hadith book logo

তাফসীরুল কুরআন বিল কুরআন

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৩২৭

অধ্যায়- ৫ : মানুষ সৃষ্টির উদ্দেশ্য

মানুষ ও জিন সৃষ্টি করা হয়েছে আল্লাহর ইবাদাতের জন্য :

وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْاِنْسَ اِلَّا لِيَعْبُدُوْنِ

আমি জিন ও মানুষকে সৃষ্টি করেছি একমাত্র আমারই ইবাদাত করার জন্য। (সূরা যারিয়াত- ৫৬)

ব্যাখ্যা : এখানে প্রশ্ন থেকে যায় যে, আল্লাহ তা‘আলা কেবল জিন ও মানুষের স্রষ্টা নন। তিনি সমগ্র বিশ্বজাহান ও তার মধ্যকার সবকিছুর স্রষ্টা। কিন্তু এখানে কেবল জিন ও মানুষ সম্পর্কে কেন বলা হয়েছে যে, আমি তাদেরকে আমার ছাড়া আর কারো দাসত্বের জন্য সৃষ্টি করিনি? অথচ গোটা সৃষ্টির প্রতিটি অণু-পরমাণু শুধু আল্লাহর দাসত্বের জন্য। এর জবাব হচ্ছে পৃথিবীতে কেবল জিন ও মানুষই এমন সৃষ্টি, যাদের স্বাধীনতা আছে। তারা তাদের ক্ষমতা ও স্বাধীনতার গন্ডির মধ্যে আল্লাহ তা‘আলার দাসত্ব করতে চাইলে কিংবা তাঁর দাসত্ব থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে চাইলে নেবে এবং আল্লাহ ছাড়া অন্যদের দাসত্ব করতে চাইলেও করতে পারে। জিন ও মানুষ ছাড়া আর যত সৃষ্টি আছে তাদের এ ধরনের কোন স্বাধীনতা নেই। তাই এখানে শুধু জিন ও মানুষ সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, তারা তাদের নিজ স্রষ্টার দাসত্ব থেকে মুখ ফিরিয়ে স্বভাব প্রকৃতির বিরুদ্ধে লড়াই করছে। তাদের জানা উচিত, তাদেরকে একমাত্র স্রষ্টা ছাড়া আর কারো দাসত্বের জন্য সৃষ্টি করা হয়নি। তাদের জন্য সোজা পথ হচ্ছে, যে স্বাধীনতা তাদেরকে দেয়া হয়েছে তার অন্যায় ব্যবহার যেন না করে। বরং তা এমন সীমার মধ্যে ব্যবহার করবে যেমনিভাবে তার দেহের প্রতিটি লোম তার ক্ষমতা ও ইখতিয়ার বিহীন সীমার মধ্যে তাঁর দাসত্ব করছে।

খিলাফাতের দায়িত্ব পালন করা :

هُوَ الَّذِيْ جَعَلَكُمْ خَلَآئِفَ فِى الْاَرْضِ

তিনিই তোমাদেরকে পৃথিবীতে প্রতিনিধি বানিয়েছেন। (সূরা ফাতির- ৩৯)

ব্যাখ্যা : যে ব্যক্তি কারো অধিকারের আওতাধীনে তার অর্পিত ক্ষমতা ও ইখতিয়ার ব্যবহার করে, তাকে খলীফা বলে। খলীফা নিজে মালিক নয় বরং আসল মালিকের প্রতিনিধি। সে নিজে ক্ষমতার অধিকারী নয় বরং মালিক তাকে যে ক্ষমতার অধিকার প্রদান করেছেন তা-ই সে ব্যবহার করে। সে নিজের ইচ্ছেমতো কাজ করার অধিকার রাখে না, বরং আসল মালিকের ইচ্ছা পূরণ করাই তার মূলকাজ। সে যদি নিজেকে মালিক মনে করে তার উপর অর্পিত ক্ষমতাকে নিজের ইচ্ছেমতো ব্যবহার করতে শুরু করে অথবা আসল মালিককে বাদ দিয়ে অন্য কাউকে মালিক বলে স্বীকার করে এবং তার নির্দেশ পালন করতে থাকে, তাহলে এগুলো সবই বিদ্রোহ ও বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে গণ্য হবে।

ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা :

يَا دَاوُوْدُ اِنَّا جَعَلْنَاكَ خَلِيْفَةً فِى الْاَرْضِ فَاحْكُمْ بَيْنَ النَّاسِ بِالْحَقِّ وَلَا تَتَّبِعِ الْهَوٰى فَيُضِلَّكَ عَنْ سَبِيْلِ اللهِؕ اِنَّ الَّذِيْنَ يَضِلُّوْنَ عَنْ سَبِيْلِ اللهِ لَهُمْ عَذَابٌ شَدِيْدٌ ۢبِمَا نَسُوْا يَوْمَ الْحِسَابِ

হে দাউদ! আমি তোমাকে পৃথিবীতে প্রতিনিধি হিসেবে প্রেরণ করেছি। অতএব তুমি মানুষের মধ্যে ন্যায়ভাবে বিচার-মীমাংসা করতে থাকো এবং প্রবৃত্তির অনুসরণ করো না। নতুবা তা তোমাকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করে দেবে। নিশ্চয় যারা আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত হয়, হিসাবের দিনকে ভুলে যাওয়ার কারণে তাদের জন্য রয়েছে ভীষণ শাস্তি। (সূরা সোয়াদ- ২৬)

ব্যাখ্যা : এ দুনিয়ায় আল্লাহ মানুষকে খলীফা পদে নিযুক্ত করেছেন। খলীফা হওয়ার কারণে কেবল তাঁর ইবাদাত করলেই কর্তব্য শেষ হয়ে যায় না। বরং একই সাথে তাঁর পাঠানো হেদায়াত ও নির্দেশাবলি অনুযায়ী জীবন-যাপনও করতে হবে এবং সর্বত্র ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। আর যদি তারা এমনটি না করে শয়তানের ইঙ্গিতে চলতে থাকে, তাহলে তারা নিকৃষ্ট পর্যায়ের বিদ্রোহের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হবে এবং এজন্য তাদেরকে চরম পরিণতির সম্মুখীন হতে হবে।