hadith book logo

তাফসীরুল কুরআন বিল কুরআন

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২৪৪

অধ্যায়- ৫ : ইস্তেগফার বা ক্ষমাপ্রার্থনা

ক্ষমা চাওয়ার জন্য আল্লাহর নির্দেশ :

وَاسْتَغْفِرِ اللهَ اِنَّ اللهَ كَانَ غَفُوْرًا رَّحِيْمًا

আর আল্লাহর নিকট ক্ষমাপ্রার্থনা করো; নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু। (সূরা নিসা- ১০৬)

فَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ وَاسْتَغْفِرْهُ اِنَّهٗ كَانَ تَوَّابًا

অতঃপর তুমি প্রশংসার সাথে তোমার মালিকের তাসবীহ পাঠ করো এবং তাঁর কাছেই ক্ষমাপ্রার্থনা করো। নিশ্চয় তিনি তাওবা কবুলকারী। (সূরা নাসর- ৩)

قُلْ يَا عِبَادِيَ الَّذِيْنَ اَسْرَفُوْا عَلٰۤى اَنْفُسِهِمْ لَا تَقْنَطُوْا مِنْ رَّحْمَةِ اللهِؕ اِنَّ اللهَ يَغْفِرُ الذُّنُوْبَ جَمِيْعًاؕ اِنَّهٗ هُوَ الْغَفُوْرُ الرَّحِيْمُ

বলো, হে আমার বান্দারা! তোমরা যারা নিজেদের প্রতি অবিচার করেছ, তারা আল্লাহর রহমত হতে নিরাশ হয়ো না; নিশ্চয় আল্লাহ সমস্ত পাপ ক্ষমা করে দেবেন। তিনি তো অতি ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু। (সূরা যুমার- ৫৩)

ব্যাখ্যা : যখন শিরকের ব্যাপারে কঠোর শাস্তির ভয় প্রদর্শন করা হয়েছে এবং তাওহীদের দিকে আহবান করা হয়েছে তখন কারো কারো মনে সন্দেহ হলো যে, ইসলাম গ্রহণ করলে মুশরিক অবস্থায় কৃত পাপসমূহ ক্ষমা করা হবে কি না? তা যদি না হয় তবে ইসলাম গ্রহণ করে লাভ কি? উক্ত আয়াতে এ প্রশ্নের উত্তর দেয়া হয়েছে। এ আয়াতটি প্রকৃতপক্ষে সেসব লোকের আশার বাণী বয়ে এনেছিল, যারা জাহেলী যুগে গোনাহের কাজে লিপ্ত ছিল। আর এসব অপরাধ যে ÿমা হতে পারে সে ব্যাপারে নিরাশ ছিল। তাদেরকে বলা হয়েছে, আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। তোমরা এখনো যদি তোমাদের রবের আনুগত্যের দিকে ফিরে আস, তাহলে সবকিছু ÿমা হয়ে যাবে।

আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল :

نَبِّئْ عِبَادِيْۤ اَنِّۤيْ اَنَا الْغَفُوْرُ الرَّحِيْمُ

আমার বান্দাদেরকে বলে দাও যে, আমি পরম ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু। (সূরা হিজর- ৪৯)

وَاِنَّ رَبَّكَ لَذُوْ مَغْفِرَةٍ لِّلنَّاسِ عَلٰى ظُلْمِهِمْۚ وَاِنَّ رَبَّكَ لَشَدِيْدُ الْعِقَابِ

মানুষের সীমালঙ্ঘন সত্ত্বেও তোমার প্রতিপালক মানুষের প্রতি অতি ক্ষমাশীল; নিশ্চয় তোমার প্রতিপালক শাস্তি দানেও অত্যন্ত কঠোর। (সূরা রা‘দ- ৬)

اِنَّ رَبَّكَ وَاسِعُ الْمَغْفِرَةِ

নিশ্চয় তোমার প্রতিপালকের ক্ষমার পরিধি অনেক বিস্তৃত। (সূরা নাজম- ৩২)

আল্লাহ মানুষকে ক্ষমার দিকে ডাকেন :

وَاللهُ يَدْعُوْاۤ اِلَى الْجَنَّةِ وَالْمَغْفِرَةِ بِاِذْنِهٖ

আল্লাহ স্বেচ্ছায় জান্নাত ও ক্ষমার দিকে ডাকেন। (সূরা বাক্বারা- ২২১)

ক্ষমা চাওয়ার উপযুক্ত সময় শেষ রাত :

وَبِالْاَسْحَارِ هُمْ يَسْتَغْفِرُوْنَ

তারা রাতের শেষ প্রহরে ক্ষমাপ্রার্থনা করে। (সূরা যারিয়াত- ১৮)

اَلصَّابِرِيْنَ وَالصَّادِقِيْنَ وَالْقَانِتِيْنَ وَالْمُنْفِقِيْنَ وَالْمُسْتَغْفِرِيْنَ بِالْاَسْحَارِ

তারা ধৈর্যশীল, সত্যবাদী, বিনয়ী, দানকারী এবং শেষরাতে ক্ষমাপ্রার্থনাকারী। (সূরা আলে ইমরান- ১৭)

আল্লাহর আযাব থেকে মুক্তির মাধ্যম হলো ক্ষমা চাওয়া :

وَمَا كَانَ اللهُ مُعَذِّبَهُمْ وَهُمْ يَسْتَغْفِرُوْنَ

আল্লাহ এমনও নয় যে, তারা ক্ষমাপ্রার্থনা করবে, অথচ তিনি তাদেরকে শাস্তি দেবেন। (সূরা আনফাল- ৩৩)