hadith book logo

তাফসীরুল কুরআন বিল কুরআন

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৫০

অধ্যায়- ২৮ : কুরআনের বিধান না মানার পরিণাম

যারা কুরআনের বিধান মানে না তারা সবচেয়ে বড় যালিম :

وَمَنْ اَظْلَمُ مِمَّنْ ذُكِّرَ بِاٰيَاتِ رَبِّهٖ فَاَعْرَضَ عَنْهَا وَنَسِيَ مَا قَدَّمَتْ يَدَاهُ

কোন ব্যক্তিকে তার প্রতিপালকের নিদর্শনাবলি স্মরণ করিয়ে দেয়ার পর সে যদি সেটা হতে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং তার কৃতকর্মসমূহ ভুলে যায়, তবে তার চেয়ে বড় যালিম আর কে হতে পারে? (সূরা কাহফ- ৫৭)

তারা যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি ভোগ করবে :

وَيْلٌ لِّكُلِّ اَفَّاكٍ اَثِيْمٍ – - يَسْمَعُ اٰيَاتِ اللهِ تُتْلٰى عَلَيْهِ ثُمَّ يُصِرُّ مُسْتَكْبِرًا كَاَنْ لَّمْ يَسْمَعْهَاۚ فَبَشِّرْهُ بِعَذَابٍ اَلِيْمٍ

দুর্ভোগ প্রত্যেক ঘোর মিথ্যাবাদী পাপীর। যে আল্লাহর আয়াতসমূহের তিলাওয়াত শুনে অথচ অহংকারের সাথে (পূর্বাবস্থাতেই) অটল থাকে, যেন সে তা শোনতেই পায়নি। (সুতরাং) তাকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির সুসংবাদ দাও। (সূরা জাসিয়া- ৭, ৮)

কিয়ামতের দিন তাদেরকে আফসোস করতে হবে :

وَاتَّبِعُوْاۤ اَحْسَنَ مَاۤ اُنْزِلَ اِلَيْكُمْ مِّنْ رَّبِّكُمْ مِّنْ قَبْلِ اَنْ يَّاْتِيَكُمُ الْعَذَابُ بَغْتَةً وَّاَنْتُمْ لَا تَشْعُرُوْنَ --– اَنْ تَقُوْلَ نَفْسٌ يَّا حَسْرَتَا عَلٰى مَا فَرَّطْتُّ فِيْ جَنْۢبِ اللهِ وَاِنْ كُنْتُ لَمِنَ السَّاخِرِيْنَ -– اَوْ تَقُوْلَ لَوْ اَنَّ اللهَ هَدَانِيْ لَكُنْتُ مِنَ الْمُتَّقِيْنَ – اَوْ تَقُوْلَ حِيْنَ تَرَى الْعَذَابَ لَوْ اَنَّ لِيْ كَرَّةً فَاَكُوْنَ مِنَ الْمُحْسِنِيْنَ

তোমাদের অজান্তে তোমাদের উপর হঠাৎ কোন রকম আযাব আসার আগেই তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে উত্তম যা নাযিল হয়েছে তার অনুসরণ করো। (তোমাদের অবস্থা যেন এমন না হয় যে) কেউ বলবে, হায় আফসোস! আমি তো আল্লাহর প্রতি আমার কর্তব্য পালনে শৈথিল্য প্রদর্শন করেছি, আমি তো ঠাট্টা বিদ্রূপকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম। অথবা এ কথা যেন না বলে যে, যদি আল্লাহ আমাকে হেদায়াত দান করতেন তাহলে অবশ্যই আমি মুত্তাক্বীদের অন্তর্ভুক্ত হতাম। অথবা আযাব সামনে দেখে বলবে, হায়! যদি আমাকে (আবার) দুনিয়াতে পাঠিয়ে দেয়া হতো, তাহলে আমি সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত হতাম। (সূরা যুমার, ৫৫-৫৮)

এসব লোক জাহান্নামের অধিবাসী হবে :

وَسِيْقَ الَّذِيْنَ كَفَرُوْاۤ اِلٰى جَهَنَّمَ زُمَرًاؕ حَتّٰۤى اِذَا جَآءُوْهَا فُتِحَتْ اَبْوَابُهَا وَقَالَ لَهُمْ خَزَنَتُهَاۤ اَلَمْ يَاْتِكُمْ رُسُلٌ مِّنْكُمْ يَتْلُوْنَ عَلَيْكُمْ اٰيَاتِ رَبِّكُمْ وَيُنْذِرُوْنَكُمْ لِقَآءَ يَوْمِكُمْ هٰذَاؕ قَالُوْا بَلٰى وَلٰكِنْ حَقَّتْ كَلِمَةُ الْعَذَابِ عَلَى الْكَافِرِيْنَ – - قِيْلَ ادْخُلُوْاۤ اَبْوَابَ جَهَنَّمَ خَالِدِيْنَ فِيْهَاؕ فَبِئْسَ مَثْوَى الْمُتَكَبِّرِيْنَ

কাফিরদেরকে জাহান্নামের দিকে দলে দলে হাঁকিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। অতঃপর যখন তারা জাহান্নামের নিকটবর্তী হবে, তখন তার দরজাগুলো খুলে দেয়া হবে। এ সময় জাহান্নামের দারোয়ানরা তাদেরকে বলবে, তোমাদের নিকট কি তোমাদের মধ্য হতে রাসূলগণ আসেননি; যারা তোমাদের নিকট তোমাদের প্রতিপালকের আয়াতসমূহ পাঠ করতেন এবং তোমাদেরকে এ দিনের সাক্ষাৎ সম্বন্ধে সতর্ক করতেন? তারা বলবে, অবশ্যই এসেছিলেন। প্রকৃতপক্ষে কাফিরদের প্রতি শাস্তির হুকুম বাস্তবায়িত হয়েছে। অতঃপর তাদেরকে বলা হবে স্থায়ীভাবে অবস্থানের জন্য জাহান্নামের দ্বারসমূহে প্রবেশ করো। (লক্ষ্য করো) অহংকারীদের আবাসস্থল কতই না নিকৃষ্ট! (সূরা যুমার- ৭১, ৭২)

তাদের কোন আবেদন গ্রহণ করা হবে না :

اَلَمْ تَكُنْ اٰيَاتِيْ تُتْلٰى عَلَيْكُمْ فَكُنْتُمْ بِهَا تُكَذِّبُوْنَ – قَالُوْا رَبَّنَا غَلَبَتْ عَلَيْنَا شِقْوَتُنَا وَكُنَّا قَوْمًا ضَآلِّيْنَ – رَبَّنَاۤ اَخْرِجْنَا مِنْهَا فَاِنْ عُدْنَا فَاِنَّا ظَالِمُوْنَ – قَالَ اخْسَئُوْا فِيْهَا وَلَا تُكَلِّمُوْنِ

তোমাদের নিকট কি আমার আয়াতসমূহ পাঠ করা হতো না? অথচ তোমরা সেসব অস্বীকার করতে। তারা বলবে, হে আমাদের প্রতিপালক! দুর্ভাগ্য আমাদেরকে পেয়ে বসেছিল এবং আমরা ছিলাম এক বিভ্রামত্ম সম্প্রদায়। হে আমাদের প্রতিপালক! এ (অগ্নি) হতে আমাদেরকে উদ্ধার করুন। আমরা যদি পুনরায় কুফরী করি, তবে তো অবশ্যই আমরা যালিমদের অন্তর্ভুক্ত হব। আল্লাহ বলবেন, তোমরা হীন অবস্থায় এখানেই থাকো; আর আমার সাথে কোন কথা বলো না। (সূরা মু’মিনূন, ১০৫-১০৮)