hadith book logo

তাফসীরুল কুরআন বিল কুরআন

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৬৭

অধ্যায়- ৫ : পূর্ণাঙ্গরূপে ইসলামকে মানার নির্দেশ

ইসলামকে মানতে হবে পরিপূর্ণভাবে :

يَاۤ اَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوا ادْخُلُوْا فِى السِّلْمِ كَافَّةً وَّلَا تَتَّبِعُوْا خُطُوَاتِ الشَّيْطَانِۚ اِنَّهٗ لَكُمْ عَدُوٌّ مُّبِيْنٌ

হে ঈমানদারগণ! তোমরা পরিপূর্ণভাবে ইসলামে প্রবেশ করো এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না। নিশ্চয় সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু। (সূরা বাক্বারা- ২০৮)

ব্যাখ্যা : কোন রকম ব্যতিক্রম ও কিছু অংশকে বাদ না দিয়ে জীবনের সকল দিক ও বিভাগকে ইসলামের আওতাধীন করতে হবে। চিন্তা-ভাবনা, আদর্শ, মতবাদ, জ্ঞান-বিজ্ঞান, শিক্ষা, আচরণ, ব্যবহারিক জীবন, লেনদেন, রাষ্ট্র পরিচালনা এবং সমগ্র প্রচেষ্টা ও কর্মের পরিসরকে পুরোপুরি ইসলামের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। জীবনের কিছু অংশে ইসলামী অনুশাসন মেনে চলা এবং কিছু অংশকে ইসলামী অনুশাসনের বাইরে রাখা, এমনটি করা যাবে না।

আংশিক ইসলাম গ্রহণযোগ্য নয় :

وَاَنِ احْكُمْ بَيْنَهُمْ بِمَاۤ اَنْزَلَ اللهُ وَلَا تَتَّبِعْ اَهْوَآءَهُمْ وَاحْذَرْهُمْ اَنْ يَّفْتِنُوْكَ عَنْ ۢبَعْضِ مَاۤ اَنْزَلَ اللهُ اِلَيْكَؕ فَاِنْ تَوَلَّوْا فَاعْلَمْ اَنَّمَا يُرِيْدُ اللهُ اَنْ يُّصِيْبَهُمْ بِبَعْضِ ذُنُوْبِهِمْؕ وَاِنَّ كَثِيْرًا مِّنَ النَّاسِ لَفَاسِقُوْنَ

আপনি তাদের মধ্যে আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন সে অনুযায়ী মীমাংসা করুন এবং তাদের খেয়াল-খুশির অনুসরণ করবেন না। আর তাদের ব্যাপারে সাবধানতা অবলম্বন করবেন, যেন তারা আপনাকে আপনার উপর যা অবতীর্ণ করা হয়েছে তার কোনকিছুর ব্যাপারে বিভ্রান্ত করতে না পারে। এরপরও যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয় তবে জেনে রাখুন, আল্লাহ তাদেরকে তাদের কোন কোন গোনাহের জন্য শাস্তি প্রদান করতে চান। নিশ্চয় মানুষের মধ্যে অনেকেই ফাসিক। (সূরা মায়েদা- ৪৯)

যারা কিছু মানে এবং কিছু মানে না, তারা কঠিন শাস্তি ভোগ করবে :

اَفَتُؤْمِنُوْنَ بِبَعْضِ الْكِتَابِ وَتَكْفُرُوْنَ بِبَعْضٍۚ فَمَا جَزَآءُ مَنْ يَّفْعَلُ ذٰلِكَ مِنْكُمْ اِلَّا خِزْيٌ فِى الْحَيَاةِ الدُّنْيَاۚ وَيَوْمَ الْقِيَامَةِ يُرَدُّوْنَ اِلٰۤى اَشَدِّ الْعَذَابِؕ وَمَا اللهُ بِغَافِلٍ عَمَّا تَعْمَلُوْنَ

তবে কি তোমরা কিতাবের কিছু অংশ বিশ্বাস কর ও কিছু অংশ অস্বীকার কর? অতএব তোমাদের মধ্যে যারা এরূপ করে তাদের পার্থিব জীবনে দুর্গতি ব্যতীত কিছুই নেই। আর কিয়ামত দিবসে তারা কঠোর শাস্তির দিকে নিক্ষিপ্ত হবে। আর তোমরা যা করছ আল্লাহ সে সম্পর্কে অমনোযোগী নন। (সূরা বাক্বারা- ৮৫)

একমুখী হয়েই ইসলামের উপর চলতে হবে :

فَاَقِمْ وَجْهَكَ لِلدِّيْنِ حَنِيْفًاؕ فِطْرَةَ اللهِ الَّتِيْ فَطَرَ النَّاسَ عَلَيْهَاؕ لَا تَبْدِيْلَ لِخَلْقِ اللهِؕ ذٰلِكَ الدِّيْنُ الْقَيِّمُ وَلٰكِنَّ اَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَعْلَمُوْنَ

তুমি নিজেকে একনিষ্ঠভাবে দ্বীনের উপর প্রতিষ্ঠিত রাখ এবং আল্লাহর প্রকৃতি অনুসরণ করো, যার উপর তিনি মানবজাতিকে সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহর সৃষ্টির কোন পরিবর্তন নেই। এটাই সরলসঠিক দ্বীন, কিন্তু অধিকাংশ মানুষ তা জানে না। (সূরা রূম- ৩০)

ইসলামী শরীয়াতের সাথে অন্য মতবাদের সংমিশ্রণ ঘটানো যাবে না :

ثُمَّ جَعَلْنَاكَ عَلٰى شَرِيْعَةٍ مِّنَ الْاَمْرِ فَاتَّبِعْهَا وَلَا تَتَّبِعْ اَهْوَآءَ الَّذِيْنَ لَا يَعْلَمُوْنَ

এরপর আমি তোমাকে প্রতিষ্ঠিত করেছি দ্বীনের বিশেষ শরীয়াতের উপর; সুতরাং তুমি তার অনুসরণ করো এবং অজ্ঞদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করো না। (সূরা জাসিয়া-১৮)

জাহেলী প্রথার সাথে ইসলামের কোন সম্পর্ক নেই :

اَفَحُكْمَ الْجَاهِلِيَّةِ يَبْغُوْنَؕ وَمَنْ اَحْسَنُ مِنَ اللهِ حُكْمًا لِّقَوْمٍ يُّوْقِنُوْنَ

তবে কি তারা মূর্খতার যুগের বিচারব্যবস্থার আশা করে? দৃঢ় বিশ্বাসী লোকদের জন্য বিচারব্যবস্থায় আল্লাহর চেয়ে উত্তম আর কে হতে পারে? (সূরা মায়েদা- ৫০)