hadith book logo

তাফসীরুল কুরআন বিল কুরআন

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১১২

অধ্যায়- ৪ : জিহাদ করতে হবে জান ও মাল দিয়ে

আল্লাহ জান্নাতের বিনিময়ে মুমিনের জান-মাল কিনে নিয়েছেন :

اِنَّ اللهَ اشْتَرٰى مِنَ الْمُؤْمِنِيْنَ اَنْفُسَهُمْ وَاَمْوَالَهُمْ بِاَنَّ لَهُمُ الْجَنَّةَؕ يُقَاتِلُوْنَ فِيْ سَبِيْلِ اللهِ فَيَقْتُلُوْنَ وَيُقْتَلُوْنَ وَعْدًا عَلَيْهِ حَقًّا فِى التَّوْرَاةِ وَالْاِنْجِيْلِ وَالْقُرْاٰنِؕ وَمَنْ اَوْفٰى بِعَهْدِهٖ مِنَ اللهِ فَاسْتَبْشِرُوْا بِبَيْعِكُمُ الَّذِيْ بَايَعْتُمْ بِهٖؕ وَذٰلِكَ هُوَ الْفَوْزُ الْعَظِيْمُ

নিশ্চয় আল্লাহ মুমিনদের নিকট হতে তাদের জীবন ও সম্পদ ক্রয় করে নিয়েছেন; কেননা তাদের জন্য (এর বিনিময়ে) রয়েছে জান্নাত। তারা আল্লাহর পথে যুদ্ধ করে; অতঃপর তারা হত্যা করে ও নিহত হয়। তাওরাত, ইঞ্জিল ও কুরআনে এ সম্পর্কে তাদের দৃঢ় প্রতিশ্রুতি রয়েছে। আর নিজ প্রতিজ্ঞা পালনে আল্লাহর চেয়ে শ্রেষ্ঠতর আর কে আছে? (সুতরাং) তোমরা যা বিক্রয় করেছ সে বিক্রয়ের জন্য আনন্দিত হও; আর সেটাই তো মহাসাফল্য। (সূরা তাওবা- ১১১)

ব্যাখ্যা : আল্লাহ ও বান্দার মধ্যে ঈমান একটি চুক্তি। এ চুক্তির প্রেক্ষিতে বান্দা তার নিজের প্রাণ ও নিজের ধনসম্পদ আল্লাহর কাছে বিক্রি করে দেয়। আর এর বিনিময়ে সে আল্লাহর পক্ষ থেকে এ ওয়াদা চেয়ে নেয় যে, মৃত্যুপরবর্তী জীবনে তিনি তাকে জান্নাত দান করবেন। এ কেনা-বেচা এ অর্থে নয় যে, মানুষের একটি জিনিস আল্লাহ কিনতে চান। প্রকৃত ব্যাপার হচ্ছে, যে জিনিসটি আল্লাহর মালিকানাধীন, যাকে তিনি আমানত হিসেবে মানুষের হাতে সোপর্দ করেছেন সে ব্যাপারে তিনি মানুষের কাছে এ দাবী করেন যে, আমার জিনিসকে তুমি স্বেচ্ছায় ও সাগ্রহে আমার জিনিস বলে মেনে নাও এবং সারা জীবন আমানতদার হিসেবে তা ব্যবহার করার বিষয়টি গ্রহণ করে নাও। এর সঙ্গে খেয়ানত করার যে স্বাধীনতা তোমাকে দিয়েছি, তা তুমি নিজেই প্রত্যাহার করো। এভাবে যদি তুমি দুনিয়ার বর্তমান অস্থায়ী জীবনে নিজের স্বাধীনতাকে আমার হাতে বিক্রি করে দিতে পার, তাহলে আমি পরবর্তী চিরন্তন জীবনে এর মূল্য জান্নাতের আকারে তোমাকে দান করব। যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কেনা-বেচার এ চুক্তি সম্পাদন করে সে মুমিন। আর যে ব্যক্তি এটা অস্বীকার করবে সে কাফির। যে মুসলিম ব্যক্তি সঠিক অর্থে আল্লাহর উপর ঈমান এনেছে সে জীবনের সকল বিভাগে আল্লাহর ইচ্ছার অনুগত হয়ে কাজ করে। অনুরূপভাবে ঈমানদারদের সমন্বয়ে গঠিত কোন দল বা সমাজ সমষ্টিগতভাবেও আল্লাহর ইচ্ছা ও তাঁর শরয়ী আইনের বিধি-নিষেধমুক্ত হয়ে কোন পদ্ধতি, রাষ্ট্রীয় নীতি, সাংস্কৃতিক পদ্ধতি এবং কোন অর্থনৈতিক, সামাজিক ও আন্তর্জাতিক আচরণ অবলম্বন করতে পারে না। এ কেনা-বেচার মূল্য (অর্থাৎ জান্নাত) বর্তমান পার্থিব জীবনের অবসানের পর দেয়ার কথা বলা হয়েছে। সুতরাং বিক্রেতার পার্থিব জীবনকাল শেষ হওয়ার পর যখন প্রমাণিত হবে যে, কেনা-বেচার চুক্তি করার পর সে নিজের পার্থিব জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত চুক্তির শর্তসমূহ পুরোপুরিভাবে মেনে চলেছে, একমাত্র তখনই এ বিক্রি সম্পন্ন হবে। এর আগ পর্যন্ত সে মূল্য পাওয়ার অধিকারী হতে পারে না।

জিহাদে মাল না দিলে নিজেরই ক্ষতি হবে :

هَاۤ اَنْتُمْ هٰۤؤُلَآءِ تُدْعَوْنَ لِتُنْفِقُوْا فِيْ سَبِيْلِ اللّٰهِۚ فَمِنْكُمْ مَّنْ يَّبْخَلُۚ وَمَنْ يَّبْخَلْ فَاِنَّمَا يَبْخَلُ عَنْ نَّفْسِهٖؕ وَاللهُ الْغَنِيُّ وَاَنْتُمُ الْفُقَرَآءُۚ وَاِنْ تَتَوَلَّوْا يَسْتَبْدِلْ قَوْمًا غَيْرَكُمْ ثُمَّ لَا يَكُوْنُوْاۤ اَمْثَالَكُمْ

তোমরা তো তারাই, যাদেরকে আল্লাহর পথে মাল খরচ করার জন্য ডাকা হলো, তখন তোমাদের মধ্য থেকে কিছু লোক কৃপণতা করেছে। আর যে কৃপণতা করেছে, সে আসলে নিজের সাথেই কৃপণতা করেছে। আল্লাহ অভাবমুক্ত, আর তোমরাই অভাবগ্রস্ত। যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে রাখ, তাহলে আল্লাহ তোমাদের বদলে অন্য এক সম্প্রদায়কে নিয়ে আসবেন। অতঃপর তারা তোমাদের মতো হবে না। (সূরা মুহাম্মাদ- ৩৮)