hadith book logo

তাফসীরুল কুরআন বিল কুরআন

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৪৯

অধ্যায়- ৫ : অন্ধ অনুসরণ করা জায়েয নেই

অন্ধভাবে কারো অনুসরণ করা যাবে না :

وَاِذَا قِيْلَ لَهُمُ اتَّبِعُوْا مَاۤ اَنْزَلَ اللهُ قَالُوْا بَلْ نَتَّبِعُ مَا وَجَدْنَا عَلَيْهِ اٰبَآءَنَا ؕ اَوَلَوْ كَانَ الشَّيْطَانُ يَدْعُوْهُمْ اِلٰى عَذَابِ السَّعِيْرِ

যখন তাদেরকে বলা হয়, আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তোমরা তার আনুগত্য করো। তখন তারা বলে, বরং আমরা তো তার আনুগত্য করব, যার উপর আমাদের বাপ-দাদাদের পেয়েছি। যদিও শয়তান তাদেরকে জাহান্নামের শাস্তির দিকে আহবান করতে থাকে তবুও (কি তারা এমনটি করবে)? (সূরা লুক্বমান- ২১)

অন্ধ অনুসরণ ইয়াহুদিদের কাজ :

اِتَّخَذُوْاۤ اَحْبَارَهُمْ وَرُهْبَانَهُمْ اَرْبَابًا مِّنْ دُوْنِ اللهِ وَالْمَسِيْحَ ابْنَ مَرْيَمَ

তারা আল্লাহ ব্যতীত তাদের আলিম ও সংসারবিরাগীদেরকে প্রভু হিসেবে গ্রহণ করেছে এবং মারইয়ামের পুত্র মাসীহকেও। (সূরা তাওবা- ৩১)

অন্ধভাবে বাপ-দাদার নীতি অনুসরণ করা ঠিক নয় :

وَاِذَا قِيْلَ لَهُمُ اتَّبِعُوْا مَاۤ اَنْزَلَ اللهُ قَالُوْا بَلْ نَتَّبِعُ مَاۤ اَلْفَيْنَا عَلَيْهِ اٰبَآءَنَا ؕ اَوَلَوْ كَانَ اٰبَآؤُهُمْ لَا يَعْقِلُوْنَ شَيْئًا وَّلَا يَهْتَدُوْنَ

যখন তাদেরকে বলা হয় যে, আল্লাহ যা নাযিল করেছেন তার অনুসরণ করো তখন তারা বলে, বরং আমরা তাঁরই অনুসরণ করব যার উপর আমাদের পিতৃপুরুষদেরকে পেয়েছি। অথচ (এ ব্যাপারে) তাদের পিতৃপুরুষদের কোন জ্ঞান ছিল না এবং তারা হেদায়াতপ্রাপ্তও ছিল না। (সূরা বাক্বারা- ১৭০)

ওহীর কথা বাদ দিয়ে অপর কারো কথা মানা যাবে না :

اِتَّبِعُوْا مَاۤ اُنْزِلَ اِلَيْكُمْ مِّنْ رَّبِّكُمْ وَلَا تَتَّبِعُوْا مِنْ دُوْنِهٖۤ اَوْلِيَآءَؕ قَلِيْلًا مَّا تَذَكَّرُوْنَ

তোমাদের প্রতিপালকের নিকট হতে তোমাদের নিকট যা অবতীর্ণ হয়েছে তোমরা তার অনুসরণ করো এবং তাঁকে ছাড়া অন্য কোন অভিভাবকের অনুসরণ করো না। তোমরা তো খুব অল্পই উপদেশ গ্রহণ করে থাক। (সূরা আ‘রাফ- ৩)

ব্যাখ্যা : দুনিয়াতে মানুষের জীবন-যাপনের জন্য যে পথনির্দেশনার প্রয়োজন এবং মানুষের সামগ্রিক জীবনধারাকে সঠিক ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত করার জন্য যেসব মূলনীতির প্রয়োজন, সেগুলো আল্লাহ তাঁর রাসূলদের মাধ্যমে জানিয়ে দিয়েছেন। তাই একমাত্র ওহীর অনুসরণ করতে হবে। ওহীর জ্ঞান থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে অন্য কোন উৎস থেকে হেদায়াত তালাশ করা মানুষের একটি মৌলিক ভ্রান্ত কর্মপদ্ধতি। এর পরিণামে মানুষকে সবসময় ধ্বংসের সম্মুখীন হতে হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও তাকে এই একই পরিণামের সম্মুখীন হতে হবে।

অধিকাংশ লোকের পথ নয়, বরং সঠিক পথ খোঁজতে হবে :

وَاِنْ تُطِعْ اَكْثَرَ مَنْ فِى الْاَرْضِ يُضِلُّوْكَ عَنْ سَبِيْلِ اللهِؕ اِنْ يَّتَّبِعُوْنَ اِلَّا الظَّنَّ وَاِنْ هُمْ اِلَّا يَخْرُصُوْنَ ‐ اِنَّ رَبَّكَ هُوَ اَعْلَمُ مَنْ يَّضِلُّ عَنْ سَبِيْلِهٖۚ وَهُوَ اَعْلَمُ بِالْمُهْتَدِيْنَ

(হে নবী) যদি তুমি দুনিয়ার অধিকাংশ লোকের কথামতো চল, তবে তারা তোমাকে আল্লাহর পথ হতে বিচ্যুত করে দেবে। কেননা এরা নিছক অনুমানের উপর ভিত্তি করে চলে এবং (অধিকাংশ ব্যাপারে) মিথ্যা ছাড়া অন্য কিছুই বলে না। আর তোমার প্রতিপালক (এ কথা) ভালো করেই জানেন যে, কে তাঁর পথ ছেড়ে বিপথগামী হচ্ছে? তাছাড়া তিনি হেদায়াতপ্রাপ্তদের সম্পর্কেও সবিশেষ অবহিত। (সূরা আন‘আম- ১১৭, ১১৮)

ব্যাখ্যা : দুনিয়ার অধিকাংশ লোক নির্ভুল জ্ঞানের পরিবর্তে অনুমানের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। তাদের আকীদা-বিশ্বাস, দর্শন, চিন্তাধারা ও জীবন-যাপনের মূলনীতি সবকিছুই ধারণা ও অনুমানের ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে। কাজেই দুনিয়ার বেশির ভাগ লোক কোন পথে যাচ্ছে, কোন সত্য সন্ধানীর পক্ষে এটা দেখা উচিত নয়; বরং আল্লাহ যে পথটি দেখিয়ে দিয়েছেন সে পথেই এগিয়ে চলা উচিত। এ পথে চলতে গিয়ে দুনিয়ায় যদি সে নিঃসঙ্গ হয়ে পড়ে, তাহলেও তাকে একাকী সে পথেই চলতে হবে।