hadith book logo

তাফসীরুল কুরআন বিল কুরআন

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৩৬১

অধ্যায়- ৬ : কিয়ামতের দিন সাগর ও পাহাড়ের অবস্থা

সেদিন সাগর হবে উত্তাল :

وَاِذَا الْبِحَارُ فُجِّرَتْ

যখন সমুদ্রসমূহকে উত্তাল করা হবে। (সূরা ইনফিতার- ৩)

وَاِذَا الْبِحَارُ فُجِّرَتْ

যখন সমুদ্রসমূহকে উদ্বেলিত করা হবে। (সূরা তাকভীর- ৬)

সেদিন পাহাড় বালুর স্তুপের মতো সংযোগহীন হয়ে যাবে :

يَوْمَ تَرْجُفُ الْاَرْضُ وَالْجِبَالُ وَكَانَتِ الْجِبَالُ كَثِيْبًا مَّهِيْلًا

সেদিন পৃথিবী ও পর্বতমালা প্রকম্পিত হবে এবং পর্বতসমূহ বহমান বালুরাশির ন্যায় হয়ে যাবে। (সূরা মুয্যাম্মিল- ১৪)

সেদিন পাহাড় চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যাবে :

وَبُسَّتِ الْجِبَالُ بَسًّا – فَكَانَتْ هَبَآءً مُّنْۢبَثًّا

সেদিন পর্বতমালা চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যাবে, তখন তা উৎক্ষিপ্ত ধূলিকণায় পরিণত হবে। (সূরা ওয়াক্বিয়া- ৫, ৬)

সেদিন পাহাড়কে চলমান করা হবে :

وَاِذَا الْجِبَالُ سُيِّرَتْ

যখন পর্বতসমূহকে চলমান করা হবে। (সূরা তাকভীর- ৩)

وَسُيِّرَتِ الْجِبَالُ فَكَانَتْ سَرَابًا

আর পাহাড়সমূহকে চালিত করা হবে, ফলে সেগুলো হয়ে যাবে মরীচিকা। (সূরা নাবা- ২০)

وَتَرَى الْجِبَالَ تَحْسَبُهَا جَامِدَةً وَّهِيَ تَمُرُّ مَرَّ السَّحَابِ

তুমি পর্বতমালা দেখছ আর মনে করছ যে, তা অচল; অথচ তারা হবে মেঘপুঞ্জের মতো চলমান। (সূরা নামল- ৮৮)

সেদিন পাহাড় ধুনিত তোলার মতো উড়তে থাকবে :

وَتَكُوْنُ الْجِبَالُ كَالْعِهْنِ الْمَنْفُوْشِ

পর্বতমালা হবে ধুনিত রঙ্গীন পশমের মতো। (সূরা ক্বারিয়াহ- ৫)

وَيَسْاَلُوْنَكَ عَنِ الْجِبَالِ فَقُلْ يَنْسِفُهَا رَبِّيْ نَسْفًا – فَيَذَرُهَا قَاعًا صَفْصَفًا

তারা তোমাকে পর্বতসমূহ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। বলো, আমার প্রতিপালক তাদেরকে সমূলে উৎপাটন করে বিক্ষিপ্ত করে দেবেন। অতঃপর তিনি তাকে পরিণত করবেন মসৃণ সমতল ময়দানে।

(সূরা ত্বা-হা- ১০৫, ১০৬)

ব্যাখ্যা : এ পাহাড়গুলো ভেঙ্গে বালুর কণার মতো গুঁড়ো করে দেয়া হবে। ফলে সেগুলো ধূলোমাটির মতো ছড়িয়ে সমগ্র দুনিয়াকে এমন একটি সমতল প্রান্তরে পরিণত করা হবে, যেখানে কোন উঁচু-নিচু, ঢালু বা অসমতল জায়গা থাকবে না। তার অবস্থা এমন একটি পরিষ্কার বিছানার মতো হবে, যাতে সামান্যতমও ভাঁজ থাকবে না।