hadith book logo

তাফসীরুল কুরআন বিল কুরআন

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৪০৮

অধ্যায়- ৬ : জাহান্নামের আগুনের বৈশিষ্ট্য

জাহান্নামের আগুনের শক্তি অনেক বেশি :

قُلْ نَارُ جَهَنَّمَ اَشَدُّ حَرًّا لَّوْ كَانُوْا يَفْقَهُوْنَ

(হে নবী!) আপনি বলুন! জাহান্নামের আগুন অত্যাধিক গরম। যদি লোকেরা বুঝতে পারত!’’ (সূরা তাওবা– ৮১)

ব্যাখ্যা : আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ বলেছেন, তোমাদের ব্যবহৃত আগুন জাহান্নামের আগুনের সত্তর ভাগের এক ভাগ। সাহাবারা বললেন, জ্বালানোর জন্য তো এ আগুনই যথেষ্ট। নবী ﷺ বললেন, হ্যাঁ, তা সত্ত্বেও পৃথিবীর আগুনের চেয়ে জাহান্নামের আগুন ৬৯ গুণ শক্তিশালী। (সহীহ বুখারী, হা/৩২৬৫)

সেই আগুন শিখাবিশিষ্ট :

سَيَصْلٰى نَارًا ذَاتَ لَهَبٍ

অচিরেই সে প্রবেশ করবে শিখা বিশিষ্ট আগুনে। (সূরা লাহাব– ০৩)

لَهُمْ مِّنْ فَوْقِهِمْ ظُلَلٌ مِّنَ النَّارِ وَمِنْ تَحْتِهِمْ ظُلَلٌؕ ذٰلِكَ يُخَوِّفُ اللهُ بِه عِبَادَهؕٗ يَا عِبَادِ فَاتَّقُوْنِ

জাহান্নামীদের জন্য উপর ও নিচ উভয় দিক থেকে রয়েছে আগুনের লেলিহান শিখা। আল্লাহ তার বান্দাদেরকে এ ব্যাপারে সতর্ক করছেন। হে আমার বান্দারা! তোমরা আমাকে ভয় করো। (সূরা যুমার– ১৬)

সে আগুন জ্বলন্ত :

فَاَنْذَرْتُكُمْ نَارًا تَلَظّٰى

আমি তোমাদেরকে প্রজ্বলিত আগুনের ভয় দেখাচ্ছি। (সূরা লাইল– ১৪)

সে আগুন ভয়াবহ :

اَلَّذِيْ يَصْلَى النَّارَ الْكُبْرٰى

সে প্রবেশ করবে মহা অগ্নিতে। (সূরা আলা– ১২)

সে আগুন উত্তপ্ত :

تَصْلٰى نَارًا حَامِيَةً

সে প্রবেশ করবে উত্তপ্ত আগুনে। (সূরা গাশিয়া– ৪)

সে আগুন বেষ্টনীতে আবদ্ধ :

عَلَيْهِمْ نَارٌ مُّؤْصَدَةٌ

জাহান্নামীদের জন্য রয়েছে আবদ্ধ আগুন। (সূরা বালাদু ২০)

সে আগুন দেহের সকল অঙ্গে পৌঁছবে :

تَلْفَحُ وُجُوْهَهُمُ النَّارُ وَهُمْ فِيْهَا كَالِحُوْنَ

আগুন তাদের চেহারা দগ্ধ করবে এবং সেখানে তারা বিকৃত অবস্থায় থাকবে। (সূরা মু’মিনূনু ১০৪)

اَلَّتِيْ تَطَّلِعُ عَلَى الْاَفْئِدَةِ – اِنَّهَا عَلَيْهِمْ مُّؤْصَدَةٌ – فِيْ عَمَدٍ مُّمَدَّدَةٍ

জাহানণামের আগুন মানুষের হৃদয় পর্যন্ত পৌঁছবে। এ আগুনে তাদেরকে বেঁধে দেয়া হবে লম্বা লম্বা খুঁটিতে। (সূরা হুমাযাহ, ৭–৯)

হৃদয় পর্যন্ত জ্বালাবে এজন্য যে, মানুষ মরবে না; তাই তার শরীরের সবকিছু জ্বলবে। কিন্তু দুনিয়াতে মানুষের গোশত পুড়ার আগেই মানুষ মারা যায়।

সেই আগুন কেউ সরাতে পারবে না :

لَوْ يَعْلَمُ الَّذِيْنَ كَفَرُوْا حِيْنَ لَا يَكُفُّوْنَ عَنْ وُّجُوْهِهِمُ النَّارَ وَلَا عَنْ ظُهُوْرِهِمْ وَلَا هُمْ يُنْصَرُوْنَ

কাফিররা যদি সেই সময়ের কথা জানত যখন তারা তাদের মুখমন্ডল এবং পিঠ থেকে আগুন সরাতে পারবে না, এমনকি তাদেরকে কোন প্রকার সাহায্যও করা হবে না (তাহলে তারা কুফরী করত না)। (সূরা আম্বিয়া– ৩৯)

যতবার চামড়া জ্বলবে ততবার নতুন করে তৈরি করা হবে :

كُلَّمَا نَضِجَتْ جُلُوْدُهُمْ بَدَّلْنَاهُمْ جُلُوْدًا غَيْرَهَا لِيَذُوْقُوا الْعَذَابَ

যখন তাদের চামড়া একবার পুড়ে যাবে, তখন আমি তাদের শরীরে আবার নতুন চামড়া লাগিয়ে দেব– যাতে তারা আযাবের স্বাদ (পরিপূর্ণভাবে) ভোগ করতে পারে। (সূরা নিসা– ৫৬)

যতবার অগ্নিশিখা স্থিমিত হবে ততবারই আরো বাড়িয়ে দেয়া হবে :

كُلَّمَا خَبَتْ زِدْنَاهُمْ سَعِيْرًا

এ আগুন যতবার কমতে থাকবে, ততবারই তাকে জ্বালিয়ে দেয়া হবে। (সূরা বনী ইসরাইল– ৯৭)