১
তাফসীরুল কুরআন বিল কুরআন
লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ২৫৪
অধ্যায়- ৪ : কাফিরদের দৃষ্টান্তসমূহ
কাফিরদের তুলনা পশুর সাথে :
وَمَثَلُ الَّذِيْنَ كَفَرُوْا كَمَثَلِ الَّذِيْ يَنْعِقُ بِمَا لَا يَسْمَعُ اِلَّا دُعَآءً وََّنِدَآءًؕ صُمٌّ ۢبُكْمٌ عُمْيٌ فَهُمْ لَا يَعْقِلُوْنَ
যারা কুফরী করেছে তাদের দৃষ্টান্ত তাদের ন্যায়, যাদেরকে আহবান করলে শুধু চিৎকার ও শব্দ ব্যতীত আর কিছুই শুনতে পায় না। তারা বধির, বোবা ও অন্ধ; সুতরাং তারা কিছুই বুঝতে পারে না। (সূরা বাক্বারা- ১৭১)
তাদের আমলের উপমা :
مَثَلُ الَّذِيْنَ كَفَرُوْا بِرَبِّهِمْ اَعْمَالُهُمْ كَرَمَادِ نِ اشْتَدَّتْ بِهِ الرِِّيْحُ فِيْ يَوْمٍ عَاصِفٍؕ لَا يَقْدِرُوْنَ مِمَّا كَسَبُوْا عَلٰى شَيْءٍؕ ذٰلِكَ هُوَ الضَّلَالُ الْبَعِيْدُ
যারা তাদের প্রতিপালককে অস্বীকার করে, তাদের কর্মসমূহের উপমা ছাইয়ের মতো- যা ঝড়ের দিনের বাতাস প্রচন্ড বেগে উড়িয়ে নিয়ে যায়। অতঃপর তারা যা উপার্জন করে তার কোনকিছুই তারা তাদের কাজে লাগাতে পারে না। এটা তো ঘোর বিভ্রান্তি। (সূরা ইবরাহীম- ১৮)
ব্যাখ্যা : যারা নিজেদের রবের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা ও বিদ্রোহাত্মক কর্মপন্থা অবলম্বন করে এবং নবীগণ যে আনুগত্যের পথ অবলম্বন করার দাওয়াত নিয়ে আসেন তা গ্রহণ করতে অস্বীকার করে, তাদের সমগ্র জীবনের আমল শেষ পর্যন্ত এমন অর্থহীন প্রমাণিত হবে যেমন একটি ছাইয়ের স্তূপ, দীর্ঘদিন ধরে এক জায়গায় জমা হতে হতে তা এক সময় একটি বিরাট পাহাড়ে পরিণত হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু মাত্র একদিনের ঘূর্ণিঝড়ে তা এমনভাবে উড়ে গেল যে, তার প্রত্যেকটি কণা পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল। কাফিরদের চাকচিক্যময় সভ্যতা, বিপুল ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি, বিস্ময়কর শিল্প ও কল-কারখানা, মহাপ্রতাপশালী রাষ্ট্র, বিশালায়তন বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ, তাদের শিল্প-সাহিত্য, চারুকলা, ভাস্কর্য ও স্থাপত্যের বিশাল ভান্ডার, এমনকি তাদের ইবাদাত-বন্দেগী, বাহ্যিক সৎকার্যাবলি এবং দান ও জনকল্যাণমূলক এমনসব কাজকর্ম যেগুলোর জন্য তারা দুনিয়ায় গর্ব করে বেড়ায়, সবকিছুই শেষ পর্যন্ত ছাইয়ের স্তূপে পরিণত হবে। কিয়ামতের দিনের ঘূর্ণিঝড় এ স্তূপকে সম্পূর্ণরূপে নিশ্চিহ্ন করে দেবে। ফলে আখিরাতের জীবনে আল্লাহর দাঁড়িপাল্লায় রেখে সামান্যতম ওজন পাওয়ার মতো একটি কণাও তাদের কাছে থাকবে না।
وَالَّذِيْنَ كَفَرُوْاۤ اَعْمَالُهُمْ كَسَرَابٍ ۢبِقِيْعَةٍ يَّحْسَبُهُ الظَّمَاٰنُ مَآءً ؕ حَتّٰۤى اِذَا جَآءَهٗ لَمْ يَجِدْهُ شَيْئًا وََّوَجَدَ اللهَ عِنْدَهٗ فَوَفَّاهُ حِسَابَهٗؕ وَاللهُ سَرِيْعُ الْحِسَابِ
যারা কুফরী করে তাদের কর্ম মরুভূমির ঐ মরীচিকার মতো, পিপাসার্ত ব্যক্তি যাকে পানি মনে করে থাকে। কিন্তু যখন সে তাঁর নিকট উপস্থিত হয়, তখন কিছুই পায় না। অতঃপর সে সেথায় আল্লাহকে পাবে; তখন তিনি তার কর্মফল পূর্ণ মাত্রায় প্রদান করবেন। নিশ্চয় আল্লাহ হিসাব গ্রহণে খুবই তৎপর। (সূরা নূর- ৩৯)
ব্যাখ্যা : এ উপমায় এমনসব লোকের অবস্থা বর্ণনা করা হয়েছে যারা কুফরী ও মুনাফিকী সত্ত্বেও বাহ্যত সৎকাজও করে এবং আখিরাতও মানে। আবার এ অসার চিন্তাও পোষণ করে যে, প্রকৃত ঈমান ও মুমিনের গুণাবলি এবং রাসূল ﷺ এর আনুগত্য ও অনুসরণ ছাড়া তাদের এসব কার্যাবলি আখিরাতে কোন কাজে লাগবে না। উপমার আকারে তাদেরকে জানানো হচ্ছে, তোমরা নিজেদের যেসব বাহ্যিক ও প্রদর্শনীমূলক সৎকাজের মাধ্যমে আখিরাতে লাভবান হওয়ার আশা কর, সেগুলো নিছক মরীচিকা ছাড়া আর কিছুই নয়। মরুভূমিতে দূর থেকে চিকচিক করা বালুরাশি দেখে পিপাসার্ত যেমন একে পানির নদী মনে করে সেদিকে ছুটে যায়, ঠিক তেমনি তোমরাও এসব কর্মের উপর মিথ্যা ভরসা করে বসে আছো। কিন্তু যেমন মরীচিকার দিকে ছুটে চলা ব্যক্তি যে স্থানে পানির নদী আছে বলে মনে করেছিল সেখানে পৌঁছে কিছুই পায় না, ঠিক তেমনি তোমরাও যখন মৃত্যুর দ্বারে প্রবেশ করবে তখন জানতে পারবে সেখানে এমন কোন জিনিস নেই, যা থেকে তোমরা লাভবান হতে পারবে। বরং এর বিপরীতে দেখবে তোমাদের কুফরী ও মুনাফিকী এবং লোকদেখানো সৎকাজ ও অন্যান্য যেসব খারাপ কাজ করছিলে সেগুলোর হিসাব নেয়ার এবং প্রতিদান দেয়ার জন্য আল্লাহ সেখানে উপস্থিত রয়েছেন।
তাদের আমলের কোন ওজন থাকবে না :
قُلْ هَلْ نُنَبِّئُكُمْ بِالْاَخْسَرِيْنَ اَعْمَالًا ‐ ------اَلَّذِيْنَ ضَلَّ سَعْيُهُمْ فِى الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَهُمْ يَحْسَبُوْنَ اَنَّهُمْ يُحْسِنُوْنَ صُنْعًا ‐ - اُولٰٓئِكَ الَّذِيْنَ كَفَرُوْا بِاٰيَاتِ رَبِّهِمْ وَلِقَآئِهٖ فَحَبِطَتْ اَعْمَالُهُمْ فَلَا نُقِيْمُ لَهُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَزْنًا
বলো, আমি কি তোমাদেরকে এমন লোকদের ব্যাপারে সংবাদ দেব, যারা আমলের দিক থেকে সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে? এরা হচ্ছে সেসব লোক, পার্থিব জীবনে যাদের সকল প্রচেষ্টা বিনষ্ট হয়ে গেছে। অথচ মনে করে যে, তারা সৎকর্মই করছে। এরাই সেসব লোক, যারা তাদের প্রতিপালকের নিদর্শনাবলিকে ও তাঁর সাথে তাদের সাক্ষাতের বিষয়কে অস্বীকার করে। ফলে তাদের কর্ম নিষ্ফল হয়ে যায়, সুতরাং কিয়ামতের দিন তাদের জন্য ওজনের কোন ব্যবস্থাই রাখব না। (সূরা কাহফ, ১০৩-১০৫)
ব্যাখ্যা : ‘‘যাদের সমস্ত প্রচেষ্টা ও সাধনা দুনিয়ার জীবনের সাথে সম্পৃক্ত।’’ অর্থাৎ তারা যা কিছু করেছে আল্লাহ থেকে সম্পর্কহীন হয়ে আখিরাতের চিন্তা না করে শুধুমাত্র দুনিয়ার জন্যই করেছে। দুনিয়ার জীবনকেই আসল জীবন মনে করেছে। দুনিয়ার সাফল্য ও সচ্ছলতাকেই নিজেদের উদ্দেশ্যে পরিণত করেছে। আল্লাহর অস্তিত্ব স্বীকার করে নিলেও এক সময় তাঁর সামনে গিয়ে নিজেদের কাজের হিসাব দিতে হবে- এ কথা তারা কখনো চিন্তা করেনি। তারা নিজেদেরকে কেবল স্বেচ্ছাচারী ও দায়িত্বহীন বুদ্ধিমান জীব মনে করত, যার কাজ দুনিয়া থেকে কিছু লাভ হাতিয়ে নেয়া ছাড়া আর কিছু নয়। এ ধরনের লোকেরা দুনিয়াতে যত বড় কৃতিত্বই দেখাক না কেন, দুনিয়া শেষ হওয়ার সাথে সাথে সেগুলোও শেষ হয়ে যাবে। নিজেদের সুরম্য অট্টালিকা, বিশ্ববিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয় ও সুবিশাল লাইব্রেরী, নিজেদের আবিষ্কারসমূহ, নিজেদের শিল্প ও কল-কারখানা, নিজেদের জ্ঞান-বিজ্ঞানসহ অন্যান্য যেসব জিনিস নিয়ে তারা গর্ব করে, তার মধ্য থেকে কোন একটি জিনিসও তারা আল্লাহর তুলাদন্ডে ওজন করার জন্য নিজেদের সাথে নিয়ে উপস্থিত হতে পারবে না। সেখানে থাকবে শুধুমাত্র কর্মের উদ্দেশ্য এবং তার ফলাফল। যদি কেউ তার নিজের সমস্ত কাজের উদ্দেশ্য ও ফল দুনিয়ায় দেখেও থাকে, তাহলে তার সমস্ত কার্যকলাপ এ ধ্বংসশীল দুনিয়ার সাথেই ধ্বংস হয়ে গেছে। আখিরাতে যা ওজন পেতে পারে তা অবশ্যই এমন কর্ম হতে হবে, যা সে আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার জন্য তাঁর হুকুম অনুযায়ী করেছে। এ ধরনের কোন কাজ যদি তার হিসাবের খাতায় না থাকে, তাহলে দুনিয়ায় সে যা কিছু করেছিল সবই নিঃসন্দেহে ব্যর্থ হয়ে যাবে।
তাদের আমলসমূহ ধূলার মতো উড়িয়ে দেয়া হবে :
وَقَدِمْنَاۤ اِلٰى مَا عَمِلُوْا مِنْ عَمَلٍ فَجَعَلْنَاهُ هَبَآءً مَّنْثُوْرًا
আমি তাদের কৃতকর্মের প্রতি লক্ষ্য করব, অতঃপর সেগুলোকে বিক্ষিপ্ত ধূলিকণায় পরিণত করে দেব। (সূরা ফুরক্বান- ২৩)
وَمَثَلُ الَّذِيْنَ كَفَرُوْا كَمَثَلِ الَّذِيْ يَنْعِقُ بِمَا لَا يَسْمَعُ اِلَّا دُعَآءً وََّنِدَآءًؕ صُمٌّ ۢبُكْمٌ عُمْيٌ فَهُمْ لَا يَعْقِلُوْنَ
যারা কুফরী করেছে তাদের দৃষ্টান্ত তাদের ন্যায়, যাদেরকে আহবান করলে শুধু চিৎকার ও শব্দ ব্যতীত আর কিছুই শুনতে পায় না। তারা বধির, বোবা ও অন্ধ; সুতরাং তারা কিছুই বুঝতে পারে না। (সূরা বাক্বারা- ১৭১)
তাদের আমলের উপমা :
مَثَلُ الَّذِيْنَ كَفَرُوْا بِرَبِّهِمْ اَعْمَالُهُمْ كَرَمَادِ نِ اشْتَدَّتْ بِهِ الرِِّيْحُ فِيْ يَوْمٍ عَاصِفٍؕ لَا يَقْدِرُوْنَ مِمَّا كَسَبُوْا عَلٰى شَيْءٍؕ ذٰلِكَ هُوَ الضَّلَالُ الْبَعِيْدُ
যারা তাদের প্রতিপালককে অস্বীকার করে, তাদের কর্মসমূহের উপমা ছাইয়ের মতো- যা ঝড়ের দিনের বাতাস প্রচন্ড বেগে উড়িয়ে নিয়ে যায়। অতঃপর তারা যা উপার্জন করে তার কোনকিছুই তারা তাদের কাজে লাগাতে পারে না। এটা তো ঘোর বিভ্রান্তি। (সূরা ইবরাহীম- ১৮)
ব্যাখ্যা : যারা নিজেদের রবের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা ও বিদ্রোহাত্মক কর্মপন্থা অবলম্বন করে এবং নবীগণ যে আনুগত্যের পথ অবলম্বন করার দাওয়াত নিয়ে আসেন তা গ্রহণ করতে অস্বীকার করে, তাদের সমগ্র জীবনের আমল শেষ পর্যন্ত এমন অর্থহীন প্রমাণিত হবে যেমন একটি ছাইয়ের স্তূপ, দীর্ঘদিন ধরে এক জায়গায় জমা হতে হতে তা এক সময় একটি বিরাট পাহাড়ে পরিণত হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু মাত্র একদিনের ঘূর্ণিঝড়ে তা এমনভাবে উড়ে গেল যে, তার প্রত্যেকটি কণা পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল। কাফিরদের চাকচিক্যময় সভ্যতা, বিপুল ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি, বিস্ময়কর শিল্প ও কল-কারখানা, মহাপ্রতাপশালী রাষ্ট্র, বিশালায়তন বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ, তাদের শিল্প-সাহিত্য, চারুকলা, ভাস্কর্য ও স্থাপত্যের বিশাল ভান্ডার, এমনকি তাদের ইবাদাত-বন্দেগী, বাহ্যিক সৎকার্যাবলি এবং দান ও জনকল্যাণমূলক এমনসব কাজকর্ম যেগুলোর জন্য তারা দুনিয়ায় গর্ব করে বেড়ায়, সবকিছুই শেষ পর্যন্ত ছাইয়ের স্তূপে পরিণত হবে। কিয়ামতের দিনের ঘূর্ণিঝড় এ স্তূপকে সম্পূর্ণরূপে নিশ্চিহ্ন করে দেবে। ফলে আখিরাতের জীবনে আল্লাহর দাঁড়িপাল্লায় রেখে সামান্যতম ওজন পাওয়ার মতো একটি কণাও তাদের কাছে থাকবে না।
وَالَّذِيْنَ كَفَرُوْاۤ اَعْمَالُهُمْ كَسَرَابٍ ۢبِقِيْعَةٍ يَّحْسَبُهُ الظَّمَاٰنُ مَآءً ؕ حَتّٰۤى اِذَا جَآءَهٗ لَمْ يَجِدْهُ شَيْئًا وََّوَجَدَ اللهَ عِنْدَهٗ فَوَفَّاهُ حِسَابَهٗؕ وَاللهُ سَرِيْعُ الْحِسَابِ
যারা কুফরী করে তাদের কর্ম মরুভূমির ঐ মরীচিকার মতো, পিপাসার্ত ব্যক্তি যাকে পানি মনে করে থাকে। কিন্তু যখন সে তাঁর নিকট উপস্থিত হয়, তখন কিছুই পায় না। অতঃপর সে সেথায় আল্লাহকে পাবে; তখন তিনি তার কর্মফল পূর্ণ মাত্রায় প্রদান করবেন। নিশ্চয় আল্লাহ হিসাব গ্রহণে খুবই তৎপর। (সূরা নূর- ৩৯)
ব্যাখ্যা : এ উপমায় এমনসব লোকের অবস্থা বর্ণনা করা হয়েছে যারা কুফরী ও মুনাফিকী সত্ত্বেও বাহ্যত সৎকাজও করে এবং আখিরাতও মানে। আবার এ অসার চিন্তাও পোষণ করে যে, প্রকৃত ঈমান ও মুমিনের গুণাবলি এবং রাসূল ﷺ এর আনুগত্য ও অনুসরণ ছাড়া তাদের এসব কার্যাবলি আখিরাতে কোন কাজে লাগবে না। উপমার আকারে তাদেরকে জানানো হচ্ছে, তোমরা নিজেদের যেসব বাহ্যিক ও প্রদর্শনীমূলক সৎকাজের মাধ্যমে আখিরাতে লাভবান হওয়ার আশা কর, সেগুলো নিছক মরীচিকা ছাড়া আর কিছুই নয়। মরুভূমিতে দূর থেকে চিকচিক করা বালুরাশি দেখে পিপাসার্ত যেমন একে পানির নদী মনে করে সেদিকে ছুটে যায়, ঠিক তেমনি তোমরাও এসব কর্মের উপর মিথ্যা ভরসা করে বসে আছো। কিন্তু যেমন মরীচিকার দিকে ছুটে চলা ব্যক্তি যে স্থানে পানির নদী আছে বলে মনে করেছিল সেখানে পৌঁছে কিছুই পায় না, ঠিক তেমনি তোমরাও যখন মৃত্যুর দ্বারে প্রবেশ করবে তখন জানতে পারবে সেখানে এমন কোন জিনিস নেই, যা থেকে তোমরা লাভবান হতে পারবে। বরং এর বিপরীতে দেখবে তোমাদের কুফরী ও মুনাফিকী এবং লোকদেখানো সৎকাজ ও অন্যান্য যেসব খারাপ কাজ করছিলে সেগুলোর হিসাব নেয়ার এবং প্রতিদান দেয়ার জন্য আল্লাহ সেখানে উপস্থিত রয়েছেন।
তাদের আমলের কোন ওজন থাকবে না :
قُلْ هَلْ نُنَبِّئُكُمْ بِالْاَخْسَرِيْنَ اَعْمَالًا ‐ ------اَلَّذِيْنَ ضَلَّ سَعْيُهُمْ فِى الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَهُمْ يَحْسَبُوْنَ اَنَّهُمْ يُحْسِنُوْنَ صُنْعًا ‐ - اُولٰٓئِكَ الَّذِيْنَ كَفَرُوْا بِاٰيَاتِ رَبِّهِمْ وَلِقَآئِهٖ فَحَبِطَتْ اَعْمَالُهُمْ فَلَا نُقِيْمُ لَهُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَزْنًا
বলো, আমি কি তোমাদেরকে এমন লোকদের ব্যাপারে সংবাদ দেব, যারা আমলের দিক থেকে সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে? এরা হচ্ছে সেসব লোক, পার্থিব জীবনে যাদের সকল প্রচেষ্টা বিনষ্ট হয়ে গেছে। অথচ মনে করে যে, তারা সৎকর্মই করছে। এরাই সেসব লোক, যারা তাদের প্রতিপালকের নিদর্শনাবলিকে ও তাঁর সাথে তাদের সাক্ষাতের বিষয়কে অস্বীকার করে। ফলে তাদের কর্ম নিষ্ফল হয়ে যায়, সুতরাং কিয়ামতের দিন তাদের জন্য ওজনের কোন ব্যবস্থাই রাখব না। (সূরা কাহফ, ১০৩-১০৫)
ব্যাখ্যা : ‘‘যাদের সমস্ত প্রচেষ্টা ও সাধনা দুনিয়ার জীবনের সাথে সম্পৃক্ত।’’ অর্থাৎ তারা যা কিছু করেছে আল্লাহ থেকে সম্পর্কহীন হয়ে আখিরাতের চিন্তা না করে শুধুমাত্র দুনিয়ার জন্যই করেছে। দুনিয়ার জীবনকেই আসল জীবন মনে করেছে। দুনিয়ার সাফল্য ও সচ্ছলতাকেই নিজেদের উদ্দেশ্যে পরিণত করেছে। আল্লাহর অস্তিত্ব স্বীকার করে নিলেও এক সময় তাঁর সামনে গিয়ে নিজেদের কাজের হিসাব দিতে হবে- এ কথা তারা কখনো চিন্তা করেনি। তারা নিজেদেরকে কেবল স্বেচ্ছাচারী ও দায়িত্বহীন বুদ্ধিমান জীব মনে করত, যার কাজ দুনিয়া থেকে কিছু লাভ হাতিয়ে নেয়া ছাড়া আর কিছু নয়। এ ধরনের লোকেরা দুনিয়াতে যত বড় কৃতিত্বই দেখাক না কেন, দুনিয়া শেষ হওয়ার সাথে সাথে সেগুলোও শেষ হয়ে যাবে। নিজেদের সুরম্য অট্টালিকা, বিশ্ববিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয় ও সুবিশাল লাইব্রেরী, নিজেদের আবিষ্কারসমূহ, নিজেদের শিল্প ও কল-কারখানা, নিজেদের জ্ঞান-বিজ্ঞানসহ অন্যান্য যেসব জিনিস নিয়ে তারা গর্ব করে, তার মধ্য থেকে কোন একটি জিনিসও তারা আল্লাহর তুলাদন্ডে ওজন করার জন্য নিজেদের সাথে নিয়ে উপস্থিত হতে পারবে না। সেখানে থাকবে শুধুমাত্র কর্মের উদ্দেশ্য এবং তার ফলাফল। যদি কেউ তার নিজের সমস্ত কাজের উদ্দেশ্য ও ফল দুনিয়ায় দেখেও থাকে, তাহলে তার সমস্ত কার্যকলাপ এ ধ্বংসশীল দুনিয়ার সাথেই ধ্বংস হয়ে গেছে। আখিরাতে যা ওজন পেতে পারে তা অবশ্যই এমন কর্ম হতে হবে, যা সে আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার জন্য তাঁর হুকুম অনুযায়ী করেছে। এ ধরনের কোন কাজ যদি তার হিসাবের খাতায় না থাকে, তাহলে দুনিয়ায় সে যা কিছু করেছিল সবই নিঃসন্দেহে ব্যর্থ হয়ে যাবে।
তাদের আমলসমূহ ধূলার মতো উড়িয়ে দেয়া হবে :
وَقَدِمْنَاۤ اِلٰى مَا عَمِلُوْا مِنْ عَمَلٍ فَجَعَلْنَاهُ هَبَآءً مَّنْثُوْرًا
আমি তাদের কৃতকর্মের প্রতি লক্ষ্য করব, অতঃপর সেগুলোকে বিক্ষিপ্ত ধূলিকণায় পরিণত করে দেব। (সূরা ফুরক্বান- ২৩)