hadith book logo

তাফসীরুল কুরআন বিল কুরআন

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৩৫০

অধ্যায়- ৪ : আখিরাত বিশ্বাসের ক্ষেত্রে মানুষের ভুল ধারণা

আখিরাত সম্পর্কে মানুষ নানা কথা বলে :

عَمَّ يَتَسَآءَلُوْنَ – عَنِ النَّبَاِ الْعَظِيْمِ – اَلَّذِيْ هُمْ فِيْهِ مُخْتَلِفُوْنَ

তারা পরস্পর কোন বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করছে? সে কি মহাসংবাদের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে, যে বিষয়ে তারা নিজেদের মধ্যে মতভেদ করছে? (সূরা নাবা, ১-৩)

কেউ কেউ সরাসরি আখিরাত অস্বীকার করে :

وَقَالُوْاۤ اِنْ هِيَ اِلَّا حَيَاتُنَا الدُّنْيَا وَمَا نَحْنُ بِمَبْعُوْثِيْنَ

তারা বলে, আমাদের পার্থিব জীবনই একমাত্র জীবন। আর আমরা পুনরুত্থিতও হব না। (সূরা আন‘আম- ২৯)

اِنَّ هٰۤؤُلَآءِ لَيَقُوْلُوْنَ – اِنْ هِيَ اِلَّا مَوْتَتُنَا الْاُوْلٰى وَمَا نَحْنُ بِمُنْشَرِيْنَ

নিশ্চয় তারা বলে থাকে যে, আমাদের প্রথম মৃত্যু ব্যতীত আর কিছুই নেই এবং আমরা আর পুনরুত্থিতও হব না। (সূরা দুখান- ৩৪, ৩৫)

কেউ কিছুটা ধারণা করে মাত্র, কিন্তু নিশ্চিত বিশ্বাস করে না :

وَاِذَا قِيْلَ اِنَّ وَعْدَ اللهِ حَقٌّ وَّالسَّاعَةُ لَا رَيْبَ فِيْهَا قُلْتُمْ مَّا نَدْرِيْ مَا السَّاعَةُ اِنْ نَّظُنُّ اِلَّا ظَنًّا وَّمَا نَحْنُ بِمُسْتَيْقِنِيْنَ

যখন বলা হয়, আল্লাহর প্রতিশ্রুতি সত্য এবং কিয়ামত হবে এতে কোন সন্দেহ নেই, তখন তোমরা বলে থাক, আমরা জানি না কিয়ামত কী। আমরা মনে করি, এটি একটি ধারণা মাত্র এবং আমরা এ বিষয়ে নিশ্চিত নই। (সূরা জাসিয়া- ৩২)

কেউ ভাবছে যখন দুনিয়া পাচ্ছি, তখন আখিরাতও পাব :

وَمَاۤ اَظُنُّ السَّاعَةَ قَآئِمَةً وَّلَئِنْ رُّدِدْتُّ اِلٰى رَبِّيْ لَاَجِدَنَّ خَيْرًا مِّنْهَا مُنْقَلَبًا

আমি মনে করি না যে, কিয়ামত হবে। আর আমি যদি আমার প্রতিপালকের নিকট প্রত্যাবর্তিত হই, তবে নিশ্চয় আমি এর চেয়ে আরো উৎকৃষ্ট স্থান লাভ করব। (সূরা কাহফ- ৩৬)

কেউ আযাবের ব্যাপারে নিজেরা আইন তৈরি করে নিয়েছে :

وَقَالُوْا لَنْ تَمَسَّنَا النَّارُ اِلَّاۤ اَيَّامًا مَّعْدُوْدَةًؕ قُلْ اَتَّخَذْتُمْ عِنْدَ اللهِ عَهْدًا فَلَنْ يُّخْلِفَ اللهُ عَهْدَهٗۤ اَمْ تَقُوْلُوْنَ عَلَى اللهِ مَا لَا تَعْلَمُوْنَ

তারা (ইয়াহুদিরা) বলে, নির্ধারিত দিনসমূহ ব্যতীত (জাহান্নামের) অগ্নি আমাদেরকে স্পর্শ করবে না। বলো, তোমরা কি আল্লাহর নিকট হতে অঙ্গীকার নিয়েছ, ফলে আল্লাহ কখনই স্বীয় অঙ্গীকারের ব্যতিক্রম করবেন না? নাকি তোমরা আল্লাহ সম্বন্ধে যা জান না তাই বলছ? (সূরা বাক্বারা- ৮০)

কেউ নাজাতকে জাতীয়তার মধ্যে সীমাবদ্ধ করে দিয়েছে :

وَقَالُوْا لَنْ يَّدْخُلَ الْجَنَّةَ اِلَّا مَنْ كَانَ هُوْدًا اَوْ نَصَارٰىؕ تِلْكَ اَمَانِيُّهُمْؕ قُلْ هَاتُوْا بُرْهَانَكُمْ اِنْ كُنْتُمْ صَادِقِيْنَ

তারা বলে, যারা ইয়াহুদি বা খ্রিস্টান হয়েছে তারা ছাড়া আর কেউই জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না, এটা তাদের বাসনা। বলো, যদি তোমরা সত্যবাদী হও, তবে তোমাদের প্রমাণ উপস্থাপন করো। (সূরা বাক্বারা- ১১১)

কেউ শাফা‘আতের উসিলায় পাড়ি দেয়ার চিন্তা করছে :

وَيَعْبُدُوْنَ مِنْ دُوْنِ اللهِ مَا لَا يَضُرُّهُمْ وَلَا يَنْفَعُهُمْ وَيَقُوْلُوْنَ هٰۤؤُلَآءِ شُفَعَآؤُنَا عِنْدَ اللهِؕ قُلْ اَتُنَبِّئُوْنَ اللهَ بِمَا لَا يَعْلَمُ فِى السَّمَاوَاتِ وَلَا فِى الْاَرْضِؕ سُبْحَانَهٗ وَتَعَالٰى عَمَّا يُشْرِكُوْنَ

তারা আল্লাহ ব্যতীত যার ইবাদাত করে তা তাদের ক্ষতিও করতে পারে না এবং উপকারও করতে পারে না। তারা বলে, এগুলো আল্লাহর নিকট আমাদের সুপারিশকারী। বলো, তোমরা কি আল্লাহকে আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর এমন কিছুর সংবাদ দেবে, যা তিনি জানেন না? তিনি মহান, পবিত্র এবং তারা যাকে শরীক করে তা হতে তিনি অনেক ঊর্ধ্বে। (সূরা ইউনুস- ১৮)