hadith book logo

তাফসীরুল কুরআন বিল কুরআন

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৪২

অধ্যায়- ৫ : প্রচারকের বিরোধিতা করার পরিণাম

অধিকাংশ মানুষই দ্বীনের কথা মানতে চায় না :

اَمْ تَحْسَبُ اَنَّ اَكْثَرَهُمْ يَسْمَعُوْنَ اَوْ يَعْقِلُوْنَ اِنْ هُمْ اِلَّا كَالْاَنْعَامِ بَلْ هُمْ اَضَلُّ سَبِيْلًا

তুমি কি মনে কর যে, তাদের অধিকাংশই শুনে ও বুঝে? তারা তো পশুর মতোই, বরং তারা অধিকাংশই পথভ্রষ্ট। (সূরা ফুরক্বান- ৪৪)

ব্যাখ্যা : যেমনিভাবে গরু-ছাগলের পাল এ কথা জানে না যে, যারা তাদেরকে হাঁকিয়ে নিয়ে যাচ্ছে তারা চারণক্ষেত্রের দিকে নিয়ে যাচ্ছে, না কসাইখানার দিকে নিয়ে যাচ্ছে, ঠিক তেমনিভাবে এসব লোকও তাদের নিজেদের শয়তানী প্রবৃত্তি ও পথভ্রষ্টকারী নেতাদের ইশারায় চোখ বন্ধ করে চলতেই থাকছে। কিন্তু তারা নিজেরাও জানে না যে, তাদেরকে কোথায় হাঁকিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে- কল্যাণের দিকে, না ধ্বংসের দিকে। এ ক্ষেত্রে তাদের অবস্থা গরু-ছাগলের সাথে তুলনীয়। কিন্তু গরু-ছাগলকে আল্লাহ জ্ঞানবুদ্ধি ও চেতনা শক্তি দান করেননি। তারা যদি চারণক্ষেত্র ও কসাইখানার মধ্যে কোন পার্থক্য করতে না পারে, তাহলে এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। তবে অবাক হতে হয় যখন দেখা যায় একদল মানুষ যাদেরকে আল্লাহ জ্ঞানবুদ্ধি ও চেতনা শক্তি দান করেছেন, তারপরও তারা গরু-ছাগলের মতো অসচেতনতা ও গাফলতির মধ্যে ডুবে রয়েছে।

হতভাগারা উপদেশ শুনে না :

فَذَكِّرْ اِنْ نَّفَعَتِ الذِّكْرٰى ‐ سَيَذَّكَّرُ مَنْ يَّخْشٰى ‐ وَيَتَجَنَّبُهَا الْاَشْقٰى ‐ اَ لَّذِيْ يَصْلَى النَّارَ الْكُبْرٰى

অতএব যদি উপদেশ উপকারী হয় তবে উপদেশ দাও। (ফলে) যারা (আল্লাহকে) ভয় করে, অচিরেই তারা উপদেশ গ্রহণ করবে। আর যে নিতান্ত হতভাগ্য সে তা উপেক্ষা করবে, (ফলে) সে বৃহৎ অগ্নিতে প্রবেশ করবে। (সূরা আ‘লা, ৯-১২)

ব্যাখ্যা : যাদের অন্তত এতটুকু বিবেকবুদ্ধি আছে যে, তারা সঠিক বিষয় নিয়ে চিন্তা করতে পারে এবং তারা উদাসীনতা ও পক্ষপাত থেকে মুক্ত, তাদেরকে যখন কেউ প্রকৃত সত্য সম্পর্কে বুঝায় তখন তারা একাগ্রতার সাথে তার কথা শুনে। কিন্তু যারা মন-মগজ অন্য দিকে ব্যস্ত রাখে, উপদেশদাতার কথা তাদের কানের উপর দিয়েই চলে যায়। ফলে এ থেকে তারা কোন ফায়দা অর্জন করতে পারে না।

সত্যের আহবানে সাড়া না দেয়া ইয়াহুদিদের কাজ :

قَالُوْا سَمِعْنَا وَعَصَيْنَا

তারা বলেছিল, আমরা শুনলাম ও অমান্য করলাম। (সূরা বাক্বারা- ৯৩)

সত্যের বিরুদ্ধে অবস্থানকারীরা সবচেয়ে বড় যালিম :

وَمَنْ اَظْلَمُ مِمَّنِ افْتَرٰى عَلَى اللهِ الْكَذِبَ وَهُوَ يُدْعٰۤى اِلَى الْاِسْلَامِؕ وَاللهُ لَا يَهْدِى الْقَوْمَ الظَّالِمِيْنَ

যে ব্যক্তি আল্লাহ সম্বন্ধে মিথ্যা রচনা করে, তার চেয়ে অধিক যালিম আর কে হতে পারে? অথচ তাকে ইসলামের দিকে আহবান করা হয়; আর আল্লাহ যালিম সম্প্রদায়কে সৎপথে পরিচালিত করেন না। (সূরা সাফ- ৭)

প্রচারকের বিরোধিতা কারীরা কঠিন শাস্তি ভোগ করবে :

اِنَّ الَّذِيْنَ يَكْفُرُوْنَ بِاٰيَاتِ اللهِ وَيَقْتُلُوْنَ النَّبِيِّيْنَ بِغَيْرِ حَقٍّ وَّيَقْتُلُوْنَ الَّذِيْنَ يَأْمُرُوْنَ بِالْقِسْطِ مِنَ النَّاسِ فَبَشِّرْهُمْ بِعَذَابٍ اَلِيْمٍ ‐ اُولٰٓئِكَ الَّذِيْنَ حَبِطَتْ اَعْمَالُهُمْ فِى الدُّنْيَا وَالْاٰخِرَةِ وَمَا لَهُمْ مِّنْ نَّاصِرِيْنَ

নিশ্চয় যারা আল্লাহর আয়াতকে অস্বীকার করেছে এবং অন্যায়ভাবে নবীদেরকে হত্যা করেছে; আর যারা ইনসাফের নির্দেশ দেয় তাদেরকেও হত্যা করেছে, তাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির সংবাদ শুনিয়ে দাও। তারা তো সেসব লোক, দুনিয়া ও আখিরাতে যাদের সকল আমল বরবাদ হয়ে গেছে। আর তাদের কোন সাহায্যকারীও নেই। (সূরা আলে ইমরান- ২১, ২২)