১
তাফসীরুল কুরআন বিল কুরআন
লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১৫৯
অধ্যায়- ৬ : ঋণ
করযে হাসানা দেয়া সওয়াবের কাজ :
اِنْ تُقْرِضُوا اللهَ قَرْضًا حَسَنًا يُّضَاعِفْهُ لَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْؕ وَاللهُ شَكُوْرٌ حَلِيْمٌ
যদি তোমরা আল্লাহকে উত্তম ঋণ দান কর, তবে তিনি তোমাদের জন্য এটা বহু গুণে বৃদ্ধি করে দেবেন এবং তিনি তোমাদেরকে ক্ষমা করবেন। নিশ্চয় আল্লাহ কৃতজ্ঞতা প্রকাশকারী ও সহনশীল। (সূরা তাগাবুন - ১৭)
ঋণগ্রহীতাকে সুযোগ দিতে হবে :
وَاِنْ كَانَ ذُو ْعُسْرَةٍ فَنَظِرَةٌ اِلٰى مَيْسَرَةٍ
ঋণগ্রহীতা যদি অভাবগ্রস্ত হয়, তবে সচ্ছলতা আসা পর্যন্ত তাকে অবকাশ দাও। (সূরা বাক্বারা- ২৮০)
ব্যাখ্যা : এ আয়াত থেকে শরীয়াতের এ বিধান পাওয়া যায় যে, যে ব্যক্তি ঋণ পরিশোধ করতে অক্ষম হয়ে পড়েছে তাকে ‘সময়’ দিতে হবে এবং কোন কোন ক্ষেত্রে তার সমস্ত দেনা বা আংশিক দেনা ÿমা করে দেয়ারও ব্যবস্থা করতে হবে। কোন ব্যক্তির থাকার ঘর, খাবার বাসনপত্র, কাপড়-চোপড় এবং যেসব যন্ত্রপাতি দিয়ে সে রুজি-রোজগার করে, সেগুলো কোন অবস্থাতেই বাজেয়াপ্ত করা উচিৎ নয়।
বাকীতে লেনদেন করলে লিখে রাখতে হবে :
يَاۤ اَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْاۤ اِذَا تَدَايَنْتُمْ بِدَيْنٍ اِلٰۤى اَجَلٍ مُّسَمًّى فَاكْتُبُوْهُ
হে ঈমানদারগণ! যখন তোমরা কোন নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ঋণের লেনদেন করবে, তখন তা লিখে রাখবে। (সূরা বাক্বারা- ২৮২)
ব্যাখ্যা : সাধারণত বন্ধুবান্ধব ও আত্মীয়স্বজনদের মধ্যে লেনদেনের ব্যাপারে দলীল বা প্রমাণপত্র লেখা এবং সাক্ষী রাখাকে দূষণীয় মনে করা হয়। কিন্তু আল্লাহর নির্দেশ হচ্ছে, ঋণ ও ব্যবসা সংক্রান্ত লেনদেনের চুক্তি সাক্ষ্য প্রমাণাদিসহ লিখিতাকারে সম্পাদিত হওয়া উচিত। এর ফলে লোকদের মধ্যকার লেনদেন স্বচ্ছ থাকবে।
একজন লেখক ন্যায়সঙ্গতভাবে লিখে দেবে :
وَلْيَكْتُبْ بَّيْنَكُمْ كَاتِبٌ ۢبِالْعَدْلِ
তোমাদের মধ্যে একজন লেখক ন্যায়সঙ্গতভাবে যেন তা লিখে দেয়। (সূরা বাক্বারা- ২৮২)
ঋণগ্রহীতা লিখিয়ে নেবে :
وَلْيُمْلِلِ الَّذِيْ عَلَيْهِ الْحَقُّ وَلْيَتَّقِ اللهَ رَبَّهٗ وَلَا يَبْخَسْ مِنْهُ شَيْئًاؕ فَاِنْ كَانَ الَّذِيْ عَلَيْهِ الْحَقُّ سَفِيْهًا اَوْ ضَعِيْفًا اَوْ لَا يَسْتَطِيْعُ اَنْ يُّمِلَّ هُوَ فَلْيُمْلِلْ وَلِيُّهٗ بِالْعَدْلِ
ঋণগ্রহীতা লেখার বিষয় বলে দেবে এবং তার প্রতিপালক আল্লাহকে ভয় করবে। আর সে এতে কোনকিছুর কমতি করবে না। যদি ঋণগ্রহীতা নির্বোধ হয় অথবা দুর্বল হয় অথবা লেখার বিষয়বস্তু বলে দিতে অক্ষম হয়, তবে তার অভিভাবক যেন তা ন্যায়সঙ্গতভাবে বলে দেয়। (সূরা বাক্বারা- ২৮২)
লিখিত দলীল রাখলে সন্দেহ থেকে বাঁচা যায় :
ذٰلِكُمْ اَقْسَطُ عِنْدَ اللّٰهِ وَاَقْوَمُ لِلشَّهَادَةِ وَاَدْنٰۤى اَلَّا تَرْتَابُوْا
এটা আল্লাহর কাছে তোমাদের জন্য সঠিক পন্থা, সাক্ষ্যের জন্য মজবুত এবং সন্দেহে না পড়ার কাছাকাছি। (সূরা বাক্বারা- ২৮২)
নগদ বেচাকেনা লিখে রাখা জরুরি নয় :
اِلَّاۤ اَنْ تَكُوْنَ تِجَارَةً حَاضِرَةً تُدِيْرُوْنَهَا بَيْنَكُمْ فَلَيْسَ عَلَيْكُمْ جُنَاحٌ اَلَّا تَكْتُبُوْهَاؕ وَاَشْهِدُوْاۤ اِذَا تَبَايَعْتُمْ
তবে যদি পরস্পরের মধ্যে নগদ লেনদেন হয়, তাহলে তোমরা লিখে না রাখলে কোন গোনাহ হবে না। আর যখন তোমরা ক্রয়-বিক্রয় করবে, তখন সাক্ষী রাখবে। (সূরা বাক্বারা- ২৮২)
কোন লেখক বা সাক্ষীকে ক্ষতিগ্রস্ত করা যাবে না :
وَلَا يُضَآرَّ كَاتِبٌ وَّلَا شَهِيْدٌؕ وَاِنْ تَفْعَلُوْا فَاِنَّهٗ فُسُوْقٌ ۢبِكُمْؕ وَاتَّقُوا اللّٰهَؕ وَيُعَلِّمُكُمُ اللّٰهُؕ وَاللّٰهُ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيْمٌ
লেখক ও সাক্ষীর মধ্যে কাউকে ক্ষতিগ্রস্ত করা যাবে না। যদি তোমরা এমনটা কর, তবে তা গোনাহের কাজ বলে গণ্য হবে। অতএব তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, তিনি তোমাদেরকে শিক্ষা দান করেন। তিনি সর্ববিষয়ে জ্ঞানী। (সূরা বাক্বারা- ২৮২)
বিশেষ প্রয়োজনে কোন জিনিস বন্ধক রাখা যাবে :
وَاِنْ كُنْتُمْ عَلٰى سَفَرٍ وَّلَمْ تَجِدُوْا كَاتِبًا فَرِهَانٌ مَّقْبُوْضَةٌؕ فَاِنْ اَمِنَ بَعْضُكُمْ بَعْضًا فَلْيُؤَدِّ الَّذِى اؤْتُمِنَ اَمَانَتَهٗ وَلْيَتَّقِ اللّٰهَ رَبَّهٗؕ وَلَا تَكْتُمُوا الشَّهَادَةَؕ وَمَنْ يَّكْتُمْهَا فَاِنَّهٗۤ اٰثِمٌ قَلْبُهٗؕ وَاللّٰهُ بِمَا تَعْمَلُوْنَ عَلِيْمٌ
আর যদি তোমরা সফরে থাক এবং কোন লেখক না পাও, তবে কোনকিছু বন্ধক রাখতে পার। যদি তোমরা পরস্পরের প্রতি বিশ্বাসী হও, তবে যার কাছে আমানত রাখা হয় সে যেন তা ফিরিয়ে দেয় এবং তার প্রতিপালক আল্লাহকে ভয় করে। আর তোমরা সাক্ষ্য গোপন করো না। যে গোপন করবে তার অন্তর পাপী হিসেবে গণ্য হবে। আর তোমরা যা কর আল্লাহ সে বিষয়ে জানেন। (সূরা বাক্বারা- ২৮৩)
ব্যাখ্যা : নিছক দলীলের উপর নির্ভর করে কেউ টাকা ধার দিতে রাজী না হলে ঋণগ্রহীতা নিজের কোন জিনিস বন্ধক রেখে টাকা ধার নেবে। নিজের ঋণ বাবদ প্রদত্ত অর্থের বিনিময়ে প্রাপ্ত বন্ধকী জিনিস থেকে কোন প্রকার লাভবান হওয়ার অধিকার তার নেই।
اِنْ تُقْرِضُوا اللهَ قَرْضًا حَسَنًا يُّضَاعِفْهُ لَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْؕ وَاللهُ شَكُوْرٌ حَلِيْمٌ
যদি তোমরা আল্লাহকে উত্তম ঋণ দান কর, তবে তিনি তোমাদের জন্য এটা বহু গুণে বৃদ্ধি করে দেবেন এবং তিনি তোমাদেরকে ক্ষমা করবেন। নিশ্চয় আল্লাহ কৃতজ্ঞতা প্রকাশকারী ও সহনশীল। (সূরা তাগাবুন - ১৭)
ঋণগ্রহীতাকে সুযোগ দিতে হবে :
وَاِنْ كَانَ ذُو ْعُسْرَةٍ فَنَظِرَةٌ اِلٰى مَيْسَرَةٍ
ঋণগ্রহীতা যদি অভাবগ্রস্ত হয়, তবে সচ্ছলতা আসা পর্যন্ত তাকে অবকাশ দাও। (সূরা বাক্বারা- ২৮০)
ব্যাখ্যা : এ আয়াত থেকে শরীয়াতের এ বিধান পাওয়া যায় যে, যে ব্যক্তি ঋণ পরিশোধ করতে অক্ষম হয়ে পড়েছে তাকে ‘সময়’ দিতে হবে এবং কোন কোন ক্ষেত্রে তার সমস্ত দেনা বা আংশিক দেনা ÿমা করে দেয়ারও ব্যবস্থা করতে হবে। কোন ব্যক্তির থাকার ঘর, খাবার বাসনপত্র, কাপড়-চোপড় এবং যেসব যন্ত্রপাতি দিয়ে সে রুজি-রোজগার করে, সেগুলো কোন অবস্থাতেই বাজেয়াপ্ত করা উচিৎ নয়।
বাকীতে লেনদেন করলে লিখে রাখতে হবে :
يَاۤ اَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْاۤ اِذَا تَدَايَنْتُمْ بِدَيْنٍ اِلٰۤى اَجَلٍ مُّسَمًّى فَاكْتُبُوْهُ
হে ঈমানদারগণ! যখন তোমরা কোন নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ঋণের লেনদেন করবে, তখন তা লিখে রাখবে। (সূরা বাক্বারা- ২৮২)
ব্যাখ্যা : সাধারণত বন্ধুবান্ধব ও আত্মীয়স্বজনদের মধ্যে লেনদেনের ব্যাপারে দলীল বা প্রমাণপত্র লেখা এবং সাক্ষী রাখাকে দূষণীয় মনে করা হয়। কিন্তু আল্লাহর নির্দেশ হচ্ছে, ঋণ ও ব্যবসা সংক্রান্ত লেনদেনের চুক্তি সাক্ষ্য প্রমাণাদিসহ লিখিতাকারে সম্পাদিত হওয়া উচিত। এর ফলে লোকদের মধ্যকার লেনদেন স্বচ্ছ থাকবে।
একজন লেখক ন্যায়সঙ্গতভাবে লিখে দেবে :
وَلْيَكْتُبْ بَّيْنَكُمْ كَاتِبٌ ۢبِالْعَدْلِ
তোমাদের মধ্যে একজন লেখক ন্যায়সঙ্গতভাবে যেন তা লিখে দেয়। (সূরা বাক্বারা- ২৮২)
ঋণগ্রহীতা লিখিয়ে নেবে :
وَلْيُمْلِلِ الَّذِيْ عَلَيْهِ الْحَقُّ وَلْيَتَّقِ اللهَ رَبَّهٗ وَلَا يَبْخَسْ مِنْهُ شَيْئًاؕ فَاِنْ كَانَ الَّذِيْ عَلَيْهِ الْحَقُّ سَفِيْهًا اَوْ ضَعِيْفًا اَوْ لَا يَسْتَطِيْعُ اَنْ يُّمِلَّ هُوَ فَلْيُمْلِلْ وَلِيُّهٗ بِالْعَدْلِ
ঋণগ্রহীতা লেখার বিষয় বলে দেবে এবং তার প্রতিপালক আল্লাহকে ভয় করবে। আর সে এতে কোনকিছুর কমতি করবে না। যদি ঋণগ্রহীতা নির্বোধ হয় অথবা দুর্বল হয় অথবা লেখার বিষয়বস্তু বলে দিতে অক্ষম হয়, তবে তার অভিভাবক যেন তা ন্যায়সঙ্গতভাবে বলে দেয়। (সূরা বাক্বারা- ২৮২)
লিখিত দলীল রাখলে সন্দেহ থেকে বাঁচা যায় :
ذٰلِكُمْ اَقْسَطُ عِنْدَ اللّٰهِ وَاَقْوَمُ لِلشَّهَادَةِ وَاَدْنٰۤى اَلَّا تَرْتَابُوْا
এটা আল্লাহর কাছে তোমাদের জন্য সঠিক পন্থা, সাক্ষ্যের জন্য মজবুত এবং সন্দেহে না পড়ার কাছাকাছি। (সূরা বাক্বারা- ২৮২)
নগদ বেচাকেনা লিখে রাখা জরুরি নয় :
اِلَّاۤ اَنْ تَكُوْنَ تِجَارَةً حَاضِرَةً تُدِيْرُوْنَهَا بَيْنَكُمْ فَلَيْسَ عَلَيْكُمْ جُنَاحٌ اَلَّا تَكْتُبُوْهَاؕ وَاَشْهِدُوْاۤ اِذَا تَبَايَعْتُمْ
তবে যদি পরস্পরের মধ্যে নগদ লেনদেন হয়, তাহলে তোমরা লিখে না রাখলে কোন গোনাহ হবে না। আর যখন তোমরা ক্রয়-বিক্রয় করবে, তখন সাক্ষী রাখবে। (সূরা বাক্বারা- ২৮২)
কোন লেখক বা সাক্ষীকে ক্ষতিগ্রস্ত করা যাবে না :
وَلَا يُضَآرَّ كَاتِبٌ وَّلَا شَهِيْدٌؕ وَاِنْ تَفْعَلُوْا فَاِنَّهٗ فُسُوْقٌ ۢبِكُمْؕ وَاتَّقُوا اللّٰهَؕ وَيُعَلِّمُكُمُ اللّٰهُؕ وَاللّٰهُ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيْمٌ
লেখক ও সাক্ষীর মধ্যে কাউকে ক্ষতিগ্রস্ত করা যাবে না। যদি তোমরা এমনটা কর, তবে তা গোনাহের কাজ বলে গণ্য হবে। অতএব তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, তিনি তোমাদেরকে শিক্ষা দান করেন। তিনি সর্ববিষয়ে জ্ঞানী। (সূরা বাক্বারা- ২৮২)
বিশেষ প্রয়োজনে কোন জিনিস বন্ধক রাখা যাবে :
وَاِنْ كُنْتُمْ عَلٰى سَفَرٍ وَّلَمْ تَجِدُوْا كَاتِبًا فَرِهَانٌ مَّقْبُوْضَةٌؕ فَاِنْ اَمِنَ بَعْضُكُمْ بَعْضًا فَلْيُؤَدِّ الَّذِى اؤْتُمِنَ اَمَانَتَهٗ وَلْيَتَّقِ اللّٰهَ رَبَّهٗؕ وَلَا تَكْتُمُوا الشَّهَادَةَؕ وَمَنْ يَّكْتُمْهَا فَاِنَّهٗۤ اٰثِمٌ قَلْبُهٗؕ وَاللّٰهُ بِمَا تَعْمَلُوْنَ عَلِيْمٌ
আর যদি তোমরা সফরে থাক এবং কোন লেখক না পাও, তবে কোনকিছু বন্ধক রাখতে পার। যদি তোমরা পরস্পরের প্রতি বিশ্বাসী হও, তবে যার কাছে আমানত রাখা হয় সে যেন তা ফিরিয়ে দেয় এবং তার প্রতিপালক আল্লাহকে ভয় করে। আর তোমরা সাক্ষ্য গোপন করো না। যে গোপন করবে তার অন্তর পাপী হিসেবে গণ্য হবে। আর তোমরা যা কর আল্লাহ সে বিষয়ে জানেন। (সূরা বাক্বারা- ২৮৩)
ব্যাখ্যা : নিছক দলীলের উপর নির্ভর করে কেউ টাকা ধার দিতে রাজী না হলে ঋণগ্রহীতা নিজের কোন জিনিস বন্ধক রেখে টাকা ধার নেবে। নিজের ঋণ বাবদ প্রদত্ত অর্থের বিনিময়ে প্রাপ্ত বন্ধকী জিনিস থেকে কোন প্রকার লাভবান হওয়ার অধিকার তার নেই।