hadith book logo

তাফসীরুল কুরআন বিল কুরআন

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৩৯৬

অধ্যায়- ১৪ : জান্নাতীদের অভ্যর্থনা ও সালাম

ফেরেশতারা জান্নাতীদেরকে সালাম জানাবে :

اَلَّذِيْنَ تَتَوَفَّاهُمُ الْمَلَآئِكَةُ طَيِّبِيْنَ يَقُوْلُوْنَ سَلَامٌ عَلَيْكُمُ ادْخُلُوا الْجَنَّةَ بِمَا كُنْتُمْ تَعْمَلُوْنَ

ফেরেশতারা পবিত্র অবস্থায় মৃত্যুবরণকারীদেরকে বলবে, তোমাদের প্রতি সালাম। তোমরা দুনিয়াতে যেসব নেক আমল করেছ তার বিনিময়ে আজ জান্নাতে প্রবেশ করো। (সূরা নাহল– ৩২)

ব্যাখ্যা : سَلَامٌ (সালাম) শব্দটিকে যদি নিরাপত্তা অর্থে গ্রহণ করা হয় তাহলে তার অর্থ হবে, সবরকম দুঃখ, দুশ্চিন্তা ও বিপদাপদ থেকে নিরাপদ হয়ে জান্নাতে প্রবেশ করো। আর যদি শান্তি অর্থে গ্রহণ করা হয় তাহলে অর্থ হবে, এ জান্নাতে এসো! আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতাদের পক্ষ থেকে তোমাকে সালাম।

জান্নাতের তত্ত্বাবধায়ক ফেরেশতারাও সালাম জানাবে :

حَتّٰۤى اِذَا جَآءُوْهَا وَفُتِحَتْ اَبْوَابُهَا وَقَالَ لَهُمْ خَزَنَتُهَا سَلَامٌ عَلَيْكُمْ طِبْتُمْ فَادْخُلُوْهَا خَالِدِيْنَ

যখন জান্নাতীরা সেখানে উপস্থিত হবে এবং এর দরজা খুলে দেয়া হবে, তখন তাঁর রক্ষণাবেক্ষণকারী ফেরেশতারা বলবে, হে জান্নাতীরা! তোমাদের প্রতি সালাম। তোমাদের আগমন শুভ হোক। তোমরা চিরস্থায়ীভাবে জান্নাতে প্রবেশ করো। (সূরা যুমার– ৭৩)

আরাফবাসীরাও সালাম জানাবে :

وَعَلَى الْاَعْرَافِ رِجَالٌ يَّعْرِفُوْنَ كُلًّا ۢبِسِيْمَاهُمْۚ وَنَادَوْا اَصْحَابَ الْجَنَّةِ اَنْ سَلَامٌ عَلَيْكُمْ لَمْ يَدْخُلُوْهَا وَهُمْ يَطْمَعُوْنَ

আরাফে (জান্নাত ও জাহান্নামের মধ্যখানে দেয়ালের উপর) কিছু লোক অবস্থান করবে। তাদের সবাইকে তাদের চিহ্ন দ্বারা চিনতে পারবে। তারা জান্নাতবাসীদেরকে ডেকে বলবে, তোমাদের প্রতি সালাম। তারা জান্নাতে প্রবেশ করেনি, তবে প্রবেশের আশা রাখবে। (সূরা আ‘রাফু ৪৬)

ব্যাখ্যা : আরাফবাসীরা হবে এমন একদল লোক, যাদের কর্মকান্ডের ভালো দিক এত বেশি শক্তিশালী হবে না, যার ফলে তারা জান্নাত লাভ করতে সক্ষম হয়। আবার এত বেশি খারাপও হবে না, যার ফলে তাদেরকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা যেতে পারে। তাই তারা জান্নাত ও জাহান্নামের মাঝখানে একটি সীমান্ত এলাকায় অবস্থান করবে।

মহান আল্লাহর পক্ষ থেকেও সালাম আসবে :

سَلَامٌ قَوْلًا مِّنْ رَّبٍّ رَّحِيْمٍ

তাদেরকে পরম দয়ালু আল্লাহর পক্ষ থেকে (স্বাগত জানিয়ে) বলা হবে, (তোমাদের উপর) সালাম (বর্ষিত হোক)। (সূরা ইয়াসীন- ৫৮)

জান্নাতীদের অভ্যর্থনা হবে সালাম :

وَاُدْخِلَ الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ جَنَّاتٍ تَجْرِيْ مِنْ تَحْتِهَا الْاَنْهَارُ خَالِدِيْنَ فِيْهَا بِاِذْنِ رَبِّهِمْؕ تَحِيَّتُهُمْ فِيْهَا سَلَامٌ

যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম করেছে তাদেরকে প্রবেশ করানো হবে জান্নাতে, যার নিচ দিয়ে নদীসমূহ প্রবাহিত হয়ে যাবে। সেখানে তারা তাদের প্রতিপালকের অনুমতিক্রমে চিরস্থায়ীভাবে বসবাস করবে। সেখানে তাদের সম্ভাষণ হবে সালাম। (সূরা ইবরাহীম– ২৩)

دَعْوَاهُمْ فِيْهَا سُبْحَانَكَ اللّٰهُمَّ وَتَحِيَّتُهُمْ فِيْهَا سَلَامٌۚ وَاٰخِرُ دَعْوَاهُمْ اَنِ الْحَمْدُ لِلّٰهِ رَبِّ الْعَالَمِيْنَ

জান্নাতীদের আহবান হবে সুবহানাকাল্লাহুম্মা অর্থাৎ হে আল্লাহ! আমরা আপনার পবিত্রতা বর্ণনা করছি এবং তাদের অভ্যর্থনা হবে সালাম। আর তাদের শেষ কথা হবে, ‘‘আলহামদু লিল্লাহি রবিবল আলামীন’’ অর্থাৎ সম্পস্ত প্রশংসা সারা বিশ্বের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। (সূরা ইউনুস– ১০)

ব্যাখ্যা : ঈমানদার ব্যক্তি দুনিয়ায় উন্নত চিন্তা এবং নিজের চরিত্র ও কার্যকলাপকে পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন করার মাধ্যমে নিজের মধ্যে যে ধরনের উৎকৃষ্টতম ব্যক্তিত্ব গড়ে তুলবে, দুনিয়ার পরিবেশ থেকে ভিন্নতর জান্নাতের অতি পবিত্র পরিবেশে সেই ব্যক্তিত্ব ও গুণাবলি আরো বেশি উজ্জ্বল হয়ে ভেসে উঠবে। তারা দুনিয়ায় আল্লাহর যে প্রশংসা ও পবিত্রতার কথা বর্ণনা করত, সেখানে সেটিই হবে তাদের সবচেয়ে প্রিয় কাজ। দুনিয়ায় বসবাস করার সময় পরস্পরের শান্তি ও নিরাপত্তা কামনার যে অনুভূতিকে তারা লালন করেছিল সেখানকার পরিবেশেও তাদের সেই অনুভূতিই সক্রিয় থাকবে।