hadith book logo

তাফসীরুল কুরআন বিল কুরআন

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৪৬৬

অধ্যায়- ৫ : জাতির অধিকাংশ লোকই নবীর কথা শুনেনি

তারা বিতর্কে লিপ্ত হয়ে গেল :

وَلَقَدْ اَرْسَلْنَاۤ اِلٰى ثَمُوْدَ اَخَاهُمْ صَالِحًا اَنِ اعْبُدُوا اللهَ فَاِذَا هُمْ فَرِيْقَانِ يَخْتَصِمُوْنَ

আমি অবশ্যই সামূদ সম্প্রদায়ের নিকট তাদের ভাই সালেহকে পাঠিয়েছিলাম এ আদেশসহ যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদাত করো। কিন্তু তারা দ্বিধাবিভক্ত হয়ে বিতর্কে লিপ্ত হয়ে যায়। (সূরা নামল– ৪৫)

কিছু লোক ঈমান আনল :

قَالَ الْمَلَاُ الَّذِيْنَ اسْتَكْبَرُوْا مِنْ قَوْمِهٖ لِلَّذِيْنَ اسْتُضْعِفُوْا لِمَنْ اٰمَنَ مِنْهُمْ اَتَعْلَمُوْنَ اَنَّ صَالِحًا مُّرْسَلٌ مِّنْ رَّبِّهٖؕ قَالُوْاۤ اِنَّا بِمَاۤ اُرْسِلَ بِهٖ مُؤْمِنُوْنَ

তার সম্প্রদায়ের দাম্ভিক প্রধানরা যেসব ঈমানদারদেরকে দুর্বল মনে করত সেসব ঈমানদারদেরকে বলেছিল, তোমরা কি জান যে, সালেহ তার প্রতিপালকের পক্ষ হতে প্রেরিত? তখন তারা বলল, তার প্রতি যে বাণী প্রেরিত হয়েছে আমরা তাতে বিশ্বাসী। (সূরা আ‘রাফু ৭৫)

সমাজের প্রধানরা সরাসরি অস্বীকার করল :

قَالَ الَّذِيْنَ اسْتَكْبَرُوْاۤ اِنَّا بِالَّذِيْۤ اٰمَنْتُمْ بِهٖ كَافِرُوْنَ

তখন অহংকারীরা বলল, তোমরা যা বিশ্বাস কর আমরা তা অবিশ্বাস করি। (সূরা আ‘রাফু ৭৬)

তাদের অধিকাংশই ঈমান আনেনি :

وَمَا كَانَ اَكْثَرُهُمْ مُّؤْمِنِيْنَ

তাদের অধিকাংশই মুমিন নয়। (সূরা শু‘আরা– ১৫৮)

তারা সতর্কবাণী অস্বীকার করল :

كَذَّبَتْ ثَمُوْدُ بِالنُّذُرِ

সামূদ সম্প্রদায় সতর্কবাণীসমূহকে মিথ্যাপ্রতিপন্ন করেছিল। (সূরা ক্বামার– ২৩)

নবীকে হত্যা করার জন্য গোপন চক্রান্ত করল :

قَالُوْا تَقَاسَمُوْا بِاللهِ لَنُبَيِّتَنَّهٗ وَاَهْلَهٗ ثُمَّ لَنَقُوْلَنَّ لِوَلِيِّهٖ مَا شَهِدْنَا مَهْلِكَ اَهْلِهٖ وَاِنَّا لَصَادِقُوْنَ ‐ وَمَكَرُوْا مَكْرًا وَّمَكَرْنَا مَكْرًا وَّهُمْ لَا يَشْعُرُوْنَ

তারা বলল, তোমরা আল্লাহর নামে (এ মর্মে) শপথ গ্রহণ করো যে, আমরা রাত্রিকালে তাঁকে ও তাঁর পরিবার–পরিজনকে আক্রমণ করব। অতঃপর তার অভিভাবককে বলব, তার পরিবার–পরিজনের হত্যার ব্যাপারে আমরা সাক্ষী নই। নিশ্চয় আমরা সত্যবাদী। তারা কৌশল অবলম্বন করেছিল এবং আমিও এক কৌশল অবলম্বন করলাম, কিন্তু তারা তা বুঝতে পারেনি। (সূরা নামল– ৪৯, ৫০)

নবী উষ্ট্রীকে প্রহার করতে নিষেধ করলেন :

فَقَالَ لَهُمْ رَسُوْلُ اللهِ نَاقَةَ اللهِ وَسُقْيَاهَا

অতঃপর আল্লাহর রাসূল তাদেরকে বলেছিলেন, আল্লাহর উষ্ট্রী ও তাকে পানি পান করানোর ব্যাপারে সতর্ক থাকো। (সূরা শামস– ১৩)

কিন্তু তারা উষ্ট্রীর প্রতি যুলুম করল :

وَاٰتَيْنَا ثَمُوْدَ النَّاقَةَ مُبْصِرَةً فَظَلَمُوْا بِهَاؕ وَمَا نُرْسِلُ بِالْاٰيَاتِ اِلَّا تَخْوِيْفًا

আমি শিক্ষাপ্রদ নিদর্শনস্বরূপ সামূদ জাতিকে উষ্ট্রী দান করেছিলাম। অতঃপর তারা সেটার প্রতি যুলুম করেছিল। আমি তো কেবল ভীতি প্রদর্শনের জন্যই এসব নিদর্শন প্রেরণ করে থাকি। (সূরা বনী ইসরাঈল– ৫৯)

একজন উষ্ট্রীকে হত্যা করার জন্য দায়িত্ব নিল :

فَنَادَوْا صَاحِبَهُمْ فَتَعَاطٰى فَعَقَرَ

অতঃপর তারা তাদের এক সঙ্গীকে আহবান করল, সে ওটাকে (উষ্ট্রীকে) ধরে হত্যা করল। (সূরা ক্বামার– ২৯)

اِذِ انْۢبَعَثَ اَشْقَاهَا

যখন তাদের সর্বাধিক হতভাগ্য ব্যক্তি তৎপর হয়ে উঠেছিল। (সূরা শামস– ১২)

তারা উষ্ট্রীকে হত্যা করে অনুতপ্ত হলো :

فَعَقَرُوْهَا فَاَصْبَحُوْا نَادِمِيْنَ

কিন্তু তারা সেটাকে হত্যা করল; অতঃপর পরিণামে তারা অনুতপ্ত হলো। (সূরা শু‘আরা– ১৫৭)

আল্লাহ নবীকে সান্ত্বনা দিলেন :

سَيَعْلَمُوْنَ غَدًا مَّنِ الْكَذَّابُ الْاَشِرُ ‐ اِنَّا مُرْسِلُوا النَّاقَةِ فِتْنَةً لَّهُمْ فَارْتَقِبْهُمْ وَاصْطَبِرْ

আগামীকাল তারা জানবে যে, কে মিথ্যাবাদী ও দাম্ভিক। আমি তাদের পরীক্ষার জন্য পাঠিয়েছি এক উষ্ট্রী। অতএব (হে সালেহ!) তুমি তাদের আচরণ লক্ষ্য করো এবং ধৈর্যশীল হও। (সূরা ক্বামার- ২৬, ২৭)

নবীর শেষ কথা :

فَتَوَلّٰى عَنْهُمْ وَقَالَ يَا قَوْمِ لَقَدْ اَبْلَغْتُكُمْ رِسَالَةَ رَبِّيْ وَنَصَحْتُ لَكُمْ وَلٰكِنْ لَّا تُحِّبُوْنَ النَّاصِحِيْنَ

অতঃপর তিনি (সালেহ) তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন এবং বললেন, হে আমার সম্প্রদায়! আমি আমার প্রতিপালকের পয়গাম তোমাদের কাছে পৌঁছে দিয়েছি। আর আমি তোমাদেরকে উপদেশ দিয়েছি, কিন্তু তোমরা তো উপদেশ দাতাদেরকে পছন্দ কর না। (সূরা আ‘রাফু ৭৯)