১
তাফসীরুল কুরআন বিল কুরআন
লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৩৫৪
অধ্যায়- ৮ : মৃত্যু
সবাইকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে :
كُلُّ نَفْسٍ ذَآئِقَةُ الْمَوْتِ
প্রত্যেক আতমা মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণকারী। (সূরা আলে ইমরান- ১৮৫)
মৃত্যুর পর সবাই আল্লাহর দিকে ফিরে যাবে :
كُلُّ نَفْسٍ ذَآئِقَةُ الْمَوْتِ ثُمَّ اِلَيْنَا تُرْجَعُوْنَ
প্রত্যেক আত্মা মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণকারী; অতঃপর তোমরা আমারই নিকট প্রত্যাবর্তিত হবে। (সূরা আনকাবূত- ৫৭)
মৃত্যু থেকে পালানোর কোন উপায় নেই :
قُلْ لَّنْ يَّنْفَعَكُمُ الْفِرَارُ اِنْ فَرَرْتُمْ مِّنَ الْمَوْتِ اَوِ الْقَتْلِ وَاِذًا لَّا تُمَتَّعُوْنَ اِلَّا قَلِيْلًا
আপনি বলে দিন, তোমরা যদি মৃত্যু অথবা হত্যার ভয়ে পলায়ন কর, তবে সে পলায়ন তোমাদের কোন উপকারে আসবে না; তোমাদেরকে অল্পই ভোগ করতে দেয়া হবে। (সূরা আহযাব- ১৬)
قُلْ اِنَّ الْمَوْتَ الَّذِيْ تَفِرُّوْنَ مِنْهُ فَاِنَّهٗ مُلَاقِيْكُمْ ثُمَّ تُرَدُّوْنَ اِلٰى عَالِمِ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ فَيُنَبِّئُكُمْ بِمَا كُنْتُمْ تَعْمَلُوْنَ
বলো, তোমরা যে মৃত্যু হতে পলায়ন করো (একদিন) সেই মৃত্যু তোমাদের মুখোমুখি হবেই। অতঃপর তোমাদেরকে উপস্থিত করা হবে অদৃশ্য ও দৃশ্যের জ্ঞানী আল্লাহর নিকট; তখন তিনি তোমাদেরকে জানিয়ে দেবেন যা তোমরা (দুনিয়াতে) করে বেড়াতে। (সূরা জুমু‘আ- ৮)
প্রাচীরের ভেতরে ঢুকলেও মৃত্যু আসবে :
اَيْنَمَا تَكُوْنُوْا يُدْرِكْكُّمُ الْمَوْتُ وَلَوْ كُنْتُمْ فِيْ بُرُوْجٍ مُّشَيَّدَةٍ
তোমরা যেখানেই থাক না কেন মৃত্যু তোমাদের নাগাল পাবেই, এমনকি সুউচ্চ সুদৃঢ় দুর্গে অবস্থান করলেও। (সূরা নিসা- ৭৮)
নবীদেরকেও মৃত্যুবরণ করতে হয়েছে :
وَمَا جَعَلْنَا لِبَشَرٍ مِّنْ قَبْلِكَ الْخُلْدَؕ اَفَاِنْ مِّتَّ فَهُمُ الْخَالِدُوْنَ
আমি তোমার পূর্বেও কোন মানুষকে অনমত্ম জীবন দান করিনি; সুতরাং তোমার মৃত্যু হলে তারা কি চিরস্থায়ী হয়ে থাকবে? (সূরা আম্বিয়া- ৩৪)
اِنَّكَ مَيِّتٌ وَّاِنَّهُمْ مَّيِّتُوْنَ ‐ ثُمَّ اِنَّكُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ عِنْدَ رَبِّكُمْ تَخْتَصِمُوْنَ
নিশ্চয় আপনিও মৃত্যুবরণ করবেন আর তারাও মৃত্যুবরণ করবে। অতঃপর কিয়ামতের দিন তোমরা স্বীয় প্রতিপালকের সামনে বিতর্ক করবে। (সূরা যুমার- ৩০, ৩১)
নির্দিষ্ট সময় এসে গেলে একটুও পেছানো হবে না :
فَاِذَا جَآءَ اَجَلُهُمْ لَا يَسْتَاْخِرُوْنَ سَاعَةً وَّلَا يَسْتَقْدِمُوْنَ
যখন তাদের সময় এসে যায়, তখন তারা এক মুহূর্তও বিলম্ব অথবা ত্বরান্বিত করতে পারে না। (সূরা নাহল- ৬১)
যেকোন বয়সেই মৃত্যু হতে পারে :
وَمِنْكُمْ مَّنْ يُّتَوَفّٰى وَمِنْكُمْ مَّنْ يُّرَدُّ اِلٰۤى اَرْذَلِ الْعُمُرِ لِكَيْلَا يَعْلَمَ مِنْ ۢبَعْدِ عِلْمٍ شَيْئًا
তোমাদের মধ্যে কারো কারো মৃত্যু ঘটানো হয় এবং কাউকে পৌঁছানো হয় হীনতম বয়সে, যার ফলে তারা যা কিছু জানতো সে সম্বন্ধে জ্ঞান থাকে না। (সূরা হজ্জ- ৫)
মৃত্যুর ফেরেশতা জান কবজ করে :
قُلْ يَتَوَفَّاكُمْ مَّلَكُ الْمَوْتِ الَّذِيْ وُكِّلَ بِكُمْ ثُمَّ اِلٰى رَبِّكُمْ تُرْجَعُوْنَ
আপনি বলে দিন, তোমাদের জীবন হরণের দায়িত্বে নিয়োজিত মৃত্যুর ফেরেশতা তোমাদের মৃত্যু ঘটাবে, তারপর তোমাদেরকে তোমাদের প্রতিপালকের নিকট ফিরিয়ে নেয়া হবে। (সূরা সাজদা- ১১)
নেককারদের মৃত্যুর সময় ফেরেশতারা সালাম জানায় :
اَلَّذِيْنَ تَتَوَفَّاهُمُ الْمَلَآئِكَةُ طَيِّبِيْنَ يَقُوْلُوْنَ سَلَامٌ عَلَيْكُمُ ادْخُلُوا الْجَنَّةَ بِمَا كُنْتُمْ تَعْمَلُوْنَ
পবিত্র থাকাবস্থায় ফেরেশতারা যাদের মৃত্যু ঘটায় তাদেরকে বলে, তোমাদের প্রতি শান্তি! তোমরা যা করতে তার ফলে জান্নাতে প্রবেশ করো। (সূরা নাহল- ৩২)
কাফিরদের মৃত্যুর সময় ফেরেশতারা প্রহার করে :
وَلَوْ تَرٰۤى اِذْ يَتَوَفَّى الَّذِيْنَ كَفَرُوا الْمَلَآئِكَةُ يَضْرِبُوْنَ وُجُوْهَهُمْ وَاَدْبَارَهُمْۚ وَذُوْقُوْا عَذَابَ الْحَرِيْقِ
তুমি যদি দেখতে পেতে ফেরেশতারা কাফিরদের মুখমন্ডলে ও পৃষ্ঠদেশে আঘাত করে তাদের প্রাণ হরণ করে এবং বলে, তোমরা দহনযন্ত্রণা ভোগ করো। (সূরা আনফাল- ৫০)
মৃত্যুর যন্ত্রণা সত্য :
وَجَاءَتْ سَكْرَةُ الْمَوْتِ بِالْحَقِّؕ ذٰلِكَ مَا كُنْتَ مِنْهُ تَحِيْدُ
মৃত্যুর যন্ত্রণা সত্যই আসবে; এটা সে জিনিস, যা হতে তোমরা অব্যাহতি চাইতে। (সূরা কবাফ- ১৯)
ব্যাখ্যা : মৃত্যুর যন্ত্রণা সেই পরম সূচনাবিন্দু যেখান থেকে দুনিয়ার জীবনে পর্দার আড়ালে লুকানো মহাসত্য উন্মুক্ত হতে আরম্ভ করে। এ সময় মানুষ সেই জগতটিকে স্পষ্ট দেখতে পায়, যার খবর নবী-রাসূলগণ দিয়েছিলেন। তখন সে এ কথাও জানতে পারে যে, আখিরাত পুরোপুরি সত্য। জীবনের এ দ্বিতীয় পর্যায়ে সে সৌভাগ্যবান হিসেবে প্রবেশ করছে, না হতভাগ্য হিসেবে তাও সে জানতে পারে।
আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুমিন লোকের রূহ কবজ করার পর দু’জন ফেরেশতা এসে তার রূহ আকাশের দিকে উঠিয়ে নিয়ে যায়। বর্ণনাকারী হাম্মাদ (রহ:) বলেন, আবু হুরায়রা (রাঃ) ঐ রূহের সুগন্ধি এবং মিশ্কের কথা বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, তখন আকাশের বাসিন্দারা বলতে থাকে, এক পবিত্র আত্মা পৃথিবী হতে আগমন করেছে। আল্লাহ তোমার প্রতি এবং তোমার আবাদকৃত শরীরের প্রতি করুণা বর্ষণ করুন। তারপর তাকে তার প্রতিপালকের নিকট নিয়ে যায়। অতঃপর তিনি বলেন, তোমরা তাকে তার স্থানে নিয়ে যাও। আর যখন কোন কাফির লোকের রূহ বের হয় তখন আকাশমন্ডলীর অধিবাসীরা বলতে থাকে, এক অপবিত্র আত্মা দুনিয়া হতে এসেছে। অতঃপর বলা হয়, তোমরা তাকে তার স্থানে নিয়ে যাও। আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, এ সময় রাসূল ﷺ গায়ে জড়ানো একটি পাতলা কাপড় দ্বারা নিজের নাকটি এভাবে ধরলেন। (সহীহ মুসলিম, হা/৭১১৩)
আল্লাহর হুকুম ছাড়া কেউ মৃত্যুবরণ করে না :
وَمَا كَانَ لِنَفْسٍ اَنْ تَمُوْتَ اِلَّا بِاِذْنِ اللهِ كِتَابًا مُّؤَجَّلًا
আল্লাহর আদেশে ধার্যকৃত লিপিবদ্ধ নির্দিষ্ট সময় ব্যতীত কেউই মৃত্যুর মুখে পতিত হয় না। (সূরা আলে ইমরান- ১৪৫)
কে কোথায় মারা যাবে কেউ জানে না :
وَمَا تَدْرِيْ نَفْسٌ ۢبِاَيِّ اَرْضٍ تَمُوْتُ
কেউ জানে না কোন স্থানে সে মৃত্যুবরণ করবে। (সূরা লুক্বমান- ৩৪)
মৃত্যু উপস্থিত হলে আর তাওবা কবুল হয় না :
وَلَيْسَتِ التَّوْبَةُ لِلَّذِيْنَ يَعْمَلُوْنَ السَّيِّئَاتِۚ حَتّٰۤى اِذَا حَضَرَ اَحَدَهُمُ الْمَوْتُ قَالَ اِنِّي ْتُبْتُ الْاٰنَ وَلَا الَّذِيْنَ يَمُوْتُوْنَ وَهُمْ كُفَّارٌؕ اُولٰٓئِكَ اَعْتَدْنَا لَهُمْ عَذَابًا اَلِيْمًا
তাদের জন্য কোন তাওবা নেই, যারা পাপকাজ করতেই থাকে- এমনকি তাদের কারো নিকট মৃত্যু উপস্থিত হয়, তখন বলে আমি এখন তাওবা করছি। আর তাদেরও কোন তাওবা নেই, যারা কাফির অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে। এদের জন্য আমি যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছি। (সূরা নিসা- ১৮)
মৃত্যুর মাধ্যমে মানুষের পরীক্ষা হয় :
اَلَّذِيْ خَلَقَ الْمَوْتَ وَالْحَيَاةَ لِيَبْلُوَكُمْ اَيُّكُمْ اَحْسَنُ عَمَلًا
তিনি মৃত্যু ও জীবন সৃষ্টি করেছেন তোমাদেরকে এ পরীক্ষা করার জন্য যে, কে তোমাদের মধ্যে আমলের দিক দিয়ে সর্বোত্তম। (সূরা মুলক- ২)
كُلُّ نَفْسٍ ذَآئِقَةُ الْمَوْتِ
প্রত্যেক আতমা মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণকারী। (সূরা আলে ইমরান- ১৮৫)
মৃত্যুর পর সবাই আল্লাহর দিকে ফিরে যাবে :
كُلُّ نَفْسٍ ذَآئِقَةُ الْمَوْتِ ثُمَّ اِلَيْنَا تُرْجَعُوْنَ
প্রত্যেক আত্মা মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণকারী; অতঃপর তোমরা আমারই নিকট প্রত্যাবর্তিত হবে। (সূরা আনকাবূত- ৫৭)
মৃত্যু থেকে পালানোর কোন উপায় নেই :
قُلْ لَّنْ يَّنْفَعَكُمُ الْفِرَارُ اِنْ فَرَرْتُمْ مِّنَ الْمَوْتِ اَوِ الْقَتْلِ وَاِذًا لَّا تُمَتَّعُوْنَ اِلَّا قَلِيْلًا
আপনি বলে দিন, তোমরা যদি মৃত্যু অথবা হত্যার ভয়ে পলায়ন কর, তবে সে পলায়ন তোমাদের কোন উপকারে আসবে না; তোমাদেরকে অল্পই ভোগ করতে দেয়া হবে। (সূরা আহযাব- ১৬)
قُلْ اِنَّ الْمَوْتَ الَّذِيْ تَفِرُّوْنَ مِنْهُ فَاِنَّهٗ مُلَاقِيْكُمْ ثُمَّ تُرَدُّوْنَ اِلٰى عَالِمِ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ فَيُنَبِّئُكُمْ بِمَا كُنْتُمْ تَعْمَلُوْنَ
বলো, তোমরা যে মৃত্যু হতে পলায়ন করো (একদিন) সেই মৃত্যু তোমাদের মুখোমুখি হবেই। অতঃপর তোমাদেরকে উপস্থিত করা হবে অদৃশ্য ও দৃশ্যের জ্ঞানী আল্লাহর নিকট; তখন তিনি তোমাদেরকে জানিয়ে দেবেন যা তোমরা (দুনিয়াতে) করে বেড়াতে। (সূরা জুমু‘আ- ৮)
প্রাচীরের ভেতরে ঢুকলেও মৃত্যু আসবে :
اَيْنَمَا تَكُوْنُوْا يُدْرِكْكُّمُ الْمَوْتُ وَلَوْ كُنْتُمْ فِيْ بُرُوْجٍ مُّشَيَّدَةٍ
তোমরা যেখানেই থাক না কেন মৃত্যু তোমাদের নাগাল পাবেই, এমনকি সুউচ্চ সুদৃঢ় দুর্গে অবস্থান করলেও। (সূরা নিসা- ৭৮)
নবীদেরকেও মৃত্যুবরণ করতে হয়েছে :
وَمَا جَعَلْنَا لِبَشَرٍ مِّنْ قَبْلِكَ الْخُلْدَؕ اَفَاِنْ مِّتَّ فَهُمُ الْخَالِدُوْنَ
আমি তোমার পূর্বেও কোন মানুষকে অনমত্ম জীবন দান করিনি; সুতরাং তোমার মৃত্যু হলে তারা কি চিরস্থায়ী হয়ে থাকবে? (সূরা আম্বিয়া- ৩৪)
اِنَّكَ مَيِّتٌ وَّاِنَّهُمْ مَّيِّتُوْنَ ‐ ثُمَّ اِنَّكُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ عِنْدَ رَبِّكُمْ تَخْتَصِمُوْنَ
নিশ্চয় আপনিও মৃত্যুবরণ করবেন আর তারাও মৃত্যুবরণ করবে। অতঃপর কিয়ামতের দিন তোমরা স্বীয় প্রতিপালকের সামনে বিতর্ক করবে। (সূরা যুমার- ৩০, ৩১)
নির্দিষ্ট সময় এসে গেলে একটুও পেছানো হবে না :
فَاِذَا جَآءَ اَجَلُهُمْ لَا يَسْتَاْخِرُوْنَ سَاعَةً وَّلَا يَسْتَقْدِمُوْنَ
যখন তাদের সময় এসে যায়, তখন তারা এক মুহূর্তও বিলম্ব অথবা ত্বরান্বিত করতে পারে না। (সূরা নাহল- ৬১)
যেকোন বয়সেই মৃত্যু হতে পারে :
وَمِنْكُمْ مَّنْ يُّتَوَفّٰى وَمِنْكُمْ مَّنْ يُّرَدُّ اِلٰۤى اَرْذَلِ الْعُمُرِ لِكَيْلَا يَعْلَمَ مِنْ ۢبَعْدِ عِلْمٍ شَيْئًا
তোমাদের মধ্যে কারো কারো মৃত্যু ঘটানো হয় এবং কাউকে পৌঁছানো হয় হীনতম বয়সে, যার ফলে তারা যা কিছু জানতো সে সম্বন্ধে জ্ঞান থাকে না। (সূরা হজ্জ- ৫)
মৃত্যুর ফেরেশতা জান কবজ করে :
قُلْ يَتَوَفَّاكُمْ مَّلَكُ الْمَوْتِ الَّذِيْ وُكِّلَ بِكُمْ ثُمَّ اِلٰى رَبِّكُمْ تُرْجَعُوْنَ
আপনি বলে দিন, তোমাদের জীবন হরণের দায়িত্বে নিয়োজিত মৃত্যুর ফেরেশতা তোমাদের মৃত্যু ঘটাবে, তারপর তোমাদেরকে তোমাদের প্রতিপালকের নিকট ফিরিয়ে নেয়া হবে। (সূরা সাজদা- ১১)
নেককারদের মৃত্যুর সময় ফেরেশতারা সালাম জানায় :
اَلَّذِيْنَ تَتَوَفَّاهُمُ الْمَلَآئِكَةُ طَيِّبِيْنَ يَقُوْلُوْنَ سَلَامٌ عَلَيْكُمُ ادْخُلُوا الْجَنَّةَ بِمَا كُنْتُمْ تَعْمَلُوْنَ
পবিত্র থাকাবস্থায় ফেরেশতারা যাদের মৃত্যু ঘটায় তাদেরকে বলে, তোমাদের প্রতি শান্তি! তোমরা যা করতে তার ফলে জান্নাতে প্রবেশ করো। (সূরা নাহল- ৩২)
কাফিরদের মৃত্যুর সময় ফেরেশতারা প্রহার করে :
وَلَوْ تَرٰۤى اِذْ يَتَوَفَّى الَّذِيْنَ كَفَرُوا الْمَلَآئِكَةُ يَضْرِبُوْنَ وُجُوْهَهُمْ وَاَدْبَارَهُمْۚ وَذُوْقُوْا عَذَابَ الْحَرِيْقِ
তুমি যদি দেখতে পেতে ফেরেশতারা কাফিরদের মুখমন্ডলে ও পৃষ্ঠদেশে আঘাত করে তাদের প্রাণ হরণ করে এবং বলে, তোমরা দহনযন্ত্রণা ভোগ করো। (সূরা আনফাল- ৫০)
মৃত্যুর যন্ত্রণা সত্য :
وَجَاءَتْ سَكْرَةُ الْمَوْتِ بِالْحَقِّؕ ذٰلِكَ مَا كُنْتَ مِنْهُ تَحِيْدُ
মৃত্যুর যন্ত্রণা সত্যই আসবে; এটা সে জিনিস, যা হতে তোমরা অব্যাহতি চাইতে। (সূরা কবাফ- ১৯)
ব্যাখ্যা : মৃত্যুর যন্ত্রণা সেই পরম সূচনাবিন্দু যেখান থেকে দুনিয়ার জীবনে পর্দার আড়ালে লুকানো মহাসত্য উন্মুক্ত হতে আরম্ভ করে। এ সময় মানুষ সেই জগতটিকে স্পষ্ট দেখতে পায়, যার খবর নবী-রাসূলগণ দিয়েছিলেন। তখন সে এ কথাও জানতে পারে যে, আখিরাত পুরোপুরি সত্য। জীবনের এ দ্বিতীয় পর্যায়ে সে সৌভাগ্যবান হিসেবে প্রবেশ করছে, না হতভাগ্য হিসেবে তাও সে জানতে পারে।
আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুমিন লোকের রূহ কবজ করার পর দু’জন ফেরেশতা এসে তার রূহ আকাশের দিকে উঠিয়ে নিয়ে যায়। বর্ণনাকারী হাম্মাদ (রহ:) বলেন, আবু হুরায়রা (রাঃ) ঐ রূহের সুগন্ধি এবং মিশ্কের কথা বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, তখন আকাশের বাসিন্দারা বলতে থাকে, এক পবিত্র আত্মা পৃথিবী হতে আগমন করেছে। আল্লাহ তোমার প্রতি এবং তোমার আবাদকৃত শরীরের প্রতি করুণা বর্ষণ করুন। তারপর তাকে তার প্রতিপালকের নিকট নিয়ে যায়। অতঃপর তিনি বলেন, তোমরা তাকে তার স্থানে নিয়ে যাও। আর যখন কোন কাফির লোকের রূহ বের হয় তখন আকাশমন্ডলীর অধিবাসীরা বলতে থাকে, এক অপবিত্র আত্মা দুনিয়া হতে এসেছে। অতঃপর বলা হয়, তোমরা তাকে তার স্থানে নিয়ে যাও। আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, এ সময় রাসূল ﷺ গায়ে জড়ানো একটি পাতলা কাপড় দ্বারা নিজের নাকটি এভাবে ধরলেন। (সহীহ মুসলিম, হা/৭১১৩)
আল্লাহর হুকুম ছাড়া কেউ মৃত্যুবরণ করে না :
وَمَا كَانَ لِنَفْسٍ اَنْ تَمُوْتَ اِلَّا بِاِذْنِ اللهِ كِتَابًا مُّؤَجَّلًا
আল্লাহর আদেশে ধার্যকৃত লিপিবদ্ধ নির্দিষ্ট সময় ব্যতীত কেউই মৃত্যুর মুখে পতিত হয় না। (সূরা আলে ইমরান- ১৪৫)
কে কোথায় মারা যাবে কেউ জানে না :
وَمَا تَدْرِيْ نَفْسٌ ۢبِاَيِّ اَرْضٍ تَمُوْتُ
কেউ জানে না কোন স্থানে সে মৃত্যুবরণ করবে। (সূরা লুক্বমান- ৩৪)
মৃত্যু উপস্থিত হলে আর তাওবা কবুল হয় না :
وَلَيْسَتِ التَّوْبَةُ لِلَّذِيْنَ يَعْمَلُوْنَ السَّيِّئَاتِۚ حَتّٰۤى اِذَا حَضَرَ اَحَدَهُمُ الْمَوْتُ قَالَ اِنِّي ْتُبْتُ الْاٰنَ وَلَا الَّذِيْنَ يَمُوْتُوْنَ وَهُمْ كُفَّارٌؕ اُولٰٓئِكَ اَعْتَدْنَا لَهُمْ عَذَابًا اَلِيْمًا
তাদের জন্য কোন তাওবা নেই, যারা পাপকাজ করতেই থাকে- এমনকি তাদের কারো নিকট মৃত্যু উপস্থিত হয়, তখন বলে আমি এখন তাওবা করছি। আর তাদেরও কোন তাওবা নেই, যারা কাফির অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে। এদের জন্য আমি যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছি। (সূরা নিসা- ১৮)
মৃত্যুর মাধ্যমে মানুষের পরীক্ষা হয় :
اَلَّذِيْ خَلَقَ الْمَوْتَ وَالْحَيَاةَ لِيَبْلُوَكُمْ اَيُّكُمْ اَحْسَنُ عَمَلًا
তিনি মৃত্যু ও জীবন সৃষ্টি করেছেন তোমাদেরকে এ পরীক্ষা করার জন্য যে, কে তোমাদের মধ্যে আমলের দিক দিয়ে সর্বোত্তম। (সূরা মুলক- ২)