hadith book logo

তাফসীরুল কুরআন বিল কুরআন

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৩৩৭

অধ্যায়- ৯ : আসমানী আযাবের বৈশিষ্ট্য

হঠাৎ করে আসতে পারে :

قُلْ اَرَاَيْتَكُمْ اِنْ اَتَاكُمْ عَذَابُ اللهِ بَغْتَةً اَوْ جَهْرَةً هَلْ يُهْلَكُ اِلَّا الْقَوْمُ الظَّالِمُوْنَ

বলো, তোমরা কি ভেবে দেখেছ যে, আল্লাহর শাস্তি আকস্মাৎ অথবা প্রকাশ্যে তোমাদের উপর এসে পড়লে যালিম সম্প্রদায় ব্যতীত আর কেউ ধ্বংস হবে কি? (সূরা আন‘আম- ৪৭)

এমনভাবে আসবে যে মানুষ টেরও পাবে না :

اَفَاَمِنَ الَّذِيْنَ مَكَرُوا السَّيِّئَاتِ اَنْ يَّخْسِفَ اللهُ بِهِمُ الْاَرْضَ اَوْ يَاْتِيَهُمُ الْعَذَابُ مِنْ حَيْثُ لَا يَشْعُرُوْنَ

যারা কুকর্মের ষড়যন্ত্র করে তারা কি এ বিষয়ে নিরাপদ হয়েছে যে, আল্লাহ তাদেরকে ভূগর্ভে বিলীন করবেন না অথবা এমন দিক হতে শাসিত্ম আসবে না, যা তাদের ধারণাতীত? (সূরা নাহল- ৪৫)

রাত-দিন যে কোন সময় আসতে পারে :

قُلْ اَرَاَيْتُمْ اِنْ اَتَاكُمْ عَذَابُهٗ بَيَاتًا اَوْ نَهَارًا مَّاذَا يَسْتَعْجِلُ مِنْهُ الْمُجْرِمُوْنَ

বলো, তোমরা কি ভেবে দেখেছ যে, যদি তাঁর শাস্তি তোমাদের উপর রজনীতে অথবা দিবসে এসে পড়ে (তবে কি অবস্থা হবে)? তাহলে কি অপরাধীরা তা ত্বরান্বিত করতে চায়? (সূরা ইউনুস- ৫০)

ঘুরাফেরার সময়ও আসতে পারে :

اَوْ يَاْخُذَهُمْ فِيْ تَقَلُّبِهِمْ فَمَا هُمْ بِمُعْجِزِيْنَ – اَوْ يَاْخُذَهُمْ عَلٰى تَخَوُّفٍؕ فَاِنَّ رَبَّكُمْ لَرَءُوْفٌ رَّحِيْمٌ

অথবা চলাফেরা করতে থাকাকালে তিনি কি তাদেরকে পাকড়াও করবেন না? তারা তো এটা ব্যর্থ করতে পারবে না। অথবা তাদেরকে তিনি কি ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায় পাকড়াও করবেন না? নিশ্চয় তোমাদের প্রতিপালক খুবই দয়ার্দ্র ও পরম দয়ালু। (সূরা নাহল- ৪৬, ৪৭)

খেলাধুলার সময়ও আযাব আসতে পারে :

اَوَاَمِنَ اَهْلُ الْقُرٰۤى اَنْ يَّاْتِيَهُمْ بَاْسُنَا ضُحًى وَّهُمْ يَلْعَبُوْنَ

অথবা জনপদের অধিবাসীরা কি ভয় রাখে না যে, আমার শাস্তি তাদের উপর আসবে পূর্বাহ্নে; যখন তারা থাকবে ক্রীড়ারত অবস্থায়? (সূরা আ‘রাফ- ৯৮)

ঘুমের সময়ও আসতে পারে :

وَكَمْ مِّنْ قَرْيَةٍ اَهْلَكْنَاهَا فَجَآءَهَا بَاْسُنَا بَيَاتًا اَوْ هُمْ قَآئِلُوْنَ ‐ فَمَا كَانَ دَعْوَاهُمْ اِذْ جَآءَهُمْ بَاْسُنَاۤ اِلَّاۤ اَنْ قَالُوْاۤ اِنَّا كُنَّا ظَالِمِيْنَ

আমি কত জনপদকে ধ্বংস করেছি! আমার শাস্তি তাদের উপর পতিত হয়েছিল রাতে অথবা দ্বিপ্রহরে, যখন তারা বিশ্রামরত ছিল। যখন আমার শাস্তি তাদের উপর পতিত হয়েছিল তখন তাদের কথা শুধু এটাই ছিল যে, নিশ্চয় আমরা ছিলাম যালিম। (সূরা আ‘রাফ- ৪, ৫)

اَفَاَمِنَ اَهْلُ الْقُرٰۤى اَنْ يَّاْتِيَهُمْ بَاْسُنَا بَيَاتًا وَّهُمْ نَآئِمُوْنَ

তবে কি জনপদের অধিবাসীরা এ ভয় রাখে না যে, আমার শাস্তি তাদের উপর রাত্রিতেও আসতে পারে, যখন তারা থাকবে নিদ্রামগ্ন অবস্থায়? (সূরা আ‘রাফ- ৯৭)

ব্যাখ্যা : তোমরা পালিয়ে এমন কোন জায়গায় চলে যেতে পার না, যেখানে গিয়ে আল্লাহর পাকড়াও থেকে বাঁচতে পার। তোমরা ভূগর্ভের তলদেশে কোথাও নেমে যাও অথবা আকাশের কোন উচ্চ স্থানে পৌঁছে যাও না কেন, সব জায়গা থেকেই তোমাদেরকে ধরে আনা হবে এবং তোমাদের প্রতিপালকের সামনে উপস্থিত করা হবে। আল্লাহর সার্বভৌম কর্তৃত্ব ও শাসন থেকে বের হওয়ার শক্তি তোমাদের নেই। তোমাদের এমন কোন অভিভাবক, পৃষ্ঠপোষক বা সাহায্যকারীও নেই, যে আল্লাহর মুকাবিলায় তোমাদের আশ্রয় দিতে পারে এবং তাঁর কাছে জবাবদিহি থেকে তোমাদেরকে বাঁচাতে পারে। যারা আল্লাহর বিধান অস্বীকার করেছে, সমগ্র বিশ্ব তাদের সাহায্যকারী হিসেবে দাঁড়িয়ে গেলেও আল্লাহর আযাবের ফায়সালাকে ঠেকিয়ে রাখার ক্ষমতা কারো নেই। অথবা সমগ্র বিশ্বে এমন একজনও নেই যে আল্লাহর আদালতে দাঁড়িয়ে এ কথা বলার সাহস রাখে যে, এরা আমার লোক; কাজেই এরা যা কিছু করেছে তা ÿমা করে দেয়া হোক।