hadith book logo

তাফসীরুল কুরআন বিল কুরআন

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৫৫

অধ্যায়- ৩ : ঈমানের ঘোষণা

ঈমানের ঘোষণা দিতে হবে :

قُلْ اٰمَنَّا بِاللهِ وَمَاۤ اُنْزِلَ عَلَيْنَا وَمَاۤ اُنْزِلَ عَلٰۤى اِبْرَاهِيْمَ وَاِسْمَاعِيْلَ وَاِسْحَاقَ وَيَعْقُوْبَ وَالْاَسْبَاطِ وَمَاۤ اُوْتِيَ مُوْسٰى وَعِيْسٰى وَالنَّبِيُّوْنَ مِنْ رَّبِّهِمْ لَا نُفَرِّقُ بَيْنَ اَحَدٍ مِّنْهُمْ وَنَحْنُ لَهٗ مُسْلِمُوْنَ

বলো, আমরা ঈমান এনেছি আল্লাহর প্রতি এবং আমাদের উপর যা নাযিল হয়েছে তার প্রতি। (আমরা আরো ঈমান এনেছি) ইবরাহীম, ইসমাঈল, ইসহাক, ইয়াকূব এবং তাদের বংশধরদের উপর যা নাযিল হয়েছে তার প্রতি। (আমরা আরো ঈমান এনেছি) মূসা, ঈসা এবং অন্যান্য নবীদেরকে তাদের রবের পক্ষ থেকে যা কিছু দেয়া হয়েছিল তার প্রতি। আমরা তাদের কারো মধ্যে পার্থক্য করি না। আর আমরা তাঁর কাছেই আত্মসমর্পণকারী। (সূরা আলে ইমরান- ৮৪)

وَاِذْ اَوْحَيْتُ اِلَى الْحَوَارِيِّيْنَ اَنْ اٰمِنُوْا بِيْ وَبِرَسُوْلِيْۚ قَالُوْاۤ اٰمَنَّا وَاشْهَدْ بِاَنَّنَا مُسْلِمُوْنَ

স্মরণ করো, যখন আমি হাওয়ারীদেরকে এ আদেশ দিয়েছিলাম যে, তোমরা আমার প্রতি ও আমার রাসূলের প্রতি ঈমান আনয়ন করো; তখন তারা বলেছিল, আমরা ঈমান আনয়ন করলাম এবং তুমি সাক্ষী থাকো যে, আমরা মুসলিম। (সূরা মায়েদা- ১১১)

ঈমান আনতে হবে নিজ উদ্যোগে :

هُوَ الَّذِيْ خَلَقَكُمْ فَمِنْكُمْ كَافِرٌ وَّمِنْكُمْ مُّؤْمِنٌ

তিনিই তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন; অতঃপর তোমাদের মধ্যে কেউ কাফির এবং কেউ মুমিনে রূপান্তরিত হয়। (সূরা তাগাবুন - ২)

وَقُلِ الْحَقُّ مِنْ رَّبِّكُمْؕ فَمَنْ شَآءَ فَلْيُؤْمِنْ وَّمَنْ شَآءَ فَلْيَكْفُرْ

বলো, সত্য তোমাদের প্রতিপালকের নিকট হতে (আগমন করে), সুতরাং যার ইচ্ছা ঈমান আনয়ন করুক এবং যার ইচ্ছা তা প্রত্যাখ্যান করুক। (সূরা কাহফ- ২৯)

اِنَّا خَلَقْنَا الْاِنْسَانَ مِنْ نُّطْفَةٍ اَمْشَاجٍ نَّبْتَلِيْهِ فَجَعَلْنَاهُ سَمِيْعًا ۢبَصِيْرًا ‐ اِنَّا هَدَيْنَاهُ السَّبِيْلَ اِمَّا شَاكِرًا وَّاِمَّا كَفُوْرًا

আমি তো মানুষকে সৃষ্টি করেছি সংমিশ্রিত শুক্রবিন্দু হতে, যেন আমি তাকে পরীক্ষা করতে পারি। অতঃপর আমি তাকে শ্রবণশক্তি ও দৃষ্টিশক্তি দান করেছি। আমি তাকে পথপ্রদর্শন করেছি; এরপর সে চাইলে আল্লাহর কৃতজ্ঞ হবে, নতুবা কুফরী করবে। (সূরা ইনসান- ২, ৩)

বল প্রয়োগ করে কাউকে মুমিন বানানো যায় না :

وَلَوْ شَآءَ رَبُّكَ لَاٰمَنَ مَنْ فِى الْاَرْضِ كُلُّهُمْ جَمِيْعًاؕ اَفَاَنْتَ تُكْرِهُ النَّاسَ حَتّٰى يَكُوْنُوْا مُؤْمِنِيْنَ

যদি তোমার প্রতিপালক চাইতেন, তবে পৃথিবীতে যারা আছে তারা সকলেই ঈমান আনয়ন করত। এরপরও কি তুমি মুমিন বানানোর জন্য মানুষদের উপর জবরদস্তি করবে? (সূরা ইউনুস - ৯৯)

আল্লাহর হুকুম ছাড়া কেউ ঈমান আনতে পারে না :

وَمَا كَانَ لِنَفْسٍ اَنْ تُؤْمِنَ اِلَّا بِاِذْنِ اللهِؕ وَيَجْعَلُ الرِّجْسَ عَلَى الَّذِيْنَ لَا يَعْقِلُوْنَ

আল্লাহর অনুমতি ব্যতীত ঈমান আনার সাধ্য কারো নেই, কিন্তু যারা অনুধাবন করে না আল্লাহ তাদের উপর অপবিত্রতা চাপিয়ে দেন। (সূরা ইউনুস- ১০০)

ঈমানদার হওয়া আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ :

يَمُنُّوْنَ عَلَيْكَ اَنْ اَسْلَمُوْاؕ قُلْ لَّا تَمُنُّوْا عَلَيَّ اِسْلَامَكُمْۚ بَلِ اللهُ يَمُنُّ عَلَيْكُمْ اَنْ هَدَاكُمْ لِلْاِيْمَانِ اِنْ كُنْتُمْ صَادِقِيْنَ

(হে রাসূল!) এরা (কি মনে করে যে) ইসলাম কবুল করে তারা আপনার উপর দয়া করেছে। তাদেরকে বলে দিন, তোমরা তোমাদের ইসলাম (গ্রহণ করার) দ্বারা আমাকে অনুগ্রহ করনি। বরং তোমরা যদি ঈমানের দাবিতে সত্যবাদী হয়ে থাক, তাহলে (তোমাদের বুঝা উচিত যে) আল্লাহই তোমাদেরকে ঈমানের দিকে হেদায়াত করে অনুগ্রহ করেছেন। (সূরা হুজুরাত - ১৭)