১
তাফসীরুল কুরআন বিল কুরআন
লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৩৬৫
অধ্যায়- ২ : কিয়ামতের দিন মুমিনদের অবস্থা
তারা উত্তম অবস্থানে থাকবে :
اَصْحَابُ الْجَنَّةِ يَوْمَئِذٍ خَيْرٌ مُّسْتَقَرًّا وَّاَحْسَنُ مَقِيْلًا
সেদিন জান্নাতবাসীদের বাসস্থান হবে উৎকৃষ্ট এবং বিশ্রামস্থল হবে মনোরম। (সূরা ফুরক্বান- ২৪)
তাদের সামনে নূর চমকাবে :
يَوْمَ تَرَى الْمُؤْمِنِيْنَ وَالْمُؤْمِنَاتِ يَسْعٰى نُوْرُهُمْ بَيْنَ اَيْدِيْهِمْ وَبِاَيْمَانِهِمْ
সেদিন মুমিন নর-নারীদেরকে দেখবে, তাদের সম্মুখ ভাগে ও ডান পার্শ্বে তাদের জ্যোতি প্রবাহিত হবে।
(সূরা হাদীদ- ১২)
তাদের চেহারা হবে উজ্জ্বল:
وُجُوْهٌ يَّوْمَئِذٍ مُّسْفِرَةٌ – ضَاحِكَةٌ مُّسْتَبْشِرَةٌ
সেদিন অনেক মুখমন্ডল হবে উজ্জ্বল, হাস্যোজ্জল ও প্রফুল্ল। (সূরা আবাসা- ৩৮, ৩৯)
وَاَمَّا الَّذِيْنَ ابْيَضَّتْ وُجُوْهُهُمْ فَفِيْ رَحْمَةِ اللهِؕ هُمْ فِيْهَا خَالِدُوْنَ
আর যাদের চেহারা উজ্জ্বল হবে, তারা আল্লাহর রহমতের মধ্যে থাকবে। সেখানে তারা চিরস্থায়ী হবে।
(সূরা আলে ইমরান- ১০৭)
তাদের প্রচেষ্টায় তারা খুশী হবে :
وُجُوْهٌ يَّوْمَئِذٍ نَّاعِمَةٌ ‐ لِسَعْيِهَا رَاضِيَةٌ – فِيْ جَنَّةٍ عَالِيَةٍ
সেদিন বহু মুখমন্ডল আনন্দোজ্জ্বল হবে, নিজেদের কর্মে সাফল্য অর্জনের ব্যাপারে সন্তুষ্ট হওয়ার জন্য। অতঃপর তারা উচ্চমর্যাদার জান্নাতে অবস্থান করবে। (সূরা গাশিয়া, ৮-১০)
ফেরেশতারা জান্নাতের সুসংবাদ নিয়ে হাজির হবে :
اِنَّ الَّذِيْنَ قَالُوْا رَبُّنَا اللهُ ثُمَّ اسْتَقَامُوْا تَتَنَزَّلُ عَلَيْهِمُ الْمَلَآئِكَةُ اَ لَّا تَخَافُوْا وَلَا تَحْزَنُوْا وَاَبْشِرُوْا بِالْجَنَّةِ الَّتِيْ كُنْتُمْ تُوْعَدُوْنَ – نَحْنُ اَوْلِيَآؤُكُمْ فِى الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَفِى الْاٰخِرَةِۚ وَلَكُمْ فِيْهَا مَا تَشْتَهِيْۤ اَنْفُسُكُمْ وَلَكُمْ فِيْهَا مَا تَدَّعُوْنَ – نُزُلًا مِّنْ غَفُوْرٍ رَّحِيْمٍ
নিশ্চয় যারা বলে, আমাদের প্রতিপালক আল্লাহ, অতঃপর এর উপর অবিচল থাকে, তাদের নিকট অবতীর্ণ হয় ফেরেশতা এবং বলে, তোমরা ভীত হয়ো না এবং চিন্তিতও হয়ো না। তোমাদেরকে যে জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে তার সুসংবাদ পেয়ে আনন্দিত হও। আমরা দুনিয়া ও আখিরাতে তোমাদের বন্ধু, সেখানে তোমরা যা কিছু চাইবে তা পাবে এবং তোমরা যা কিছু আহবান করবে তাও পাবে। এটা হলো ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু আল্লাহর পক্ষ হতে আপ্যায়ন। (সূরা হা-মীম সাজদা, ৩০-৩২)
সেদিন তারা প্রকৃত সাফল্য লাভ করবে :
مَنْ يُّصْرَفْ عَنْهُ يَوْمَئِذٍ فَقَدْ رَحِمَهٗؕ وَذٰلِكَ الْفَوْزُ الْمُبِيْنُ
সেদিন যাকে তা (শাস্তি) হতে রক্ষা করা হবে, তিনি তার প্রতি দয়া করবেন। আর এটাই স্পষ্ট সফলতা।
(সূরা আন‘আম- ১৬)
মুমিনরা আল্লাহর সাক্ষাৎ লাভ করবে :
وُجُوْهٌ يَّوْمَئِذٍ نَّاضِرَةٌ – اِلٰى رَبِّهَا نَاظِرَةٌ
সেদিন কতক মুখমন্ডল উজ্জ্বল হবে, তারা তাদের প্রতিপালকের দিকে তাকিয়ে থাকবে। (সূরা ক্বিয়ামাহ- ২২, ২৩)
আল্লাহ মুমিনদেরকে তাদের কর্মের প্রতিদান দেবেন :
هٰذَا يَوْمُ يَنْفَعُ الصَّادِقِيْنَ صِدْقُهُمْؕ لَهُمْ جَنَّاتٌ تَجْرِيْ مِنْ تَحْتِهَا الْاَنْهَارُ خَالِدِيْنَ فِيْهَاۤ اَبَدًاؕ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمْ وَرَضُوْا عَنْهُؕ ذٰلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيْمُ
এটা সেই দিন, যেদিন সত্যবাদীরা তাদের সততার জন্য উপকৃত হবে; তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত, যার পাদদেশে নদীসমূহ প্রবাহিত হতে থাকবে। সেখানে তারা চিরস্থায়ী হবে; আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট এবং তারাও তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট; আর এটাই মহাসাফল্য। (সূরা মায়েদা- ১১৯)
আল্লাহ তাদেরকে সাহায্য করবেন :
اِنَّا لَنَنْصُرُ رُسُلَنَا وَالَّذِيْنَ اٰمَنُوْا فِى الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَيَوْمَ يَقُوْمُ الْاَشْهَادُ
নিশ্চয় আমি পার্থিব জীবনে আমার রাসূলদেরকে ও মুমিনদেরকে সাহায্য করব এবং যেদিন সাক্ষীগণ দন্ডায়মান হবে (সেদিনও সাহায্য করব)। (সূরা মু’মিন- ৫১)
তারা কাফিরদেরকে নিয়ে হাসবে :
فَالْيَوْمَ الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا مِنَ الْكُفَّارِ يَضْحَكُوْنَ – عَلَى الْاَرَآئِكِ يَنْظُرُوْنَ
আজ মুমিনগণ কাফিরদের নিয়ে উপহাস করছে এবং সুসজ্জিত আসনে বসে তাদেরকে অবলোকন করছে। (সূরা মুতাফফিফীন- ৩৪, ৩৫)
তাড়াতাড়ি ও খুব সহজে তাদের হিসাব শেষ হয়ে যাবে :
فَاَمَّا مَنْ اُوْتِيَ كِتَابَهٗ بِيَمِيْنِهٖ – فَسَوْفَ يُحَاسَبُ حِسَابًا يَّسِيْرًا
অতএব যাকে তার আমলনামা ডান হাতে দেয়া হবে, তার হিসাব-নিকাশ অতি সহজে নেয়া হবে। (সূরা ইনশিক্বাক, ৭-৮)
ব্যাখ্যা : যারা আল্লাহর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে দুনিয়ায় জীবন-যাপন করেছে তাদের থেকে কড়া হিসাব নেয়া হবে। অর্থাৎ এমনভাবে হিসাব নেয়া হবে যে, তাদের কোন ভুলভ্রান্তি ও পাপ ÿমা করা হবে না এবং তাদের অপরাধের বিচার না করে এমনি ছেড়ে দেয়া হবে না। বিপরীতপক্ষে যারা আল্লাহর প্রতি বিশ্বস্ত আচরণ করেছে এবং তাঁর প্রতি অনুগত থেকে জীবন-যাপন করেছে তাদের থেকে সহজ হিসাব নেয়া হবে। তাদের বিশ্বস্ততামূলক কার্যক্রমের কারণে তাদের ত্রুটি-বিচ্যুতিগুলো ÿমা করে দেয়া হবে।
তাদের কোন ভয় থাকবে না :
وَمَنْ يَّعْمَلْ مِنَ الصَّالِحَاتِ وَهُوَ مُؤْمِنٌ فَلَا يَخَافُ ظُلْمًا وَّلَا هَضْمًا
আর যে ব্যক্তি মুমিন থাকাবস্থায় সৎকর্ম করবে, তার প্রতি কোন যুলুমের ভয় থাকবে না এবং তার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ারও কোন আশঙ্কা থাকবে না। (সূরা ত্বা-হা- ১১২)
ব্যাখ্যা : যারা ঈমান ও সৎকাজ নিয়ে আসবে সেখানে তাদের উপর কোন যুলুম করা হবে না। অর্থাৎ তাদেরকে অনর্থক শাস্তি দেয়া হবে না এবং তাদের কার্যাবলি ধ্বংস করে দেয়া হবে- এমন কোন আশঙ্কাও সেখানে থাকবে না।
مَنْ جَآءَ بِالْحَسَنَةِ فَلَهٗ خَيْرٌ مِّنْهَاۚ وَهُمْ مِّنْ فَزَعٍ يَّوْمَئِذٍ اٰمِنُوْنَ
যে সৎকর্ম নিয়ে আসবে, সে তা হতে উত্তম প্রতিফল পাবে এবং সেদিন তারা ভয় হতে নিরাপদ থাকবে।
(সূরা নামল- ৮৯)
اِنَّ الَّذِيْنَ سَبَقَتْ لَهُمْ مِّنَّا الْحُسْنٰۤى اُولٰٓئِكَ عَنْهَا مُبْعَدُوْنَ – لَا يَسْمَعُوْنَ حَسِيْسَهَا وَهُمْ فِيْ مَا اشْتَهَتْ اَنْفُسُهُمْ خَالِدُوْنَ – لَا يَحْزُنُهُمُ الْفَزَعُ الْاَ كْبَرُ وَتَتَلَقَّاهُمُ الْمَلَآئِكَةُ هٰذَا يَوْمُكُمُ الَّذِيْ كُنْتُمْ تُوْعَدُوْنَ
যাদের জন্য আমার নিকট পূর্ব হতে কল্যাণ নির্ধারিত রয়েছে তাদেরকে তা (জাহান্নাম) হতে দূরে রাখা হবে। অতঃপর তারা তার (জাহান্নামের) ক্ষীণতম শব্দও শুনতে পাবে না এবং সেখানে তারা নিজেদের জন্য যা কামনা করবে চিরকাল তাই ভোগ করবে। মহাভীতি তাদেরকে চিন্তিত করবে না এবং ফেরেশতাগণ তাদেরকে অভ্যর্থনা করবে এ বলে- এটা সেই দিন, যার প্রতিশ্রুতি তোমাদেরকে দেয়া হয়েছিল। (সূরা আম্বিয়া, ১০১-১০৩)
মুমিনরা সেদিন লাঞ্ছিত হবে না :
لِلَّذِيْنَ اَحْسَنُوا الْحُسْنٰى وَزِيَادَةٌؕ وَلَا يَرْهَقُ وُجُوْهَهُمْ قَتَرٌ وَّلَا ذِلَّةٌ اُولٰٓئِكَ اَصْحَابُ الْجَنَّةِۚ هُمْ فِيْهَا خَالِدُوْنَ
যারা মঙ্গলময় কাজ করে তাদের জন্য রয়েছে মঙ্গল এবং আরো অধিক (মঙ্গল)। কালিমা ও হীনতা তাদের মুখমন্ডলকে আচ্ছন্ন করবে না। তারাই জান্নাতের অধিবাসী, সেখানে তারা স্থায়ী হবে। (সূরা ইউনুস- ২৬)
يَا عِبَادِ لَا خَوْفٌ عَلَيْكُمُ الْيَوْمَ وَلَاۤ اَنْتُمْ تَحْزَنُوْنَ – اَلَّذِيْنَ اٰمَنُوْا بِاٰيَاتِنَا وَكَانُوْا مُسْلِمِيْنَ – اُدْخُلُوا الْجَنَّةَ اَنْتُمْ وَاَزْوَاجُكُمْ تُحْبَرُوْنَ
হে আমার বান্দাগণ! আজ তোমাদের কোন ভয় নেই এবং তোমরা চিন্তিতও হবে না। তোমরা তো ঐসব লোক, যারা আমার আয়াতসমূহের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেছিলে এবং আত্মসমর্পণ করেছিলে। সুতরাং আজ তোমরা এবং তোমাদের সহধর্মিনীগণ জান্নাতে প্রবেশ করো, তোমাদেরকে সন্তুষ্ট করা হবে। (সূরা যুখরুফ, ৬৮-৭০)
اَصْحَابُ الْجَنَّةِ يَوْمَئِذٍ خَيْرٌ مُّسْتَقَرًّا وَّاَحْسَنُ مَقِيْلًا
সেদিন জান্নাতবাসীদের বাসস্থান হবে উৎকৃষ্ট এবং বিশ্রামস্থল হবে মনোরম। (সূরা ফুরক্বান- ২৪)
তাদের সামনে নূর চমকাবে :
يَوْمَ تَرَى الْمُؤْمِنِيْنَ وَالْمُؤْمِنَاتِ يَسْعٰى نُوْرُهُمْ بَيْنَ اَيْدِيْهِمْ وَبِاَيْمَانِهِمْ
সেদিন মুমিন নর-নারীদেরকে দেখবে, তাদের সম্মুখ ভাগে ও ডান পার্শ্বে তাদের জ্যোতি প্রবাহিত হবে।
(সূরা হাদীদ- ১২)
তাদের চেহারা হবে উজ্জ্বল:
وُجُوْهٌ يَّوْمَئِذٍ مُّسْفِرَةٌ – ضَاحِكَةٌ مُّسْتَبْشِرَةٌ
সেদিন অনেক মুখমন্ডল হবে উজ্জ্বল, হাস্যোজ্জল ও প্রফুল্ল। (সূরা আবাসা- ৩৮, ৩৯)
وَاَمَّا الَّذِيْنَ ابْيَضَّتْ وُجُوْهُهُمْ فَفِيْ رَحْمَةِ اللهِؕ هُمْ فِيْهَا خَالِدُوْنَ
আর যাদের চেহারা উজ্জ্বল হবে, তারা আল্লাহর রহমতের মধ্যে থাকবে। সেখানে তারা চিরস্থায়ী হবে।
(সূরা আলে ইমরান- ১০৭)
তাদের প্রচেষ্টায় তারা খুশী হবে :
وُجُوْهٌ يَّوْمَئِذٍ نَّاعِمَةٌ ‐ لِسَعْيِهَا رَاضِيَةٌ – فِيْ جَنَّةٍ عَالِيَةٍ
সেদিন বহু মুখমন্ডল আনন্দোজ্জ্বল হবে, নিজেদের কর্মে সাফল্য অর্জনের ব্যাপারে সন্তুষ্ট হওয়ার জন্য। অতঃপর তারা উচ্চমর্যাদার জান্নাতে অবস্থান করবে। (সূরা গাশিয়া, ৮-১০)
ফেরেশতারা জান্নাতের সুসংবাদ নিয়ে হাজির হবে :
اِنَّ الَّذِيْنَ قَالُوْا رَبُّنَا اللهُ ثُمَّ اسْتَقَامُوْا تَتَنَزَّلُ عَلَيْهِمُ الْمَلَآئِكَةُ اَ لَّا تَخَافُوْا وَلَا تَحْزَنُوْا وَاَبْشِرُوْا بِالْجَنَّةِ الَّتِيْ كُنْتُمْ تُوْعَدُوْنَ – نَحْنُ اَوْلِيَآؤُكُمْ فِى الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَفِى الْاٰخِرَةِۚ وَلَكُمْ فِيْهَا مَا تَشْتَهِيْۤ اَنْفُسُكُمْ وَلَكُمْ فِيْهَا مَا تَدَّعُوْنَ – نُزُلًا مِّنْ غَفُوْرٍ رَّحِيْمٍ
নিশ্চয় যারা বলে, আমাদের প্রতিপালক আল্লাহ, অতঃপর এর উপর অবিচল থাকে, তাদের নিকট অবতীর্ণ হয় ফেরেশতা এবং বলে, তোমরা ভীত হয়ো না এবং চিন্তিতও হয়ো না। তোমাদেরকে যে জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে তার সুসংবাদ পেয়ে আনন্দিত হও। আমরা দুনিয়া ও আখিরাতে তোমাদের বন্ধু, সেখানে তোমরা যা কিছু চাইবে তা পাবে এবং তোমরা যা কিছু আহবান করবে তাও পাবে। এটা হলো ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু আল্লাহর পক্ষ হতে আপ্যায়ন। (সূরা হা-মীম সাজদা, ৩০-৩২)
সেদিন তারা প্রকৃত সাফল্য লাভ করবে :
مَنْ يُّصْرَفْ عَنْهُ يَوْمَئِذٍ فَقَدْ رَحِمَهٗؕ وَذٰلِكَ الْفَوْزُ الْمُبِيْنُ
সেদিন যাকে তা (শাস্তি) হতে রক্ষা করা হবে, তিনি তার প্রতি দয়া করবেন। আর এটাই স্পষ্ট সফলতা।
(সূরা আন‘আম- ১৬)
মুমিনরা আল্লাহর সাক্ষাৎ লাভ করবে :
وُجُوْهٌ يَّوْمَئِذٍ نَّاضِرَةٌ – اِلٰى رَبِّهَا نَاظِرَةٌ
সেদিন কতক মুখমন্ডল উজ্জ্বল হবে, তারা তাদের প্রতিপালকের দিকে তাকিয়ে থাকবে। (সূরা ক্বিয়ামাহ- ২২, ২৩)
আল্লাহ মুমিনদেরকে তাদের কর্মের প্রতিদান দেবেন :
هٰذَا يَوْمُ يَنْفَعُ الصَّادِقِيْنَ صِدْقُهُمْؕ لَهُمْ جَنَّاتٌ تَجْرِيْ مِنْ تَحْتِهَا الْاَنْهَارُ خَالِدِيْنَ فِيْهَاۤ اَبَدًاؕ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمْ وَرَضُوْا عَنْهُؕ ذٰلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيْمُ
এটা সেই দিন, যেদিন সত্যবাদীরা তাদের সততার জন্য উপকৃত হবে; তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত, যার পাদদেশে নদীসমূহ প্রবাহিত হতে থাকবে। সেখানে তারা চিরস্থায়ী হবে; আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট এবং তারাও তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট; আর এটাই মহাসাফল্য। (সূরা মায়েদা- ১১৯)
আল্লাহ তাদেরকে সাহায্য করবেন :
اِنَّا لَنَنْصُرُ رُسُلَنَا وَالَّذِيْنَ اٰمَنُوْا فِى الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَيَوْمَ يَقُوْمُ الْاَشْهَادُ
নিশ্চয় আমি পার্থিব জীবনে আমার রাসূলদেরকে ও মুমিনদেরকে সাহায্য করব এবং যেদিন সাক্ষীগণ দন্ডায়মান হবে (সেদিনও সাহায্য করব)। (সূরা মু’মিন- ৫১)
তারা কাফিরদেরকে নিয়ে হাসবে :
فَالْيَوْمَ الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا مِنَ الْكُفَّارِ يَضْحَكُوْنَ – عَلَى الْاَرَآئِكِ يَنْظُرُوْنَ
আজ মুমিনগণ কাফিরদের নিয়ে উপহাস করছে এবং সুসজ্জিত আসনে বসে তাদেরকে অবলোকন করছে। (সূরা মুতাফফিফীন- ৩৪, ৩৫)
তাড়াতাড়ি ও খুব সহজে তাদের হিসাব শেষ হয়ে যাবে :
فَاَمَّا مَنْ اُوْتِيَ كِتَابَهٗ بِيَمِيْنِهٖ – فَسَوْفَ يُحَاسَبُ حِسَابًا يَّسِيْرًا
অতএব যাকে তার আমলনামা ডান হাতে দেয়া হবে, তার হিসাব-নিকাশ অতি সহজে নেয়া হবে। (সূরা ইনশিক্বাক, ৭-৮)
ব্যাখ্যা : যারা আল্লাহর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে দুনিয়ায় জীবন-যাপন করেছে তাদের থেকে কড়া হিসাব নেয়া হবে। অর্থাৎ এমনভাবে হিসাব নেয়া হবে যে, তাদের কোন ভুলভ্রান্তি ও পাপ ÿমা করা হবে না এবং তাদের অপরাধের বিচার না করে এমনি ছেড়ে দেয়া হবে না। বিপরীতপক্ষে যারা আল্লাহর প্রতি বিশ্বস্ত আচরণ করেছে এবং তাঁর প্রতি অনুগত থেকে জীবন-যাপন করেছে তাদের থেকে সহজ হিসাব নেয়া হবে। তাদের বিশ্বস্ততামূলক কার্যক্রমের কারণে তাদের ত্রুটি-বিচ্যুতিগুলো ÿমা করে দেয়া হবে।
তাদের কোন ভয় থাকবে না :
وَمَنْ يَّعْمَلْ مِنَ الصَّالِحَاتِ وَهُوَ مُؤْمِنٌ فَلَا يَخَافُ ظُلْمًا وَّلَا هَضْمًا
আর যে ব্যক্তি মুমিন থাকাবস্থায় সৎকর্ম করবে, তার প্রতি কোন যুলুমের ভয় থাকবে না এবং তার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ারও কোন আশঙ্কা থাকবে না। (সূরা ত্বা-হা- ১১২)
ব্যাখ্যা : যারা ঈমান ও সৎকাজ নিয়ে আসবে সেখানে তাদের উপর কোন যুলুম করা হবে না। অর্থাৎ তাদেরকে অনর্থক শাস্তি দেয়া হবে না এবং তাদের কার্যাবলি ধ্বংস করে দেয়া হবে- এমন কোন আশঙ্কাও সেখানে থাকবে না।
مَنْ جَآءَ بِالْحَسَنَةِ فَلَهٗ خَيْرٌ مِّنْهَاۚ وَهُمْ مِّنْ فَزَعٍ يَّوْمَئِذٍ اٰمِنُوْنَ
যে সৎকর্ম নিয়ে আসবে, সে তা হতে উত্তম প্রতিফল পাবে এবং সেদিন তারা ভয় হতে নিরাপদ থাকবে।
(সূরা নামল- ৮৯)
اِنَّ الَّذِيْنَ سَبَقَتْ لَهُمْ مِّنَّا الْحُسْنٰۤى اُولٰٓئِكَ عَنْهَا مُبْعَدُوْنَ – لَا يَسْمَعُوْنَ حَسِيْسَهَا وَهُمْ فِيْ مَا اشْتَهَتْ اَنْفُسُهُمْ خَالِدُوْنَ – لَا يَحْزُنُهُمُ الْفَزَعُ الْاَ كْبَرُ وَتَتَلَقَّاهُمُ الْمَلَآئِكَةُ هٰذَا يَوْمُكُمُ الَّذِيْ كُنْتُمْ تُوْعَدُوْنَ
যাদের জন্য আমার নিকট পূর্ব হতে কল্যাণ নির্ধারিত রয়েছে তাদেরকে তা (জাহান্নাম) হতে দূরে রাখা হবে। অতঃপর তারা তার (জাহান্নামের) ক্ষীণতম শব্দও শুনতে পাবে না এবং সেখানে তারা নিজেদের জন্য যা কামনা করবে চিরকাল তাই ভোগ করবে। মহাভীতি তাদেরকে চিন্তিত করবে না এবং ফেরেশতাগণ তাদেরকে অভ্যর্থনা করবে এ বলে- এটা সেই দিন, যার প্রতিশ্রুতি তোমাদেরকে দেয়া হয়েছিল। (সূরা আম্বিয়া, ১০১-১০৩)
মুমিনরা সেদিন লাঞ্ছিত হবে না :
لِلَّذِيْنَ اَحْسَنُوا الْحُسْنٰى وَزِيَادَةٌؕ وَلَا يَرْهَقُ وُجُوْهَهُمْ قَتَرٌ وَّلَا ذِلَّةٌ اُولٰٓئِكَ اَصْحَابُ الْجَنَّةِۚ هُمْ فِيْهَا خَالِدُوْنَ
যারা মঙ্গলময় কাজ করে তাদের জন্য রয়েছে মঙ্গল এবং আরো অধিক (মঙ্গল)। কালিমা ও হীনতা তাদের মুখমন্ডলকে আচ্ছন্ন করবে না। তারাই জান্নাতের অধিবাসী, সেখানে তারা স্থায়ী হবে। (সূরা ইউনুস- ২৬)
يَا عِبَادِ لَا خَوْفٌ عَلَيْكُمُ الْيَوْمَ وَلَاۤ اَنْتُمْ تَحْزَنُوْنَ – اَلَّذِيْنَ اٰمَنُوْا بِاٰيَاتِنَا وَكَانُوْا مُسْلِمِيْنَ – اُدْخُلُوا الْجَنَّةَ اَنْتُمْ وَاَزْوَاجُكُمْ تُحْبَرُوْنَ
হে আমার বান্দাগণ! আজ তোমাদের কোন ভয় নেই এবং তোমরা চিন্তিতও হবে না। তোমরা তো ঐসব লোক, যারা আমার আয়াতসমূহের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেছিলে এবং আত্মসমর্পণ করেছিলে। সুতরাং আজ তোমরা এবং তোমাদের সহধর্মিনীগণ জান্নাতে প্রবেশ করো, তোমাদেরকে সন্তুষ্ট করা হবে। (সূরা যুখরুফ, ৬৮-৭০)