hadith book logo

তাফসীরুল কুরআন বিল কুরআন

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৬০০

অধ্যায়- ২৮ : মুসলিমদের উপর আল্লাহর সাহায্য

এ যুদ্ধে আল্লাহ মুসলিমদেরকে ব্যাপক সাহায্য করেন :

وَلَقَدْ نَصَرَكُمُ اللهُ بِبَدْرٍ وَّاَنْتُمْ اَذِلَّةٌۚ فَاتَّقُوا اللهَ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُوْنَ

নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদেরকে বদরে সাহায্য করেছিলেন যখন তোমরা দুর্বল ছিলে। অতএব আল্লাহকে ভয় করো, যাতে করে তোমরা কৃতজ্ঞ হতে পার। (সূরা আলে ইমরান- ১২৩)

মুসলিমগণ ভালো জায়গায় অবস্থান নেন :

اِذْ اَنْتُمْ بِالْعُدْوَةِ الدُّنْيَا وَهُمْ بِالْعُدْوَةِ الْقُصْوٰى وَالرَّكْبُ اَسْفَلَ مِنْكُمْ وَلَوْ تَوَاعَدْتُّمْ لَاخْتَلَفْتُمْ فِى الْمِيْعَادِ وَلٰكِنْ لِّيَقْضِيَ اللهُ اَمْرًا كَانَ مَفْعُوْلًا

স্মরণ করো, যখন তোমরা ছিলে উপত্যকার নিকট প্রান্তে এবং তারা ছিল দূর প্রান্তে; আর উষ্ট্রারোহী দল ছিল তোমাদের চেয়ে নিচুভূমিতে। (এমতাবস্থায়) যদি তোমরা পরস্পরের মধ্যে যুদ্ধ সম্পর্কে কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে চাইতে, তবে এ সিদ্ধান্ত সম্পর্কে তোমাদের মধ্যে মতভেদ ঘটত। কিন্তু যা ঘটার ছিল, আল্লাহ তা সম্পন্ন করলেন। (সূরা আনফাল- ৪২)

আল্লাহ বৃষ্টির মাধ্যমে মুসলিমদের জন্য অনুকূল পরিবেশ দান করেন :

اِذْ يُغَشِّيْكُمُ النُّعَاسَ اَمَنَةً مِّنْهُ وَيُنَزِّلُ عَلَيْكُمْ مِّنَ السَّمَآءِ مَآءً لِّيُطَهِّرَكُمْ بِهٖ وَيُذْهِبَ عَنْكُمْ رِجْزَ الشَّيْطَانِ وَلِيَرْبِطَ عَلٰى قُلُوْبِكُمْ وَيُثَبِّتَ بِهِ الْاَقْدَامَ

স্মরণ করো, তিনি তাঁর পক্ষ হতে স্বস্তির জন্য তোমাদেরকে তন্দ্রাচ্ছন্ন করেন এবং আকাশ হতে তোমাদের উপর বৃষ্টি বর্ষণ করেন; যেন তোমরা এর দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করতে পার, তোমাদের (অন্তর) হতে শয়তানের কুমন্ত্রণা অপসারণ করতে পার, তোমাদের হৃদয়ের মনোবল সুদৃঢ় করতে পার এবং (যুদ্ধের ময়দানে) নিজেদের পা স্থির রাখতে পার। (সূরা আনফাল- ১১)

ব্যাখ্যা : যে রাতটি শেষ হওয়ার পরের দিন সকালে বদরের যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল, এটি ছিল সেই রাতের ঘটনা। এ বৃষ্টির সুফল ছিল তিনটি। তা হলো-

১. মুসলিমরা বিপুল পরিমাণ পানি পেয়ে গিয়েছিল। ফলে তারা সঙ্গে সঙ্গেই জলাধার তৈরি করে পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা করেছিল।

২. মুসলিমরা উপত্যকার ওপরের দিকে অবস্থান করছিল। কাজেই বৃষ্টির ফলে বালি জমাট বেঁধে যথেষ্ট শক্ত হয়ে গিয়েছিল। তারপর দিনে মুসলিমদের জন্য বলিষ্ঠভাবে চলাফেরা করা সহজ হয়েছিল।

৩. কাফিরদের সেনা দল ছিল নিচের দিকে। বৃষ্টির পানি সেখানে জমে গিয়ে কাঁদা হয়ে গিয়েছিল। ফলে সেখানে হাঁটতে গেলেই পা দেবে যাচ্ছিল। অত্র আয়াতে মুসলিমদের মধ্যে প্রথম দিকে যে ভীতিকর অবস্থা বিরাজমান ছিল, তাকেই শয়তানের ছুঁড়ে দেয়া নাপাকী বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে।

আল্লাহ ফেরেশতা পাঠিয়ে সাহায্য করলেন :

اِذْ تَسْتَغِيْثُوْنَ رَبَّكُمْ فَاسْتَجَابَ لَكُمْ اَنِّيْ مُمِدُّكُمْ بِاَلْفٍ مِّنَ الْمَلَآئِكَةِ مُرْدِفِيْنَ – وَمَا جَعَلَهُ اللهُ اِلَّا بُشْرٰى وَلِتَطْمَئِنَّ بِهٖ قُلُوْبُكُمْۚ وَمَا النَّصْرُ اِلَّا مِنْ عِنْدِ اللهِ اِنَّ اللهَ عَزِيْزٌ حَكِيْمٌ

স্মরণ করো, যখন তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের নিকট সাহায্য প্রার্থনা করেছিলে, তখন তিনি তোমাদেরকে জবাব দিয়েছিলেন, ‘আমি তোমাদেরকে সাহায্য করব এক হাজার ফেরেশতা দ্বারা, যারা একের পর এক আসবে।’ আল্লাহ এটা করেন কেবল শুভ সংবাদ দেয়ার জন্য এবং এ উদ্দেশ্যে যে, যাতে তোমাদের চিত্ত প্রশান্তি লাভ করে। (জেনে রেখো) সাহায্য শুধু আল্লাহর নিকট হতেই আসে; নিশ্চয় আল্লাহ মহাপরাক্রমশালী ও প্রজ্ঞাময়। (সূরা আনফাল- ৯, ১০)

اِذْ يُوْحِيْ رَبُّكَ اِلَى الْمَلَآئِكَةِ اَنِّيْ مَعَكُمْ فَثَبِّتُوا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْاؕ سَأُلْقِيْ فِيْ قُلُوْبِ الَّذِيْنَ كَفَرُوا الرُّعْبَ فَاضْرِبُوْا فَوْقَ الْاَعْنَاقِ وَاضْرِبُوْا مِنْهُمْ كُلَّ بَنَانٍ

স্মরণ করো, যখন তোমাদের প্রতিপালক ফেরেশতাদের প্রতি এ ওহী করেন যে, আমি তোমাদের সাথে আছি, সুতরাং মুমিনদেরকে অবিচল রাখো। যারা কুফরী করে আমি তাদের হৃদয়ে ভীতি সঞ্চার করব; সুতরাং তোমরা আঘাত করো তাদের কাঁধে, আর আঘাত করো তাদের প্রত্যেক আঙ্গুলের অগ্রভাগে।

(সূরা আনফাল- ১২)

মুসলিমদেরকে অটল থাকার নির্দেশ :

يَاۤ اَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْاۤ اِذَا لَقِيْتُمْ فِئَةً فَاثْبُتُوْا وَاذْكُرُوا اللهَ كَثِيْرًا لَّعَلَّكُمْ تُفْلِحُوْنَ

হে মুমিনগণ! যখন তোমরা কোন দলের সম্মুখীন হবে, তখন অবিচল থাকবে এবং আল্লাহকে অধিক হারে স্মরণ করবে, যাতে তোমরা সফলকাম হও। (সূরা আনফাল- ৪৫)

يَاۤ اَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْاۤ اِذَا لَقِيْتُمُ الَّذِيْنَ كَفَرُوْا زَحْفًا فَلَا تُوَلُّوْهُمُ الْاَدْبَارَ

হে মুমিনগণ! যখন তোমরা কাফির বাহিনীর সম্মুখীন হবে, তখন তাদের পৃষ্ঠপ্রদর্শন করবে না। (সূরা আনফাল- ১৫)

ব্যাখ্যা : শত্রুদের প্রবল চাপের মুখে নিজেদের পেছনের কেন্দ্রে ফিরে আসা অথবা নিজেদেরই সেনাদলের অন্য কোন অংশের সাথে যোগ দেয়ার জন্য পেছনে আসা নাজায়েয নয়। তবে কাপুরুষতা ও পরাজিত মানসিকতার কারণে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে ছত্রভংগ হয়ে পালানো হারাম। কারণ এ ক্ষেত্রে উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যের তুলনায় মানুষের প্রাণটাই তার কাছে বেশি প্রিয় হয়ে ওঠে।