১
তাফসীরুল কুরআন বিল কুরআন
লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১৯৬
অধ্যায়- ১২ : ফকীর-মিসকীন
গরীবদেরকে সাহায্য করা পুণ্যের কাজ :
لَيْسَ الْبِرَّ اَنْ تُوَلُّوْا وُجُوْهَكُمْ قِبَلَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ وَلٰكِنَّ الْبِرَّ مَنْ اٰمَنَ بِاللهِ وَالْيَوْمِ الْاٰخِرِ وَالْمَلَآئِكَةِ وَالْكِتَابِ وَالنَّبِيِّيْنَۚ وَاٰتَى الْمَالَ عَلٰى حُبِّهٖ ذَوِى الْقُرْبٰى وَالْيَتَامٰى وَالْمَسَاكِيْنَ وَابْنَ السَّبِيْلِ وَالسَّآئِلِيْنَ وَفِى الرِّقَابِ
তোমরা তোমাদের মুখমন্ডল পূর্ব আর পশ্চিম দিকে ঘুরাও তাতে কোন পুণ্য নেই; বরং পুণ্য তো সেই ব্যক্তির জন্য যে আল্লাহ, পরকাল, ফেরেশতাগণ, কিতাব ও নবীগণের প্রতি ঈমান আনয়ন করে এবং তাঁরই ভালোবাসা অর্জনের জন্য আত্মীয়স্বজন, ইয়াতীম, মিসকীন, মুসাফির, ভিক্ষুক ও দাসমুক্ত করার জন্য ব্যয় করে। (সূরা বাক্বারা- ১৭৭)
গরীবদেরকে খেতে দেয়া জান্নাতীদের বৈশিষ্ট্য :
وَيُطْعِمُوْنَ الطَّعَامَ عَلٰى حُبِّهٖ مِسْكِيْنًا وَّيَتِيْمًا وَّاَسِيْرًا ‐ اِنَّمَا نُطْعِمُكُمْ لِوَجْهِ اللهِ لَا نُرِيْدُ مِنْكُمْ جَزَآءً وَّلَا شُكُوْرًا
তারা আল্লাহর ভালোবাসায় অভাবগ্রস্ত, ইয়াতীম ও বন্দীদেরকে খাদ্য দান করে এবং বলে, আমরা তো শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে তোমাদেরকে খাদ্য দান করি, আমরা তোমাদের নিকট হতে কোন প্রতিদান চাই না এবং কৃতজ্ঞতাও চাই না। (সূরা দাহর- ৮, ৯)
গরীবদেরকে কুরবানীর গোশত দেয়ার নির্দেশ :
فَكُلُوْا مِنْهَا وَاَطْعِمُوا الْبَآئِسَ الْفَقِيْرَ
অতঃপর তোমরা তা (কুরবানীর গোশত) হতে আহার করো এবং দুঃস্থ ও অভাবগ্রস্তদেরকেও আহার করাও। (সূরা হজ্জ- ২৮)
যাকাতের টাকা অভাবীদেরকে দিতে হবে :
اِنَّمَا الصَّدَقَاتُ لِلْفُقَرَآءِ وَالْمَسَاكِيْنِ وَالْعَامِلِيْنَ عَلَيْهَا وَالْمُؤَلَّفَةِ قُلُوْبُهُمْ وَفِى الرِّقَابِ وَالْغَارِمِيْنَ وَفِيْ سَبِيْلِ اللهِ وَابْنِ السَّبِيْلِؕ فَرِيْضَةً مِّنَ اللهِ ؕ وَاللهُ عَلِيْمٌ حَكِيْمٌ
সাদাকা তো কেবল নিঃস্ব, অভাবগ্রস্ত ও তৎসংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের জন্য, (অমুসলিমদের) অন্তর আকৃষ্ট করার জন্য, দাসমুক্তির জন্য, ঋণগ্রস্তদের জন্য, আল্লাহর পথে ব্যয় করার জন্য এবং মুসাফিরদের জন্য। এটা আল্লাহর বিধান; আল্লাহ সর্বজ্ঞ ও প্রজ্ঞাময়। (সূরা তাওবা- ৬০)
গনিমতের মালে তাদের অংশ রয়েছে :
وَاعْلَمُوْاۤ اَنَّمَا غَنِمْتُمْ مِّنْ شَيْءٍ فَاَنَّ لِلّٰهِ خُمُسَهٗ وَلِلرَّسُوْلِ وَلِذِى الْقُرْبٰى وَالْيَتَامٰى وَالْمَسَاكِيْنِ وَابْنِ السَّبِيْلِ
জেনে রেখো, যুদ্ধে তোমরা যা লাভ কর তার এক-পঞ্চমাংশ আল্লাহর ও (তাঁর) রাসূলের জন্য, (রাসূলের) স্বজনদের জন্য, ইয়াতীমদের জন্য, মিসকীনদের জন্য এবং পথচারীদের জন্য। (সূরা আনফাল- ৪১)
গরীবদেরকে অবহেলা করা কাফিরদের আচরণ :
اَرَاَيْتَ الَّذِيْ يُكَذِّبُ بِالدِّيْنِ ‐ فَذٰلِكَ الَّذِيْ يَدُعُّ الْيَتِيْمَ ‐ وَلَا يَحُضُّ عَلٰى طَعَامِ الْمِسْكِيْنِ
তুমি কি সে ব্যক্তির কথা ভেবে দেখেছ, যে শেষ বিচারের দিনকে অস্বীকার করে? এ তো সেই ব্যক্তি, যে ইয়াতীমকে গলাধাক্কা দেয় এবং মিসকীনদের খাবার দিতে উৎসাহ দেয় না। (সূরা মাঊন, ১-৩)
গরীবদের হক না দিলে পরকালেও শাস্তি হবে :
مَا سَلَكَكُمْ فِيْ سَقَرَ ‐ قَالُوْا لَمْ نَكُ مِنَ الْمُصَلِّيْنَ ‐ وَلَمْ نَكُ نُطْعِمُ الْمِسْكِيْنَ
তোমাদেরকে কিসে সাকার (জাহান্নাম) এ নিক্ষেপ করেছে? তারা বলবে, আমরা সালাত আদায়কারী ছিলাম না এবং আমরা অভাবগ্রস্তদের খাবার দিতাম না। (সূরা মুদ্দাসসির, ৪২-৪৪)
আল্লাহ ভিক্ষুকদেরকে ধমক দিতে নিষেধ করেছেন :
وَاَمَّا السَّآئِلَ فَلَا تَنْهَرْ
আর সওয়ালকারীদেরকে ধমক দেবে না। (সূরা দুহা- ১০)
ধনীদের সম্পদে ভিক্ষুকদের হক রয়েছে :
وَفِۤيْ اَمْوَالِهِمْ حَقٌّ لِّلسَّآئِلِ وَالْمَحْرُوْمِ
আর তাদের ধনসম্পদে অভাবগ্রস্ত ও বঞ্চিতদের হক রয়েছে। (সূরা যারিয়াত- ১৯)
وَالَّذِيْنَ فِۤيْ اَمْوَالِهِمْ حَقٌّ مَّعْلُوْمٌ ‐ لِلسَّآئِلِ وَالْمَحْرُوْمِ
(যারা মনে করে) তাদের সম্পদে ভিক্ষুক ও বঞ্চিতদের জন্য নির্ধারিত হক রয়েছে (তারা জান্নাতে থাকবে)। (সূরা মা‘আরিজ- ২৪, ২৫)
ভিক্ষুককে দেয়ার মতো কিছু না থাকলে ভদ্রভাবে বিদায় দিতে হবে :
وَاِمَّا تُعْرِضَنَّ عَنْهُمُ ابْتِغَآءَ رَحْمَةٍ مِّنْ رَّبِّكَ تَرْجُوْهَا فَقُلْ لَّهُمْ قَوْلًا مَّيْسُوْرًا
যদি তাদের হতে তোমার মুখ ফিরাতেই হয়, তবে তোমার প্রতিপালকের নিকট হতে অনুগ্রহ লাভের প্রত্যাশায় তাদের সাথে নম্রভাবে কথা বলো। (সূরা বনী ইসরাঈল- ২৮)
প্রতিবেশী, সহকর্মী ও অধীনস্তদের সাথেও সদ্ব্যবহার করতে হবে :
وَاعْبُدُوا اللهَ وَلَا تُشْرِكُوْا بِهٖ شَيْئًا وَّبِالْوَالِدَيْنِ اِحْسَانًا وَّبِذِى الْقُرْبٰى وَالْيَتَامٰى وَالْمَسَاكِيْنِ وَالْجَارِ ذِى الْقُرْبٰى وَالْجَارِ الْجُنُبِ وَالصَّاحِبِ بِالْجَنْۢبِ وَابْنِ السَّبِيْلِ وَمَا مَلَكَتْ اَيْمَانُكُمْؕ اِنَّ اللهَ لَا يُحِبُّ مَنْ كَانَ مُخْتَالًا فَخُوْرًا
তোমরা আল্লাহর ইবাদাত করবে, কোনকিছুকে তাঁর সাথে শরীক করবে না এবং পিতামাতা, আত্মীয়স্বজন, ইয়াতীম, অভাবগ্রস্ত (মিসকীন), নিকট প্রতিবেশী, দূর প্রতিবেশী, সঙ্গী-সাথি, মুসাফির ও তোমাদের অধিকারভুক্ত দাস-দাসীদের প্রতি সদ্ব্যবহার করবে। নিশ্চয় আল্লাহ দাম্ভিক ও অহংকারীকে পছন্দ করেন না। (সূরা নিসা- ৩৬)
ব্যাখ্যা : اَلصَّاحِبُ بِالْجَنْۢبِ (আসসা-হিবু বিল জানবি) বলতে ‘অন্তরঙ্গ বন্ধু’ হতে পারে, আবার এমন লোকও হতে পারে, যে জীবনে চলার ক্ষেত্রে সঙ্গ দিয়ে থাকে। যেমন কেউ বাজারে যাচ্ছে এবং পথে কোন ব্যক্তি তার সাথে চলছে, অথবা কোন দোকানে পণ্য কিনছে এবং অন্য কোন ক্রেতা তার পাশে রয়েছে। অথবা সফরের মাঝপথে কোন ব্যক্তি তার সফর সঙ্গী হয়ে গেল। এরকম সাময়িক ক্ষেত্রেও এ সঙ্গীর সাথে সদ্ব্যবহার করতে হবে এবং তাকে কষ্ট দেয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।
لَيْسَ الْبِرَّ اَنْ تُوَلُّوْا وُجُوْهَكُمْ قِبَلَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ وَلٰكِنَّ الْبِرَّ مَنْ اٰمَنَ بِاللهِ وَالْيَوْمِ الْاٰخِرِ وَالْمَلَآئِكَةِ وَالْكِتَابِ وَالنَّبِيِّيْنَۚ وَاٰتَى الْمَالَ عَلٰى حُبِّهٖ ذَوِى الْقُرْبٰى وَالْيَتَامٰى وَالْمَسَاكِيْنَ وَابْنَ السَّبِيْلِ وَالسَّآئِلِيْنَ وَفِى الرِّقَابِ
তোমরা তোমাদের মুখমন্ডল পূর্ব আর পশ্চিম দিকে ঘুরাও তাতে কোন পুণ্য নেই; বরং পুণ্য তো সেই ব্যক্তির জন্য যে আল্লাহ, পরকাল, ফেরেশতাগণ, কিতাব ও নবীগণের প্রতি ঈমান আনয়ন করে এবং তাঁরই ভালোবাসা অর্জনের জন্য আত্মীয়স্বজন, ইয়াতীম, মিসকীন, মুসাফির, ভিক্ষুক ও দাসমুক্ত করার জন্য ব্যয় করে। (সূরা বাক্বারা- ১৭৭)
গরীবদেরকে খেতে দেয়া জান্নাতীদের বৈশিষ্ট্য :
وَيُطْعِمُوْنَ الطَّعَامَ عَلٰى حُبِّهٖ مِسْكِيْنًا وَّيَتِيْمًا وَّاَسِيْرًا ‐ اِنَّمَا نُطْعِمُكُمْ لِوَجْهِ اللهِ لَا نُرِيْدُ مِنْكُمْ جَزَآءً وَّلَا شُكُوْرًا
তারা আল্লাহর ভালোবাসায় অভাবগ্রস্ত, ইয়াতীম ও বন্দীদেরকে খাদ্য দান করে এবং বলে, আমরা তো শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে তোমাদেরকে খাদ্য দান করি, আমরা তোমাদের নিকট হতে কোন প্রতিদান চাই না এবং কৃতজ্ঞতাও চাই না। (সূরা দাহর- ৮, ৯)
গরীবদেরকে কুরবানীর গোশত দেয়ার নির্দেশ :
فَكُلُوْا مِنْهَا وَاَطْعِمُوا الْبَآئِسَ الْفَقِيْرَ
অতঃপর তোমরা তা (কুরবানীর গোশত) হতে আহার করো এবং দুঃস্থ ও অভাবগ্রস্তদেরকেও আহার করাও। (সূরা হজ্জ- ২৮)
যাকাতের টাকা অভাবীদেরকে দিতে হবে :
اِنَّمَا الصَّدَقَاتُ لِلْفُقَرَآءِ وَالْمَسَاكِيْنِ وَالْعَامِلِيْنَ عَلَيْهَا وَالْمُؤَلَّفَةِ قُلُوْبُهُمْ وَفِى الرِّقَابِ وَالْغَارِمِيْنَ وَفِيْ سَبِيْلِ اللهِ وَابْنِ السَّبِيْلِؕ فَرِيْضَةً مِّنَ اللهِ ؕ وَاللهُ عَلِيْمٌ حَكِيْمٌ
সাদাকা তো কেবল নিঃস্ব, অভাবগ্রস্ত ও তৎসংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের জন্য, (অমুসলিমদের) অন্তর আকৃষ্ট করার জন্য, দাসমুক্তির জন্য, ঋণগ্রস্তদের জন্য, আল্লাহর পথে ব্যয় করার জন্য এবং মুসাফিরদের জন্য। এটা আল্লাহর বিধান; আল্লাহ সর্বজ্ঞ ও প্রজ্ঞাময়। (সূরা তাওবা- ৬০)
গনিমতের মালে তাদের অংশ রয়েছে :
وَاعْلَمُوْاۤ اَنَّمَا غَنِمْتُمْ مِّنْ شَيْءٍ فَاَنَّ لِلّٰهِ خُمُسَهٗ وَلِلرَّسُوْلِ وَلِذِى الْقُرْبٰى وَالْيَتَامٰى وَالْمَسَاكِيْنِ وَابْنِ السَّبِيْلِ
জেনে রেখো, যুদ্ধে তোমরা যা লাভ কর তার এক-পঞ্চমাংশ আল্লাহর ও (তাঁর) রাসূলের জন্য, (রাসূলের) স্বজনদের জন্য, ইয়াতীমদের জন্য, মিসকীনদের জন্য এবং পথচারীদের জন্য। (সূরা আনফাল- ৪১)
গরীবদেরকে অবহেলা করা কাফিরদের আচরণ :
اَرَاَيْتَ الَّذِيْ يُكَذِّبُ بِالدِّيْنِ ‐ فَذٰلِكَ الَّذِيْ يَدُعُّ الْيَتِيْمَ ‐ وَلَا يَحُضُّ عَلٰى طَعَامِ الْمِسْكِيْنِ
তুমি কি সে ব্যক্তির কথা ভেবে দেখেছ, যে শেষ বিচারের দিনকে অস্বীকার করে? এ তো সেই ব্যক্তি, যে ইয়াতীমকে গলাধাক্কা দেয় এবং মিসকীনদের খাবার দিতে উৎসাহ দেয় না। (সূরা মাঊন, ১-৩)
গরীবদের হক না দিলে পরকালেও শাস্তি হবে :
مَا سَلَكَكُمْ فِيْ سَقَرَ ‐ قَالُوْا لَمْ نَكُ مِنَ الْمُصَلِّيْنَ ‐ وَلَمْ نَكُ نُطْعِمُ الْمِسْكِيْنَ
তোমাদেরকে কিসে সাকার (জাহান্নাম) এ নিক্ষেপ করেছে? তারা বলবে, আমরা সালাত আদায়কারী ছিলাম না এবং আমরা অভাবগ্রস্তদের খাবার দিতাম না। (সূরা মুদ্দাসসির, ৪২-৪৪)
আল্লাহ ভিক্ষুকদেরকে ধমক দিতে নিষেধ করেছেন :
وَاَمَّا السَّآئِلَ فَلَا تَنْهَرْ
আর সওয়ালকারীদেরকে ধমক দেবে না। (সূরা দুহা- ১০)
ধনীদের সম্পদে ভিক্ষুকদের হক রয়েছে :
وَفِۤيْ اَمْوَالِهِمْ حَقٌّ لِّلسَّآئِلِ وَالْمَحْرُوْمِ
আর তাদের ধনসম্পদে অভাবগ্রস্ত ও বঞ্চিতদের হক রয়েছে। (সূরা যারিয়াত- ১৯)
وَالَّذِيْنَ فِۤيْ اَمْوَالِهِمْ حَقٌّ مَّعْلُوْمٌ ‐ لِلسَّآئِلِ وَالْمَحْرُوْمِ
(যারা মনে করে) তাদের সম্পদে ভিক্ষুক ও বঞ্চিতদের জন্য নির্ধারিত হক রয়েছে (তারা জান্নাতে থাকবে)। (সূরা মা‘আরিজ- ২৪, ২৫)
ভিক্ষুককে দেয়ার মতো কিছু না থাকলে ভদ্রভাবে বিদায় দিতে হবে :
وَاِمَّا تُعْرِضَنَّ عَنْهُمُ ابْتِغَآءَ رَحْمَةٍ مِّنْ رَّبِّكَ تَرْجُوْهَا فَقُلْ لَّهُمْ قَوْلًا مَّيْسُوْرًا
যদি তাদের হতে তোমার মুখ ফিরাতেই হয়, তবে তোমার প্রতিপালকের নিকট হতে অনুগ্রহ লাভের প্রত্যাশায় তাদের সাথে নম্রভাবে কথা বলো। (সূরা বনী ইসরাঈল- ২৮)
প্রতিবেশী, সহকর্মী ও অধীনস্তদের সাথেও সদ্ব্যবহার করতে হবে :
وَاعْبُدُوا اللهَ وَلَا تُشْرِكُوْا بِهٖ شَيْئًا وَّبِالْوَالِدَيْنِ اِحْسَانًا وَّبِذِى الْقُرْبٰى وَالْيَتَامٰى وَالْمَسَاكِيْنِ وَالْجَارِ ذِى الْقُرْبٰى وَالْجَارِ الْجُنُبِ وَالصَّاحِبِ بِالْجَنْۢبِ وَابْنِ السَّبِيْلِ وَمَا مَلَكَتْ اَيْمَانُكُمْؕ اِنَّ اللهَ لَا يُحِبُّ مَنْ كَانَ مُخْتَالًا فَخُوْرًا
তোমরা আল্লাহর ইবাদাত করবে, কোনকিছুকে তাঁর সাথে শরীক করবে না এবং পিতামাতা, আত্মীয়স্বজন, ইয়াতীম, অভাবগ্রস্ত (মিসকীন), নিকট প্রতিবেশী, দূর প্রতিবেশী, সঙ্গী-সাথি, মুসাফির ও তোমাদের অধিকারভুক্ত দাস-দাসীদের প্রতি সদ্ব্যবহার করবে। নিশ্চয় আল্লাহ দাম্ভিক ও অহংকারীকে পছন্দ করেন না। (সূরা নিসা- ৩৬)
ব্যাখ্যা : اَلصَّاحِبُ بِالْجَنْۢبِ (আসসা-হিবু বিল জানবি) বলতে ‘অন্তরঙ্গ বন্ধু’ হতে পারে, আবার এমন লোকও হতে পারে, যে জীবনে চলার ক্ষেত্রে সঙ্গ দিয়ে থাকে। যেমন কেউ বাজারে যাচ্ছে এবং পথে কোন ব্যক্তি তার সাথে চলছে, অথবা কোন দোকানে পণ্য কিনছে এবং অন্য কোন ক্রেতা তার পাশে রয়েছে। অথবা সফরের মাঝপথে কোন ব্যক্তি তার সফর সঙ্গী হয়ে গেল। এরকম সাময়িক ক্ষেত্রেও এ সঙ্গীর সাথে সদ্ব্যবহার করতে হবে এবং তাকে কষ্ট দেয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।