hadith book logo

তাফসীরুল কুরআন বিল কুরআন

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৫৬৩

২৪. ঈসা (আঃ)

ঈসা (আঃ) ছিলেন বনী ইসরাঈল বংশের সর্বশেষ নবী ও রাসূল। তাঁর পর হতে শেষনবী মুহাম্মাদ ﷺ পর্যন্ত আর কোন নবীর আগমন ঘটেনি। তাঁর উপর আসমানী কিতাব ইঞ্জিল নাযিল হয়েছিল। কুরআন মাজীদে তিনি ঈসা আল মাসীহ্ ও ইবনে মারইয়াম নামে উল্লেখিত হয়েছেন। তিনি ছিলেন ইয়াহিয়া (আঃ) এর খালা মারইয়াম (আঃ) এর একমাত্র সন্তান। আদম (আঃ) এর পর তিনিই একমাত্র ব্যক্তি, যিনি কোন পিতা ছাড়াই জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর জন্ম ও মৃত্যু উভয়ই অলৌকিকতায় পরিপূর্ণ। স্বয়ং আল্লাহ তা‘আলাই তাঁর নাম রেখেছিলেন। তিনি শয়তানের অনিষ্ট হতে মুক্ত ছিলেন। তিনি মাতৃকোলেই বাকশক্তি লাভ করেছিলেন এবং এ সময়ই ভবিষ্যতে তাঁর নবুওয়াত লাভের কথা ঘোষণা করেন। তিনি শেষ নবী আহমাদ (মুহাম্মাদ) এর আগমনের ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন।

যখনই তিনি দাওয়াতী কাজ শুরু করেন, তখনই জাতি তাঁর বিরোধিতা শুরু করে এবং তাঁর দাওয়াত প্রত্যাখ্যান করে। তবে হাতেগুণা কয়েকজন লোক তাঁর ডাকে সাড়া দিয়েছিল, যাদেরকে কুরআন মাজীদে হাওয়ারী নামে সম্বোধন করা হয়েছে। অবশেষে তাঁর জাতি তাঁর দাওয়াতে বিরক্ত হয়ে তৎকালীন রোম সম্রাটের নির্দেশে তাঁকে হত্যার জন্য তাঁর বাড়ি ঘেরাও করে এবং একজন ব্যক্তিকে তাঁর গৃহে প্রবেশ করায়। এদিকে আল্লাহ তা‘আলা তাকে নিজ অনুগ্রহে আসমানে উঠিয়ে নেন এবং গৃহে প্রবেশকারী উক্ত ব্যক্তিকে ঈসা (আঃ) এর আকৃতি দান করেন। ফলে লোকেরা তাকেই ঈসা (আঃ) মনে করে শূলে চড়িয়ে হত্যা করে। কিন্তু পরবর্তীতে বনী ইসরাঈলদের মাঝে এ বিষয়ে মতভেদ ঘটে। তবে কুরআন মাজীদ তাঁর আসমানে উঠিয়ে নেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে দেয়। কিয়ামতের পূর্বে তিনি আবার মুহাম্মাদ ﷺ এর উম্মত হিসেবে পৃথিবীতে অবতীর্ণ হবেন এবং দাজ্জালকে হত্যা করবেন। অতঃপর পৃথিবীর সমস্ত মানুষকে ইসলামী পতাকাতলে নিয়ে আসবেন। তারপর যথাসময় মৃত্যুবরণ করবেন।