hadith book logo

তাফসীরুল কুরআন বিল কুরআন

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৪৫১

অধ্যায়- ৭ : নূহ (আঃ) এর নৌকা তৈরি

আল্লাহ নৌকা তৈরির আদেশ দিলেন :

وَاصْنَعِ الْفُلْكَ بِاَعْيُنِنَا وَوَحْيِنَا وَلَا تُخَاطِبْنِيْ فِى الَّذِيْنَ ظَلَمُوْاۚ اِنَّهُمْ مُّغْرَقُوْنَ

তুমি আমার চোখের সামনে ও আমার প্রত্যাদেশ অনুযায়ী নৌকা নির্মাণ করো এবং যারা সীমালঙ্ঘন করেছে তাদের সম্পর্কে তুমি আমাকে কিছু বলো না। নিশ্চয় তারা নিমজ্জিত হবে। (সূরা হুদু ৩৭)

فَاَوْحَيْنَاۤ اِلَيْهِ اَنِ اصْنَعِ الْفُلْكَ بِاَعْيُنِنَا وَوَحْيِنَا

অতঃপর আমি তার নিকট ওহী পাঠালাম যে, তুমি আমার চোখের সামনে আমার ওহী অনুযায়ী নৌযান নির্মাণ করো। (সূরা মু’মিনূনু ২৭)

নৌকা তৈরির সময় লোকেরা উপহাস করত :

وَيَصْنَعُ الْفُلْكَ وَكُلَّمَا مَرَّ عَلَيْهِ مَلَأٌ مِّنْ قَوْمِهٖ سَخِرُوْا مِنْهُؕ قَالَ اِنْ تَسْخَرُوْا مِنَّا فَاِنَّا نَسْخَرُ مِنْكُمْ كَمَا تَسْخَرُوْنَ

অতঃপর সে নৌকা নির্মাণ করতে লাগল। ফলে যখনই তার সম্প্রদায়ের প্রধানরা তার নিকট দিয়ে যেত, তাকে উপহাস করত। তখন সে বলত, তোমরা যদি আমাকে উপহাস কর তবে আমরাও তোমাদেরকে উপহাস করব, যেমনিভাবে তোমরা আমাকে উপহাস করছ। (সূরা হুদু ৩৮)

আকাশ হতে পানি নামতে লাগল :

فَفَتَحْنَاۤ اَبْوَابَ السَّمَآءِ بِمَآءٍ مُّنْهَمِرٍ

তখন আমি আকাশের দুয়ার প্রবল বৃষ্টির দ্বারা উন্মুক্ত করে দেই। (সূরা ক্বামার– ১১)

জমিন ফেটেও পানি উঠতে লাগল :

وَفَجَّرْنَا الْاَرْضَ عُيُوْنًا فَالْتَقَى الْمَآءُ عَلٰۤى اَمْرٍ قَدْ قُدِرَ

অতঃপর আমি ভূমি হতে ঝর্ণাধারা প্রবাহিত করলাম, ফলে পরিকল্পনানুসারে সকল পানি এক সাথে মিলিত হলো। (সূরা ক্বামার– ১২)

প্রত্যেক জীবের এক এক জোড়া করে নৌকায় উঠাতে বললেন :

فَاِذَا جَآءَ اَمْرُنَا وَفَارَ التَّنُّوْرُ فَاسْلُكْ فِيْهَا مِنْ كُلٍّ زَوْجَيْنِ اثْنَيْنِ وَاَهْلَكَ اِلَّا مَنْ سَبَقَ عَلَيْهِ الْقَوْلُ مِنْهُمْ

অতঃপর যখন আমার আদেশ আসবে ও চুলা উথলিয়ে উঠবে, তখন প্রত্যেক জীবের এক এক জোড়াকে, তোমার পরিবার-পরিজনকে এবং যাদের বিরুদ্ধে পূর্বে সিদ্ধান্ত হয়েছে তাদেরকে বাদ দিয়ে বাকি সকলকে তাতে উঠিয়ে নিও। (সূরা মু’মিনূনু ২৭)

আল্লাহ ঈমানদারদেরকে নৌকায় উঠাতে বললেন :

حَتّٰۤى اِذَا جَآءَ اَمْرُنَا وَفَارَ التَّنُّوْرُ قُلْنَا احْمِلْ فِيْهَا مِنْ كُلٍّ زَوْجَيْنِ اثْنَيْنِ وَاَهْلَكَ اِلَّا مَنْ سَبَقَ عَلَيْهِ الْقَوْلُ وَمَنْ اٰمَنَ وَمَاۤ اٰمَنَ مَعَهٗۤ اِلَّا قَلِيْلٌ

অবশেষে যখন আমার আদেশ এসে গেল এবং উনান উথলিয়ে উঠল তখন আমি বললাম, এতে প্রত্যেক জাতির দু’টি করে (প্রাণী) উঠিয়ে নাও এবং যাদের বিরুদ্ধে পূর্বসিদ্ধান্ত হয়েছে তারা ব্যতীত তোমার পরিবার–পরিজনকে ও যারা ঈমান এনেছে তাদেরকেও উঠিয়ে নাও। আর অল্প কয়েকজন ব্যতীত তার সঙ্গে আর কেউ ঈমান আনয়ন করেনি। (সূরা হুদু ৪০)

যালিমদের ব্যাপারে সুপারিশ করতে নিষেধ করলেন :

وَلَا تُخَاطِبْنِيْ فِى الَّذِيْنَ ظَلَمُوْاۚ اِنَّهُمْ مُّغْرَقُوْنَ

যারা যুলুম করেছে, তাদের ব্যাপারে তুমি আমাকে কোন আবেদন করো না। অবশ্যই তারা নিমজ্জিত হবে। (সূরা মু’মিনূনু ২৭)

নূহ (আঃ) নৌকায় উঠলেন :

وَحَمَلْنَاهُ عَلٰى ذَاتِ اَلْوَاحٍ وَّدُسُرٍ

অতঃপর নূহকে আরোহণ করালাম কাঠ ও পেরেক নির্মিত এক নৌযানে। (সূরা ক্বামার– ১৩)

নৌকায় উঠে দু‘আ পড়লেন :

وَقَالَ ارْكَبُوْا فِيْهَا بِسْمِ اللهِ مَجْرٖىهَا وَمُرْسَاهَاؕ اِنَّ رَبِّيْ لَغَفُوْرٌ رَّحِيْمٌ

সে বলল, তোমরা এতে আরোহণ করো, আল্লাহর নামে এটার গতি ও স্থিতি। নিশ্চয় আমার প্রতিপালক ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু। (সূরা হুদু ৪১)

فَاِذَا اسْتَوَيْتَ اَنْتَ وَمَنْ مَّعَكَ عَلَى الْفُلْكِ فَقُلِ الْحَمْدُ لِلّٰهِ الَّذِيْ نَجَّانَا مِنَ الْقَوْمِ الظَّالِمِيْنَ ‐ وَقُلْ رَّبِّ اَنْزِلْنِيْ مُنْزَلًا مُّبَارَكًا وَّاَنْتَ خَيْرُ الْمُنْزِلِيْنَ

যখন তুমি ও তোমার সাথিরা নৌযানে আসন গ্রহণ করবে তখন বলবে, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহরই, যিনি আমাদেরকে যালিম সম্প্রদায় হতে উদ্ধার করেছেন। আরো বলবে, হে আমার প্রতিপালক! আমাকে এমনভাবে অবতরণ করাও, যা হবে খুবই কল্যাণকর; আর তুমিই তো সর্বোত্তমভাবে অবতরণ করিয়ে থাক। (সূরা মু’মিনূনু ২৮, ২৯)

নৌকা চলতে লাগল :

وَهِيَ تَجْرِيْ بِهِمْ فِيْ مَوْجٍ كَالْجِبَالِ

পর্বতসম তরঙ্গের মধ্য দিয়ে এটা (নৌকা) তাদেরকে নিয়ে চলল। (সূরা হুদু ৪২)

নৌকা জুদী পাহাড়ে গিয়ে থামল :

وَاسْتَوَتْ عَلَى الْجُوْدِيِّ وَقِيْلَ بُعْدًا لِّلْقَوْمِ الظَّالِمِيْنَ

নৌকা জুদী পর্বতের উপর স্থির হলো এবং বলা হলো, যালিম সম্প্রদায় ধ্বংস হোক। (সূরা হুদু ৪৪)

নৌকা থেকে নামার নির্দেশ দেয়া হলো :

قِيْلَ يَا نُوْحُ اهْبِطْ بِسَلَامٍ مِّنَّا وَبَرَكَاتٍ عَلَيْكَ وَعَلٰۤى اُمَمٍ مِّمَّنْ مَّعَكَؕ وَاُمَمٌ سَنُمَتِّعُهُمْ ثُمَّ يَمَسُّهُمْ مِّنَّا عَذَابٌ اَلِيْمٌ

বলা হলো, হে নূহ! আমার পক্ষ হতে তোমার প্রতি এবং যেসব সম্প্রদায় তোমার সাথে আছে তাদের প্রতি শান্তি ও কল্যাণসহ অবতরণ করো। অপর সম্প্রদায়সমূহকে আমি (আবার) জীবনের (যাবতীয়) উপকরণ প্রদান করব, (তবে নাফরমানির জন্য) তাদেরকে আমার পক্ষ হতে মর্মান্তিক শাস্তিও স্পর্শ করবে। (সূরা হুদ– ৪৮)

বন্যা থামানো হলো :

وَقِيْلَ يَاۤ اَرْضُ ابْلَعِيْ مَآءَكِ وَيَا سَمَآءُ اَقْلِعِيْ وَغِيْضَ الْمَآءُ وَقُضِيَ الْاَمْرُ

এরপর বলা হলো, হে পৃথিবী! তুমি তোমার পানি গ্রাস করে নাও এবং হে আকাশ! ক্ষান্ত হও। এরপর বন্যা প্রশমিত হলো এবং কার্য সমাপ্ত হলো। (সূরা হুদু ৪৪)

আল্লাহ নবীকে মুক্তি দিলেন :

فَاَنْجَيْنَاهُ وَمَنْ مَّعَهٗ فِى الْفُلْكِ الْمَشْحُوْنِ

অতঃপর আমি তাঁকে ও তাঁর সঙ্গে যারা ছিল তাদেরকে বোঝাই নৌযানের মাধ্যমে রক্ষা করলাম। (সূরা শু‘আরা– ১১৯)

وَنَجَّيْنَاهُ وَاَهْلَهٗ مِنَ الْكَرْبِ الْعَظِيْمِ

আর আমি তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে মহাবিপদ থেকে রক্ষা করেছিলাম। (সূরা সাফ্ফাত– ৭৬)

فَنَجَّيْنَاهُ وَمَنْ مَّعَهٗ فِى الْفُلْكِ وَجَعَلْنَاهُمْ خَلَآئِفَ

অতঃপর আমি তাকে ও তার সঙ্গে যারা নৌকাতে ছিল তাদেরকে উদ্ধার করলাম এবং তাদেরকে (তাদের পূর্ববর্তীদের) স্থলাভিষিক্ত করলাম। (সূরা ইউনুস– ৭৩)

এভাবেই আল্লাহ সৎকর্মশীলদেরকে রক্ষা করে থাকেন :

اِنَّا كَذٰلِكَ نَجْزِى الْمُحْسِنِيْنَ

এভাবে আমি খাঁটি বান্দাদেরকে পুরস্কৃত করে থাকি। (সূরা সাফ্ফাত– ৮০)