hadith book logo

তাফসীরুল কুরআন বিল কুরআন

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৩৯৮

অধ্যায়- ১৬ : জান্নাতীরা দুনিয়ার জীবনকে স্মরণ করবে

জান্নাতীরা দুনিয়ার জীবন সম্পর্কে আলোচনা করবে :

وَاَقْبَلَ بَعْضُهُمْ عَلٰى بَعْضٍ يَّتَسَآءَلُوْنَ – قَالُوْاۤ اِنَّا كُنَّا قَبْلُ فِۤيْ اَهْلِنَا مُشْفِقِيْنَ – فَمَنَّ اللهُ عَلَيْنَا وَوَقَانَا عَذَابَ السَّمُوْمِ – اِنَّا كُنَّا مِنْ قَبْلُ نَدْعُوْهُؕ اِنَّهٗ هُوَ الْبَرُّ الرَّحِيْمُ

জান্নাতীরা একে অন্যের মুখোমুখি হয়ে বলাবলি করবে, দুনিয়ায় থাকতে আমরা খুবই ভীত ছিলাম (যে, জান্নাত পাব কি না)। আল্লাহ তা‘আলা আমাদের প্রতি দয়া করেছেন এবং জাহান্নামের জ্বলন্ত আগুন থেকে মুক্তি দিয়েছেন। ইতোপূর্বে দুনিয়ায় আমরা আল্লাহকে ডাকতাম এবং তাঁর ইবাদাত করতাম। নিশ্চয় আল্লাহ অতি সৌজন্যপরায়ণ এবং মেহেরবান। (সূরা তূর, ২৫–২৮)

ব্যাখ্যা : অর্থাৎ আমরা সেখানে বিলাসিতায় ডুবে গাফলতির জীবন-যাপন করিনি। সেখানে সবসময়ই আমাদের আশঙ্কা থাকত যে, কখন যেন আমাদের দ্বারা এমন কোন কাজ হয়ে যায়, যে কারণে আল্লাহ তা‘আলা আমাদেরকে পাকড়াও করবেন। এখানে বিশেষ করে নিজের পরিবারের লোকদের মধ্যে ভয়ে ভয়ে জীবন-যাপন করার কথা উল্লেখ করার কারণ এই যে, মানুষ বেশির ভাগ যে জন্য গোনাহে লিপ্ত হয় তা হচ্ছে তার সন্তান-সন্ততির আরাম-আয়েশের ব্যবস্থা করা এবং তাদের দুনিয়া নির্মাণের চিন্তা। এজন্য সে হারাম উপার্জন করে, অন্যদের অধিকার লুণ্ঠন করে এবং নানা রকম অবৈধ পন্থা অবলম্বন করে। এ কারণে জান্নাতের বাসিন্দারা পরস্পর বলবে, যে জিনিসটি আমাদেরকে মন্দ পরিণাম থেকে রক্ষা করেছে তা হচ্ছে, আমাদের মধ্যে নিজেদের সন্তান-সন্ততির ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল করার চিন্তা এতটা প্রবল ছিল না, যার দ্বারা আমাদের আখিরাত বরবাদ হয়ে যাবে। আর নিজেদের সন্তানদেরকেও আমরা এমন পথে নিয়ে যাব, যা তাদেরকে আল্লাহর আযাবের উপযোগী বানিয়ে দেবে।

জান্নাতীরা জাহান্নামীদের সঙ্গেও কথা বলবে :

فَاَقْبَلَ بَعْضُهُمْ عَلٰى بَعْضٍ يَّتَسَآءَلُوْنَ ‐ قَالَ قَآئِلٌ مِّنْهُمْ اِنِّيْ كَانَ لِىْ قَرِيْنٌ – يَقُوْلُ اَئِنَّكَ لَمِنَ الْمُصَدِّقِيْنَ – اَئِذَا مِتْنَا وَكُنَّا تُرَابًا وَّعِظَامًا اَئِنَّا لَمَدِيْنُوْنَ – قَالَ هَلْ اَنْتُمْ مُّطَّلِعُوْنَ – فَاطَّلَعَ فَرَاٰهُ فِيْ سَوَآءِ الْجَحِيْمِ – قَالَ تَاللهِ اِنْ كِدْتَّ لَتُرْدِيْنِ – وَلَوْلَا نِعْمَةُ رَبِّيْ لَكُنْتُ مِنَ الْمُحْضَرِيْنَ

জান্নাতীরা একে অপরের মুখোমুখি হয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করবে। তাদের মধ্যে একজন বলবে, দুনিয়াতে আমার একজন বন্ধু ছিল। সে আমাকে বলত, তুমি কি এ কথা বিশ্বাস কর যে, আমরা যখন মরে যাব এবং আমাদের শরীর ও হাড় পচে গলে মাটির সাথে মিশে যাবে, তারপরও কি আমরা জীবিত হব এবং হিসাব দেব? (তখন আল্লাহ বলবেন) তোমরা কি তাকে দেখতে চাও? তখন সে উঁকি মেরে তাকে দেখতে পাবে যে, সে জাহান্নামের মধ্যখানে পড়ে আছে। (তাকে আযাবে দেখে) সে বলবে, আল্লাহর কসম! (দুনিয়াতে) তুমি তো আমাকে ধ্বংসের দিকেই ঠেলে দিয়েছিলে। যদি (আমার উপর) আমার প্রতিপালকের অনুগ্রহ না থাকত, তাহলে আমিও (তোমার মতো) আযাবে গ্রেফতার হতাম। (সূরা সাফ্ফাত, ৫০–৫৭)

وَنَادٰۤى اَصْحَابُ الْجَنَّةِ اَصْحَابَ النَّارِ اَنْ قَدْ وَجَدْنَا مَا وَعَدَنَا رَبُّنَا حَقًّا فَهَلْ وَجَدْتُّمْ مَّا وَعَدَ رَبُّكُمْ حَقًّاؕ قَالُوْا نَعَمْۚ فَاَذَّنَ مُؤَذِّنٌ ۢ بَيْنَهُمْ اَنْ لَّعْنَةُ اللهِ عَلَى الظَّالِمِيْنَ

জান্নাতীরা জাহান্নামীদেরকে ডেকে বলবে, আল্লাহ আমাদেরকে জান্নাত দানের যে ওয়াদা দিয়েছিলেন, তা আমরা পেয়েছি। অতএব তোমাদের ব্যাপারে আল্লাহ জাহান্নামের যে ওয়াদা দিয়েছিলেন, তা কি তোমরা সঠিকভাবে পেয়েছ? তারা বলবে, হ্যাঁ পেয়েছি। তখন একজন ঘোষণাকারী ঘোষণা করবেন, যালিমদের উপর আল্লাহর অভিশাপ। (সূরা আ‘রাফু ৪৪)