hadith book logo

তাফসীরুল কুরআন বিল কুরআন

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৩৬২

অধ্যায়- ৭ : কিয়ামতের দিন পৃথিবীর অবস্থা

পৃথিবীতে কম্পন সৃষ্টি হবে :

اِذَا زُلْزِلَتِ الْاَرْضُ زِلْزَالَهَا

যখন ঝাঁকুনি দিয়ে পৃথিবীকে তার (প্রবল) কম্পনে কম্পিত করা হবে। (সূরা যিলযাল- ১)

يَوْمَ تَرْجُفُ الرَّاجِفَةُ – تَتْبَعُهَا الرَّادِفَةُ

সেদিন কম্পনকারী প্রবলভাবে কম্পিত হবে এবং তাকে অনুসরণ করবে পরবর্তী কম্পন। (সূরা নাযি‘আত- ৬, ৭)

اِذَا رُجَّتِ الْاَرْضُ رَجًّا

যখন পৃথিবী প্রবল কম্পনে প্রকম্পিত হবে। (সূরা ওয়াক্বিয়া- ৪)

পৃথিবী চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যাবে :

كَلَّاۤ اِذَا دُكَّتِ الْاَرْضُ دَكًّا دَكًّا

সাবধান! যখন পৃথিবী চূর্ণবিচূর্ণ হবে। (সূরা ফাজর- ২১)

পৃথিবী বিস্তৃত হবে :

وَاِذَا الْاَرْضُ مُدَّتْ

যখন পৃথিবীকে সম্প্রসারিত করা হবে। (সূরা ইনশিক্বাক- ৩)

নতুন আকাশ ও পৃথিবীর জন্ম হবে :

يَوْمَ تُبَدَّلُ الْاَرْضُ غَيْرَ الْاَرْضِ وَالسَّمَاوَاتُ وَبَرَزُوْا لِلّٰهِ الْوَاحِدِ الْقَهَّارِ

যেদিন এ পৃথিবী ও আকাশমন্ডলী পরিবর্তিত হয়ে অন্য পৃথিবীতে পরিণত হবে এবং সকল মানুষ আল্লাহর সামনে উপস্থিত হবে, যিনি এক ও পরাক্রমশালী। (সূরা ইবরাহীম- ৪৮)

ব্যাখ্যা : পরকালীন জগতে পৃথিবী নতুন রূপ ধারণ করবে। দুনিয়ার সকল সমুদ্র ভরাট করে, পাহাড়গুলো ভেঙ্গে, উঁচু-নিচু সমান করে, বনজঙ্গল পরিষ্কার করে পুরোপুরি সমান করে দেয়া হবে। এ আকৃতির পৃথিবীর উপর হাশর প্রতিষ্ঠিত হবে এবং আল্লাহ সেখানে আদালত (ন্যায়বিচার) কায়েম করবেন।

পৃথিবীতে কোন উঁচু-নিচু টিলা থাকবে না :

فَيَذَرُهَا قَاعًا صَفْصَفًا – لَا تَرٰى فِيْهَا عِوَجًا وَّلَاۤ اَمْتًا

অতঃপর তিনি তাকে পরিণত করবেন পরিষ্কার সমতল ভূমিতে, যাতে তুমি কোন বক্রতা ও উচ্চতা দেখবে না। (সূরা ত্বা-হা- ১০৬, ১০৭)

وَيَوْمَ نُسَيِّرُ الْجِبَالَ وَتَرَى الْاَرْضَ بَارِزَةً وَّحَشَرْنَاهُمْ فَلَمْ نُغَادِرْ مِنْهُمْ اَحَدًا

যেদিন আমি পর্বতমালাকে সঞ্চালিত করব, তখন পৃথিবীকে তুমি উন্মুক্ত প্রান্তর হিসেবে দেখতে পাবে। সেদিন তাদের সকলকে একত্র করব এবং তাদের কাউকেও অব্যাহতি দেব না। (সূরা কাহফ- ৪৭)