১
তাফসীরুল কুরআন বিল কুরআন
লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৩৯৭
অধ্যায়- ১৫ : জান্নাতীদের প্রশংসা
জান্নাতীরা আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করবে :
وَقَالُوا الْحَمْدُ لِلّٰهِ الَّذِيْ صَدَقَنَا وَعْدَهٗ وَاَوْرَثَنَا الْاَرْضَ نَتَبَوَّاُ مِنَ الْجَنَّةِ حَيْثُ نَشَآءُۚ فَنِعْمَ اَجْرُ الْعَامِلِيْنَ
জান্নাতীরা বলবে, সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর ওয়াদা বাস্তবায়িত করেছেন এবং আমাদেরকে এ ভূমির অধিকারী করেছেন। আমরা জান্নাতের যেখানে ইচ্ছা বসবাস করব। অতএব সৎকর্মশীলদের প্রতিদান কতই না উত্তম! (সূরা যুমার– ৭৪)
وَقَالُوا الْحَمْدُ لِلّٰهِ الَّذِيْ هَدَانَا لِهٰذَا وَمَا كُنَّا لِنَهْتَدِيَ لَوْلَاۤ اَنْ هَدَانَا اللهُۚ لَقَدْ جَآءَتْ رُسُلُ رَبِّنَا بِالْحَقِّؕ وَنُوْدُوْاۤ اَنْ تِلْكُمُ الْجَنَّةُ اُوْرِثْتُمُوْهَا بِمَا كُنْتُمْ تَعْمَلُوْنَ
তারা বলতে থাকবে, সকল প্রশংসা ঐ সত্তার জন্য, যিনি আমাদেরকে জান্নাতের পথ দেখিয়েছেন। আল্লাহ আমাদেরকে হেদায়াত না করলে আমরা কখনো হেদায়াত লাভ করতে পারতাম না। আমাদের প্রতিপালকের দূতগণ (আমাদের নিকট) যা নিয়ে এসেছিলেন সবই সত্য। অতঃপর তাদেরকে আহবান করে বলা হবে, এই হলো তোমাদের (জন্য নির্মিত) জান্নাত। তোমাদের নেক আমলের কারণেই তোমরা এর উত্তরাধিকারী হয়েছ। (সূরা আ‘রাফু ৪৩)
জান্নাতীদের কোন দুঃখ-কষ্ট থাকবে না :
وَقَالُوا الْحَمْدُ لِلّٰهِ الَّذِيْۤ اَذْهَبَ عَنَّا الْحَزَنَؕ اِنَّ رَبَّنَا لَغَفُوْرٌ شَكُوْرٌ – اَلَّذِيْۤ اَحَلَّنَا دَارَ الْمُقَامَةِ مِنْ فَضْلِهٖۚ لَا يَمَسُّنَا فِيْهَا نَصَبٌ وَّلَا يَمَسُّنَا فِيْهَا لُغُوْبٌ
জান্নাতবাসীরা বলবে, সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের সকল চিন্তা–ভাবনা দূর করে দিয়েছেন। নিশ্চয় আমাদের প্রতিপালক অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও দয়ালু। যিনি নিজ অনুগ্রহে আমাদেরকে স্থায়ী জান্নাতে স্থান দিয়েছেন। সেখানে আমাদেরকে কোন কষ্ট স্পর্শ করবে না। আর আমরা কোন অনর্থক বিষয়েরও সম্মুখীন হব না। (সূরা ফাতির– ৩৪, ৩৫)
ব্যাখ্যা : ফেরেশতারা চারদিক থেকে এসে তাদেরকে সালাম করতে থাকবে এবং এই সুখবরও দেবে যে, এখন তোমরা এমন জায়গায় এসেছ যেখানে পরিপূর্ণ শান্তি ও নিরাপত্তা বিরাজমান। এখানে তোমরা সবরকমের বিপদ, কষ্ট, পরিশ্রম, শঙ্কা ও আতঙ্কমুক্ত।
জান্নাতীরা আনন্দে মশগুল থাকবে :
اِنَّ اَصْحَابَ الْجَنَّةِ الْيَوْمَ فِيْ شُغُلٍ فَاكِهُوْنَ
নিশ্চয় জান্নাতীরা আজ আনন্দ ও আরামের মধ্যে থাকবে। (সূরা ইয়াসীনু ৫৫)
জান্নাতীদের চেহারায় নিয়ামতের সজীবতা প্রকাশ পাবে :
تَعْرِفُ فِيْ وُجُوْهِهِمْ نَضْرَةَ النَّعِيْمِ
তুমি জান্নাতীদের চেহারায় দেখতে পাবে নিয়ামতের সজীবতা। (সূরা মুতাফ্ফিফীনু ২৪)
ব্যাখ্যা : মানুষ যখন নিয়ামত পায় তখন তার চেহারা উজ্জ্বল হয়ে যায়। জান্নাতের অফুরন্ত নিয়ামত পাওয়াতে জান্নাতীদের চেহারা উজ্জ্বল দেখাবে। জান্নাতীদের চেহারা পূর্ণিমার চাঁদের মতো উজ্জ্বল হবে । আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূল ﷺ বলেছেন, প্রথমে যে দল জান্নাতে প্রবেশ করবে, তাদের চেহারা হবে পূর্ণিমার চাঁদের মতো উজ্জ্বল। এরপর যারা প্রবেশ করবে তাদের চেহারা আকাশের সবচেয়ে উজ্জ্বল তারকার মতো হবে। (সহীহ বুখারী, হা/৩২৪৬)
জান্নাতীদের মধ্যে হিংসা–বিদ্বেষ থাকবে না :
وَنَزَعْنَا مَا فِيْ صُدُوْرِهِمْ مِّنْ غِلٍّ تَجْرِيْ مِنْ تَحْتِهِمُ الْاَنْهَارُ
আমি জান্নাতীদের অন্তর থেকে সকল প্রকার হিংসা–বিদ্বেষ দূর করে দেব। তাদের নিচ দিয়ে নদীসমূহ প্রবাহিত হয়ে যাবে। (সূরা আ‘রাফু ৪৩)
وَنَزَعْنَا مَا فِيْ صُدُوْرِهِمْ مِّنْ غِلٍّ اِخْوَانًا عَلٰى سُرُرٍ مُّتَقَابِلِيْنَ
আমি জান্নাতীদের অন্তর থেকে সকল প্রকার হিংসা–বিদ্বেষ দূর করে দেব। তারা পরস্পর ভাই–ভাই হিসেবে বসবাস করবে। তারা উঁচু উঁচু আসনে হেলান দিয়ে বসবে। (সূরা হিজর– ৪৭)
ব্যাখ্যা : দুনিয়ার জীবনে এ সৎ লোকদের মধ্যে পারস্পরিক কিছু মনোমালিন্য ও ভুল বুঝাবুঝি থেকে থাকলেও আখিরাতের জীবনে তা সব দূর করে দেয়া হবে। তাদের মন পরস্পরের ব্যাপারে পরিষ্কার হয়ে যাবে। তারা পরস্পর আন্তরিকতাসম্পন্ন অকৃত্রিম বন্ধু হিসেবে জান্নাতে প্রবেশ করবে। দুনিয়াতে অনেক আত্মীয়–স্বজনদের মধ্যেও হিংসা–বিদ্বেষ থাকে এবং ঝগড়া–বিবাদ হয় কিন্তু জান্নাতে এসব থাকবে না। সেখানে সবাই মিলে–মিশে একত্রে আনন্দের সাথে হাসি–খুশিতে বসবাস করবে। আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ বলেছেন, সকল জান্নাতী লোকদের অন্তর হবে একই লোকের অন্তরের ন্যায়। তাদের মধ্যে ক্রোধ, হিংসা–বিদ্বেষ কিছুই থাকবে না। (সহীহ বুখারী, হা/৩২৪৬)
জান্নাতীরা পরস্পরের মধ্যে খাদ্য আদানুপ্রদান করবে :
يَتَنَازَعُوْنَ فِيْهَا كَاْسًا لَّا لَغْوٌ فِيْهَا وَلَا تَاْثِيْمٌ
জান্নাতীরা একে অপরের নিকট থেকে পানপাত্র গ্রহণ করবে। যা পান করলে তারা মাতাল হবে না, পাপকাজেও জড়িয়ে পড়বে না। (সূরা তূর– ২৩)
ব্যাখ্যা : জান্নাতীদের মধ্যে পানপাত্র আদানপ্রদান করা, একজন অপরজনকে খাদ্য দেয়া– এটা তাদের চরম ভালোবাসার পরিচায়ক। কেননা বন্ধুবান্ধব ও আত্মীয়–স্বজনদের মধ্যে খাদ্য পরিবেশন এবং একে অন্যের নিকট থেকে খাদ্য গ্রহণের মধ্যে বিশেষ আনন্দ রয়েছে।
وَقَالُوا الْحَمْدُ لِلّٰهِ الَّذِيْ صَدَقَنَا وَعْدَهٗ وَاَوْرَثَنَا الْاَرْضَ نَتَبَوَّاُ مِنَ الْجَنَّةِ حَيْثُ نَشَآءُۚ فَنِعْمَ اَجْرُ الْعَامِلِيْنَ
জান্নাতীরা বলবে, সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর ওয়াদা বাস্তবায়িত করেছেন এবং আমাদেরকে এ ভূমির অধিকারী করেছেন। আমরা জান্নাতের যেখানে ইচ্ছা বসবাস করব। অতএব সৎকর্মশীলদের প্রতিদান কতই না উত্তম! (সূরা যুমার– ৭৪)
وَقَالُوا الْحَمْدُ لِلّٰهِ الَّذِيْ هَدَانَا لِهٰذَا وَمَا كُنَّا لِنَهْتَدِيَ لَوْلَاۤ اَنْ هَدَانَا اللهُۚ لَقَدْ جَآءَتْ رُسُلُ رَبِّنَا بِالْحَقِّؕ وَنُوْدُوْاۤ اَنْ تِلْكُمُ الْجَنَّةُ اُوْرِثْتُمُوْهَا بِمَا كُنْتُمْ تَعْمَلُوْنَ
তারা বলতে থাকবে, সকল প্রশংসা ঐ সত্তার জন্য, যিনি আমাদেরকে জান্নাতের পথ দেখিয়েছেন। আল্লাহ আমাদেরকে হেদায়াত না করলে আমরা কখনো হেদায়াত লাভ করতে পারতাম না। আমাদের প্রতিপালকের দূতগণ (আমাদের নিকট) যা নিয়ে এসেছিলেন সবই সত্য। অতঃপর তাদেরকে আহবান করে বলা হবে, এই হলো তোমাদের (জন্য নির্মিত) জান্নাত। তোমাদের নেক আমলের কারণেই তোমরা এর উত্তরাধিকারী হয়েছ। (সূরা আ‘রাফু ৪৩)
জান্নাতীদের কোন দুঃখ-কষ্ট থাকবে না :
وَقَالُوا الْحَمْدُ لِلّٰهِ الَّذِيْۤ اَذْهَبَ عَنَّا الْحَزَنَؕ اِنَّ رَبَّنَا لَغَفُوْرٌ شَكُوْرٌ – اَلَّذِيْۤ اَحَلَّنَا دَارَ الْمُقَامَةِ مِنْ فَضْلِهٖۚ لَا يَمَسُّنَا فِيْهَا نَصَبٌ وَّلَا يَمَسُّنَا فِيْهَا لُغُوْبٌ
জান্নাতবাসীরা বলবে, সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের সকল চিন্তা–ভাবনা দূর করে দিয়েছেন। নিশ্চয় আমাদের প্রতিপালক অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও দয়ালু। যিনি নিজ অনুগ্রহে আমাদেরকে স্থায়ী জান্নাতে স্থান দিয়েছেন। সেখানে আমাদেরকে কোন কষ্ট স্পর্শ করবে না। আর আমরা কোন অনর্থক বিষয়েরও সম্মুখীন হব না। (সূরা ফাতির– ৩৪, ৩৫)
ব্যাখ্যা : ফেরেশতারা চারদিক থেকে এসে তাদেরকে সালাম করতে থাকবে এবং এই সুখবরও দেবে যে, এখন তোমরা এমন জায়গায় এসেছ যেখানে পরিপূর্ণ শান্তি ও নিরাপত্তা বিরাজমান। এখানে তোমরা সবরকমের বিপদ, কষ্ট, পরিশ্রম, শঙ্কা ও আতঙ্কমুক্ত।
জান্নাতীরা আনন্দে মশগুল থাকবে :
اِنَّ اَصْحَابَ الْجَنَّةِ الْيَوْمَ فِيْ شُغُلٍ فَاكِهُوْنَ
নিশ্চয় জান্নাতীরা আজ আনন্দ ও আরামের মধ্যে থাকবে। (সূরা ইয়াসীনু ৫৫)
জান্নাতীদের চেহারায় নিয়ামতের সজীবতা প্রকাশ পাবে :
تَعْرِفُ فِيْ وُجُوْهِهِمْ نَضْرَةَ النَّعِيْمِ
তুমি জান্নাতীদের চেহারায় দেখতে পাবে নিয়ামতের সজীবতা। (সূরা মুতাফ্ফিফীনু ২৪)
ব্যাখ্যা : মানুষ যখন নিয়ামত পায় তখন তার চেহারা উজ্জ্বল হয়ে যায়। জান্নাতের অফুরন্ত নিয়ামত পাওয়াতে জান্নাতীদের চেহারা উজ্জ্বল দেখাবে। জান্নাতীদের চেহারা পূর্ণিমার চাঁদের মতো উজ্জ্বল হবে । আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূল ﷺ বলেছেন, প্রথমে যে দল জান্নাতে প্রবেশ করবে, তাদের চেহারা হবে পূর্ণিমার চাঁদের মতো উজ্জ্বল। এরপর যারা প্রবেশ করবে তাদের চেহারা আকাশের সবচেয়ে উজ্জ্বল তারকার মতো হবে। (সহীহ বুখারী, হা/৩২৪৬)
জান্নাতীদের মধ্যে হিংসা–বিদ্বেষ থাকবে না :
وَنَزَعْنَا مَا فِيْ صُدُوْرِهِمْ مِّنْ غِلٍّ تَجْرِيْ مِنْ تَحْتِهِمُ الْاَنْهَارُ
আমি জান্নাতীদের অন্তর থেকে সকল প্রকার হিংসা–বিদ্বেষ দূর করে দেব। তাদের নিচ দিয়ে নদীসমূহ প্রবাহিত হয়ে যাবে। (সূরা আ‘রাফু ৪৩)
وَنَزَعْنَا مَا فِيْ صُدُوْرِهِمْ مِّنْ غِلٍّ اِخْوَانًا عَلٰى سُرُرٍ مُّتَقَابِلِيْنَ
আমি জান্নাতীদের অন্তর থেকে সকল প্রকার হিংসা–বিদ্বেষ দূর করে দেব। তারা পরস্পর ভাই–ভাই হিসেবে বসবাস করবে। তারা উঁচু উঁচু আসনে হেলান দিয়ে বসবে। (সূরা হিজর– ৪৭)
ব্যাখ্যা : দুনিয়ার জীবনে এ সৎ লোকদের মধ্যে পারস্পরিক কিছু মনোমালিন্য ও ভুল বুঝাবুঝি থেকে থাকলেও আখিরাতের জীবনে তা সব দূর করে দেয়া হবে। তাদের মন পরস্পরের ব্যাপারে পরিষ্কার হয়ে যাবে। তারা পরস্পর আন্তরিকতাসম্পন্ন অকৃত্রিম বন্ধু হিসেবে জান্নাতে প্রবেশ করবে। দুনিয়াতে অনেক আত্মীয়–স্বজনদের মধ্যেও হিংসা–বিদ্বেষ থাকে এবং ঝগড়া–বিবাদ হয় কিন্তু জান্নাতে এসব থাকবে না। সেখানে সবাই মিলে–মিশে একত্রে আনন্দের সাথে হাসি–খুশিতে বসবাস করবে। আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ বলেছেন, সকল জান্নাতী লোকদের অন্তর হবে একই লোকের অন্তরের ন্যায়। তাদের মধ্যে ক্রোধ, হিংসা–বিদ্বেষ কিছুই থাকবে না। (সহীহ বুখারী, হা/৩২৪৬)
জান্নাতীরা পরস্পরের মধ্যে খাদ্য আদানুপ্রদান করবে :
يَتَنَازَعُوْنَ فِيْهَا كَاْسًا لَّا لَغْوٌ فِيْهَا وَلَا تَاْثِيْمٌ
জান্নাতীরা একে অপরের নিকট থেকে পানপাত্র গ্রহণ করবে। যা পান করলে তারা মাতাল হবে না, পাপকাজেও জড়িয়ে পড়বে না। (সূরা তূর– ২৩)
ব্যাখ্যা : জান্নাতীদের মধ্যে পানপাত্র আদানপ্রদান করা, একজন অপরজনকে খাদ্য দেয়া– এটা তাদের চরম ভালোবাসার পরিচায়ক। কেননা বন্ধুবান্ধব ও আত্মীয়–স্বজনদের মধ্যে খাদ্য পরিবেশন এবং একে অন্যের নিকট থেকে খাদ্য গ্রহণের মধ্যে বিশেষ আনন্দ রয়েছে।