hadith book logo

তাফসীরুল কুরআন বিল কুরআন

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২৪৭

অধ্যায়- ৮ : দু‘আ করা

দু‘আ করার জন্য আল্লাহর আহবান :

وَقَالَ رَبُّكُمُ ادْعُوْنِۤيْ اَسْتَجِبْ لَكُمْؕ اِنَّ الَّذِيْنَ يَسْتَكْبِرُوْنَ عَنْ عِبَادَتِيْ سَيَدْخُلُوْنَ جَهَنَّمَ دَاخِرِيْنَ

তোমাদের প্রতিপালক বলেন- তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব। যারা অহংকারবশত আমার ইবাদাত থেকে বিমুখ থাকে, অবশ্যই তারা লাঞ্ছিত হয়ে জাহান্নামে প্রবেশ করবে । (সূরা মু’মিন- ৬০)

ব্যাখ্যা : اَلدَّعْوَةُ (আদ দা‘ওয়াতু) অর্থ নিজের অভাব পূরণের উদ্দেশ্যে সাহায্যের জন্য ডাকা। এর তাৎপর্য হচ্ছে, অভাব ও প্রয়োজন পূর্ণ করে সংকটমুক্ত করার সব ক্ষমতা একমাত্র তাঁর হাতেই কেন্দ্রীভূত। তাই একমাত্র তাঁর কাছে প্রার্থনা করাই যথার্থ ও সঠিক বলে বিবেচিত। মানুষের আভ্যন্তরীণ অনুভূতি তাকে দু‘আ করতে উদ্বুদ্ধ করে। বস্তুজগতের প্রাকৃতিক উপায়-উপকরণ যখন তার কোন কষ্ট নিবারণ কিংবা কোন প্রয়োজন পূরণ করার জন্য যথেষ্ট না হয়, তখনই মানুষ কোন প্রাকৃতিক ক্ষমতার অধিকারী সত্তার কাছে ধরনা দেয়। অতঃপর তাঁকে না দেখেই অনবরত ডাকতে থাকে এবং তাঁর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করে। আর এ বিষয়টি একটি বিশ্বাসের ভিত্তিতেই সংঘটিত হয়। আর তা হচ্ছে, তিনি এমন অসীম ক্ষমতার অধিকারী যে, তাঁর কাছে প্রার্থনাকারী যেখানেই অবস্থান করুক না কেন তিনি তাকে সাহায্য করতে পারেন। তার বিপর্যস্ত ভাগ্যকে পুনরায় তৈরি করতে পারেন- এমন সত্তা একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কেউ হতে পারে না। এখন যে ব্যক্তি আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন সত্তাকে সাহায্যের জন্য ডাকে সে স্পষ্ট শিরকে লিপ্ত হয়। কারণ যেসব গুণাবলি কেবল আল্লাহর জন্যই নির্দিষ্ট, তা অন্য সত্তার মধ্যেও আছে বলে সে বিশ্বাস করে। তা না হলে আল্লাহ ছাড়া অন্যের কাছে দু‘আ করার কল্পনাও তার মনে আসত না।

আল্লাহ বান্দার দু‘আ শুনতে পান :

اِنَّ رَبِّيْ لَسَمِيْعُ الدُّعَآءِ

আমার প্রতিপালক অবশ্যই প্রার্থনা শুনে থাকেন। (সূরা ইবরাহীম- ৩৯)

هُنَالِكَ دَعَا زَكَرِيَّا رَبَّهٗۚ - قَالَ رَبِّ هَبْ لِيْ مِنْ لَّدُنْكَ ذُرِّيَّةً طَيِّبَةًۚ اِنَّكَ سَمِيْعُ الدُّعَآءِ

সেখানে যাকারিয়া তার রবকে ডেকে বললেন, হে আমার রব! আপনার পক্ষ থেকে আমাকে পবিত্র সন্তান দান করুন। নিশ্চয় আপনি দু‘আ শ্রবণকারী। (সূরা আলে ইমরান- ৩৮)

আল্লাহ দু‘আ কবুল করেন :

وَاِذَا سَاَلَكَ عِبَادِيْ عَنِّيْ فَاِنِّي قَرِيْبٌؕ اُجِيْبُ دَعْوَةَ الدَّاعِ اِذَا دَعَانِ

আর যখন আমার বান্দাগণ আমার সম্বন্ধে তোমাকে জিজ্ঞেস করে তখন তাদেরকে বলে দাও, নিশ্চয় আমি নিকটেই রয়েছি। কোন আহবানকারী যখনই আমাকে ডাকে, তখনই আমি তার আহবানে সাড়া দেই। (সূরা বাক্বারা- ১৮৬)

ব্যাখ্যা : আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, যদিও তোমরা আমাকে দেখতে পাও না, তবুও আমাকে তোমাদের থেকে দূরে মনে করো না। আমি জানার দিক থেকে আমার প্রত্যেক বান্দার অতি নিকটেই অবস্থান করছি। আমি হচ্ছি এ বিশাল বিশ্বজাহানের একচ্ছত্র অধিপতি। সকল সার্বভৌম ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব আমারই হাতে কেন্দ্রীভূত। তোমরা নিজেরা সরাসরি সর্বত্র ও সবসময় আমার কাছে নিজেদের আবেদন নিবেদন পেশ করতে পার। কাজেই তোমরা একের পর এক অক্ষম ও বানোয়াট উপাস্যের দ্বারে দ্বারে ধরনা দেয়ার বেড়াজাল ছিঁড়ে ফেলো। আমি তোমাদেরকে যে আহবান জানাচ্ছি সে আহবানে সাড়া দাও। আমার দিকে ফিরে এসো, আমার উপর নির্ভর করো এবং আমার আনুগত্য করো।

আল্লাহর নাম দিয়েই তাঁকে ডাকতে হবে :

وَلِلّٰهِ الْاَ سْمَآءُ الْحُسْنٰى فَادْعُوْهُ بِهَا

আল্লাহর জন্য রয়েছে সুন্দর সুন্দর নাম। অতএব তোমরা তাঁকে সেসব নামেই আহবান করো। (সূরা আ‘রাফ- ১৮০)

ভয় ও আশা নিয়ে আল্লাহকে ডাকতে হবে :

وَادْعُوْهُ خَوْفًا وَّطَمَعًاؕ اِنَّ رَحْمَتَ اللهِ قَرِيْبٌ مِّنَ الْمُحْسِنِيْنَ

তোমরা ভয় ও আশা নিয়ে একমাত্র আল্লাহকেই ডাকো; নিশ্চয় আল্লাহর রহমত নেক লোকদের অতি নিকটে। (সূরা আ‘রাফ- ৫৬)

ব্যাখ্যা : ভয় ও আশা সহকারে ডাকার অর্থ হচ্ছে, কাউকে ভয় করতে হলে একমাত্র আল্লাহকেই করতে হবে। কোন আশা পোষণ করতে হলে তাও একমাত্র আল্লাহরই কাছে করতে হবে। এ অনুভূতি সহকারে আল্লাহকে ডাকতে হবে যে, মানুষের ভাগ্য পুরোপুরি তাঁরই করুণা নির্ভর। সৌভাগ্য, সাফল্য ও মুক্তিলাভ একমাত্র তাঁরই সাহায্যে সম্ভব। অন্যথায় তাঁর সাহায্য থেকে বঞ্চিত হলে ব্যর্থতা ও ধ্বংস অনিবার্য।