hadith book logo

তাফসীরুল কুরআন বিল কুরআন

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৫২১

অধ্যায়- ৪ : কিবতি হত্যার ঘটনা

বড় হলে আল্লাহ মূসা (আঃ) কে জ্ঞানুবুদ্ধি দিলেন :

وَلَمَّا بَلَغَ اَشُدَّهٗ وَاسْتَوٰۤى اٰتَيْنَاهُ حُكْمًا وَّعِلْمًا

যখন মূসা পূর্ণ যৌবনে ও পরিণত বয়সে উপনীত হলো, তখন আমি তাকে হেকমত ও জ্ঞান দান করলাম। (সূরা ক্বাসাস– ১৪)

ব্যাখ্যা : ‘হুকুম’ অর্থ হিকমত, বুদ্ধিমত্তা, বিচক্ষণতা ও বিচারবুদ্ধি। আর জ্ঞান বলতে বুঝানো হয়েছে দ্বীনী ও দুনিয়াবী উভয় ধরনের তত্ত্বজ্ঞান। কারণ নিজের পিতামাতার সাথে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত রাখার কারণে তিনি নিজের বাপ-দাদা তথা ইউসুফ, ইয়াকূব ও ইসহাক (আঃ) এর শিক্ষার সাথে পরিচিত হতে পেরেছিলেন। আবার ততকালীন বাদশাহর পরিবারে রাজপুত্র হিসেবে প্রতিপালিত হওয়ার কারণে সমকালীন মিসরবাসীদের মধ্যে প্রচলিত জ্ঞান অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিলেন।

একদিন শহরে দু’টি লোককে লড়াই করতে দেখলেন :

وَدَخَلَ الْمَدِيْنَةَ عَلٰى حِيْنِ غَفْلَةٍ مِّنْ اَهْلِهَا فَوَجَدَ فِيْهَا رَجُلَيْنِ يَقْتَتِلَانِؗ هٰذَا مِنْ شِيْعَتِهٖ وَهٰذَا مِنْ عَدُوِّهٖ

সে নগরীতে প্রবেশ করল, যখন এর অধিবাসীরা ছিল অসতর্ক। সেখানে সে দু’জন লোককে সংঘর্ষে লিপ্ত অবস্থায় দেখতে পেল। তাদের একজন ছিল তার নিজ দলের এবং অপরজন ছিল তার শত্রুদলের। (সূরা ক্বাসাস– ১৫)

মূসা (আঃ) এর দলের লোকটি তার কাছে সাহায্য চাইল :

فَاسْتَغَاثَهُ الَّذِيْ مِنْ شِيْعَتِهٖ عَلَى الَّذِيْ مِنْ عَدُوِّهٖ

মূসার দলের লোকটি তার শত্রুর বিরুদ্ধে সাহায্য প্রার্থনা করল। (সূরা ক্বাসাস– ১৫)

মূসা (আঃ) শত্রুপক্ষের লোকটিকে ঘুষি মারলে সে মারা গেল :

فَوَكَزَهٗ مُوْسٰى فَقَضٰى عَلَيْهِؗ قَالَ هٰذَا مِنْ عَمَلِ الشَّيْطَانِؕ اِنَّهٗ عَدُوٌّ مُّضِلٌّ مُّبِيْنٌ

তখন মূসা তাকে একটি ঘুষি মারল, ফলে সে নিহত হলো। অতঃপর মূসা বলল, এটা শয়তানের কাজ। নিশ্চয় সে প্রকাশ্য শত্রু ও বিভ্রান্তকারী। (সূরা ক্বাসাস– ১৫)

মূসা (আঃ) আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইলেন :

قَالَ رَبِّ اِنِّيْ ظَلَمْتُ نَفْسِيْ فَاغْفِرْ لِيْ

সে বলল, হে আমার প্রতিপালক! আমি তো আমার নিজের প্রতি যুলুম করে ফেলেছি, সুতরাং আমাকে ক্ষমা করে দাও। (সূরা ক্বাসাস– ১৬)

আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিলেন :

فَغَفَرَ لَهٗؕ اِنَّهٗ هُوَ الْغَفُوْرُ الرَّحِيْمُ

অতঃপর তিনি তাকে ক্ষমা করে দিলেন। নিশ্চয় তিনি ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু। (সূরা ক্বাসাস– ১৬)

মূসা (আঃ) কে চিন্তা থেকে মুক্তি দিলেন :

وَقَتَلْتَ نَفْسًا فَنَجَّيْنَاكَ مِنَ الْغَمِّ

তুমি এক ব্যক্তিকে হত্যা করেছিলে, কিন্তু আমি তোমাকে সে দুশ্চিন্তা হতে মুক্তি দিয়েছি। (সূরা ত্বা–হা– ৪০)

মূসা (আঃ) পাপীর সাহায্য না করার সিদ্ধান্ত নিলেন :

قَالَ رَبِّ بِمَاۤ اَنْعَمْتَ عَلَيَّ فَلَنْ اَكُوْنَ ظَهِيْرًا لِّلْمُجْرِمِيْنَ

সে (মূসা) বলল, হে আমার প্রতিপালক! যেহেতু তুমি আমার প্রতি অনুগ্রহ করেছ, সুতরাং আমি কখনো অপরাধীদের সাহায্যকারী হব না। (সূরা ক্বাসাস– ১৭)

পরের দিন আবার ঐ ঘটনা ঘটল :

فَاَصْبَحَ فِى المَدِيْنَةِ خَآئِفًا يَّتَرَقَّبُ فَاِذَا الَّذِى اسْتَنْصَرَهٗ بِالْاَمْسِ يَسْتَصْرِخُهٗ

অতঃপর ভীত ও সতর্ক অবস্থায় সে নগরীতে তার প্রভাত হলো। হঠাৎ সে শুনতে পেল আগের দিন যে ব্যক্তি তার সাহায্য চেয়েছিল, আজও সে সাহায্যের জন্য চিৎকার করছে। (সূরা ক্বাসাস– ১৮)

তিনি ইসরাঈলী লোকটির নিন্দা করলেন :

قَالَ لَهٗ مُوْسٰۤى اِنَّكَ لَغَوِيٌّ مُّبِيْنٌ

মূসা তাকে বলল, তুমি তো স্পষ্টই একজন বিভ্রান্ত ব্যক্তি। (সূরা ক্বাসাস– ১৮)

সে মূসাকে উপদেশ দিল :

فَلَمَّاۤ اَنْ اَرَادَ اَنْ يَّبْطِشَ بِالَّذِيْ هُوَ عَدُوٌّ لَّهُمَا قَالَ يَا مُوْسٰۤى اَتُرِيْدُ اَنْ تَقْتُلَنِيْ كَمَا قَتَلْتَ نَفْسًا ۢبِالْاَمْسِۗ اِنْ تُرِيْدُ اِلَّاۤ اَنْ تَكُوْنَ جَبَّارًا فِى الْاَرْضِ وَمَا تُرِيْدُ اَنْ تَكُوْنَ مِنَ الْمُصْلِحِيْنَ

অতঃপর মূসা যখন উভয়ের শত্রুকে ধরতে উদ্যত হলো, তখন সে ব্যক্তি বলে উঠল, হে মূসা! তুমি গতকাল যেমন এক ব্যক্তিকে হত্যা করেছ, সেভাবে আমাকেও কি হত্যা করতে চাইছ? তুমি কি পৃথিবীতে স্বেচ্ছাচারী হতে চাও এবং শান্তি স্থাপনকারী হতে চাও না? (সূরা ক্বাসাস– ১৯)