১
তাফসীরুল কুরআন বিল কুরআন
লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৮৮
অধ্যায়- ১২ : সালাত ত্যাগ করার পরিণাম
অধিকাংশ লোকই সালাত ছেড়ে দিয়েছে :
فَخَلَفَ مِنْ ۢبَعْدِهِمْ خَلْفٌ اَضَاعُوا الصَّلَاةَ وَاتَّبَعُوا الشَّهَوَاتِ فَسَوْفَ يَلْقَوْنَ غَيًّا
তাদের পরে এমন লোক স্থলাভিষিক্ত হলো, যারা তাদের সালাতকে নষ্ট করেছে এবং প্রবৃত্তির অনুসরণ করেছে। সুতরাং তারা অচিরেই শাস্তির সম্মুখীন হবে। (সূরা মারইয়াম- ৫৯)
ব্যাখ্যা : সালাত পরিত্যাগ করা বা সালাত থেকে গাফিল হওয়া প্রত্যেক উম্মতের ধ্বংসের প্রথম কারণ। সালাত মূলত আল্লাহর সাথে মুমিনের কার্যকর সম্পর্ক বজায় রাখে। এ সম্পর্ক তাকে আল্লাহর আনুগত্যের কেন্দ্র থেকে বিচ্যুত হতে দেয় না। এ বাঁধন ছিন্ন হলেই মানুষ আল্লাহ থেকে বহুদূরে চলে যায়। তাই আল্লাহ একটি সাধারণ নিয়ম হিসেবে এখানে এ কথাটি বর্ণনা করেছেন যে, পূর্ববর্তী সকল উম্মতের বিকৃতি শুরু হয়েছে সালাত পরিত্যাগ করার কারণে। আল্লাহর সাথে সম্পর্কের অভাব ও শূন্যতা সৃষ্টি হওয়ার মূল কারণ হচ্ছে, সালাত ত্যাগ করা। সালাত ত্যাগ করার ফলে ব্যক্তির মন ধীরে ধীরে আল্লাহর স্মরণ থেকে গাফিল হয়ে যায়। অতঃপর ঐ ব্যক্তির মাঝে যতই এ গাফলতি বৃদ্ধি পেতে থাকে ততই প্রবৃত্তি পূজার প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। অবশেষে এক সময় সে নৈতিক চরিত্র ও ব্যবহারিক জীবনের সকল ক্ষেত্রে আল্লাহর হুকুমের পরিবর্তে নিজের মনগড়া পদ্ধতি তথা তাগুতের অনুসারী হয়ে পড়ে।
শয়তানের ধোঁকায় পড়ে মানুষ সালাত ভুলে গেছে :
اِنَّمَا يُرِيْدُ الشَّيْطَانُ اَنْ يُّوْقِعَ بَيْنَكُمُ الْعَدَاوَةَ وَالْبَغْضَآءَ فِى الْخَمْرِ وَالْمَيْسِرِ وَيَصُدَّكُمْ عَنْ ذِكْرِ اللهِ وَعَنِ الصَّلَاةِ فَهَلْ اَنْتُمْ مُّنْتَهُوْنَ
নিশ্চয় শয়তান মদ ও জুয়া দ্বারা তোমাদের মধ্যে বিদ্বেষ ঘটাতে চায় এবং তোমাদেরকে আল্লাহর স্মরণ থেকে ও সালাত আদায় করা থেকে বাধা দিতে চায়। তবুও কি তোমরা (এসব অন্যায় হতে) বিরত থাকবে না? (সূরা মায়েদা- ৯১)
আল্লাহকে সিজদা করতে অস্বীকার করা ইবলিসের কাজ :
وَاِذْ قُلْنَا لِلْمَلَآئِكَةِ اسْجُدُوْا لِاٰدَمَ فَسَجَدُوْاۤ اِلَّاۤ اِبْلِيْسَؕ اَبٰى وَاسْتَكْبَرَ وَكَانَ مِنَ الْكَافِرِيْنَ
যখন আমি ফেরেশতাদেরকে বলেছিলাম, তোমরা আদমকে সিজদা করো তখন ইবলিস ব্যতীত সকলেই সিজদা করেছিল। সে অস্বীকার করল ও অহংকার করল এবং কাফিরদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেল। (সূরা বাক্বারা- ৩৪)
কিয়ামতের দিন সালাত পরিত্যাগকারীকে কঠিন দুর্ভোগ পোহাতে হবে :
وَاِذَا قِيْلَ لَهُمُ ارْكَعُوْا لَا يَرْكَعُوْنَ ‐ - وَيْلٌ يَّوْمَئِذٍ لِّلْمُكَذِّبِيْنَ
যখন তাদেরকে বলা হয়, তোমরা আল্লাহর সামনে নত হও; তখন তারা মাথা নত করে না। সুতরাং দুর্ভোগ এসব মিথ্যা প্রতিপন্নকারীদের জন্য। (সূরা মুরসালাত- ৪৮, ৪৯)
সালাত ত্যাগকারীরা জাহান্নামের আগুনে জ্বলবে :
كُلُّ نَفْسٍ ۢبِمَا كَسَبَتْ رَهِيْنَةٌ ‐ اِلَّاۤ اَصْحَابَ الْيَمِيْنِ ‐ فِيْ جَنَّاتٍؕ يَتَسَآءَلُوْنَ ‐ عَنِ الْمُجْرِمِيْنَ ‐ مَا سَلَكَكُمْ فِيْ سَقَرَ ‐ قَالُوْا لَمْ نَكُ مِنَ الْمُصَلِّيْنَ ‐ وَلَمْ نَكُ نُطْعِمُ الْمِسْكِيْنَ ‐ وَكُنَّا نَخُوْضُ مَعَ الْخَآئِضِيْنَ ‐ وَكُنَّا نُكَذِّبُ بِيَوْمِ الدِّيْنِ ‐ حَتّٰۤى اَتَانَا الْيَقِيْنُ
প্রত্যেক ব্যক্তি নিজ কৃতকর্মের কাছে দায়বদ্ধ, তবে দক্ষিণপার্শ্বস্থ ব্যক্তিরা (ডান হাতে আমলনামা প্রাপ্তগণ) ব্যতীত। তারা জান্নাতে থাকবে এবং তারা পরস্পর পরস্পরকে অপরাধীদের সম্পর্কে জিজ্ঞেস করবে, তোমাদেরকে কিসে সাক্বার (জাহান্নাম) এ নিক্ষেপ করেছে? তারা বলবে, আমরা সালাত আদায়কারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম না এবং অভাবগ্রস্তদের খাবার দিতাম না। আর আমরা সমালোচনাকারীদের সাথে সমালোচনায় মগ্ন থাকতাম এবং আমাদের নিকট মৃত্যু আসার পূর্ব পর্যন্ত আমরা কর্মফল দিবসকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করতাম। (সূরা মুদ্দাস্সির, ৩৮-৪৭)
ব্যাখ্যা : سَقَرٌ (সাক্বার) হচ্ছে, জাহান্নামের একটি স্তরের নাম। এ আয়াতে সালাত আদায় না করাকে জাহান্নামে যাওয়ার কারণ হিসেবে উল্লেখ করে স্পষ্ট বলে দেয়া হয়েছে যে, সালাত পরিত্যাগ করার কারণে মানুষকে জাহান্নামের আগুনে জ্বলতে হবে।
কিয়ামতের দিন সালাত পরিত্যাগকারীরা আল্লাহকে সিজদা করতে পারবে না :
يَوْمَ يُكْشَفُ عَنْ سَاقٍ وَّيُدْعَوْنَ اِلَى السُّجُوْدِ فَلَا يَسْتَطِيْعُوْنَ
স্মরণ করো, সেদিন যাবতীয় রহস্য উদঘটিত হয়ে পড়বে এবং তাদেরকে সিজদা করতে আহবান করা হবে। কিন্তু সেদিন তারা সিজদা করতে পারবে না। (সূরা ক্বালাম- ৪২)
সেদিন তারা লাঞ্ছিত ও অপমানিত হবে :
خَاشِعَةً اَبْصَارُهُمْ تَرْهَقُهُمْ ذِلَّةٌؕ وَقَدْ كَانُوْا يُدْعَوْنَ اِلَى السُّجُوْدِ وَهُمْ سَالِمُوْنَ
তাদের দৃষ্টি হবে অবনত; অপমান ও লাঞ্ছনা তাদের উপর চেপে বসবে। (দুনিয়াতে) তারা যখন সুস্থ ও নিরাপদ ছিল তখন তাদেরকে সিজদা করার জন্য ডাকা হতো (কিন্তু তারা সিজদা করত না)। (সূরা ক্বালাম- ৪৩)
فَخَلَفَ مِنْ ۢبَعْدِهِمْ خَلْفٌ اَضَاعُوا الصَّلَاةَ وَاتَّبَعُوا الشَّهَوَاتِ فَسَوْفَ يَلْقَوْنَ غَيًّا
তাদের পরে এমন লোক স্থলাভিষিক্ত হলো, যারা তাদের সালাতকে নষ্ট করেছে এবং প্রবৃত্তির অনুসরণ করেছে। সুতরাং তারা অচিরেই শাস্তির সম্মুখীন হবে। (সূরা মারইয়াম- ৫৯)
ব্যাখ্যা : সালাত পরিত্যাগ করা বা সালাত থেকে গাফিল হওয়া প্রত্যেক উম্মতের ধ্বংসের প্রথম কারণ। সালাত মূলত আল্লাহর সাথে মুমিনের কার্যকর সম্পর্ক বজায় রাখে। এ সম্পর্ক তাকে আল্লাহর আনুগত্যের কেন্দ্র থেকে বিচ্যুত হতে দেয় না। এ বাঁধন ছিন্ন হলেই মানুষ আল্লাহ থেকে বহুদূরে চলে যায়। তাই আল্লাহ একটি সাধারণ নিয়ম হিসেবে এখানে এ কথাটি বর্ণনা করেছেন যে, পূর্ববর্তী সকল উম্মতের বিকৃতি শুরু হয়েছে সালাত পরিত্যাগ করার কারণে। আল্লাহর সাথে সম্পর্কের অভাব ও শূন্যতা সৃষ্টি হওয়ার মূল কারণ হচ্ছে, সালাত ত্যাগ করা। সালাত ত্যাগ করার ফলে ব্যক্তির মন ধীরে ধীরে আল্লাহর স্মরণ থেকে গাফিল হয়ে যায়। অতঃপর ঐ ব্যক্তির মাঝে যতই এ গাফলতি বৃদ্ধি পেতে থাকে ততই প্রবৃত্তি পূজার প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। অবশেষে এক সময় সে নৈতিক চরিত্র ও ব্যবহারিক জীবনের সকল ক্ষেত্রে আল্লাহর হুকুমের পরিবর্তে নিজের মনগড়া পদ্ধতি তথা তাগুতের অনুসারী হয়ে পড়ে।
শয়তানের ধোঁকায় পড়ে মানুষ সালাত ভুলে গেছে :
اِنَّمَا يُرِيْدُ الشَّيْطَانُ اَنْ يُّوْقِعَ بَيْنَكُمُ الْعَدَاوَةَ وَالْبَغْضَآءَ فِى الْخَمْرِ وَالْمَيْسِرِ وَيَصُدَّكُمْ عَنْ ذِكْرِ اللهِ وَعَنِ الصَّلَاةِ فَهَلْ اَنْتُمْ مُّنْتَهُوْنَ
নিশ্চয় শয়তান মদ ও জুয়া দ্বারা তোমাদের মধ্যে বিদ্বেষ ঘটাতে চায় এবং তোমাদেরকে আল্লাহর স্মরণ থেকে ও সালাত আদায় করা থেকে বাধা দিতে চায়। তবুও কি তোমরা (এসব অন্যায় হতে) বিরত থাকবে না? (সূরা মায়েদা- ৯১)
আল্লাহকে সিজদা করতে অস্বীকার করা ইবলিসের কাজ :
وَاِذْ قُلْنَا لِلْمَلَآئِكَةِ اسْجُدُوْا لِاٰدَمَ فَسَجَدُوْاۤ اِلَّاۤ اِبْلِيْسَؕ اَبٰى وَاسْتَكْبَرَ وَكَانَ مِنَ الْكَافِرِيْنَ
যখন আমি ফেরেশতাদেরকে বলেছিলাম, তোমরা আদমকে সিজদা করো তখন ইবলিস ব্যতীত সকলেই সিজদা করেছিল। সে অস্বীকার করল ও অহংকার করল এবং কাফিরদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেল। (সূরা বাক্বারা- ৩৪)
কিয়ামতের দিন সালাত পরিত্যাগকারীকে কঠিন দুর্ভোগ পোহাতে হবে :
وَاِذَا قِيْلَ لَهُمُ ارْكَعُوْا لَا يَرْكَعُوْنَ ‐ - وَيْلٌ يَّوْمَئِذٍ لِّلْمُكَذِّبِيْنَ
যখন তাদেরকে বলা হয়, তোমরা আল্লাহর সামনে নত হও; তখন তারা মাথা নত করে না। সুতরাং দুর্ভোগ এসব মিথ্যা প্রতিপন্নকারীদের জন্য। (সূরা মুরসালাত- ৪৮, ৪৯)
সালাত ত্যাগকারীরা জাহান্নামের আগুনে জ্বলবে :
كُلُّ نَفْسٍ ۢبِمَا كَسَبَتْ رَهِيْنَةٌ ‐ اِلَّاۤ اَصْحَابَ الْيَمِيْنِ ‐ فِيْ جَنَّاتٍؕ يَتَسَآءَلُوْنَ ‐ عَنِ الْمُجْرِمِيْنَ ‐ مَا سَلَكَكُمْ فِيْ سَقَرَ ‐ قَالُوْا لَمْ نَكُ مِنَ الْمُصَلِّيْنَ ‐ وَلَمْ نَكُ نُطْعِمُ الْمِسْكِيْنَ ‐ وَكُنَّا نَخُوْضُ مَعَ الْخَآئِضِيْنَ ‐ وَكُنَّا نُكَذِّبُ بِيَوْمِ الدِّيْنِ ‐ حَتّٰۤى اَتَانَا الْيَقِيْنُ
প্রত্যেক ব্যক্তি নিজ কৃতকর্মের কাছে দায়বদ্ধ, তবে দক্ষিণপার্শ্বস্থ ব্যক্তিরা (ডান হাতে আমলনামা প্রাপ্তগণ) ব্যতীত। তারা জান্নাতে থাকবে এবং তারা পরস্পর পরস্পরকে অপরাধীদের সম্পর্কে জিজ্ঞেস করবে, তোমাদেরকে কিসে সাক্বার (জাহান্নাম) এ নিক্ষেপ করেছে? তারা বলবে, আমরা সালাত আদায়কারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম না এবং অভাবগ্রস্তদের খাবার দিতাম না। আর আমরা সমালোচনাকারীদের সাথে সমালোচনায় মগ্ন থাকতাম এবং আমাদের নিকট মৃত্যু আসার পূর্ব পর্যন্ত আমরা কর্মফল দিবসকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করতাম। (সূরা মুদ্দাস্সির, ৩৮-৪৭)
ব্যাখ্যা : سَقَرٌ (সাক্বার) হচ্ছে, জাহান্নামের একটি স্তরের নাম। এ আয়াতে সালাত আদায় না করাকে জাহান্নামে যাওয়ার কারণ হিসেবে উল্লেখ করে স্পষ্ট বলে দেয়া হয়েছে যে, সালাত পরিত্যাগ করার কারণে মানুষকে জাহান্নামের আগুনে জ্বলতে হবে।
কিয়ামতের দিন সালাত পরিত্যাগকারীরা আল্লাহকে সিজদা করতে পারবে না :
يَوْمَ يُكْشَفُ عَنْ سَاقٍ وَّيُدْعَوْنَ اِلَى السُّجُوْدِ فَلَا يَسْتَطِيْعُوْنَ
স্মরণ করো, সেদিন যাবতীয় রহস্য উদঘটিত হয়ে পড়বে এবং তাদেরকে সিজদা করতে আহবান করা হবে। কিন্তু সেদিন তারা সিজদা করতে পারবে না। (সূরা ক্বালাম- ৪২)
সেদিন তারা লাঞ্ছিত ও অপমানিত হবে :
خَاشِعَةً اَبْصَارُهُمْ تَرْهَقُهُمْ ذِلَّةٌؕ وَقَدْ كَانُوْا يُدْعَوْنَ اِلَى السُّجُوْدِ وَهُمْ سَالِمُوْنَ
তাদের দৃষ্টি হবে অবনত; অপমান ও লাঞ্ছনা তাদের উপর চেপে বসবে। (দুনিয়াতে) তারা যখন সুস্থ ও নিরাপদ ছিল তখন তাদেরকে সিজদা করার জন্য ডাকা হতো (কিন্তু তারা সিজদা করত না)। (সূরা ক্বালাম- ৪৩)