hadith book logo

তাফসীরুল কুরআন বিল কুরআন

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২২৭

অধ্যায়- ২ : ধৈর্যধারণের ক্ষেত্রসমূহ

আল্লাহর ইবাদাতে অটল থাকার জন্য ধৈর্যধারণ করতে হবে :

فَاعْبُدْهُ وَاصْطَبِرْ لِعِبَادَتِهٖ

তোমরা তাঁরই ইবাদাত করো এবং তাঁর ইবাদাতে ধৈর্যশীল থাকো। (সূরা মারইয়াম- ৬৫)

বিপদাপদে ধৈর্যধারণ করতে হবে :

وَالصَّابِرِيْنَ فِى الْبَأْسَآءِ وَالضَّرَّآءِ وَحِيْنَ الْبَأْسِؕ اُولٰٓئِكَ الَّذِيْنَ صَدَقُوْاؕ وَاُولٰٓئِكَ هُمُ الْمُتَّقُوْنَ

যারা অভাবে, কষ্টে এবং যুদ্ধকালে ধৈর্যশীল, তারাই সত্যপরায়ণ এবং তারাই মুত্তাক্বী। (সূরা বাক্বারা- ১৭৭)

মানুষের কষ্টদায়ক কথা ও কর্মের উপর ধৈর্যধারণ করতে হবে :

وَاصْبِرْ عَلٰى مَا يَقُوْلُوْنَ وَاهْجُرْهُمْ هَجْرًا جَمِيْلًا

লোকেরা যা বলে, তাতে তুমি ধৈর্যধারণ করো এবং তাদেরকে উত্তম পন্থায় পরিহার করে চলো। (সূরা মুয্যাম্মিল- ১০)

وَجَعَلْنَا بَعْضَكُمْ لِبَعْضٍ فِتْنَةًؕ اَتَصْبِرُوْنَۚ وَكَانَ رَبُّكَ بَصِيْرًا

হে মানুষ! আমি তোমাদেরকে একে অপরের জন্য পরীক্ষাস্বরূপ বানিয়েছি। অতএব তোমরা কি ধৈর্যধারণ করবে? তোমার প্রতিপালক সবকিছু দেখেন। (সূরা ফুরক্বান- ২০)

দাওয়াতী কাজে বিরোধিতা আসলে ধৈর্যধারণ করতে হবে :

يَا بُنَيَّ اَقِمِ الصَّلَاةَ وَأْمُرْ بِالْمَعْرُوْفِ وَانْهَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَاصْبِرْ عَلٰى مَاۤ اَصَابَكَؕ اِنَّ ذٰلِكَ مِنْ عَزْمِ الْاُمُوْرِ

হে আমার ছেলে! সালাত কায়েম করো, সৎকাজের আদেশ দাও, মন্দকাজ হতে নিষেধ করো এবং তোমার উপর যে বিপদ আসে তাতে ধৈর্যধারণ করো। নিশ্চয় এটা দৃঢ় সংকল্পের কাজ। (সূরা লুক্বমান- ১৭)

শত্রুর নির্যাতনে ধৈর্যধারণ করতে হবে :

وَمَا لَنَاۤ اَلَّا نَتَوَكَّلَ عَلَى اللهِ وَقَدْ هَدَانَا سُبُلَنَاؕ وَلَنَصْبِرَنَّ عَلٰى مَاۤ اٰذَيْتُمُوْنَا

আমাদের কী হয়েছে যে, আমরা আল্লাহর উপর নির্ভর করব না? তিনিই তো আমাদেরকে পথপ্রদর্শন করেছেন। তোমরা আমাদেরকে যে কষ্ট দিচ্ছ, অবশ্যই আমরা তাতে ধৈর্যধারণ করব। (সূরা ইবরাহীম- ১২)

ব্যাখ্যা : প্রকৃত ধৈর্যধারণকারী তারা, যারা নিজেদের প্রবৃত্তি ও আকাঙ্ক্ষা নিয়ন্ত্রণ করে, নিজেদের আবেগকে নিয়ন্ত্রণে রাখে, আল্লাহর নাফরমানিতে বিভিন্ন লোভনীয় সুযোগসুবিধা থাকা সত্ত্বেও নিজেদের অবস্থানে অটল থাকে এবং আল্লাহর হুকুম মেনে চলার পথে যেসব ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দেয় সেগুলো সহ্য করে যেতে থাকে। এ দৃষ্টিতে বিচার করলে মুমিনগণ মূলত পুরোপুরি একটি সবরের জীবন-যাপন করে। কারণ সে আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় এবং আখিরাতের স্থায়ী পরিণামের প্রতি দৃষ্টি রেখে এ দুনিয়ায় আত্মসংযম করতে থাকে এবং প্রতিটি পাপ প্রবণতার মুকাবিলা করে।