১
তাফসীরুল কুরআন বিল কুরআন
লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৩৪
অধ্যায়- ১২ : কুরআন সম্পর্কে অবিশ্বাসীদের নানা মন্তব্য
তারা বলে, এ কুরআন পুরানো দিনের গল্প :
اِذَا تُتْلٰى عَلَيْهِ اٰيَاتُنَا قَالَ اَسَاطِيْرُ الْاَ وَّلِيْنَ
যখন তার নিকট আমার আয়াতসমূহ পাঠ করা হয় তখন সে বলে, এটা তো পূর্ববর্তীদের কাহিনী!
(সূরা মুতাফফিফীন- ১৩)
وَقَالُوْاۤ اَسَاطِيْرُ الْاَ وَّلِيْنَ اكْتَتَبَهَا فَهِيَ تُمْلٰى عَلَيْهِ بُكْرَةً وَّاَصِيْلًا
তারা বলে, এগুলো তো পূর্ববর্তীদের কাহিনী, যা সে লিখিয়ে নিয়েছে; এগুলো সকাল-সন্ধ্যায় তার নিকট পাঠ করা হয়। (সূরা ফুরক্বান- ৫)
وَمِنْهُمْ مَّنْ يَّسْتَمِعُ اِلَيْكَۚ وَجَعَلْنَا عَلٰى قُلُوْبِهِمْ اَكِنَّةً اَنْ يَّفْقَهُوْهُ وَفِۤيْ اٰذَانِهِمْ وَقْرًاؕ وَاِنْ يَّرَوْا كُلَّ اٰيَةٍ لَّا يُؤْمِنُوْا بِهَاؕ حَتّٰۤى اِذَا جَآءُوْكَ يُجَادِلُوْنَكَ يَقُوْلُ الَّذِيْنَ كَفَرُوْاۤ اِنْ هٰذَاۤ اِلَّاۤ اَسَاطِيْرُ الْاَوَّلِيْنَ
তাদের মধ্যে কতক তোমার দিকে কান পেতে রাখে, কিন্তু আমি তাদের অন্তরের উপর আবরণ দিয়ে রেখেছি, যেন তারা তা উপলদ্ধি করতে না পারে এবং তাদেরকে বধির করে রেখেছি। সুতরাং তারা সমস্ত নিদর্শন প্রত্যক্ষ করলেও তাতে (কুরআনের প্রতি) ঈমান আনবে না; এমনকি তারা যখন তোমার নিকট উপস্থিত হয়ে বিতর্কে লিপ্ত হয় তখন কাফিররা বলে, ‘এটা তো পূর্ববর্তীদের রূপকথা ব্যতীত আর কিছুই নয়।’ (সূরা আন‘আম- ২৫)
এগুলো পুরাতন মিথ্যা কথা :
وَقَالَ الَّذِيْنَ كَفَرُوْا لِلَّذِيْنَ اٰمَنُوْا لَوْ كَانَ خَيْرًا مَّا سَبَقُوْنَاۤ اِلَيْهِؕ وَاِذْ لَمْ يَهْتَدُوْا بِهٖ فَسَيَقُوْلُوْنَ هٰذَاۤ اِفْكٌ قَدِيْمٌ
কাফিররা ঈমানদারদের সম্পর্কে বলে, যদি (এ কিতাবকে মেনে নেয়া সত্যিই) কোন ভালো কাজ হতো, তাহলে তারা এ বিষয়ে আমাদেরকে ছাড়িয়ে যেতে পারত না। যেহেতু তারা এ থেকে হেদায়াত পেল না, সেহেতু তারা বলবে যে, এটা তো পুরাতন মিথ্যা (কাহিনী) মাত্র। (সূরা আহকাফ- ১১)
وَقَالُوْا مَا هٰذَاۤ اِلَّاۤ اِفْكٌ مُّفْتَرًى
তারা আরো বলে যে, এটা তো মিথ্যা রচনা ছাড়া আর কিছু নয়। (সূরা সাবা- ৪৩)
ব্যাখ্যা : নবী ﷺ এর ব্যাপারে সাধারণ মানুষকে প্রতারিত করার জন্য কুরাইশ নেতারা বলত, ‘এ কুরআন যদি সত্য হতো এবং মুহাম্মাদ যদি সঠিক দ্বীনের দাওয়াত দিতেন, তাহলে তার সম্প্রদায়ের নেতা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অগ্রসর হয়ে তা গ্রহণ করে নিত। এটা কী করে হতে পারে যে, কতিপয় অনভিজ্ঞ বালক এবং কিছু সংখ্যক নীচু পর্যায়ের ক্রীতদাস একটি যুক্তিসঙ্গত কথা মেনে নেবে; কিন্তু জাতির গণ্যমান্য ব্যক্তিরা তা প্রত্যাখ্যান করবে? নতুন এই দাওয়াতে অবশ্যই মন্দ কিছু আছে। তাই কওমের গণ্যমান্য ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ তা মানছে না। অতএব তোমরাও তা থেকে দূরে সরে যাও। এভাবে তারা প্রতারণামূলক যুক্তি পেশ করে সাধারণ মানুষকে এ থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করত।
এগুলো এলোমেলো স্বপ্ন :
بَلْ قَالُوْاۤ اَضْغَاثُ اَحْلَامٍ ۢبَلِ افْتَرَاهُ بَلْ هُوَ شَاعِرٌۚ فَلْيَاْتِنَا بِاٰيَةٍ كَمَاۤ اُرْسِلَ الْاَ وَّلُوْنَ
তারা এটাও বলে যে, এগুলো অলীক কল্পনা- হয় সে এটা উদ্ভাবন করেছে, নতুবা সে একজন কবি। অতএব সে আমাদের নিকট একটি নিদর্শন আনয়ন করুক, যেরূপ নিদর্শনসহ পূর্ববর্তীগণ প্রেরিত হয়েছিলেন। (সূরা আম্বিয়া- ৫)
এগুলো পাগলের শেখানো বুলি :
ثُمَّ تَوَلَّوْا عَنْهُ وَقَالُوْا مُعَلَّمٌ مَّجْنُوْنٌ
অতঃপর তারা তাকে পৃষ্ঠপ্রদর্শন করে বলে, সে তো শেখানো (বুলি বলছে), সে তো এক পাগল। (সূরা দুখান- ১৪)
এগুলো মনগড়া উক্তি :
مَا سَمِعْنَا بِهٰذَا فِى الْمِلَّةِ الْاٰخِرَةِۚ اِنْ هٰذَاۤ اِلَّا اخْتِلَاقٌ
এরূপ কথা তো আমরা পূর্ববর্তী ধর্মে শুনিনি। এটা তো মনগড়া উক্তি ছাড়া আর কিছু নয়। (সূরা সোয়াদ- ৭, ৮)
মানুষের সহযোগিতায় এটা বানানো হয়েছে :
وَقَالَ الَّذِيْنَ كَفَرُوْاۤ اِنْ هٰذَاۤ اِلَّاۤ اِفْكُ نِ افْتَرَاهُ وَاَعَانَهٗ عَلَيْهِ قَوْمٌ اٰخَرُوْنَۚ فَقَدْ جَآءُوْا ظُلْمًا وَّزُوْرًاۚ وَقَالُوْاۤ اَسَاطِيْرُ الْاَ وَّلِيْنَ اكْتَتَبَهَا فَهِيَ تُمْلٰى عَلَيْهِ بُكْرَةً وَّاَصِيْلًا
কাফিররা বলে, ‘এটা মিথ্যা ব্যতীত কিছুই নয়, সে এটা উদ্ভাবন করেছে এবং ভিন্ন সম্প্রদায়ের লোক তাকে এ ব্যাপারে সাহায্য করেছে।’ এভাবে তারা অবশ্যই যুলুম ও মিথ্যায় উপনীত হয়েছে। তারা বলে, ‘এগুলো তো পূর্বকালের উপকথা, যা সে লিখিয়ে নিয়েছে; এগুলো সকাল-সন্ধ্যায় তার নিকট পাঠ করা হয়।’ (সূরা ফুরক্বান- ৪, ৫)
ব্যাখ্যা : তারা বলত, এ ব্যক্তি তো নিরক্ষর, সে নিজে পড়শুনা করে কোন নতুন জ্ঞান আহরণ করতে পারে না এবং ইতোপূর্বেও সে কোনদিন কারো কাছে কোন শিক্ষা অর্জন করেনি। আজ তার মুখ থেকে যেসব কথা বের হচ্ছে বিগত চল্লিশ বছর বয়সেও তো সে তা জানতো না। তাহলে এখন হঠাৎ এসব জ্ঞান আসছে কোথা থেকে? তাহলে এগুলোর উৎস নিশ্চয় আগের যুগের লোকদের কিছু কিতাব। রাতের বেলা চুপিসারে সেগুলো থেকে কিছু কিছু অংশ কারো কাছ থেকে অনুবাদ করিয়ে নেয়। অতঃপর তা দিনের বেলায় পাঠ করে আমাদেরকে শুনিয়ে দেয়। এর জবাবে বলা হয়েছে, তোমরা সত্যের প্রতি যুলুম করছ এবং পরিষ্কার বেইনসাফী ও অযৌক্তিক অভিযোগ আরোপ করছ। তোমরা তার ব্যাপারে যেসব কথা বলছ, তা কখনো বাস্তব হতে পারে না। কেননা তোমাদের কথা অনুযায়ী যদি তাই হতো, তবে তার পক্ষে তোমাদের দৃষ্টি ফাঁকি দেয়া সম্ভবপর ছিল না। তাছাড়া এটা হচ্ছে ঐ সত্তার কালাম, যিনি আকাশ ও পৃথিবীর সকল গোপন রহস্য সম্পর্কে অবগত আছেন। সুতরাং এ কালামকে নিয়ে মিথ্যা রটনা করলে, তিনিই তার ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। যার কারণে প্রত্যেক শ্রোতার কাছে তাদের এ অভিযোগ এমনিতেই ছিল অর্থহীন ও অযৌক্তিক। তাই শুধুমাত্র এ অভিযোগের জবাব দেয়ার জন্য কুরআনে একে উদ্ধৃত করা হয়নি, বরং এ কথা বলার জন্য উল্লেখ করা হয়েছে যে, দেখো! সত্যের বিরুদ্ধাচরণ করার ক্ষেত্রে এরা কেমন অন্ধ হয়ে গেছে এবং কত মারাত্মক মিথ্যা ও জগন্য পথ বেছে নিয়েছে।
কুরআনের মতো এরকম কথা আমরাও বানাতে পারি :
وَاِذَا تُتْلٰى عَلَيْهِمْ اٰيَاتُنَا قَالُوْا قَدْ سَمِعْنَا لَوْ نَشَآءُ لَقُلْنَا مِثْلَ هٰذَاۤ اِنْ هٰذَاۤ اِلَّاۤ اَسَاطِيْرُ الْاَ وَّلِيْنَ
যখন তাদের নিকট আমার আয়াতসমূহ পাঠ করা হয় তখন তারা বলে, আমরা শ্রবণ করলাম; ইচ্ছা করলে আমরাও এর অনুরূপ বলতে পারি, এটা তো শুধু পূর্ববর্তীদের কাহিনী মাত্র। (সূরা আনফাল- ৩১)
এটা সুস্পষ্ট যাদু :
وَاِذَا تُتْلٰى عَلَيْهِمْ اٰيَاتُنَا بَيِّنَاتٍ قَالَ الَّذِيْنَ كَفَرُوْا لِلْحَقِّ لَمَّا جَآءَهُمْ هٰذَاۤ اِلَّا سِحْرٌ مُّبِيْنٌ
যখন এদেরকে আমার সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ পড়ে শুনানো হয়, তখন কাফিররা সে সত্য সম্পর্কে বলে, যা তাদের সামনে এসে গেছে- এটা তো স্পষ্ট যাদু ছাড়া কিছু নয়। (সূরা আহকাফ- ৭)
وَلَمَّا جَآءَهُمُ الْحَقُّ قَالُوْا هٰذَا سِحْرٌ وَّ اِنَّا بِهٖ كَافِرُوْنَ
যখন তাদের নিকট সত্য এসে গেল তখন তারা বলল, এটা তো যাদু। অবশ্যই আমরা এটাকে অস্বীকার করি। (সূরা যুখরুফ- ৩০)
اِذَا تُتْلٰى عَلَيْهِ اٰيَاتُنَا قَالَ اَسَاطِيْرُ الْاَ وَّلِيْنَ
যখন তার নিকট আমার আয়াতসমূহ পাঠ করা হয় তখন সে বলে, এটা তো পূর্ববর্তীদের কাহিনী!
(সূরা মুতাফফিফীন- ১৩)
وَقَالُوْاۤ اَسَاطِيْرُ الْاَ وَّلِيْنَ اكْتَتَبَهَا فَهِيَ تُمْلٰى عَلَيْهِ بُكْرَةً وَّاَصِيْلًا
তারা বলে, এগুলো তো পূর্ববর্তীদের কাহিনী, যা সে লিখিয়ে নিয়েছে; এগুলো সকাল-সন্ধ্যায় তার নিকট পাঠ করা হয়। (সূরা ফুরক্বান- ৫)
وَمِنْهُمْ مَّنْ يَّسْتَمِعُ اِلَيْكَۚ وَجَعَلْنَا عَلٰى قُلُوْبِهِمْ اَكِنَّةً اَنْ يَّفْقَهُوْهُ وَفِۤيْ اٰذَانِهِمْ وَقْرًاؕ وَاِنْ يَّرَوْا كُلَّ اٰيَةٍ لَّا يُؤْمِنُوْا بِهَاؕ حَتّٰۤى اِذَا جَآءُوْكَ يُجَادِلُوْنَكَ يَقُوْلُ الَّذِيْنَ كَفَرُوْاۤ اِنْ هٰذَاۤ اِلَّاۤ اَسَاطِيْرُ الْاَوَّلِيْنَ
তাদের মধ্যে কতক তোমার দিকে কান পেতে রাখে, কিন্তু আমি তাদের অন্তরের উপর আবরণ দিয়ে রেখেছি, যেন তারা তা উপলদ্ধি করতে না পারে এবং তাদেরকে বধির করে রেখেছি। সুতরাং তারা সমস্ত নিদর্শন প্রত্যক্ষ করলেও তাতে (কুরআনের প্রতি) ঈমান আনবে না; এমনকি তারা যখন তোমার নিকট উপস্থিত হয়ে বিতর্কে লিপ্ত হয় তখন কাফিররা বলে, ‘এটা তো পূর্ববর্তীদের রূপকথা ব্যতীত আর কিছুই নয়।’ (সূরা আন‘আম- ২৫)
এগুলো পুরাতন মিথ্যা কথা :
وَقَالَ الَّذِيْنَ كَفَرُوْا لِلَّذِيْنَ اٰمَنُوْا لَوْ كَانَ خَيْرًا مَّا سَبَقُوْنَاۤ اِلَيْهِؕ وَاِذْ لَمْ يَهْتَدُوْا بِهٖ فَسَيَقُوْلُوْنَ هٰذَاۤ اِفْكٌ قَدِيْمٌ
কাফিররা ঈমানদারদের সম্পর্কে বলে, যদি (এ কিতাবকে মেনে নেয়া সত্যিই) কোন ভালো কাজ হতো, তাহলে তারা এ বিষয়ে আমাদেরকে ছাড়িয়ে যেতে পারত না। যেহেতু তারা এ থেকে হেদায়াত পেল না, সেহেতু তারা বলবে যে, এটা তো পুরাতন মিথ্যা (কাহিনী) মাত্র। (সূরা আহকাফ- ১১)
وَقَالُوْا مَا هٰذَاۤ اِلَّاۤ اِفْكٌ مُّفْتَرًى
তারা আরো বলে যে, এটা তো মিথ্যা রচনা ছাড়া আর কিছু নয়। (সূরা সাবা- ৪৩)
ব্যাখ্যা : নবী ﷺ এর ব্যাপারে সাধারণ মানুষকে প্রতারিত করার জন্য কুরাইশ নেতারা বলত, ‘এ কুরআন যদি সত্য হতো এবং মুহাম্মাদ যদি সঠিক দ্বীনের দাওয়াত দিতেন, তাহলে তার সম্প্রদায়ের নেতা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অগ্রসর হয়ে তা গ্রহণ করে নিত। এটা কী করে হতে পারে যে, কতিপয় অনভিজ্ঞ বালক এবং কিছু সংখ্যক নীচু পর্যায়ের ক্রীতদাস একটি যুক্তিসঙ্গত কথা মেনে নেবে; কিন্তু জাতির গণ্যমান্য ব্যক্তিরা তা প্রত্যাখ্যান করবে? নতুন এই দাওয়াতে অবশ্যই মন্দ কিছু আছে। তাই কওমের গণ্যমান্য ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ তা মানছে না। অতএব তোমরাও তা থেকে দূরে সরে যাও। এভাবে তারা প্রতারণামূলক যুক্তি পেশ করে সাধারণ মানুষকে এ থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করত।
এগুলো এলোমেলো স্বপ্ন :
بَلْ قَالُوْاۤ اَضْغَاثُ اَحْلَامٍ ۢبَلِ افْتَرَاهُ بَلْ هُوَ شَاعِرٌۚ فَلْيَاْتِنَا بِاٰيَةٍ كَمَاۤ اُرْسِلَ الْاَ وَّلُوْنَ
তারা এটাও বলে যে, এগুলো অলীক কল্পনা- হয় সে এটা উদ্ভাবন করেছে, নতুবা সে একজন কবি। অতএব সে আমাদের নিকট একটি নিদর্শন আনয়ন করুক, যেরূপ নিদর্শনসহ পূর্ববর্তীগণ প্রেরিত হয়েছিলেন। (সূরা আম্বিয়া- ৫)
এগুলো পাগলের শেখানো বুলি :
ثُمَّ تَوَلَّوْا عَنْهُ وَقَالُوْا مُعَلَّمٌ مَّجْنُوْنٌ
অতঃপর তারা তাকে পৃষ্ঠপ্রদর্শন করে বলে, সে তো শেখানো (বুলি বলছে), সে তো এক পাগল। (সূরা দুখান- ১৪)
এগুলো মনগড়া উক্তি :
مَا سَمِعْنَا بِهٰذَا فِى الْمِلَّةِ الْاٰخِرَةِۚ اِنْ هٰذَاۤ اِلَّا اخْتِلَاقٌ
এরূপ কথা তো আমরা পূর্ববর্তী ধর্মে শুনিনি। এটা তো মনগড়া উক্তি ছাড়া আর কিছু নয়। (সূরা সোয়াদ- ৭, ৮)
মানুষের সহযোগিতায় এটা বানানো হয়েছে :
وَقَالَ الَّذِيْنَ كَفَرُوْاۤ اِنْ هٰذَاۤ اِلَّاۤ اِفْكُ نِ افْتَرَاهُ وَاَعَانَهٗ عَلَيْهِ قَوْمٌ اٰخَرُوْنَۚ فَقَدْ جَآءُوْا ظُلْمًا وَّزُوْرًاۚ وَقَالُوْاۤ اَسَاطِيْرُ الْاَ وَّلِيْنَ اكْتَتَبَهَا فَهِيَ تُمْلٰى عَلَيْهِ بُكْرَةً وَّاَصِيْلًا
কাফিররা বলে, ‘এটা মিথ্যা ব্যতীত কিছুই নয়, সে এটা উদ্ভাবন করেছে এবং ভিন্ন সম্প্রদায়ের লোক তাকে এ ব্যাপারে সাহায্য করেছে।’ এভাবে তারা অবশ্যই যুলুম ও মিথ্যায় উপনীত হয়েছে। তারা বলে, ‘এগুলো তো পূর্বকালের উপকথা, যা সে লিখিয়ে নিয়েছে; এগুলো সকাল-সন্ধ্যায় তার নিকট পাঠ করা হয়।’ (সূরা ফুরক্বান- ৪, ৫)
ব্যাখ্যা : তারা বলত, এ ব্যক্তি তো নিরক্ষর, সে নিজে পড়শুনা করে কোন নতুন জ্ঞান আহরণ করতে পারে না এবং ইতোপূর্বেও সে কোনদিন কারো কাছে কোন শিক্ষা অর্জন করেনি। আজ তার মুখ থেকে যেসব কথা বের হচ্ছে বিগত চল্লিশ বছর বয়সেও তো সে তা জানতো না। তাহলে এখন হঠাৎ এসব জ্ঞান আসছে কোথা থেকে? তাহলে এগুলোর উৎস নিশ্চয় আগের যুগের লোকদের কিছু কিতাব। রাতের বেলা চুপিসারে সেগুলো থেকে কিছু কিছু অংশ কারো কাছ থেকে অনুবাদ করিয়ে নেয়। অতঃপর তা দিনের বেলায় পাঠ করে আমাদেরকে শুনিয়ে দেয়। এর জবাবে বলা হয়েছে, তোমরা সত্যের প্রতি যুলুম করছ এবং পরিষ্কার বেইনসাফী ও অযৌক্তিক অভিযোগ আরোপ করছ। তোমরা তার ব্যাপারে যেসব কথা বলছ, তা কখনো বাস্তব হতে পারে না। কেননা তোমাদের কথা অনুযায়ী যদি তাই হতো, তবে তার পক্ষে তোমাদের দৃষ্টি ফাঁকি দেয়া সম্ভবপর ছিল না। তাছাড়া এটা হচ্ছে ঐ সত্তার কালাম, যিনি আকাশ ও পৃথিবীর সকল গোপন রহস্য সম্পর্কে অবগত আছেন। সুতরাং এ কালামকে নিয়ে মিথ্যা রটনা করলে, তিনিই তার ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। যার কারণে প্রত্যেক শ্রোতার কাছে তাদের এ অভিযোগ এমনিতেই ছিল অর্থহীন ও অযৌক্তিক। তাই শুধুমাত্র এ অভিযোগের জবাব দেয়ার জন্য কুরআনে একে উদ্ধৃত করা হয়নি, বরং এ কথা বলার জন্য উল্লেখ করা হয়েছে যে, দেখো! সত্যের বিরুদ্ধাচরণ করার ক্ষেত্রে এরা কেমন অন্ধ হয়ে গেছে এবং কত মারাত্মক মিথ্যা ও জগন্য পথ বেছে নিয়েছে।
কুরআনের মতো এরকম কথা আমরাও বানাতে পারি :
وَاِذَا تُتْلٰى عَلَيْهِمْ اٰيَاتُنَا قَالُوْا قَدْ سَمِعْنَا لَوْ نَشَآءُ لَقُلْنَا مِثْلَ هٰذَاۤ اِنْ هٰذَاۤ اِلَّاۤ اَسَاطِيْرُ الْاَ وَّلِيْنَ
যখন তাদের নিকট আমার আয়াতসমূহ পাঠ করা হয় তখন তারা বলে, আমরা শ্রবণ করলাম; ইচ্ছা করলে আমরাও এর অনুরূপ বলতে পারি, এটা তো শুধু পূর্ববর্তীদের কাহিনী মাত্র। (সূরা আনফাল- ৩১)
এটা সুস্পষ্ট যাদু :
وَاِذَا تُتْلٰى عَلَيْهِمْ اٰيَاتُنَا بَيِّنَاتٍ قَالَ الَّذِيْنَ كَفَرُوْا لِلْحَقِّ لَمَّا جَآءَهُمْ هٰذَاۤ اِلَّا سِحْرٌ مُّبِيْنٌ
যখন এদেরকে আমার সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ পড়ে শুনানো হয়, তখন কাফিররা সে সত্য সম্পর্কে বলে, যা তাদের সামনে এসে গেছে- এটা তো স্পষ্ট যাদু ছাড়া কিছু নয়। (সূরা আহকাফ- ৭)
وَلَمَّا جَآءَهُمُ الْحَقُّ قَالُوْا هٰذَا سِحْرٌ وَّ اِنَّا بِهٖ كَافِرُوْنَ
যখন তাদের নিকট সত্য এসে গেল তখন তারা বলল, এটা তো যাদু। অবশ্যই আমরা এটাকে অস্বীকার করি। (সূরা যুখরুফ- ৩০)