১
তাফসীরুল কুরআন বিল কুরআন
লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৩৪৫
অধ্যায়- ৬ : প্রকৃত সাফল্য অর্জনের উপায়
‘সফলকাম’ শব্দটি কুরআনে বৈষয়িক সফলতার সীমিত অর্থে ব্যবহৃত হয়নি। বরং এর অর্থ এমন ধরনের চিরন্তন সফলতা, যা কোনদিন ব্যর্থতা ও ক্ষতির সম্মুখীন হবে না। পার্থিব জীবনে এ সাফল্যের কোন দিক থাকতে পারে বা নাও থাকতে পারে। হতে পারে একজন গোমরাহীর আহবায়ক দুনিয়ায় আরাম-আয়েশে জীবন-যাপন করছে। তার জীবনে উন্নতি ও অগ্রগতির জোয়ার বয়ে যাচ্ছে। কিন্তু কুরআনের পরিভাষায় এটা সাফল্য নয়, বরং দ্ব্যর্থহীন ক্ষতি ও ব্যর্থতা। আবার এও হতে পারে যে, একজন সত্যের আহবায়ক দুনিয়ায় কঠিন বিপদের মুখোমুখি হচ্ছে। দুঃখ-কষ্টের ভয়াবহতা অথবা যালিমদের নির্যাতনের শিকার হয়ে সে দুনিয়ার বুক থেকে বিদায় নিচ্ছে। তার আহবানে কেউ সাড়া দিচ্ছে না। কিন্তু কুরআনের ভাষায় এটা ক্ষতি ও ব্যর্থতা নয় বরং এটাই সফলতা।
আত্মশুদ্ধি লাভ করা :
قَدْ اَفْلَحَ مَنْ تَزَكّٰى – وَذَكَرَ اسْمَ رَبِّهٖ فَصَلّٰى
নিশ্চয় সে সাফল্য লাভ করে, যে পবিত্রতা অবলম্বন করে এবং তার প্রতিপালকের নাম স্মরণ করে ও সালাত কায়েম করে। (সূরা আ‘লা- ১৪, ১৫)
قَدْ اَفْلَحَ مَنْ زَكَّاهَا
যে নিজেকে শুদ্ধ করে, সেই সফলকাম হয়। (সূরা শামস- ৯)
আল্লাহকে ভয় করা :
يَاۤ اَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوا اصْبِرُوْا وَصَابِرُوْا وَرَابِطُوْا وَاتَّقُوا اللهَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُوْنَ
হে ঈমানদারগণ! তোমরা ধৈর্যধারণ করো ও ধৈর্যধারণে প্রতিযোগিতা করো এবং (লড়াইয়ের জন্য সর্বদা) প্রস্তুত থাকো। আর আল্লাহকে ভয় করো, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার। (সূরা আলে ইমরান- ২০০)
বেশি বেশি আল্লাহর যিকির করা :
فَاِذَا قُضِيَتِ الصَّلَاةُ فَانْتَشِرُوْا فِى الْاَرْضِ وَابْتَغُوْا مِنْ فَضْلِ اللهِ وَاذْكُرُوا اللهَ كَثِيْرًا لَّعَلَّكُمْ تُفْلِحُوْنَ
অতঃপর যখন সালাত সমাপ্ত হবে, তখন তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়বে। অতঃপর আল্লাহর অনুগ্রহ সন্ধান করবে এবং আল্লাহকে অধিক হারে স্মরণ করবে, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার। (সূরা জুমু‘আ- ১০)
তাওবা করা :
وَتُوْبُوْاۤ اِلَى اللهِ جَمِيْعًا اَيُّهَا الْمُؤْمِنُوْنَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُوْنَ
হে মুমিনগণ! তোমরা সকলে আল্লাহর নিকট তাওবা করো, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার। (সূরা নূর- ৩১)
فَاَمَّا مَنْ تَابَ وَاٰمَنَ وَعَمِلَ صَالِحًا فَعَسٰۤى اَنْ يَّكُوْنَ مِنَ الْمُفْلِحِيْنَ
তবে যে ব্যক্তি তাওবা করবে, ঈমান আনবে এবং সৎকর্ম করবে সে সাফল্য অর্জনকারীদের অন্তর্ভুক্ত হবে। (সূরা ক্বাসাস- ৬৭)
আল্লাহর নিয়ামত স্মরণ করা :
فَاذْكُرُوْاۤ اٰلَآءَ اللهِ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُوْنَ
তোমরা আল্লাহর অনুগ্রহকে স্মরণ করো, হয়তো তোমরা সফলকাম হবে। (সূরা আ‘রাফ- ৬৯)
অপবিত্র ও অবৈধ জিনিস গ্রহণ না করা :
قُلْ لَّا يَسْتَوِى الْخَبِيْثُ وَالطَّيِّبُ وَلَوْ اَعْجَبَكَ كَثْرَةُ الْخَبِيْثِۚ فَاتَّقُوا اللهَ يَاۤ اُولِى الْاَلْبَابِ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُوْنَ
বলো, অপবিত্র ও পবিত্র সমান নয়; যদিও মন্দের আধিক্য তোমাকে চমৎকৃত করে। সুতরাং হে বোধশক্তিসম্পন্নরা! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, যেন তোমরা সফলকাম হতে পার। (সূরা মায়েদা- ১০০)
সৎকর্ম করা :
يَاۤ اَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوا ارْكَعُوْا وَاسْجُدُوْا وَاعْبُدُوْا رَبَّكُمْ وَافْعَلُوا الْخَيْرَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُوْنَ
হে মুমিনগণ! তোমরা রুকূ করো, সিজদা করো এবং তোমাদের প্রতিপালকের ইবাদাত করো ও সৎকর্ম করো, যেন তোমরা সফলকাম হতে পার। (সূরা হজ্জ- ৭৭)
শয়তানী কাজ থেকে দূরে থাকা :
يَاۤ اَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْاۤ اِنَّمَا الْخَمْرُ وَالْمَيْسِرُ وَالْاَنْصَابُ وَالْاَزْلَامُ رِجْسٌ مِّنْ عَمَلِ الشَّيْطَانِ فَاجْتَنِبُوْهُ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُوْنَ
হে মুমিনগণ! মদ, জুয়া, মূর্তিপূজার দেবী ও ভাগ্য নির্ণায়ক শর শয়তানের ঘৃণ্য কাজ। সুতরাং তোমরা তা বর্জন করো, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার। (সূরা মায়েদা- ৯০)
আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করা :
وَمَنْ يُّطِعِ اللهَ وَرَسُوْلَهٗ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيْمًا
যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করবে, সে মহাসাফল্য লাভ করবে। (সূরা আহযাব- ৭১)
وَمَنْ يُّطِعِ اللهَ وَرَسُوْلَهٗ وَيَخْشَ اللهَ وَيَتَّقْهِ فَاُولٰٓئِكَ هُمُ الْفَآئِزُوْنَ
যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, আল্লাহকে ভয় করে এবং তাঁর (অবাধ্যতা হতে) সাবধান থাকে, তারাই সফলকাম। (সূরা নূর- ৫২)
আল্লাহর পথে সংগ্রাম করা :
يَاۤ اَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوا اتَّقُوا اللهَ وَابْتَغُوْاۤ اِلَيْهِ الْوَسِيْلَةَ وَجَاهِدُوْا فِيْ سَبِيْلِهٖ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُوْنَ
হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, তাঁর নৈকট্য লাভের উপায় সন্ধান করো এবং তাঁর পথে জিহাদ করো, যাতে তোমরা সফলতা লাভ করতে পার। (সূরা মায়েদা- ৩৫)
اَلَّذِيْنَ اٰمَنُوْا وَهَاجَرُوْا وَجَاهَدُوْا فِيْ سَبِيْلِ اللهِ بِاَمْوَالِهِمْ وَاَنْفُسِهِمْ اَعْظَمُ دَرَجَةً عِنْدَ اللهِؕ وَاُولٰٓئِكَ هُمُ الْفَآئِزُوْنَ
যারা ঈমান আনে, হিজরত করে এবং নিজেদের সম্পদ ও জীবন দ্বারা আল্লাহর পথে জিহাদ করে তারা আল্লাহর নিকট মর্যাদায় সর্বশ্রেষ্ঠ; আর তারাই সফলকাম। (সূরা তাওবা- ২০)
সৎকাজের আদেশ দেয়া এবং অসৎকাজ হতে নিষেধ করা :
وَلْتَكُنْ مِّنْكُمْ اُمَّةٌ يَّدْعُوْنَ اِلَى الْخَيْرِ وَيَاْمُرُوْنَ بِالْمَعْرُوْفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِؕ وَاُولٰٓئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُوْنَ
তোমাদের মধ্যে এমন একটি দল থাকা জরুরি, যারা মানুষকে কল্যাণের দিকে ডাকবে এবং সৎকাজের আদেশ দেবে ও অসৎকাজ থেকে নিষেধ করবে। আর তারাই হবে সফলকাম। (সূরা আলে ইমরান- ১০৪)
কুরআনের বিধান মেনে চলা :
فَالَّذِيْنَ اٰمَنُوْا بِهٖ وَعَزَّرُوْهُ وَنَصَرُوْهُ وَاتَّبَعُوا النُّوْرَ الَّذِۤيْ اُنْزِلَ مَعَهٗۤ اُولٰٓئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُوْنَ
যারা তাঁর (নবীর) প্রতি ঈমান আনয়ন করে, তাঁকে সম্মান করে ও সাহায্য করে এবং যে নূর তাঁর সাথে অবতীর্ণ হয়েছে তার অনুসরণ করে, তারাই সফলকাম। (সূরা আ‘রাফ- ১৫৭)
আল্লাহ ও নবীর কথা মেনে নেয়া :
اِنَّمَا كَانَ قَوْلَ الْمُؤْمِنِيْنَ اِذَا دُعُوْاۤ اِلَى اللهِ وَرَسُوْلِهٖ لِيَحْكُمَ بَيْنَهُمْ اَنْ يَّقُوْلُوْا سَمِعْنَا وَاَطَعْنَاؕ وَاُولٰٓئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُوْنَ
মুমিনদের উক্তি তো এই- যখন তাদের মধ্যে ফায়সালা করে দেয়ার জন্য আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের দিকে আহবান করা হয় তখন তারা বলে, আমরা শ্রবণ করলাম ও আনুগত্য করলাম। মূলত তারাই সফলকাম। (সূরা নূর- ৫১)
আত্মীয় ও অন্যান্য মানুষের হক আদায় করা :
فَاٰتِ ذَا الْقُرْبٰى حَقَّهٗ وَالْمِسْكِيْنَ وَابْنَ السَّبِيْلِ ذٰلِكَ خَيْرٌ لِّلَّذِيْنَ يُرِيْدُوْنَ وَجْهَ اللهِؗ وَاُولٰٓئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُوْنَ
অতএব আত্মীয়স্বজনকে তাদের হক দিয়ে দাও এবং মিসকীন ও মুসাফিরকেও (তাদের হক দিয়ে দাও)। এটা তাদের জন্য উত্তম, যারা আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা করে; আর তারাই সফলকাম। (সূরা রূম- ৩৮)
মনের সংকীর্ণতা থেকে মুক্ত থাকা :
وَمَنْ يُّوْقَ شُحَّ نَفْسِهٖ فَاُولٰٓئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُوْنَ
যারা নিজেদেরকে কৃপণতা হতে মুক্ত করেছে তারাই সফলকাম। (সূরা হাশর- ৯)
তাক্বওয়ার গুণাবলি অর্জন করা :
ذٰلِكَ الْكِتَابُ لَا رَيْبَ فِيْهِۚ هُدًى لِّلْمُتَّقِيْنَ – اَلَّذِيْنَ يُؤْمِنُوْنَ بِالْغَيْبِ وَيُقِيْمُوْنَ الصَّلَاةَ وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنْفِقُوْنَ – وَالَّذِيْنَ يُؤْمِنُوْنَ بِمَاۤ اُنْزِلَ اِلَيْكَ وَمَاۤ اُنْزِلَ مِنْ قَبْلِكَۚ وَبِالْاٰخِرَةِ هُمْ يُوْقِنُوْنَ – اُولٰٓئِكَ عَلٰى هُدًى مِّنْ رَّبِّهِمْۗ وَاُولٰٓئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُوْنَ
এটা ঐ গ্রন্থ যার মধ্যে কোন সন্দেহ নেই। আর এটা মুত্তাক্বীদের জন্য হেদায়াতস্বরূপ। এরা (মুত্তাক্বীগণ) ঐ সকল লোক, যারা অদৃশ্য বিষয়গুলোর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে, সালাত প্রতিষ্ঠা করে এবং আমি তাদেরকে যে জীবনোপকরণ দান করেছি তা হতে ব্যয় করে। আর তারা তোমার প্রতি যা অবতীর্ণ করা হয়েছে ও তোমার পূর্বে যা অবতীর্ণ করা হয়েছিল তার প্রতি এবং পরকালের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করে। তারাই তাদের রবের পক্ষ হতে প্রাপ্ত হেদায়াতের উপর প্রতিষ্ঠিত রয়েছে এবং তারাই সফলকাম। (সূরা বাক্বারা, ২-৫)
পরকালের সফলতাই চূড়ামত্ম সফলতা :
كُلُّ نَفْسٍ ذَآئِقَةُ الْمَوْتِؕ وَاِنَّمَا تُوَفَّوْنَ اُجُوْرَكُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِؕ فَمَنْ زُحْزِحَ عَنِ النَّارِ وَاُدْخِلَ الْجَنَّةَ فَقَدْ فَازَؕ وَمَا الْحَيَاةُ الدُّنْيَاۤ اِلَّا مَتَاعُ الْغُرُوْرِ
প্রত্যেক প্রাণীই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণকারী, অবশ্যই কিয়ামতের দিন তোমাদেরকে পরিপূর্ণ প্রতিদান দেয়া হবে। অতএব যে ব্যক্তি (জাহান্নামের) আগুন হতে মুক্ত হবে এবং জান্নাতে প্রবিষ্ট হবে, নিশ্চয় সে সফলকাম। (সাবধান) পার্থিব জীবন প্রতারণার সম্পদ ছাড়া আর কিছুই নয়। (সূরা আলে ইমরান- ১৮৫)
ব্যাখ্যা : অর্থাৎ এ দুনিয়ার জীবনে বিভিন্ন কাজের যে ফলাফল দেখা যায় তাকেই যদি কোন ব্যক্তি আসল ও চূড়ান্ত ফলাফল বলে মনে করে এবং তারই ভিত্তিতে সত্য-মিথ্যা ও কল্যাণ-অকল্যাণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, তাহলে সে মারাত্মক প্রতারণার শিকার হবে। এখানে কারো উপর অনুগ্রহ ও নিয়ামত বর্ষিত হতে থাকলে তা থেকে এ কথা প্রমাণিত হয় না যে, সে সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত আছে এবং আল্লাহর নিকট তার কার্যকলাপ গৃহীত হয়েছে। অনুরূপভাবে এখানে কোন ব্যক্তির উপর বিপদ নেমে এলে এবং সে মহাসংকটে নিক্ষিপ্ত হলে তা থেকে অনিবার্যভাবে ধারণা করা যাবে না যে, সে মিথ্যার উপর দাঁড়িয়ে আছে এবং আল্লাহর নিকট প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এ প্রাথমিক পর্যায়ের ফলাফলগুলো চিরন্তন জীবনের চূড়ান্ত ফলাফল থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন হয়। আর এ শেষ ফলাফলই হয় চূড়ান্ত।
যাদের নেকীর পাল্লা ভারী হবে তারাই সফলতা লাভ করবে :
وَالْوَزْنُ يَوْمَئِذِنِ الْحَقُّۚ فَمَنْ ثَقُلَتْ مَوَازِيْنُهٗ فَاُولٰٓئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُوْنَ
সেদিন সঠিকভাবে ওজন করা হবে। অতঃপর যাদের পাল্লা ভারী হবে তারাই সফলকাম হবে। (সূরা আ‘রাফ- ৮)
জান্নাত পাওয়া সবচেয়ে বড় সাফল্য :
لَا يَسْتَوِيْۤ اَصْحَابُ النَّارِ وَاَصْحَابُ الْجَنَّةِؕ اَصْحَابُ الْجَنَّةِ هُمُ الْفَآئِزُوْنَ
জাহান্নামের অধিবাসী এবং জান্নাতের অধিবাসীরা সমান নয়। জান্নাতবাসীরাই সফলকাম। (সূরা হাশর- ২০)
يَوْمَ تَرَى الْمُؤْمِنِيْنَ وَالْمُؤْمِنَاتِ يَسْعٰى نُوْرُهُمْ بَيْنَ اَيْدِيْهِمْ وَبِاَيْمَانِهِمْ بُشْرَاكُمُ الْيَوْمَ جَنَّاتٌ تَجْرِيْ مِنْ تَحْتِهَا الْاَنْهَارُ خَالِدِيْنَ فِيْهَاؕ ذٰلِكَ هُوَ الْفَوْزُ الْعَظِيْمُ
সেদিন তুমি মুমিন নর-নারীদেরকে তাদের সম্মুখ ভাগে ও ডান পার্শ্বে নূর প্রবাহিত হতে দেখবে। (তাদেরকে বলা হবে) আজ তোমাদের জন্য জান্নাতের সুসংবাদ, যার পাদদেশে নদীসমূহ প্রবাহিত হয়ে গেছে। সেখানে তোমরা চিরস্থায়ী হবে; আর এটাই মহাসাফল্য। (সূরা হাদীদ- ১২)
আত্মশুদ্ধি লাভ করা :
قَدْ اَفْلَحَ مَنْ تَزَكّٰى – وَذَكَرَ اسْمَ رَبِّهٖ فَصَلّٰى
নিশ্চয় সে সাফল্য লাভ করে, যে পবিত্রতা অবলম্বন করে এবং তার প্রতিপালকের নাম স্মরণ করে ও সালাত কায়েম করে। (সূরা আ‘লা- ১৪, ১৫)
قَدْ اَفْلَحَ مَنْ زَكَّاهَا
যে নিজেকে শুদ্ধ করে, সেই সফলকাম হয়। (সূরা শামস- ৯)
আল্লাহকে ভয় করা :
يَاۤ اَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوا اصْبِرُوْا وَصَابِرُوْا وَرَابِطُوْا وَاتَّقُوا اللهَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُوْنَ
হে ঈমানদারগণ! তোমরা ধৈর্যধারণ করো ও ধৈর্যধারণে প্রতিযোগিতা করো এবং (লড়াইয়ের জন্য সর্বদা) প্রস্তুত থাকো। আর আল্লাহকে ভয় করো, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার। (সূরা আলে ইমরান- ২০০)
বেশি বেশি আল্লাহর যিকির করা :
فَاِذَا قُضِيَتِ الصَّلَاةُ فَانْتَشِرُوْا فِى الْاَرْضِ وَابْتَغُوْا مِنْ فَضْلِ اللهِ وَاذْكُرُوا اللهَ كَثِيْرًا لَّعَلَّكُمْ تُفْلِحُوْنَ
অতঃপর যখন সালাত সমাপ্ত হবে, তখন তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়বে। অতঃপর আল্লাহর অনুগ্রহ সন্ধান করবে এবং আল্লাহকে অধিক হারে স্মরণ করবে, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার। (সূরা জুমু‘আ- ১০)
তাওবা করা :
وَتُوْبُوْاۤ اِلَى اللهِ جَمِيْعًا اَيُّهَا الْمُؤْمِنُوْنَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُوْنَ
হে মুমিনগণ! তোমরা সকলে আল্লাহর নিকট তাওবা করো, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার। (সূরা নূর- ৩১)
فَاَمَّا مَنْ تَابَ وَاٰمَنَ وَعَمِلَ صَالِحًا فَعَسٰۤى اَنْ يَّكُوْنَ مِنَ الْمُفْلِحِيْنَ
তবে যে ব্যক্তি তাওবা করবে, ঈমান আনবে এবং সৎকর্ম করবে সে সাফল্য অর্জনকারীদের অন্তর্ভুক্ত হবে। (সূরা ক্বাসাস- ৬৭)
আল্লাহর নিয়ামত স্মরণ করা :
فَاذْكُرُوْاۤ اٰلَآءَ اللهِ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُوْنَ
তোমরা আল্লাহর অনুগ্রহকে স্মরণ করো, হয়তো তোমরা সফলকাম হবে। (সূরা আ‘রাফ- ৬৯)
অপবিত্র ও অবৈধ জিনিস গ্রহণ না করা :
قُلْ لَّا يَسْتَوِى الْخَبِيْثُ وَالطَّيِّبُ وَلَوْ اَعْجَبَكَ كَثْرَةُ الْخَبِيْثِۚ فَاتَّقُوا اللهَ يَاۤ اُولِى الْاَلْبَابِ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُوْنَ
বলো, অপবিত্র ও পবিত্র সমান নয়; যদিও মন্দের আধিক্য তোমাকে চমৎকৃত করে। সুতরাং হে বোধশক্তিসম্পন্নরা! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, যেন তোমরা সফলকাম হতে পার। (সূরা মায়েদা- ১০০)
সৎকর্ম করা :
يَاۤ اَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوا ارْكَعُوْا وَاسْجُدُوْا وَاعْبُدُوْا رَبَّكُمْ وَافْعَلُوا الْخَيْرَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُوْنَ
হে মুমিনগণ! তোমরা রুকূ করো, সিজদা করো এবং তোমাদের প্রতিপালকের ইবাদাত করো ও সৎকর্ম করো, যেন তোমরা সফলকাম হতে পার। (সূরা হজ্জ- ৭৭)
শয়তানী কাজ থেকে দূরে থাকা :
يَاۤ اَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْاۤ اِنَّمَا الْخَمْرُ وَالْمَيْسِرُ وَالْاَنْصَابُ وَالْاَزْلَامُ رِجْسٌ مِّنْ عَمَلِ الشَّيْطَانِ فَاجْتَنِبُوْهُ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُوْنَ
হে মুমিনগণ! মদ, জুয়া, মূর্তিপূজার দেবী ও ভাগ্য নির্ণায়ক শর শয়তানের ঘৃণ্য কাজ। সুতরাং তোমরা তা বর্জন করো, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার। (সূরা মায়েদা- ৯০)
আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করা :
وَمَنْ يُّطِعِ اللهَ وَرَسُوْلَهٗ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيْمًا
যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করবে, সে মহাসাফল্য লাভ করবে। (সূরা আহযাব- ৭১)
وَمَنْ يُّطِعِ اللهَ وَرَسُوْلَهٗ وَيَخْشَ اللهَ وَيَتَّقْهِ فَاُولٰٓئِكَ هُمُ الْفَآئِزُوْنَ
যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, আল্লাহকে ভয় করে এবং তাঁর (অবাধ্যতা হতে) সাবধান থাকে, তারাই সফলকাম। (সূরা নূর- ৫২)
আল্লাহর পথে সংগ্রাম করা :
يَاۤ اَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوا اتَّقُوا اللهَ وَابْتَغُوْاۤ اِلَيْهِ الْوَسِيْلَةَ وَجَاهِدُوْا فِيْ سَبِيْلِهٖ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُوْنَ
হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, তাঁর নৈকট্য লাভের উপায় সন্ধান করো এবং তাঁর পথে জিহাদ করো, যাতে তোমরা সফলতা লাভ করতে পার। (সূরা মায়েদা- ৩৫)
اَلَّذِيْنَ اٰمَنُوْا وَهَاجَرُوْا وَجَاهَدُوْا فِيْ سَبِيْلِ اللهِ بِاَمْوَالِهِمْ وَاَنْفُسِهِمْ اَعْظَمُ دَرَجَةً عِنْدَ اللهِؕ وَاُولٰٓئِكَ هُمُ الْفَآئِزُوْنَ
যারা ঈমান আনে, হিজরত করে এবং নিজেদের সম্পদ ও জীবন দ্বারা আল্লাহর পথে জিহাদ করে তারা আল্লাহর নিকট মর্যাদায় সর্বশ্রেষ্ঠ; আর তারাই সফলকাম। (সূরা তাওবা- ২০)
সৎকাজের আদেশ দেয়া এবং অসৎকাজ হতে নিষেধ করা :
وَلْتَكُنْ مِّنْكُمْ اُمَّةٌ يَّدْعُوْنَ اِلَى الْخَيْرِ وَيَاْمُرُوْنَ بِالْمَعْرُوْفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِؕ وَاُولٰٓئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُوْنَ
তোমাদের মধ্যে এমন একটি দল থাকা জরুরি, যারা মানুষকে কল্যাণের দিকে ডাকবে এবং সৎকাজের আদেশ দেবে ও অসৎকাজ থেকে নিষেধ করবে। আর তারাই হবে সফলকাম। (সূরা আলে ইমরান- ১০৪)
কুরআনের বিধান মেনে চলা :
فَالَّذِيْنَ اٰمَنُوْا بِهٖ وَعَزَّرُوْهُ وَنَصَرُوْهُ وَاتَّبَعُوا النُّوْرَ الَّذِۤيْ اُنْزِلَ مَعَهٗۤ اُولٰٓئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُوْنَ
যারা তাঁর (নবীর) প্রতি ঈমান আনয়ন করে, তাঁকে সম্মান করে ও সাহায্য করে এবং যে নূর তাঁর সাথে অবতীর্ণ হয়েছে তার অনুসরণ করে, তারাই সফলকাম। (সূরা আ‘রাফ- ১৫৭)
আল্লাহ ও নবীর কথা মেনে নেয়া :
اِنَّمَا كَانَ قَوْلَ الْمُؤْمِنِيْنَ اِذَا دُعُوْاۤ اِلَى اللهِ وَرَسُوْلِهٖ لِيَحْكُمَ بَيْنَهُمْ اَنْ يَّقُوْلُوْا سَمِعْنَا وَاَطَعْنَاؕ وَاُولٰٓئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُوْنَ
মুমিনদের উক্তি তো এই- যখন তাদের মধ্যে ফায়সালা করে দেয়ার জন্য আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের দিকে আহবান করা হয় তখন তারা বলে, আমরা শ্রবণ করলাম ও আনুগত্য করলাম। মূলত তারাই সফলকাম। (সূরা নূর- ৫১)
আত্মীয় ও অন্যান্য মানুষের হক আদায় করা :
فَاٰتِ ذَا الْقُرْبٰى حَقَّهٗ وَالْمِسْكِيْنَ وَابْنَ السَّبِيْلِ ذٰلِكَ خَيْرٌ لِّلَّذِيْنَ يُرِيْدُوْنَ وَجْهَ اللهِؗ وَاُولٰٓئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُوْنَ
অতএব আত্মীয়স্বজনকে তাদের হক দিয়ে দাও এবং মিসকীন ও মুসাফিরকেও (তাদের হক দিয়ে দাও)। এটা তাদের জন্য উত্তম, যারা আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা করে; আর তারাই সফলকাম। (সূরা রূম- ৩৮)
মনের সংকীর্ণতা থেকে মুক্ত থাকা :
وَمَنْ يُّوْقَ شُحَّ نَفْسِهٖ فَاُولٰٓئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُوْنَ
যারা নিজেদেরকে কৃপণতা হতে মুক্ত করেছে তারাই সফলকাম। (সূরা হাশর- ৯)
তাক্বওয়ার গুণাবলি অর্জন করা :
ذٰلِكَ الْكِتَابُ لَا رَيْبَ فِيْهِۚ هُدًى لِّلْمُتَّقِيْنَ – اَلَّذِيْنَ يُؤْمِنُوْنَ بِالْغَيْبِ وَيُقِيْمُوْنَ الصَّلَاةَ وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنْفِقُوْنَ – وَالَّذِيْنَ يُؤْمِنُوْنَ بِمَاۤ اُنْزِلَ اِلَيْكَ وَمَاۤ اُنْزِلَ مِنْ قَبْلِكَۚ وَبِالْاٰخِرَةِ هُمْ يُوْقِنُوْنَ – اُولٰٓئِكَ عَلٰى هُدًى مِّنْ رَّبِّهِمْۗ وَاُولٰٓئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُوْنَ
এটা ঐ গ্রন্থ যার মধ্যে কোন সন্দেহ নেই। আর এটা মুত্তাক্বীদের জন্য হেদায়াতস্বরূপ। এরা (মুত্তাক্বীগণ) ঐ সকল লোক, যারা অদৃশ্য বিষয়গুলোর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে, সালাত প্রতিষ্ঠা করে এবং আমি তাদেরকে যে জীবনোপকরণ দান করেছি তা হতে ব্যয় করে। আর তারা তোমার প্রতি যা অবতীর্ণ করা হয়েছে ও তোমার পূর্বে যা অবতীর্ণ করা হয়েছিল তার প্রতি এবং পরকালের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করে। তারাই তাদের রবের পক্ষ হতে প্রাপ্ত হেদায়াতের উপর প্রতিষ্ঠিত রয়েছে এবং তারাই সফলকাম। (সূরা বাক্বারা, ২-৫)
পরকালের সফলতাই চূড়ামত্ম সফলতা :
كُلُّ نَفْسٍ ذَآئِقَةُ الْمَوْتِؕ وَاِنَّمَا تُوَفَّوْنَ اُجُوْرَكُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِؕ فَمَنْ زُحْزِحَ عَنِ النَّارِ وَاُدْخِلَ الْجَنَّةَ فَقَدْ فَازَؕ وَمَا الْحَيَاةُ الدُّنْيَاۤ اِلَّا مَتَاعُ الْغُرُوْرِ
প্রত্যেক প্রাণীই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণকারী, অবশ্যই কিয়ামতের দিন তোমাদেরকে পরিপূর্ণ প্রতিদান দেয়া হবে। অতএব যে ব্যক্তি (জাহান্নামের) আগুন হতে মুক্ত হবে এবং জান্নাতে প্রবিষ্ট হবে, নিশ্চয় সে সফলকাম। (সাবধান) পার্থিব জীবন প্রতারণার সম্পদ ছাড়া আর কিছুই নয়। (সূরা আলে ইমরান- ১৮৫)
ব্যাখ্যা : অর্থাৎ এ দুনিয়ার জীবনে বিভিন্ন কাজের যে ফলাফল দেখা যায় তাকেই যদি কোন ব্যক্তি আসল ও চূড়ান্ত ফলাফল বলে মনে করে এবং তারই ভিত্তিতে সত্য-মিথ্যা ও কল্যাণ-অকল্যাণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, তাহলে সে মারাত্মক প্রতারণার শিকার হবে। এখানে কারো উপর অনুগ্রহ ও নিয়ামত বর্ষিত হতে থাকলে তা থেকে এ কথা প্রমাণিত হয় না যে, সে সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত আছে এবং আল্লাহর নিকট তার কার্যকলাপ গৃহীত হয়েছে। অনুরূপভাবে এখানে কোন ব্যক্তির উপর বিপদ নেমে এলে এবং সে মহাসংকটে নিক্ষিপ্ত হলে তা থেকে অনিবার্যভাবে ধারণা করা যাবে না যে, সে মিথ্যার উপর দাঁড়িয়ে আছে এবং আল্লাহর নিকট প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এ প্রাথমিক পর্যায়ের ফলাফলগুলো চিরন্তন জীবনের চূড়ান্ত ফলাফল থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন হয়। আর এ শেষ ফলাফলই হয় চূড়ান্ত।
যাদের নেকীর পাল্লা ভারী হবে তারাই সফলতা লাভ করবে :
وَالْوَزْنُ يَوْمَئِذِنِ الْحَقُّۚ فَمَنْ ثَقُلَتْ مَوَازِيْنُهٗ فَاُولٰٓئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُوْنَ
সেদিন সঠিকভাবে ওজন করা হবে। অতঃপর যাদের পাল্লা ভারী হবে তারাই সফলকাম হবে। (সূরা আ‘রাফ- ৮)
জান্নাত পাওয়া সবচেয়ে বড় সাফল্য :
لَا يَسْتَوِيْۤ اَصْحَابُ النَّارِ وَاَصْحَابُ الْجَنَّةِؕ اَصْحَابُ الْجَنَّةِ هُمُ الْفَآئِزُوْنَ
জাহান্নামের অধিবাসী এবং জান্নাতের অধিবাসীরা সমান নয়। জান্নাতবাসীরাই সফলকাম। (সূরা হাশর- ২০)
يَوْمَ تَرَى الْمُؤْمِنِيْنَ وَالْمُؤْمِنَاتِ يَسْعٰى نُوْرُهُمْ بَيْنَ اَيْدِيْهِمْ وَبِاَيْمَانِهِمْ بُشْرَاكُمُ الْيَوْمَ جَنَّاتٌ تَجْرِيْ مِنْ تَحْتِهَا الْاَنْهَارُ خَالِدِيْنَ فِيْهَاؕ ذٰلِكَ هُوَ الْفَوْزُ الْعَظِيْمُ
সেদিন তুমি মুমিন নর-নারীদেরকে তাদের সম্মুখ ভাগে ও ডান পার্শ্বে নূর প্রবাহিত হতে দেখবে। (তাদেরকে বলা হবে) আজ তোমাদের জন্য জান্নাতের সুসংবাদ, যার পাদদেশে নদীসমূহ প্রবাহিত হয়ে গেছে। সেখানে তোমরা চিরস্থায়ী হবে; আর এটাই মহাসাফল্য। (সূরা হাদীদ- ১২)