hadith book logo

তাফসীরুল কুরআন বিল কুরআন

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৫৭৬

অধ্যায়- ৪ : মুহাম্মাদ ﷺ এর নবুওয়াত লাভ

সর্বপ্রথম রাসূল ﷺ এর নিকট ওহী আগমনের সূচনা হয় ঘুমের মধ্যে সত্য স্বপ্নরূপে। কিছুকাল এ অবস্থা চলার পর নিজ থেকেই তাঁর অন্তরে নির্জনে থাকার প্রেরণা উদিত হয়। ফলে তিনি মক্কা হতে তিন মাইল দূরে ‘হেরা’ নামক পর্বতগুহায় নির্জনে ইবাদাতের উদ্দেশ্যে একাকী অবস্থান করতে লাগলেন। তিনি সেথায় কয়েক রাত পর্যন্ত ইবাদাতে মগ্ন থাকতেন। এমনিভাবে হেরা গুহায় আল্লাহর ধ্যানে মগ্ন থাকাকালে হঠাৎ একদিন জিবরাঈল (আঃ) আল্লাহ তা‘আলার পক্ষ হতে ওহী নিয়ে রাসূল ﷺ এর সামনে হাজির হন।

জিবরাঈল (আঃ) কে তিনি আকাশে দেখেছেন :

وَلَقَدْ رَاٰهُ بِالْاُفُقِ الْمُبِيْنِ

তিনি (মুহাম্মদ সাঃ) তাঁকে (জিবরাঈলকে) দিগন্তে দেখেছিলেন। (সূরা তাকভীর- ২৩)

তিনি খুব শক্তিশালী ফেরেশতা :

عَلَّمَهٗ شَدِيْدُ الْقُوٰى – - ذُوْ مِرَّةٍ فَاسْتَوٰى – وَهُوَ بِالْاُفُقِ الْاَعْلٰى

তাকে শিক্ষা দান করে শক্তিশালী ও মহাশক্তিধর (ফেরেশতা)। তিনি প্রজ্ঞাসম্পন্ন, নিজ আকৃতিতে স্থির হয়েছিলেন। তখন তিনি ঊর্ধ্ব দিগন্তে ছিলেন। (সূরা নাজম, ৫-৭)

ফেরেশতা খুব কাছাকাছি হলেন :

ثُمَّ دَنَا فَتَدَلّٰى – فَكَانَ قَابَ قَوْسَيْنِ اَوْ اَدْنٰى

অতঃপর তিনি তার (রাসূল ﷺ এর) নিকটবর্তী হলেন এবং অতি নিকটে গেলেন। ফলে তিনি (তার থেকে) দু’ধনুক অথবা তার চেয়েও কম দূরত্বে (অবস্থান) নিলেন। (সূরা নাজম- ৮, ৯)

তিনি নবী ﷺ এর কাছে ওহী পৌঁছে দিলেন :

فَاَوْحٰۤى اِلٰى عَبْدِه مَاۤ اَوْحٰى

তখন আল্লাহ তাঁর বান্দার প্রতি যা ওহী করার তা ওহী করলেন। (সূরা নাজম- ১০)

এতে নবী ﷺ এর কোন ভুল ধারণা সৃষ্টি হয়নি :

مَا كَذَبَ الْفُؤَادُ مَا رَاٰى

যা সে দেখেছে তার অন্তর তা অস্বীকার করেনি। (সূরা নাজম- ১১)

ব্যাখ্যা : তিনি চোখে যা দেখেছিলেন মনেও ঠিক তা-ই বুঝতে পেরেছিলেন। এ বিষয়ে তাঁর মনে বিন্দুমাত্র সন্দেহ ছিল না যে, তিনি যাঁকে দেখেছিলেন প্রকৃতপক্ষে তিনি ছিলেন জিবরাঈল (আঃ) এবং তিনি যে বাণী নিয়ে এসেছিলেন তা মূলত ছিল আল্লাহর পক্ষ হতে ওহী।

এ ফেরেশতাকে তিনি আরো একবার দেখেছিলেন :

اَفَتُمَارُوْنَهٗ عَلٰى مَا يَرٰى – وَلَقَدْ رَاٰهُ نَزْلَةً اُخْرٰى – عِنْدَ سِدْرَةِ الْمُنْتَهٰى – عِنْدَهَا جَنَّةُ الْمَأْوٰى

তিনি যা দেখেছেন তোমরা কি সে বিষয়ে তাঁর সঙ্গে বিতর্ক করবে? নিশ্চয় তিনি তাকে আরো একবার দেখেছিলেন। সিদরাতুল মুনতাহার নিকট, যার নিকট অবস্থিত জান্নাতুল মা’ওয়া। (সূরা নাজম, ১২-১৫)