَّخَلَقْتَهٗ مِنْ طِيْنٍ

সে বলল, আমি তার চেয়ে উত্তম; তুমি আমাকে আগুন থেকে সৃষ্টি করেছ এবং তাকে মাটি থেকে। (সূরা আ‘রাফু ১২)