১
তাফসীরুল কুরআন বিল কুরআন
লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১৩২
অধ্যায়- ২ : যেসব দলে যোগ দেয়া যাবে না
যেসব দলে আল্লাহর আইন বাস্তবায়নের কর্মসূচী নেই :
وَمَنْ لَّمْ يَحْكُمْ بِمَاۤ اَنْزَلَ اللهُ فَاُولٰٓئِكَ هُمُ الْكَافِرُوْنَ
যারা আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন সে অনুসারে মীমাংসা করে না, তারাই কাফির। (সূরা মায়েদা- ৪৪)
যেসব দলের নেতা কাফির :
فَلَا تُطِعِ الْكَافِرِيْنَ وَجَاهِدْهُمْ بِهٖ جِهَادًا كَبِيْرًا
সুতরাং তুমি কাফিরদের আনুগত্য করো না এবং তুমি এর দ্বারা (কুরআনের সাহায্যে) তাদের সাথে প্রবল সংগ্রাম চালিয়ে যাও। (সূরা ফুরক্বান- ৫২)
যেসব দলের নেতা মুনাফিক :
وَلَا تُطِعِ الْكَافِرِيْنَ وَالْمُنَافِقِيْنَ وَدَعْ اَذَاهُمْ
আর তুমি কাফির ও মুনাফিকদের কথা মানবে না এবং তাদের নির্যাতনকে উপেক্ষা করবে। (সূরা আহযাব- ৪৮)
যেসব দলের নেতা মিথ্যাবাদী :
فَلَا تُطِعِ الْمُكَذِّبِيْنَ
অতএব তুমি মিথ্যাপ্রতিপন্নকারীদের অনুসরণ করো না। (সূরা ক্বালাম- ৮)
যেসব দলের নেতা অসৎ ও চরিত্রহীন :
وَلَا تُطِعْ كُلَّ حَلَّافٍ مَّهِيْنٍ ‐ هَمَّازٍ مَّشَّآءٍ ۢبِنَمِيْمٍ ‐ مَنَّاعٍ لِّلْخَيْرِ مُعْتَدٍ اَثِيْمٍ
আর তুমি তাদের অনুসরণ করো না, যারা কথায় কথায় শপথ করে এবং যারা লাঞ্ছিত হয়। যারা বেহুদা গালমন্দ করে, মানুষকে অভিশাপ দেয় এবং চোগলখোরী করে বেড়ায়। আর যারা কল্যাণের কাজে বাধা দান করে এবং সীমালঙ্ঘন করে। (সূরা ক্বালাম, ১০-১২)
ব্যাখ্যা : مَنَّاعٍ لِّلْخَيْرِ (মান্নাইল লিল খায়র) তথা যে কল্যাণের কাজে বাধা দান করে। اَلْخَيْرُ (আল খায়র) শব্দটি সম্পদ অর্থে ব্যবহৃত হয় আবার কল্যাণ অর্থেও ব্যবহৃত হয়। প্রথম অর্থটি গ্রহণ করলে আয়াতের অর্থ হবে, তারা নিজেদের অর্থ-সম্পদ থেকে বান্দা ও আল্লাহ কারো হকই আদায় করত না। দ্বিতীয় অর্থ গ্রহণ করলে আয়াতের অর্থ হবে, তারা কল্যাণের পথ থেকে নিজেরাই যে কেবল বিরত থাকত তা নয়, বরং অন্যদেরকেও তা থেকে বিরত রাখত। তারা পৃথিবীতে কল্যাণের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। কোনভাবেই যেন কল্যাণ ও সুকৃতি বিস্তার লাভ করতে না পারে এ উদ্দেশ্যেই তারা তাদের সমস্ত শক্তি প্রয়োগ করেছিল।
مُعْتَدٍ (মু‘তাদিন) তথা সীমালঙ্ঘনকারী- যে প্রতিটি কাজে নৈতিকতার ক্ষেত্রে সীমালঙ্ঘনকারী হিসেবে নিজের স্বার্থ ও উদ্দেশ্যাবলির জন্য যে কোন কাজ করতে প্রস্তুত থাকত। হারাম পন্থায় অর্থ-সম্পদ উপার্জন করত এবং হারাম পথেই তা ব্যয় করত। মানুষের অধিকারে হস্তক্ষেপ করত। তার হাত কোন প্রকার যুলুম ও বাড়াবাড়ি থেকে বিরত থাকত না। কল্যাণের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করাকেই সে যথেষ্ট মনে করত না, বরং আরো অগ্রসর হয়ে সততা ও কল্যাণের পথের অনুসারীদেরকে উত্যক্ত করত এবং যারা কল্যাণের জন্য কাজ করত তাদের উপর নির্যাতন চালাত।
যেসব দলের নেতা ফাসিক :
وَلَا تُطِيْعُوْاۤ اَمْرَ الْمُسْرِفِيْنَ ‐ اَ لَّذِيْنَ يُفْسِدُوْنَ فِى الْاَرْضِ وَلَا يُصْلِحُوْنَ
(সেসব) সীমালঙ্ঘনকারীদের আদেশ মান্য করো না, যারা পৃথিবীতে কেবল অশান্তিই সৃষ্টি করে এবং শান্তি স্থাপন করে না। (সূরা শু‘আরা- ১৫১, ১৫২)
যেসব দল বাতিলের অনুসরণ করে :
ذٰلِكَ بِاَنَّ الَّذِيْنَ كَفَرُوا اتَّبَعُوا الْبَاطِلَ وَاَنَّ الَّذِيْنَ اٰمَنُوا اتَّبَعُوا الْحَقَّ مِنْ رَّبِّهِمْؕ كَذٰلِكَ يَضْرِبُ اللهُ لِلنَّاسِ اَمْثَالَهُمْ
এটা এ কারণে যে, যারা কুফরী করেছে তারা বাতিলের অনুসরণ করেছে। আর যারা ঈমান এনেছে তারা তাদের রবের পক্ষ থেকে প্রেরিত হক্বকে মেনে চলেছে। এভাবেই আল্লাহ মানুষকে তাদের সঠিক অবস্থা জানিয়ে দেন। (সূরা মুহাম্মাদ- ৩)
অসৎ নেতারা তাদের দলের সবাইকে নিয়ে জাহান্নামে প্রবেশ করবে :
يَقْدُمُ قَوْمَهٗ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَاَوْرَدَهُمُ النَّارَؕ وَبِئْسَ الْوِرْدُ الْمَوْرُوْدُ
সে কিয়ামতের দিন তার সম্প্রদায়ের অগ্রভাগে থাকবে এবং সে তাদেরকে নিয়ে অগ্নিতে প্রবেশ করবে। আর তাদের প্রবেশস্থল কতই না নিকৃষ্ট! (সূরা হুদু ৯৮)
ব্যাখ্যা : এ আয়াত থেকে জানা যায়, যারা দুনিয়ায় কোন জাতি বা দলের নেতৃত্ব দেয় কিয়ামতের দিনও তারাই তাদের নেতা হবে। যদি তারা দুনিয়ায় সত্যের পথে নেতৃত্ব দিয়ে থাকে, তাহলে যারা তাদের অনুসরণ করেছে তারা কিয়ামতের দিনও তাদেরই পতাকাতলে সমবেত হবে এবং তাদের নেতৃত্বে জান্নাতের দিকে এগিয়ে যাবে। আর যদি তারা দুনিয়ায় এমন কোন পথের দিকে মানুষকে আহবান জানিয়ে থাকে, যা সত্য দ্বীনের পথ নয়, তাহলে যারা এখানে তাদের পথে চলেছে তারা সেখানেও তাদেরই পেছনে থাকবে এবং তাদের নেতৃত্বে জাহান্নামের দিকে এগিয়ে যাবে। যেসব নেতা দুনিয়ায় লোকদেরকে গোমরাহ করেছে এবং তাদেরকে সত্যবিরোধী পথে পরিচালিত করেছে তাদের অনুসারীরা যখন নিজেদের চোখে দেখে নেবে- এ যালিমরা তাদেরকে কী ভয়াবহ পরিণতির দিকে টেনে এনেছে, তখন তারা নিজেদের বিপদের জন্য তাদেরকে দায়ী করবে। তারা এমন অবস্থায় জাহান্নামের দিকে রওয়ানা দেবে যে, তাদের সামনে নেতারা চলবে আর তারা পেছনে পেছনে তাদেরকে লানত বর্ষণ করতে করতে চলতে থাকবে। অন্যদিকে যাদের নেতৃত্ব মানুষকে নিয়ামতপূর্ণ জান্নাতের অধিকারী করবে, তাদের অনুসারীরা নিজেদের শুভ পরিণাম দেখে তাদের নেতাদের জন্য দু‘আ করতে থাকবে এবং তাদের প্রশংসা করতে করতে জান্নাতের দিকে এগিয়ে যাবে।
وَمَنْ لَّمْ يَحْكُمْ بِمَاۤ اَنْزَلَ اللهُ فَاُولٰٓئِكَ هُمُ الْكَافِرُوْنَ
যারা আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন সে অনুসারে মীমাংসা করে না, তারাই কাফির। (সূরা মায়েদা- ৪৪)
যেসব দলের নেতা কাফির :
فَلَا تُطِعِ الْكَافِرِيْنَ وَجَاهِدْهُمْ بِهٖ جِهَادًا كَبِيْرًا
সুতরাং তুমি কাফিরদের আনুগত্য করো না এবং তুমি এর দ্বারা (কুরআনের সাহায্যে) তাদের সাথে প্রবল সংগ্রাম চালিয়ে যাও। (সূরা ফুরক্বান- ৫২)
যেসব দলের নেতা মুনাফিক :
وَلَا تُطِعِ الْكَافِرِيْنَ وَالْمُنَافِقِيْنَ وَدَعْ اَذَاهُمْ
আর তুমি কাফির ও মুনাফিকদের কথা মানবে না এবং তাদের নির্যাতনকে উপেক্ষা করবে। (সূরা আহযাব- ৪৮)
যেসব দলের নেতা মিথ্যাবাদী :
فَلَا تُطِعِ الْمُكَذِّبِيْنَ
অতএব তুমি মিথ্যাপ্রতিপন্নকারীদের অনুসরণ করো না। (সূরা ক্বালাম- ৮)
যেসব দলের নেতা অসৎ ও চরিত্রহীন :
وَلَا تُطِعْ كُلَّ حَلَّافٍ مَّهِيْنٍ ‐ هَمَّازٍ مَّشَّآءٍ ۢبِنَمِيْمٍ ‐ مَنَّاعٍ لِّلْخَيْرِ مُعْتَدٍ اَثِيْمٍ
আর তুমি তাদের অনুসরণ করো না, যারা কথায় কথায় শপথ করে এবং যারা লাঞ্ছিত হয়। যারা বেহুদা গালমন্দ করে, মানুষকে অভিশাপ দেয় এবং চোগলখোরী করে বেড়ায়। আর যারা কল্যাণের কাজে বাধা দান করে এবং সীমালঙ্ঘন করে। (সূরা ক্বালাম, ১০-১২)
ব্যাখ্যা : مَنَّاعٍ لِّلْخَيْرِ (মান্নাইল লিল খায়র) তথা যে কল্যাণের কাজে বাধা দান করে। اَلْخَيْرُ (আল খায়র) শব্দটি সম্পদ অর্থে ব্যবহৃত হয় আবার কল্যাণ অর্থেও ব্যবহৃত হয়। প্রথম অর্থটি গ্রহণ করলে আয়াতের অর্থ হবে, তারা নিজেদের অর্থ-সম্পদ থেকে বান্দা ও আল্লাহ কারো হকই আদায় করত না। দ্বিতীয় অর্থ গ্রহণ করলে আয়াতের অর্থ হবে, তারা কল্যাণের পথ থেকে নিজেরাই যে কেবল বিরত থাকত তা নয়, বরং অন্যদেরকেও তা থেকে বিরত রাখত। তারা পৃথিবীতে কল্যাণের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। কোনভাবেই যেন কল্যাণ ও সুকৃতি বিস্তার লাভ করতে না পারে এ উদ্দেশ্যেই তারা তাদের সমস্ত শক্তি প্রয়োগ করেছিল।
مُعْتَدٍ (মু‘তাদিন) তথা সীমালঙ্ঘনকারী- যে প্রতিটি কাজে নৈতিকতার ক্ষেত্রে সীমালঙ্ঘনকারী হিসেবে নিজের স্বার্থ ও উদ্দেশ্যাবলির জন্য যে কোন কাজ করতে প্রস্তুত থাকত। হারাম পন্থায় অর্থ-সম্পদ উপার্জন করত এবং হারাম পথেই তা ব্যয় করত। মানুষের অধিকারে হস্তক্ষেপ করত। তার হাত কোন প্রকার যুলুম ও বাড়াবাড়ি থেকে বিরত থাকত না। কল্যাণের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করাকেই সে যথেষ্ট মনে করত না, বরং আরো অগ্রসর হয়ে সততা ও কল্যাণের পথের অনুসারীদেরকে উত্যক্ত করত এবং যারা কল্যাণের জন্য কাজ করত তাদের উপর নির্যাতন চালাত।
যেসব দলের নেতা ফাসিক :
وَلَا تُطِيْعُوْاۤ اَمْرَ الْمُسْرِفِيْنَ ‐ اَ لَّذِيْنَ يُفْسِدُوْنَ فِى الْاَرْضِ وَلَا يُصْلِحُوْنَ
(সেসব) সীমালঙ্ঘনকারীদের আদেশ মান্য করো না, যারা পৃথিবীতে কেবল অশান্তিই সৃষ্টি করে এবং শান্তি স্থাপন করে না। (সূরা শু‘আরা- ১৫১, ১৫২)
যেসব দল বাতিলের অনুসরণ করে :
ذٰلِكَ بِاَنَّ الَّذِيْنَ كَفَرُوا اتَّبَعُوا الْبَاطِلَ وَاَنَّ الَّذِيْنَ اٰمَنُوا اتَّبَعُوا الْحَقَّ مِنْ رَّبِّهِمْؕ كَذٰلِكَ يَضْرِبُ اللهُ لِلنَّاسِ اَمْثَالَهُمْ
এটা এ কারণে যে, যারা কুফরী করেছে তারা বাতিলের অনুসরণ করেছে। আর যারা ঈমান এনেছে তারা তাদের রবের পক্ষ থেকে প্রেরিত হক্বকে মেনে চলেছে। এভাবেই আল্লাহ মানুষকে তাদের সঠিক অবস্থা জানিয়ে দেন। (সূরা মুহাম্মাদ- ৩)
অসৎ নেতারা তাদের দলের সবাইকে নিয়ে জাহান্নামে প্রবেশ করবে :
يَقْدُمُ قَوْمَهٗ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَاَوْرَدَهُمُ النَّارَؕ وَبِئْسَ الْوِرْدُ الْمَوْرُوْدُ
সে কিয়ামতের দিন তার সম্প্রদায়ের অগ্রভাগে থাকবে এবং সে তাদেরকে নিয়ে অগ্নিতে প্রবেশ করবে। আর তাদের প্রবেশস্থল কতই না নিকৃষ্ট! (সূরা হুদু ৯৮)
ব্যাখ্যা : এ আয়াত থেকে জানা যায়, যারা দুনিয়ায় কোন জাতি বা দলের নেতৃত্ব দেয় কিয়ামতের দিনও তারাই তাদের নেতা হবে। যদি তারা দুনিয়ায় সত্যের পথে নেতৃত্ব দিয়ে থাকে, তাহলে যারা তাদের অনুসরণ করেছে তারা কিয়ামতের দিনও তাদেরই পতাকাতলে সমবেত হবে এবং তাদের নেতৃত্বে জান্নাতের দিকে এগিয়ে যাবে। আর যদি তারা দুনিয়ায় এমন কোন পথের দিকে মানুষকে আহবান জানিয়ে থাকে, যা সত্য দ্বীনের পথ নয়, তাহলে যারা এখানে তাদের পথে চলেছে তারা সেখানেও তাদেরই পেছনে থাকবে এবং তাদের নেতৃত্বে জাহান্নামের দিকে এগিয়ে যাবে। যেসব নেতা দুনিয়ায় লোকদেরকে গোমরাহ করেছে এবং তাদেরকে সত্যবিরোধী পথে পরিচালিত করেছে তাদের অনুসারীরা যখন নিজেদের চোখে দেখে নেবে- এ যালিমরা তাদেরকে কী ভয়াবহ পরিণতির দিকে টেনে এনেছে, তখন তারা নিজেদের বিপদের জন্য তাদেরকে দায়ী করবে। তারা এমন অবস্থায় জাহান্নামের দিকে রওয়ানা দেবে যে, তাদের সামনে নেতারা চলবে আর তারা পেছনে পেছনে তাদেরকে লানত বর্ষণ করতে করতে চলতে থাকবে। অন্যদিকে যাদের নেতৃত্ব মানুষকে নিয়ামতপূর্ণ জান্নাতের অধিকারী করবে, তাদের অনুসারীরা নিজেদের শুভ পরিণাম দেখে তাদের নেতাদের জন্য দু‘আ করতে থাকবে এবং তাদের প্রশংসা করতে করতে জান্নাতের দিকে এগিয়ে যাবে।