১
তাফসীরুল কুরআন বিল কুরআন
লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৫৯৯
অধ্যায়- ২৭ : বদর যুদ্ধে মুসলিমদের প্রস্তুতি
মুসলিমদের প্রতি আল্লাহর উপদেশ :
وَاَطِيْعُوا اللهَ وَرَسُوْلَهٗ وَلَا تَنَازَعُوْا فَتَفْشَلُوْا وَتَذْهَبَ رِيْحُكُمْ وَاصْبِرُوْاؕ اِنَّ اللهَ مَعَ الصَّابِرِيْنَ – وَلَا تَكُوْنُوْا كَالَّذِيْنَ خَرَجُوْا مِنْ دِيَارِهِمْ بَطَرًا وَّرِئَآءَ النَّاسِ وَيَصُدُّوْنَ عَنْ سَبِيْلِ اللهِؕ وَاللهُ بِمَا يَعْمَلُوْنَ مُحِيْطٌ
তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করো এবং নিজেদের মধ্যে বিবাদ করো না; নতুবা তোমরা সাহস হারিয়ে ফেলবে এবং তোমাদের শক্তি দুর্বল হয়ে যাবে। (সুতরাং) তোমরা ধৈর্যধারণ করো; নিশ্চয় আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথেই রয়েছেন। আর তোমরা তাদের মতো হয়ো না, যারা দম্ভভরে ও লোক দেখানোর জন্য স্বীভয় গৃহ হতে বের হয়েছিল এবং লোকদেরকে আল্লাহর পথ হতে বিরত রেখেছিল। আর তারা যা করে নিশ্চয় আল্লাহ তা পরিবেষ্টন করে রয়েছেন। (সূরা আনফাল- ৪৬, ৪৭)
ব্যাখ্যা : নিজেদের আবেগ-অনুভূতি ও কামনা-বাসনাকে সংযত রাখো এবং তাড়াহুড়া করো না। ভীত-সন্ত্রস্ত হওয়া, লোভ-লালসা পোষণ করা এবং অসঙ্গত উৎসাহ-উদ্দীপনা প্রকাশ করা থেকে দূরে থাকো। স্থির মস্তিষ্কে এবং ভারসাম্যপূর্ণ ও যথার্থ বিচক্ষণতা ও ফায়সালা করার শক্তি সহকারে কাজ করে যাও। বিপদাপদ ও সমস্যার সম্মুখীন হলেও যেন তোমাদের পা না টলে। উত্তেজনাকর পরিস্থিতি দেখা দিলে ক্রোধ ও ক্ষোভের তরঙ্গে ভেসে গিয়ে তোমরা যেন কোন অর্থহীন কাজ করে না বস। বিপদের আক্রমণ চলতে থাকলে এবং অবস্থা সম্পূর্ণ বিপরীত দিকে মোড় নিয়েছে দেখতে পেলে মানসিক অস্থিরতার কারণে তোমাদের চেতনাশক্তি যেন বিক্ষিপ্ত না হয়ে পড়ে। উদ্দেশ্য সফল হওয়ার আনন্দে অধীর হয়ে তোমাদের সংকল্প যেন তাড়াহুড়ার শিকার না হয়ে পড়ে। আল্লাহ বলছেন, এসব দিক দিয়ে যারা ধৈর্যশীল হবে তারাই আমার সাহায্য ও সমর্থন পাবে।
অস্ত্র প্রস্তুত রাখার নির্দেশ :
وَاَعِدُّوْا لَهُمْ مَّا اسْتَطَعْتُمْ مِّنْ قُوَّةٍ وَّمِنْ رِّبَاطِ الْخَيْلِ تُرْهِبُوْنَ بِهٖ عَدُوُّ اللهِ وَعَدُوَّكُمْ وَاٰخَرِيْنَ مِنْ دُوْنِهِمْۚ لَا تَعْلَمُوْنَهُمُۚ اَللهُ يَعْلَمُهُمْؕ وَمَا تُنْفِقُوْا مِنْ شَيْءٍ فِي ْسَبِيْلِ اللهِ يُوَفَّ اِلَيْكُمْ وَاَنْتُمْ لَا تُظْلَمُوْنَ
তোমরা তাদের মুকাবিলা করার জন্য যথাসাধ্য শক্তি ও অশ্ববাহিনী প্রস্তুত রাখবে, তা দ্বারা তোমরা ভীত-সন্ত্রস্ত করবে আল্লাহর শত্রু, তোমাদের শত্রু এবং অন্যান্য এমন সম্প্রদায়কে, যাদের সম্পর্কে তোমরা অবগত নও, কিন্তু আল্লাহ তাদের সম্পর্কে অবগত। আল্লাহর পথে তোমরা যা কিছু ব্যয় করবে তার পূর্ণ প্রতিদান তোমাদেরকে দেয়া হবে এবং (এতে) তোমাদের প্রতি কোন যুলুম করা হবে না। (সূরা আনফাল- ৬০)
ব্যাখ্যা : এর অর্থ হচ্ছে, তোমাদের কাছে যুদ্ধোপকরণ ও একটি স্থায়ী সেনাবাহিনী সর্বক্ষণ তৈরি থাকতে হবে। তাহলে প্রয়োজনের সময় সঙ্গে সঙ্গেই সামরিক পদক্ষেপ নেয়া সম্ভব হবে। এমন যেন না হয়, বিপদ মাথার উপর এসে পড়ার পর হতবুদ্ধি হয়ে তাড়াতাড়ি স্বেচ্ছাসেবক, অস্ত্রশস্ত্র ও অন্যান্য রসদপত্র যোগাড় করার চেষ্টা করা হবে এবং এভাবে প্রস্তুতিপর্ব সম্পন্ন হতে না হতেই শত্রুপক্ষ তার কাজ শেষ করে চলে যাবে।
মুসলিমদেরকে সাহস প্রদান :
يَاۤ اَيُّهَا النَّبِيُّ حَرِّضِ الْمُؤْمِنِيْنَ عَلَى الْقِتَالِ
হে নবী! মুমিনদেরকে যুদ্ধের জন্য উদ্বুদ্ধ করো। (সূরা আনফাল- ৬৫)
কুরাইশ সেনাদের উপর বিজয় দানের ওয়াদা :
وَاِذْ يَعِدُكُمُ اللهُ اِحْدَى الطَّآئِفَتَيْنِ اَنَّهَا لَكُمْ
স্মরণ করো, যখন আল্লাহ তোমাদেরকে প্রতিশ্রুতি দেন যে, দু’টি দলের একটি দল তোমাদের আয়ত্তাধীন হবে। (সূরা আনফাল- ৭)
ব্যাখ্যা : এখানে দু’টি দলের একটি হলো, কুরাইশদের বাণিজ্য কাফেলা, যা কুরাইশদের জন্য প্রচুর ধনসম্পদ ও অস্ত্র-সস্ত্র বহন করে নিয়ে যাচ্ছিল। আর এসব সম্পদের সাথে কুরাইশদের প্রায় সকলেই জড়িত ছিল। দ্বিতীয় দলটি হচ্ছে, কুরাইশদের ঐ বাণিজ্য কাফেলাকে মুসলিমদের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য আগত সৈন্যবাহিনী, যাদের সাথে বদর যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল।
কিছু মুমিনের অনিচ্ছা সত্ত্বেও নবী ﷺ বের হলেন :
كَمَاۤ اَخْرَجَكَ رَبُّكَ مِنْ ۢبَيْتِكَ بِالْحَقِّ۪ وَاِنَّ فَرِيْقًا مِّنَ الْمُؤْمِنِيْنَ لَكَارِهُوْنَ
এটা এরূপ যে, তোমার প্রতিপালক তোমাকে ন্যায়ভাবে তোমার গৃহ হতে বের করেছিলেন; অথচ মুমিনদের একটি দল এটা পছন্দ করেনি। (সূরা আনফাল- ৫)
স্বপ্নে কাফির সৈন্যদেরকে কম দেখানো হয় :
اِذْ يُرِيْكَهُمُ اللهُ فِيْ مَنَامِكَ قَلِيْلًاؕ وَلَوْ اَرَاكَهُمْ كَثِيْرًا لَّفَشِلْتُمْ وَلَتَنَازَعْتُمْ فِى الْاَمْرِ وَلٰكِنَّ اللهَ سَلَّمَؕ اِنَّهٗ عَلِيْمٌ ۢبِذَاتِ الصُّدُوْر
স্মরণ করো, যখন আল্লাহ তোমাকে স্বপ্নে দেখিয়েছিলেন যে, তারা সংখ্যায় অল্প। যদি তোমাকে দেখাতেন যে, তারা সংখ্যায় অধিক, তবে তোমরা সাহস হারিয়ে ফেলতে এবং এ বিষয়ে নিজেদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি করতে। কিন্তু আল্লাহ তোমাদেরকে রক্ষা করেছিলেন; নিশ্চয় তিনি অন্তরে যা আছে সে সম্বন্ধে বিশেষভাবে অবহিত। (সূরা আনফাল- ৪৩)
ব্যাখ্যা : এটা এমন এক সময়ের কথা, যখন নবী ﷺ মুসলিমদের নিয়ে মদিনা থেকে বের হচ্ছিলেন অথবা পথে কোন মনযিলে অবস্থান করছিলেন। আর তখনও কাফিরদের যথার্থ সৈন্যসংখ্যা জানা যায়নি। এ সময় নবী ﷺ স্বপ্নে কাফিরদের সেনাবাহিনী দেখলেন। তাঁর সামনে যে দৃশ্যপট পেশ করা হয়, তাতে শত্রু সেনাদের সংখ্যা খুব বেশি নয় বলে তিনি অনুমান করতে পারলেন। এ স্বপ্নের বিবরণ তিনি মুসলিমদেরকে শুনালেন। এতে মুসলিমদের সাহস আরো বেড়ে গেল এবং তারা তাদের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখল।
কাফিরদের চোখেও মুসলিম সৈন্যসংখ্যা কম দেখানো হয় :
وَاِذْ يُرِيْكُمُوْهُمْ اِذِ الْتَقَيْتُمْ فِۤيْ اَعْيُنِكُمْ قَلِيْلًا وَّيُقَلِّلُكُمْ فِۤيْ اَعْيُنِهِمْ لِيَقْضِيَ اللهُ اَمْرًا كَانَ مَفْعُوْلًا وَّاِلَى اللهِ تُرْجَعُ الْاُمُوْرُ
স্মরণ করো, যখন তোমরা পরস্পরের সম্মুখীন হয়েছিলে তখন তিনি তাদেরকে তোমাদের দৃষ্টিতে স্বল্প সংখ্যক দেখিয়েছিলেন এবং তোমাদেরকেও তাদের দৃষ্টিতে স্বল্প সংখ্যক দেখিয়েছিলেন, যাতে করে যা ঘটার ছিল তা আল্লাহ সম্পন্ন করেন। মূলত সমস্ত বিষয় আল্লাহর দিকেই প্রত্যাবর্তিত হয়। (সূরা আনফাল- ৪৪)
وَاَطِيْعُوا اللهَ وَرَسُوْلَهٗ وَلَا تَنَازَعُوْا فَتَفْشَلُوْا وَتَذْهَبَ رِيْحُكُمْ وَاصْبِرُوْاؕ اِنَّ اللهَ مَعَ الصَّابِرِيْنَ – وَلَا تَكُوْنُوْا كَالَّذِيْنَ خَرَجُوْا مِنْ دِيَارِهِمْ بَطَرًا وَّرِئَآءَ النَّاسِ وَيَصُدُّوْنَ عَنْ سَبِيْلِ اللهِؕ وَاللهُ بِمَا يَعْمَلُوْنَ مُحِيْطٌ
তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করো এবং নিজেদের মধ্যে বিবাদ করো না; নতুবা তোমরা সাহস হারিয়ে ফেলবে এবং তোমাদের শক্তি দুর্বল হয়ে যাবে। (সুতরাং) তোমরা ধৈর্যধারণ করো; নিশ্চয় আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথেই রয়েছেন। আর তোমরা তাদের মতো হয়ো না, যারা দম্ভভরে ও লোক দেখানোর জন্য স্বীভয় গৃহ হতে বের হয়েছিল এবং লোকদেরকে আল্লাহর পথ হতে বিরত রেখেছিল। আর তারা যা করে নিশ্চয় আল্লাহ তা পরিবেষ্টন করে রয়েছেন। (সূরা আনফাল- ৪৬, ৪৭)
ব্যাখ্যা : নিজেদের আবেগ-অনুভূতি ও কামনা-বাসনাকে সংযত রাখো এবং তাড়াহুড়া করো না। ভীত-সন্ত্রস্ত হওয়া, লোভ-লালসা পোষণ করা এবং অসঙ্গত উৎসাহ-উদ্দীপনা প্রকাশ করা থেকে দূরে থাকো। স্থির মস্তিষ্কে এবং ভারসাম্যপূর্ণ ও যথার্থ বিচক্ষণতা ও ফায়সালা করার শক্তি সহকারে কাজ করে যাও। বিপদাপদ ও সমস্যার সম্মুখীন হলেও যেন তোমাদের পা না টলে। উত্তেজনাকর পরিস্থিতি দেখা দিলে ক্রোধ ও ক্ষোভের তরঙ্গে ভেসে গিয়ে তোমরা যেন কোন অর্থহীন কাজ করে না বস। বিপদের আক্রমণ চলতে থাকলে এবং অবস্থা সম্পূর্ণ বিপরীত দিকে মোড় নিয়েছে দেখতে পেলে মানসিক অস্থিরতার কারণে তোমাদের চেতনাশক্তি যেন বিক্ষিপ্ত না হয়ে পড়ে। উদ্দেশ্য সফল হওয়ার আনন্দে অধীর হয়ে তোমাদের সংকল্প যেন তাড়াহুড়ার শিকার না হয়ে পড়ে। আল্লাহ বলছেন, এসব দিক দিয়ে যারা ধৈর্যশীল হবে তারাই আমার সাহায্য ও সমর্থন পাবে।
অস্ত্র প্রস্তুত রাখার নির্দেশ :
وَاَعِدُّوْا لَهُمْ مَّا اسْتَطَعْتُمْ مِّنْ قُوَّةٍ وَّمِنْ رِّبَاطِ الْخَيْلِ تُرْهِبُوْنَ بِهٖ عَدُوُّ اللهِ وَعَدُوَّكُمْ وَاٰخَرِيْنَ مِنْ دُوْنِهِمْۚ لَا تَعْلَمُوْنَهُمُۚ اَللهُ يَعْلَمُهُمْؕ وَمَا تُنْفِقُوْا مِنْ شَيْءٍ فِي ْسَبِيْلِ اللهِ يُوَفَّ اِلَيْكُمْ وَاَنْتُمْ لَا تُظْلَمُوْنَ
তোমরা তাদের মুকাবিলা করার জন্য যথাসাধ্য শক্তি ও অশ্ববাহিনী প্রস্তুত রাখবে, তা দ্বারা তোমরা ভীত-সন্ত্রস্ত করবে আল্লাহর শত্রু, তোমাদের শত্রু এবং অন্যান্য এমন সম্প্রদায়কে, যাদের সম্পর্কে তোমরা অবগত নও, কিন্তু আল্লাহ তাদের সম্পর্কে অবগত। আল্লাহর পথে তোমরা যা কিছু ব্যয় করবে তার পূর্ণ প্রতিদান তোমাদেরকে দেয়া হবে এবং (এতে) তোমাদের প্রতি কোন যুলুম করা হবে না। (সূরা আনফাল- ৬০)
ব্যাখ্যা : এর অর্থ হচ্ছে, তোমাদের কাছে যুদ্ধোপকরণ ও একটি স্থায়ী সেনাবাহিনী সর্বক্ষণ তৈরি থাকতে হবে। তাহলে প্রয়োজনের সময় সঙ্গে সঙ্গেই সামরিক পদক্ষেপ নেয়া সম্ভব হবে। এমন যেন না হয়, বিপদ মাথার উপর এসে পড়ার পর হতবুদ্ধি হয়ে তাড়াতাড়ি স্বেচ্ছাসেবক, অস্ত্রশস্ত্র ও অন্যান্য রসদপত্র যোগাড় করার চেষ্টা করা হবে এবং এভাবে প্রস্তুতিপর্ব সম্পন্ন হতে না হতেই শত্রুপক্ষ তার কাজ শেষ করে চলে যাবে।
মুসলিমদেরকে সাহস প্রদান :
يَاۤ اَيُّهَا النَّبِيُّ حَرِّضِ الْمُؤْمِنِيْنَ عَلَى الْقِتَالِ
হে নবী! মুমিনদেরকে যুদ্ধের জন্য উদ্বুদ্ধ করো। (সূরা আনফাল- ৬৫)
কুরাইশ সেনাদের উপর বিজয় দানের ওয়াদা :
وَاِذْ يَعِدُكُمُ اللهُ اِحْدَى الطَّآئِفَتَيْنِ اَنَّهَا لَكُمْ
স্মরণ করো, যখন আল্লাহ তোমাদেরকে প্রতিশ্রুতি দেন যে, দু’টি দলের একটি দল তোমাদের আয়ত্তাধীন হবে। (সূরা আনফাল- ৭)
ব্যাখ্যা : এখানে দু’টি দলের একটি হলো, কুরাইশদের বাণিজ্য কাফেলা, যা কুরাইশদের জন্য প্রচুর ধনসম্পদ ও অস্ত্র-সস্ত্র বহন করে নিয়ে যাচ্ছিল। আর এসব সম্পদের সাথে কুরাইশদের প্রায় সকলেই জড়িত ছিল। দ্বিতীয় দলটি হচ্ছে, কুরাইশদের ঐ বাণিজ্য কাফেলাকে মুসলিমদের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য আগত সৈন্যবাহিনী, যাদের সাথে বদর যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল।
কিছু মুমিনের অনিচ্ছা সত্ত্বেও নবী ﷺ বের হলেন :
كَمَاۤ اَخْرَجَكَ رَبُّكَ مِنْ ۢبَيْتِكَ بِالْحَقِّ۪ وَاِنَّ فَرِيْقًا مِّنَ الْمُؤْمِنِيْنَ لَكَارِهُوْنَ
এটা এরূপ যে, তোমার প্রতিপালক তোমাকে ন্যায়ভাবে তোমার গৃহ হতে বের করেছিলেন; অথচ মুমিনদের একটি দল এটা পছন্দ করেনি। (সূরা আনফাল- ৫)
স্বপ্নে কাফির সৈন্যদেরকে কম দেখানো হয় :
اِذْ يُرِيْكَهُمُ اللهُ فِيْ مَنَامِكَ قَلِيْلًاؕ وَلَوْ اَرَاكَهُمْ كَثِيْرًا لَّفَشِلْتُمْ وَلَتَنَازَعْتُمْ فِى الْاَمْرِ وَلٰكِنَّ اللهَ سَلَّمَؕ اِنَّهٗ عَلِيْمٌ ۢبِذَاتِ الصُّدُوْر
স্মরণ করো, যখন আল্লাহ তোমাকে স্বপ্নে দেখিয়েছিলেন যে, তারা সংখ্যায় অল্প। যদি তোমাকে দেখাতেন যে, তারা সংখ্যায় অধিক, তবে তোমরা সাহস হারিয়ে ফেলতে এবং এ বিষয়ে নিজেদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি করতে। কিন্তু আল্লাহ তোমাদেরকে রক্ষা করেছিলেন; নিশ্চয় তিনি অন্তরে যা আছে সে সম্বন্ধে বিশেষভাবে অবহিত। (সূরা আনফাল- ৪৩)
ব্যাখ্যা : এটা এমন এক সময়ের কথা, যখন নবী ﷺ মুসলিমদের নিয়ে মদিনা থেকে বের হচ্ছিলেন অথবা পথে কোন মনযিলে অবস্থান করছিলেন। আর তখনও কাফিরদের যথার্থ সৈন্যসংখ্যা জানা যায়নি। এ সময় নবী ﷺ স্বপ্নে কাফিরদের সেনাবাহিনী দেখলেন। তাঁর সামনে যে দৃশ্যপট পেশ করা হয়, তাতে শত্রু সেনাদের সংখ্যা খুব বেশি নয় বলে তিনি অনুমান করতে পারলেন। এ স্বপ্নের বিবরণ তিনি মুসলিমদেরকে শুনালেন। এতে মুসলিমদের সাহস আরো বেড়ে গেল এবং তারা তাদের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখল।
কাফিরদের চোখেও মুসলিম সৈন্যসংখ্যা কম দেখানো হয় :
وَاِذْ يُرِيْكُمُوْهُمْ اِذِ الْتَقَيْتُمْ فِۤيْ اَعْيُنِكُمْ قَلِيْلًا وَّيُقَلِّلُكُمْ فِۤيْ اَعْيُنِهِمْ لِيَقْضِيَ اللهُ اَمْرًا كَانَ مَفْعُوْلًا وَّاِلَى اللهِ تُرْجَعُ الْاُمُوْرُ
স্মরণ করো, যখন তোমরা পরস্পরের সম্মুখীন হয়েছিলে তখন তিনি তাদেরকে তোমাদের দৃষ্টিতে স্বল্প সংখ্যক দেখিয়েছিলেন এবং তোমাদেরকেও তাদের দৃষ্টিতে স্বল্প সংখ্যক দেখিয়েছিলেন, যাতে করে যা ঘটার ছিল তা আল্লাহ সম্পন্ন করেন। মূলত সমস্ত বিষয় আল্লাহর দিকেই প্রত্যাবর্তিত হয়। (সূরা আনফাল- ৪৪)