hadith book logo

তাফসীরুল কুরআন বিল কুরআন

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৩৯৯

অধ্যায়- ১৭ : জান্নাতীদের সকল বাসনা পূর্ণ হবে

জান্নাতীরা আল্লাহর সকল নিয়ামত গ্রহণ করবে :

اِنَّ الْمُتَّقِيْنَ فِيْ جَنَّاتٍ وَّعُيُوْنٍ – اٰخِذِيْنَ ماۤ اٰتَاهُمْ رَبُّهُمْؕ اِنَّهُمْ كَانُوْا قَبْلَ ذٰلِكَ مُحْسِنِيْنَ

নিশ্চয় মুত্তাক্বীরা থাকবে বাগান ও ঝর্ণার মধ্যে। আল্লাহ তাদেরকে যেসকল নিয়ামত দান করবেন, তারা এর সবই গ্রহণ করবে। কারণ তারা ছিল ইতোপূর্বে (দুনিয়াতে থাকতে) সৎকর্মপরায়ণ লোকদের অন্তর্ভুক্ত। (সূরা যারিয়াত– ১৫, ১৬)

মন যা চাইবে সবই জান্নাতে পাওয়া যাবে :

وَلَكُمْ فِيْهَا مَا تَشْتَهِيْۤ اَنْفُسُكُمْ وَلَكُمْ فِيْهَا مَا تَدَّعُوْنَ

(হে মুমিনগণ!) তাতে (জান্নাতে) তোমাদের মন যা চাইবে সবই দেয়া হবে এবং তাও দেয়া হবে, যা দেয়ার জন্য তোমাদের সাথে ওয়াদা করা হয়েছে। (সূরা হা-মীম সাজদা– ৩১)

وَفِيْهَا مَا تَشْتَهِيْهِ الْاَنْفُسُ وَتَلَذُّ الْاَعْيُنُ

সেখানে (জান্নাতে) মন যা চাইবে এবং নয়ন যাতে তৃপ্ত হবে, সবই পাওয়া যাবে। (সূরা যুখরুফু ৭১)

لَهُمْ مَّا يَشَآءُوْنَ عِنْدَ رَبِّهِمْؕ ذٰلِكَ جَزَآءُ الْمُحْسِنِيْنَ

সৎকর্মশীলরা যা চাইবে সবই তাদের প্রতিপালকের নিকট পাবে। এটাই হবে নেক আমলকারীদের প্রতিদান। (সূরা যুমার– ৩৪)

ব্যাখ্যা : এ হচ্ছে জান্নাতের আসল পরিচয়। সেখানে মানুষ যা চাইবে তা-ই পাবে। তার ইচ্ছার বিরোধী কোনকিছুই সেখানে হবে না। দুনিয়ায় কোন বিখ্যাত ব্যক্তি, কোন ক্ষমতাধর নেতা এবং কোন বিশাল রাজ্যের বাদশাহও কোন দিন এ নিয়ামত লাভ করেনি। দুনিয়ায় এ ধরনের নিয়ামত লাভের কোন সম্ভাবনাই নেই। কিন্তু জান্নাতের প্রত্যেক অধিবাসীই সেখানে আনন্দ ও উপভোগের চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে যাবে। জান্নাতের সবকিছু হবে তার ইচ্ছা ও পছন্দ অনুযায়ী। তার প্রত্যেকটি আশা সফল হবে, প্রত্যেকটি কামনা ও বাসনা পূর্ণতা লাভ করবে এবং প্রত্যেকটি ইচ্ছা ও আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়িত হবে।

জান্নাতের রিযিক কখনো শেষ হবে না :

اِنَّ هٰذَا لَرِزْقُنَا مَا لَهٗ مِنْ نَّفَادٍ

এসব হলো আমার দেয়া রিযিক, এগুলো কখনো শেষ হবে না। (সূরা সোয়াদু ৫৪)

জান্নাত থেকে কেউ বের হতে চাইবে না :

اِنَّ الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ كَانَتْ لَهُمْ جَنَّاتُ الْفِرْدَوْسِ نُزُلًا – خَالِدِيْنَ فِيْهَا لَا يَبْغُوْنَ عَنْهَا حِوَلًا

নিশ্চয় যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম করেছে তাদের জন্য রয়েছে জান্নাতুল ফিরদাউস, আল্লাহর পক্ষ থেকে উপঢৌকনস্বরূপ। সেখানে তারা চিরস্থায়ী হবে; আর তারা কখনো জান্নাত থেকে বের হয়ে অন্য কোথাও যাওয়ার বাসনা করবে না। (সূরা কাহফু ১০৭, ১০৮)

لَا يَمَسُّهُمْ فِيْهَا نَصَبٌ وَّمَا هُمْ مِّنْهَا بِمُخْرَجِيْنَ

জান্নাতীদেরকে কোন কষ্ট স্পর্শ করবে না এবং তারা সেখান থেকে কখনো বেরও হবে না। (সূরা হিজর– ৪৮)

জান্নাতে দুঃখ–কষ্টের কিছুই থাকবে না :

لَا يَمَسُّنَا فِيْهَا نَصَبٌ وَّلَا يَمَسُّنَا فِيْهَا لُغُوْبٌ

(জান্নাতীরা বলবে) সেখানে আমাদেরকে কোন কষ্ট স্পর্শ করবে না। আর আমরা সেখানে কোন অনর্থক বিষয়েরও সম্মুখীন হব না। (সূরা ফাতির– ৩৫)

গরম ও ঠান্ডা কোনটাই থাকবে না :

مُتَّكِئِيْنَ فِيْهَا عَلَى الْاَرَآئِكِ لَا يَرَوْنَ فِيْهَا شَمْسًا وَّ لَا زَمْهَرِيْرًا

(জান্নাতীরা নিজ নিজ) আসনে হেলান দিয়ে বসা থাকবে। তারা কখনো সূর্যের তাপ অনুভব করবে না এবং অতি ঠান্ডাতেও কষ্ট পাবে না। (সূরা দাহর– ১৩)

ব্যাখ্যা : অর্থাৎ জান্নাতের আবহাওয়া হবে স্বাভাবিক, যা অতি ঠান্ডাও নয় এবং অতি গরমও নয়।

জান্নাতে অনর্থক বা পাপাচারমূলক কথা শোনা যাবে না :

لَا تَسْمَعُ فِيْهَا لَاغِيَةً

সেখানে তুমি কোন অর্থহীন কথা শুনতে পাবে না। (সূরা গাশিয়া– ১১)

لَا يَسْمَعُوْنَ فِيْهَا لَغْوًا وَّلَا تَاْثِيْمًا – اِلَّا قِيْلًا سَلَامًا سَلَامًا

জান্নাতীরা সেখানে কোন অনর্থক এবং পাপের কথা শুনতে পাবে না। তারা শুনতে পাবে কেবল সালাম, সালাম (শান্তি আর শান্তি)। (সূরা ওয়াক্বিয়া, ২৫, ২৬)

জান্নাতে মিথ্যা কথা শোনা যাবে না :

لَا يَسْمَعُوْنَ فِيْهَا لَغْوًا وَّلَا كِذَّابًا

জান্নাতীরা সেখানে কোন বাজে কথা বা মিথ্যা কথা শুনতে পাবে না। (সূরা নাবা– ৩৫)

জান্নাতীরা জাহান্নামের গর্জন শুনতে পাবে না :

لَا يَسْمَعُوْنَ حَسِيْسَهَاۚ وَهُمْ فِيْ مَا اشْتَهَتْ اَنْفُسُهُمْ خَالِدُوْنَ

তারা জাহান্নামের গর্জন শুনতে পাবে না। তারা স্থায়ীভাবে নিজেদের মনের চাহিদানুযায়ী জান্নাতের নিয়ামত ভোগ করবে। (সূরা আম্বিয়া– ১০২)