hadith book logo

তাফসীরুল কুরআন বিল কুরআন

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৪৫

অধ্যায়- ১ : হেদায়াতের মালিক হলেন আল্লাহ

অসংখ্য বক্র পথের মধ্যে সোজা পথ দেখানো আল্লাহর কাজ :

اِنَّ عَلَيْنَا لَلْهُدٰى

নিশ্চয় (মানুষকে) পথপ্রদর্শন করাই আমার দায়িত্ব। (সূরা লায়ল- ১২)

وَعَلَى اللهِ قَصْدُ السَّبِيْلِ وَمِنْهَا جَآئِرٌ وَّلَوْ شَآءَ لَهَدَاكُمْ اَجْمَعِيْنَ

সরল পথ দেখানো আল্লাহর কাজ, কিন্তু পথগুলোর মধ্যে (অনেক) বক্র পথও রয়েছে। তিনি ইচ্ছা করলে তোমাদের সকলকেই সৎপথে পরিচালিত করতে পারতেন। (সূরা নাহল- ৯)

আসল হেদায়াত দানকারী হলেন আল্লাহ :

وَكَفٰى بِرَبِّكَ هَادِيًا وَّنَصِيْرًا

তোমার জন্য পথপ্রদর্শক ও সাহায্যকারী হিসেবে তোমার প্রতিপালকই যথেষ্ট। (সূরা ফুরক্বান- ৩১)

আল্লাহর হেদায়াতই প্রকৃত হেদায়াত :

قُلْ اِنَّ الْهُدٰى هُدَى اللهِ

বলো, আল্লাহর হেদায়াতই হচ্ছে প্রকৃত হেদায়াত। (সূরা আলে ইমরান- ৭৩)

مَنْ يَّهْدِ اللهُ فَهُوَ الْمُهْتَدِيْۚ وَمَنْ يُّضْلِلْ فَاُولٰٓئِكَ هُمُ الْخَاسِرُوْنَ

আল্লাহ যাকে পথপ্রদর্শন করেন, (মূলত) সে-ই হেদায়াত পায় এবং যাদেরকে বিপথগামী করেন তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। (সূরা আ‘রাফ- ১৭৮)

আল্লাহ হেদায়াত না করলে আমরা হেদায়াত পেতাম না :

وَمَا كُنَّا لِنَهْتَدِيَ لَوْلَاۤ اَنْ هَدَانَا اللهُ

আল্লাহ আমাদেরকে পথ না দেখালে আমরা কখনো সঠিক পথ পেতাম না। (সূরা আ‘রাফ- ৪৩)

আল্লাহ যাকে চান তাকে হেদায়াত দান করেন :

وَاللّٰهُ يَهْدِيْ مَنْ يَّشَآءُ اِلٰى صِرَاطٍ مُّسْتَقِيْمٍ

আল্লাহ যাকে ইচ্ছা করেন তাকে সঠিক পথ প্রদর্শন করেন। (সূরা নূর- ৪৬)

আল্লাহ হেদায়াত না দিলে কেউ দিতে পারে না :

وَمَنْ يُّضْلِلِ اللهُ فَمَا لَهٗ مِنْ هَادٍ

আল্লাহ যাকে বিভ্রান্ত করেন তার জন্য কোন পথপ্রদর্শক নেই। (সূরা রা‘দ- ৩৩)

مَنْ يُّضْلِلِ اللهُ فَلَا هَادِيَ لَهٗ

আল্লাহ যাকে বিপথগামী করেন, তার জন্য কোন পথপ্রদর্শক নেই। (সূরা আ‘রাফ-১৮৬)

ব্যাখ্যা : আল্লাহ মানুষের হেদায়াতের জন্য কুরআনের মতো সর্বশ্রেষ্ঠ কিতাব পাঠিয়েছেন, যা অত্যন্ত যুক্তিসঙ্গত এবং কার্যকর উপায়ে প্রকৃত সত্যের জ্ঞান দান করছে এবং জীবনের সঠিক পথ বলে দিচ্ছে। তাদের পথপ্রদর্শনের জন্য মুহাম্মাদ ﷺ এর মতো নবী পাঠিয়েছেন, যিনি পৃথিবীবাসীর জন্য রহমতস্বরূপ। যার মাধ্যমে আল্লাহ তা‘আলা তাঁর কিতাবের শিক্ষা বাস্তবজীবনে দেখিয়ে দিয়েছেন। আর এগুলো এখনো যথাযথভাবে মানুষের সামনে উন্মুক্ত রয়েছে। এসব দেখার পরও যদি কোন ব্যক্তি হেদায়াত থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তাহলে আল্লাহ তাকে পুনরায় সেই গোমরাহীর মধ্যে নিক্ষেপ করবেন যেখান থেকে সে বেরিয়ে আসতে আগ্রহী নয়। আর আল্লাহই যখন কাউকে তাঁর দরজা থেকে তাড়িয়ে দেন, তখন তাকে সঠিক পথে নিয়ে আসার দায়িত্ব কে নিতে পারে? যে ব্যক্তি আল্লাহর কালাম ও রাসূল ﷺ এর জীবন-চরিত্র থেকে হেদায়াত লাভ করেনি, গোমরাহীকে আঁকড়ে ধরার কারণে আল্লাহ যার জন্য হেদায়াতের দরজা বন্ধ করে কেবল গোমরাহীর দরজাগুলোই খুলে দিয়েছেন- এমন ব্যক্তিকে সঠিক পথ দেখানো আসলেই কঠিন।

আল্লাহ যাকে হেদায়াত দিতে চান তার অন্তর প্রশস্ত করে দেন :

فَمَنْ يُّرِدِ اللهُ اَنْ يَّهْدِيَهٗ يَشْرَحْ صَدْرَهٗ لِلْاِسْلَامِۚ وَمَنْ يُّرِدْ اَنْ يُّضِلَّهٗ يَجْعَلْ صَدْرَهٗ ضَيِّقًا حَرَجًا كَاَنَّمَا يَصَّعَّدُ فِى السَّمَآءِؕ كَذٰلِكَ يَجْعَلُ اللهُ الرِّجْسَ عَلَى الَّذِيْنَ لَا يُؤْمِنُوْنَ

আল্লাহ কাউকে সৎপথে পরিচালিত করতে চাইলে তিনি তার বক্ষ ইসলামের জন্য প্রশস্ত করে দেন। আবার কাউকে বিপথগামী করতে চাইলে তার বক্ষ সংকীর্ণ করে দেন, তার কাছে ইসলামের অনুসরণ আকাশে আরোহণের মতোই দুঃসাধ্য হয়ে পড়ে। সুতরাং যারা বিশ্বাস স্থাপন করে না আল্লাহ তাদেরকে এভাবেই লাঞ্ছিত করে থাকেন। (সূরা আন‘আম- ১২৬)

ব্যাখ্যা : বক্ষদেশকে উন্মুক্ত করে দেয়ার অর্থ হচ্ছে, ইসলামের সত্যতা সম্পর্কে হৃদয়ে পূর্ণ নিশ্চয়তা সৃষ্টি করা এবং যাবতীয় সন্দেহ দূর করে দেয়া। কোন ব্যাপারে মানুষের বক্ষ উন্মুক্ত হয়ে যাওয়া মূলত এমন একটি মানসিক অবস্থার নাম, যখন তার মনে উক্ত বিষয় সম্পর্কে কোন দুশ্চিন্তা কিংবা সন্দেহ-সংশয় থাকে না এবং কোন বিপদের আশঙ্কাও তাকে ঐ বিষয় গ্রহণ করতে বাধা দিতে পারে না। বরং সে পূর্ণ মানসিক তৃপ্তির সাথে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে যে, যে জিনিসটি ন্যায় ও সত্য সে সেটা গ্রহণ করবেই। এতে ভালো-মন্দ যাই ঘটুক না কেন, তাকে তার উপরই চলতে হবে। এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়ে কোন ব্যক্তি যখন ইসলামের পথ অবলম্বন করে, তখন আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে যে নির্দেশই আসুক না কেন, তা সে অনিচ্ছায় নয় বরং খুশী মনে ও আগ্রহের সাথে মেনে নেয়।

আল্লাহ যাকে হেদায়াত দেন তাকে কেউ পথভ্রষ্ট করতে পারে না :

وَمَنْ يَّهْدِ اللهُ فَمَا لَهٗ مِنْ مُّضِلٍّ

আল্লাহ যাকে হেদায়াত দান করেন, তার জন্য কোন পথভ্রষ্টকারী নেই। (সূরা যুমার- ৩৭)

আল্লাহ সঠিক পথ ও ভুলপথ স্পষ্ট করে দিয়েছেন :

اِنَّا هَدَيْنَاهُ السَّبِيْلَ اِمَّا شَاكِرًا وَّاِمَّا كَفُوْرًا

আমি তাকে পথ দেখিয়েছি; এরপর হয় সে কৃতজ্ঞ হবে, নতুবা অকৃতজ্ঞ হবে। (সূরা দাহর- ৩)

কে গোমরাহ আর কে হেদায়াতপ্রাপ্ত আল্লাহই ভালো জানেন :

اِنَّ رَبَّكَ هُوَ اَعْلَمُ بِمَنْ ضَلَّ عَنْ سَبِيْلِهٖ وَهُوَ اَعْلَمُ بِمَنِ اهْتَدٰى

তোমাদের প্রতিপালকই ভালো জানেন যে, কে তাঁর পথ হতে বিচ্যুত এবং তিনি এও জানেন যে, কে হেদায়াতপ্রাপ্ত। (সূরা নাজম- ৩০)