hadith book logo

তাফসীরুল কুরআন বিল কুরআন

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৬৮

অধ্যায়- ৯ : পারিবারিক ঝগড়াবিবাদ মীমাংসা করার নিয়ম

স্ত্রী সংশোধনের পদ্ধতি :

وَاللَّاتِيْ تَخَافُوْنَ نُشُوْزَهُنَّ فَعِظُوْهُنَّ وَاهْجُرُوْهُنَّ فِى المَضَاجِعِ وَاضْرِبُوْهُنَّۚ فَاِنْ اَطَعْنَكُمْ فَلَا تَبْغُوْا عَلَيْهِنَّ سَبِيْلًاؕ اِنَّ اللهَ كَانَ عَلِيًّا كَبِيْرًا

তোমরা স্ত্রীদের মধ্যে যাদের অবাধ্যতার আশঙ্কা কর তাদেরকে সদুপদেশ দাও। তারপর (যদি না মানে তবে) তাদের বিছানা ত্যাগ করো এবং (তারপরও যদি না মানে তবে) তাদেরকে প্রহার করো। অতঃপর যদি তারা তোমাদের অনুগত হয়, তবে তাদের বিরুদ্ধে কোন পথ অন্বেষণ করো না। নিশ্চয় আল্লাহ সর্বোচ্চ ও সর্বশ্রেষ্ঠ। (সূরা নিসা- ৩৪)

ব্যাখ্যা : এখানে তিনটি কাজ একই সঙ্গে করার কথা বলা হয়নি; বরং বলা হচ্ছে, অবাধ্যতা দেখা দিলে এ তিনটি ব্যবস্থা অবলম্বন করার অনুমতি রয়েছে। এ ক্ষেত্রে অবশ্যই দোষ ও শাস্তির মধ্যে আনুপাতিক সম্পর্ক থাকতে হবে। যেখানে হালকা ব্যবস্থায় কাজ হয়ে যায়, সেখানে কঠোর ব্যবস্থা অবলম্বন করা উচিত নয়। নবী ﷺ যেখানেই স্ত্রীদেরকে প্রহার করার অনুমতি দিয়েছেন, সেখানে তা একান্ত অনিচ্ছা সহকারে এবং নিরুপায় হয়েই দিয়েছেন। এরপরও তিনি একে অপছন্দ করেছেন। তবুও কোন কোন স্ত্রী এমন হয়ে থাকে, যাদেরকে মারধর না করলে সোজা থাকে না। এ অবস্থায় নবী ﷺ এর নির্দেশ হচ্ছে, তাদের চেহারায় মারবে না, নির্দয়ভাবে মারবে না এবং এমন কিছু দিয়ে মারবে না, যা শরীর জখম করে ফেলে। (সহীহ মুসলিম, হা/৩০০৯)

কোন বিবাদ প্রথমে নিজেরাই সমঝোতা করে নেয়ার চেষ্টা করবে :

وَاِنِ امْرَاَةٌ خَافَتْ مِنْ ۢبَعْلِهَا نُشُوْزًا اَوْ اِعْرَاضًا فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِمَاۤ اَنْ يُّصْلِحَا بَيْنَهُمَا صُلْحًاؕ وَالصُّلْحُ خَيْرٌ

কোন স্ত্রী যদি তার স্বামীর পক্ষ থেকে দুর্ব্যবহার কিংবা উপেক্ষার আশঙ্কা করে, তবে তারা আপোষ করতে চাইলে তাদের কোন গোনাহ নেই; আর (এ ব্যাপারে) আপোষই শ্রেয়। (সূরা নিসা- ১২৮)

ব্যাখ্যা : তালাক ও বিচ্ছিন্নতার পরিবর্তে যে স্ত্রী তার জীবনের একটি অংশ এক স্বামীর সাথে অতিবাহিত করেছে এভাবে পারস্পরিক সমঝোতা ও চুক্তির মাধ্যমে বাকি জীবনটা তার সাথে অবস্থান করাটাই উত্তম। স্ত্রী যদি নিজের মধ্যে দুর্বলতা থাকার পরও স্বামীর কাছ থেকে এমন আচরণ আশা করে, যা সুস্থ ও আকর্ষণীয় নারীর ক্ষেত্রে করা হয় তবে এটিই হবে স্ত্রীর মনের সংকীর্ণতা। আর স্বামী যদি কোন স্ত্রীকে সীমাতিরিক্তভাবে দাবিয়ে রাখার চেষ্টা করে এবং তার অধিকার ছিনিয়ে নিতে চায়, তাহলে এটি হবে স্বামীর পক্ষ থেকে মনের সংকীর্ণতা। আল্লাহ পুরুষের উদার মনোবৃত্তির প্রতি আহবান জানিয়েছেন। তিনি সকল প্রকার আকর্ষণহীনতা সত্ত্বেও মেয়েটির সাথে অনুগ্রহপূর্ণ ব্যবহার করার জন্য পুরুষের প্রতি আহবান জানিয়েছেন। কারণ মেয়েটি দীর্ঘদিন ধরে তার জীবনসঙ্গিনী হিসেবে জীবন অতিবাহিত করেছে। একই সাথে আল্লাহকে ভয় করারও নির্দেশ দিয়েছেন।

তা না হলে দু’জন বিচারক বিবাদ মিটিয়ে দেবেন :

وَاِنْ خِفْتُمْ شِقَاقَ بَيْنِهِمَا فَابْعَثُوْا حَكَمًا مِّنْ اَهْلِهٖ وَحَكَمًا مِّنْ اَهْلِهَاۚ اِنْ يُّرِيْدَاۤ اِصْلَاحًا يُّوَفِّقِ اللهُ بَيْنَهُمَاؕ اِنَّ اللهَ كَانَ عَلِيْمًا خَبِيْرًا

তাদের উভয়ের মধ্যে বিরোধ আশঙ্কা করলে তোমরা স্বামীর পরিবার হতে একজন ও স্ত্রীর পরিবার হতে একজন বিচারক নিযুক্ত করবে। অতঃপর তারা উভয়ে নিষ্পত্তি চাইলে আল্লাহ তাদের মধ্যে মীমাংসার অনুকূল অবস্থা সৃষ্টি করে দেবেন। নিশ্চয় আল্লাহ সর্বজ্ঞ ও সবিশেষ অবহিত। (সূরা নিসা- ৩৫)

ব্যাখ্যা : এ আয়াতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে যে, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সম্পর্কের অবনতি দেখা দিলে সম্পর্ক ছিন্ন হওয়ার পর্যায়ে পৌঁছানোর পূর্বে অথবা ব্যাপারটি আদালত পর্যন্ত গড়ানোর আগেই ঘরে তার মীমাংসার চেষ্টা করা উচিত। এজন্য এ পদ্ধতি বর্ণনা করা হয়েছে যে, স্বামী ও স্ত্রীর উভয়ের পরিবার থেকে একজন করে লোক নিয়ে দু’জনের একটি সালিশ কমিটি গঠন করতে হবে। তারা উভয়ে মিলে বিরোধের ব্যাপারে অনুসন্ধান চালাবেন। তারপর এক সাথে বসে মীমাংসার পথ বের করবেন। সালিশ কে নিযুক্ত করবে- এ প্রশ্নটি আল্লাহ অস্পষ্ট রেখেছেন। সুতরাং স্বামী-স্ত্রী চাইলে নিজেদের আত্মীয়দের মধ্য থেকে নিজেরাই একজন করে লোক বাছাই করে আনতে পারে। আবার উভয়ের পরিবারের বয়স্ক লোকেরা এগিয়ে এসে এ ধরনের সালিশ নিযুক্ত করতে পারে।