hadith book logo

তাফসীরুল কুরআন বিল কুরআন

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২১০

অধ্যায়- ৪ : আত্মশুদ্ধি অর্জন করা

নফসে আম্মারা খারাপ কাজের নির্দেশ দেয় :

وَمَاۤ اُبَرِّئُ نَفْسِيْۚ اِنَّ النَّفْسَ لَاَمَّارَةٌ ۢبِالسُّوْٓءِ اِلَّا مَا رَحِمَ رَبِّيْ ؕ اِنَّ رَبِّيْ غَفُوْرٌ رَّحِيْمٌ

(ইউসুফ আঃ বললেন) আমি নিজেকে নির্দোষ মনে করি না, মানুষের মন অবশ্যই মন্দকর্ম প্রবণ; কিন্তু সে নয় যার প্রতি আমার প্রতিপালক দয়া করেন। নিশ্চয় আমার প্রতিপালক অতি ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু। (সূরা ইউসুফ- ৫৩)

নফসে লাওয়ামা মন্দকাজকে ঘৃণা করে :

وَلَاۤ اُقْسِمُ بِالنَّفْسِ اللَّوَّامَةِ

আরো শপথ করছি তিরস্কারকারী আত্মার। (সূরা ক্বিয়ামাহ- ২)

ব্যাখ্যা : যারা প্রবৃত্তিপূজারী হয়েও ঈমানদারী ও সততার সাথে কিছুটা সম্পর্ক রেখে চলে এ ধরনের লোকদের রীতি হচ্ছে, যখনই প্রবৃত্তি তাদের কাছে কোন খারাপ কাজ করার তাগিদ দেয় তখনই ঈমানের তাগিদ মুলতবি রেখে তারা প্রথমে প্রবৃত্তির তাগিদ পূর্ণ করে নেয়। এ সময় বিবেক ভেতর থেকে দংশন করতে থাকলে তাকে এ বলে সান্ত্বনা দেয় যে, এ গোনাহটি না করলে আমার কাজ আটকে থাকে। কাজেই এটা করতে দাও। এ নাফসের অধিকারী মানুষ খারাপ কাজ করে ফেলে; কিন্তু পরে যখন তার বিবেক সজাগ হয় তখন সে নিজেকে তিরস্কার করে।

নফসে মুতমাইন্না কেবল ভালো কাজের উৎসাহ দেয় :

يَاۤ اَيَّتُهَا النَّفْسُ الْمُطْمَئِنَّةُ ‐ اِرْجِعِيْۤ اِلٰى رَبِّكِ رَاضِيَةً مَّرْضِيَّةً ‐ فَادْخُلِيْ فِيْ عِبَادِيْ ‐ وَادْخُلِيْ جَنَّتِيْ

হে প্রশান্ত আত্মা! তুমি সন্তুষ্টচিত্তে ও প্রিয়পাত্র হয়ে তোমার প্রতিপালকের নিকট ফিরে এসো এবং আমার বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাও। আর আমার জান্নাতে প্রবেশ করো। (সূরা ফাজর, ২৭-৩০)

ব্যাখ্যা : নফসের উপর চেষ্টা সাধনা করতে করতে যখন এমন স্তরে পৌঁছে যায় যে, তার মধ্যে মন্দকাজের কোন স্পৃহা থাকে না, গোনাহের কাজে ভয় পায় আর ভালো কাজে খুশী হয় তখন তাকে নফসে মুতমাইন্না বলা হয়। শরীরের পবিত্রতা যেমন একটি নিয়ামত ঠিক তেমনি আত্মার পবিত্রতাও একটি নিয়ামত। আর মানুষের উপর আল্লাহর নিয়ামত তখনই পূর্ণতা লাভ করবে, যখন সে আত্মা ও শরীর উভয় দিক থেকে পবিত্রতা অর্জন করে পূর্ণ হেদায়াত লাভ করতে সক্ষম হবে।

মানুষের আত্মাকে পবিত্র করা নবীগণের দায়িত্ব ছিল :

هُوَ الَّذِيْ بَعَثَ فِى الْاُمِّيِّيْنَ رَسُوْلًا مِّنْهُمْ يَتْلُوْا عَلَيْهِمْ اٰيَاتِهٖ وَيُزَكِّيْهِمْ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَۗ وَاِنْ كَانُوْا مِنْ قَبْلُ لَفِيْ ضَلَالٍ مُّبِيْنٍ

তিনিই উম্মীদের (নিরক্ষর জাতির) মধ্য হতে একজনকে রাসূল হিসেবে পাঠিয়েছেন, যিনি তাদের নিকট তাঁর আয়াতসমূহ পাঠ করেন, তাদেরকে পবিত্র করেন এবং কিতাব ও হিকমতের (সুন্নাহের) শিক্ষা দান করেন; যদিও ইতোপূর্বে তারা স্পষ্ট গোমরাহীতে লিপ্ত ছিল। (সূরা জুমু‘আ- ২)

আত্মশুদ্ধি লাভ করলে নিজেরই কল্যাণ হয় :

وَمَنْ تَزَكّٰى فَاِنَّمَا يَتَزَكّٰى لِنَفْسِهٖؕ وَاِلَى اللهِ الْمَصِيْرُ

আর যে ব্যক্তি নিজেকে পরিশুদ্ধ করে, সে তো নিজেরই কল্যাণের জন্য পরিশুদ্ধ করে; আর আল্লাহর কাছেই সবাইকে ফিরে যেতে হবে। (সূরা ফাতির- ১৮)

আত্মশুদ্ধি লাভ করার মধ্যেই রয়েছে সফলতা :

قَدْ اَفْلَحَ مَنْ زَكَّاهَا

যে ব্যক্তি নিজেকে পরিশুদ্ধ করে, সেই সফলকাম হয়। (সূরা শামস- ৯)

قَدْ اَفْلَحَ مَنْ تَزَكّٰى ‐ وَذَكَرَ اسْمَ رَبِّهٖ فَصَلّٰى

নিশ্চয় যে পরিশুদ্ধতা অবলম্বন করে এবং তার প্রতিপালকের নাম স্মরণ করে ও সালাত কায়েম করে সে সাফল্য লাভ করে। (সূরা আ‘লা- ১৪, ১৫)

আত্মশুদ্ধির অন্যতম উপায় আল্লাহর পথে ব্যয় করা :

وَسَيُجَنَّبُهَا الْاَتْقٰى ‐ اَلَّذِيْ يُؤْتِيْ مَالَهٗ يَتَزَكّٰى

এ (জাহান্নাম) থেকে দূরে রাখা হবে আল্লাহভীরু ব্যক্তিকে, যে আত্মশুদ্ধির জন্য তার ধনসম্পদ দান করে।

(সূরা লাইল- ১৭, ১৮)

আত্মশুদ্ধি লাভকারীরা জান্নাতে প্রবেশ করবে :

وَمَنْ يَّأْتِهٖ مُؤْمِنًا قَدْ عَمِلَ الصَّالِحَاتِ فَاُولٰٓئِكَ لَهُمُ الدَّرَجَاتُ الْعُلَا ‐ جَنَّاتُ عَدْنٍ تَجْرِيْ مِنْ تَحْتِهَا الْاَنْهَارُ خَالِدِيْنَ فِيْهَاؕ وَذٰلِكَ جَزَآءُ مَنْ تَزَكّٰى

যারা (কিয়ামত দিবসে) তাঁর নিকট মুমিন অবস্থায় সৎকর্ম নিয়ে উপস্থিত হবে, তাদের জন্য রয়েছে সমুচ্চ মর্যাদা- স্থায়ী জান্নাত, যার তলদেশ দিয়ে নদীসমূহ প্রবাহিত হয়ে গেছে; সেখানে তারা স্থায়ী হবে। আর এ পুরস্কার তাদের জন্য, যারা আত্মশুদ্ধি অর্জন করে। (সূরা ত্বা-হা- ৭৫, ৭৬)