১
তাফসীরুল কুরআন বিল কুরআন
লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৪২২
অধ্যায়- ৫ : ইনতাকিয়াবাসীর ধ্বংসের কাহিনী
আল্লাহ তাদের নিকট তিনজন নবী পাঠালেন :
وَاضْرِبْ لَهُمْ مَّثَلًا اَصْحَابَ الْقَرْيَةِۘ اِذْ جَآءَهَا الْمُرْسَلُوْنَ – اِذْ اَرْسَلْنَاۤ اِلَيْهِمُ اثْنَيْنِ فَكَذَّبُوْهُمَا فَعَزَّزْنَا بِثَالِثٍ فَقَالُوْاۤ اِنَّاۤ اِلَيْكُمْ مُّرْسَلُوْنَ
আপনি দৃষ্টান্তস্বরূপ তাদের কাছে এক জনপদবাসীর ঘটনা বর্ণনা করুন, যখন তাদের কাছে কয়েকজন রাসূল এসেছিলেন। যখন আমি তাদের কাছে দু’জন রাসূল প্রেরণ করেছিলাম, তখন তারা তাদেরকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করল। অতঃপর আমি তৃতীয়জন দ্বারা তাদেরকে শক্তিশালী করলাম। তারা সবাই বললেন, আমরা তোমাদের নিকট প্রেরিত রাসূল। (সূরা ইয়াসীন- ১৩, ১৪)
তারা নবীদেরকে মিথ্যাবাদী আখ্যায়িত করল :
قَالُوْا مَاۤ اَنْتُمْ اِلَّا بَشَرٌ مِّثْلُنَا وَمَاۤ اَنْزَلَ الرَّحْمٰنُ مِنْ شَيْءٍ اِنْ اَنْتُمْ اِلَّا تَكْذِبُوْنَ
তারা বলল, তোমরা তো আমাদের মতোই মানুষ, দয়াময় আল্লাহ তো কিছুই নাযিল করেননি। তোমরা শুধু মিথ্যাই বলে যাচ্ছ। (সূরা ইয়াসীন- ১৫)
নবীরা নিজেদের সত্যতার দাবী করলেন :
قَالُوْا رَبُّنَا يَعْلَمُ اِنَّاۤ اِلَيْكُمْ لَمُرْسَلُوْنَ – وَمَا عَلَيْنَاۤ اِلَّا الْبَلَاغُ الْمُبِيْنُ
রাসূলগণ বললেন, আমাদের প্রতিপালক জানেন, অবশ্যই আমরা তোমাদের প্রতি প্রেরিত হয়েছি। আর আমাদের দায়িত্ব কেবল স্পষ্টরূপে প্রচার করা। (সূরা ইয়াসীন- ১৬, ১৭)
জাতির লোকেরা শাস্তির হুমকি দিল :
قَالُوْاۤ اِنَّا تَطَيَّرْنَا بِكُمْۚ لَئِنْ لَّمْ تَنْتَهُوْا لَنَرْجُمَنَّكُمْ وَلَيَمَسَّنَّكُمْ مِّنَّا عَذَابٌ اَلِيْمٌ
তারা বলল, আমরা তোমাদেরকে কুলক্ষণ মনে করি, যদি তোমরা বিরত না হও তাহলে আমরা তোমাদেরকে পাথর মেরে ধ্বংস করে ফেলব এবং আমাদের পক্ষ থেকে তোমাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি স্পর্শ করবে। (সূরা ইয়াসীন- ১৮)
নবীরা পুনরায় তাদেরকে বুঝালেন :
قَالُوْا طَآئِرُكُمْ مَّعَكُمْؕ اَئِنْ ذُكِّرْتُمْؕ بَلْ اَنْتُمْ قَوْمٌ مُّسْرِفُوْنَ
রাসূলগণ বললেন, তোমাদের অশুভ লক্ষণ তোমাদের সাথেই সংযুক্ত। তোমরা কি এটাকে অশুভ মনে করছ? বরং তোমরা তো এক সীমালঙ্ঘনকারী সম্প্রদায় মাত্র। (সূরা ইয়াসীন- ১৯)
এবার এক মুমিন ব্যক্তি দৌড়ে আসলেন :
وَجَآءَ مِنْ اَقْصَى الْمَدِيْنَةِ رَجُلٌ يَّسْعٰى قَالَ يَا قَوْمِ اتَّبِعُوا الْمُرْسَلِيْنَ
অতঃপর শহরের দূরপ্রান্ত থেকে এক ব্যক্তি দৌড়ে এসে বলল, হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা রাসূলদের অনুসরণ করো। (সূরা ইয়াসীন- ২০)
তিনি জাতিকে নবীদের কথা মানতে বললেন :
اِتَّبِعُوْا مَنْ لَّا يَسْاَلُكُمْ اَجْرًا وَّهُمْ مُّهْتَدُوْنَ
তোমরা তাদের অনুসরণ করো, যারা তোমাদের কাছে বিনিময় চায় না এবং তারা নিজেরাও রয়েছে সৎপথে। (সূরা ইয়াসীন- ২১)
তাওহীদের পক্ষে যুক্তি পেশ করলেন :
وَمَا لِيَ لَاۤ اَعْبُدُ الَّذِيْ فَطَرَنِيْ وَاِلَيْهِ تُرْجَعُوْنَ
আমার কী হয়েছে যে, আমি তাঁর ইবাদাত করব না, যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন? অথচ তোমাদেরকে তাঁর কাছেই ফিরে যেতে হবে। (সূরা ইয়াসীন- ২২)
ব্যাখ্যা : এ বাক্যটিতে সত্য প্রচারের সর্বোত্তম কৌশলের সমাবেশ ঘটানো হয়েছে। প্রথমাংশে তিনি বলেছেন, স্রষ্টার ইবাদাত করা প্রকৃতির দাবীর নামান্তর। অযৌক্তিক কথা যদি কিছু থাকে, তাহলে যারা মানুষ সৃষ্টি করেনি মানুষ তাদের উপাসনা করবে- এটাই অযৌক্তিক এবং যিনি তাকে সৃষ্টি করেছেন মানুষ তাঁর দাসত্ব করবে- এটা যৌক্তিক। দ্বিতীয়াংশে তিনি নিজের জাতির লোকদের মধ্যে এ অনুভূতি সৃষ্টি করেছেন যে, তোমাদের একদিন তো মরতেই হবে, তাহলে আল্লাহর দাসত্ব করতে তোমাদের আপত্তি কোথায়?
শিরকের অসারতা প্রমাণ করলেন :
اَاَتَّخِذُ مِنْ دُوْنِه ۤ اٰلِهَةً اِنْ يُّرِدْنِ الرَّحْمٰنُ بِضُرٍّ لَّا تُغْنِ عَنِّيْ شَفَاعَتُهُمْ شَيْئًا وَّلَا يُنْقِذُوْنِ – اِنِّۤيْ اِذًا لَّفِيْ ضَلَالٍ مُّبِيْنٍ
আমি কি আল্লাহকে ছেড়ে অন্য কাউকে উপাস্য হিসেবে গ্রহণ করব? যদি দয়াময় আল্লাহ আমাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে চান, তবে তাদের সুপারিশ আমার কোন উপকারে আসবে না এবং তারা আমাকে মুক্তও করতে পারবে না। যদি আমি এরূপ করি, তবে তো আমি স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে পতিত হব। (সূরা ইয়াসীন- ২৩, ২৪)
প্রকাশ্যে নিজের ঈমানের ঘোষণা দিলেন :
اِنِّۤيْ اٰمَنْتُ بِرَبِّكُمْ فَاسْمَعُوْنِ
আমি তো তোমাদের প্রতিপালকের প্রতি ঈমান এনেছি, অতএব তোমরা আমার কথা শুনো। (সূরা ইয়াসীন- ২৫)
ব্যাখ্যা : এ বাক্যে সত্য প্রচারের একটি সূক্ষ্ম কৌশল বলে দেয়া হয়েছে। সে ব্যক্তি তাদের অনুভূতিকে এভাবে সজাগ করেন যে, আমি যে রবের প্রতি ঈমান এনেছি তিনি কেবল আমারই রব নন বরং তোমাদেরও রব। তাঁর প্রতি ঈমান এনে আমি ভুল করিনি বরং ঈমান না এনে তোমরাই ভুল করছ।
পরে তিনি শহীদ হলেন এবং জান্নাতবাসী হলেন :
قِيْلَ ادْخُلِ الْجَنَّةَؕ قَالَ يَا لَيْتَ قَوْمِيْ يَعْلَمُوْنَ
তাকে বলা হলো, ‘‘জান্নাতে প্রবেশ করো।’’ সে বলল, আহা! যদি আমার সম্প্রদায় জানতে পারত।
(সূরা ইয়াসীন- ২৬)
ব্যাখ্যা : এটি সেই মুমিন ব্যক্তির উন্নত নৈতিক মানসিকতার একটি শ্রেষ্ঠতম আদর্শ, যারা তার হত্যাকর্ম সংঘটিত করেছিল তাদের বিরুদ্ধে তার মনে কোন ক্রোধ ও প্রতিশোধের স্পৃহা ছিল না। তিনি আল্লাহর কাছে তাদের জন্য কোন বদ্দু‘আ করেননি। বরং তিনি তাদের কল্যাণ কামনা করে চলেছেন। মৃত্যুর পর তার মনে যদি কোন আকাঙ্ক্ষা জন্মে থাকে, তাহলে তা ছিল কেবলমাত্র এতটুকু যে, হায়! আমার জাতি যদি আমার মৃত্যু থেকেও শিক্ষা নিয়ে সঠিক পথ অবলম্বন করত!
তিনি জাতির জন্য আফসোস করলেন :
قِيْلَ ادْخُلِ الْجَنَّةَ ؕ قَالَ يَا لَيْتَ قَوْمِيْ يَعْلَمُوْنَ – بِمَا غَفَرَ لِيْ رَبِّيْ وَجَعَلَنِيْ مِنَ الْمُكْرَمِيْنَ
তাকে বলা হলো, জান্নাতে প্রবেশ করো। সে বলল আহা! যদি আমার সম্প্রদায় জানতে পারত যে, আমার প্রতিপালক কেন আমাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন এবং আমাকে সম্মানিত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। (সূরা ইয়াসীন- ২৬, ২৭)
এ জাতিকে ধ্বংস করার জন্য কোন বাহিনীর প্রয়োজন হয়নি :
وَمَاۤ اَنْزَلْنَا عَلٰى قَوْمِه مِنْ ۢبَعْدِه مِنْ جُنْدٍ مِّنَ السَّمَآءِ وَمَا كُنَّا مُنْزِلِيْنَ
এরপর আমি তার সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আকাশ হতে আর কোন বাহিনী প্রেরণ করিনি এবং প্রেরণের প্রয়োজনও ছিল না। (সূরা ইয়াসীন- ২৮)
একটি বিকট আওয়াজ তাদেরকে শেষ করে দিল :
اِنْ كَانَتْ اِلَّا صَيْحَةً وَّاحِدَةً فَاِذَا هُمْ خَامِدُوْنَ
তা ছিল কেবল একটি মহাগর্জন, ফলে সাথে সাথে তারা নিথর ও স্থির হয়ে গেল। (সূরা ইয়াসীন- ২৯)
আফসোস এসব লোকদের জন্য :
يَا حَسْرَةً عَلَى الْعِبَادِۚ مَا يَأْتِيْهِمْ مِّنْ رَّسُوْلٍ اِلَّا كَانُوْا بِه يَسْتَهْزِئُوْنَ
আফসোস! সেসব বান্দাদের জন্য, যাদের কাছে এমন কোন রাসূল আসেনি, যাকে নিয়ে তারা ঠাট্টা-বিদ্রূপ করেনি। (সূরা ইয়াসীন- ৩০) হেদায়াত
وَاضْرِبْ لَهُمْ مَّثَلًا اَصْحَابَ الْقَرْيَةِۘ اِذْ جَآءَهَا الْمُرْسَلُوْنَ – اِذْ اَرْسَلْنَاۤ اِلَيْهِمُ اثْنَيْنِ فَكَذَّبُوْهُمَا فَعَزَّزْنَا بِثَالِثٍ فَقَالُوْاۤ اِنَّاۤ اِلَيْكُمْ مُّرْسَلُوْنَ
আপনি দৃষ্টান্তস্বরূপ তাদের কাছে এক জনপদবাসীর ঘটনা বর্ণনা করুন, যখন তাদের কাছে কয়েকজন রাসূল এসেছিলেন। যখন আমি তাদের কাছে দু’জন রাসূল প্রেরণ করেছিলাম, তখন তারা তাদেরকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করল। অতঃপর আমি তৃতীয়জন দ্বারা তাদেরকে শক্তিশালী করলাম। তারা সবাই বললেন, আমরা তোমাদের নিকট প্রেরিত রাসূল। (সূরা ইয়াসীন- ১৩, ১৪)
তারা নবীদেরকে মিথ্যাবাদী আখ্যায়িত করল :
قَالُوْا مَاۤ اَنْتُمْ اِلَّا بَشَرٌ مِّثْلُنَا وَمَاۤ اَنْزَلَ الرَّحْمٰنُ مِنْ شَيْءٍ اِنْ اَنْتُمْ اِلَّا تَكْذِبُوْنَ
তারা বলল, তোমরা তো আমাদের মতোই মানুষ, দয়াময় আল্লাহ তো কিছুই নাযিল করেননি। তোমরা শুধু মিথ্যাই বলে যাচ্ছ। (সূরা ইয়াসীন- ১৫)
নবীরা নিজেদের সত্যতার দাবী করলেন :
قَالُوْا رَبُّنَا يَعْلَمُ اِنَّاۤ اِلَيْكُمْ لَمُرْسَلُوْنَ – وَمَا عَلَيْنَاۤ اِلَّا الْبَلَاغُ الْمُبِيْنُ
রাসূলগণ বললেন, আমাদের প্রতিপালক জানেন, অবশ্যই আমরা তোমাদের প্রতি প্রেরিত হয়েছি। আর আমাদের দায়িত্ব কেবল স্পষ্টরূপে প্রচার করা। (সূরা ইয়াসীন- ১৬, ১৭)
জাতির লোকেরা শাস্তির হুমকি দিল :
قَالُوْاۤ اِنَّا تَطَيَّرْنَا بِكُمْۚ لَئِنْ لَّمْ تَنْتَهُوْا لَنَرْجُمَنَّكُمْ وَلَيَمَسَّنَّكُمْ مِّنَّا عَذَابٌ اَلِيْمٌ
তারা বলল, আমরা তোমাদেরকে কুলক্ষণ মনে করি, যদি তোমরা বিরত না হও তাহলে আমরা তোমাদেরকে পাথর মেরে ধ্বংস করে ফেলব এবং আমাদের পক্ষ থেকে তোমাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি স্পর্শ করবে। (সূরা ইয়াসীন- ১৮)
নবীরা পুনরায় তাদেরকে বুঝালেন :
قَالُوْا طَآئِرُكُمْ مَّعَكُمْؕ اَئِنْ ذُكِّرْتُمْؕ بَلْ اَنْتُمْ قَوْمٌ مُّسْرِفُوْنَ
রাসূলগণ বললেন, তোমাদের অশুভ লক্ষণ তোমাদের সাথেই সংযুক্ত। তোমরা কি এটাকে অশুভ মনে করছ? বরং তোমরা তো এক সীমালঙ্ঘনকারী সম্প্রদায় মাত্র। (সূরা ইয়াসীন- ১৯)
এবার এক মুমিন ব্যক্তি দৌড়ে আসলেন :
وَجَآءَ مِنْ اَقْصَى الْمَدِيْنَةِ رَجُلٌ يَّسْعٰى قَالَ يَا قَوْمِ اتَّبِعُوا الْمُرْسَلِيْنَ
অতঃপর শহরের দূরপ্রান্ত থেকে এক ব্যক্তি দৌড়ে এসে বলল, হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা রাসূলদের অনুসরণ করো। (সূরা ইয়াসীন- ২০)
তিনি জাতিকে নবীদের কথা মানতে বললেন :
اِتَّبِعُوْا مَنْ لَّا يَسْاَلُكُمْ اَجْرًا وَّهُمْ مُّهْتَدُوْنَ
তোমরা তাদের অনুসরণ করো, যারা তোমাদের কাছে বিনিময় চায় না এবং তারা নিজেরাও রয়েছে সৎপথে। (সূরা ইয়াসীন- ২১)
তাওহীদের পক্ষে যুক্তি পেশ করলেন :
وَمَا لِيَ لَاۤ اَعْبُدُ الَّذِيْ فَطَرَنِيْ وَاِلَيْهِ تُرْجَعُوْنَ
আমার কী হয়েছে যে, আমি তাঁর ইবাদাত করব না, যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন? অথচ তোমাদেরকে তাঁর কাছেই ফিরে যেতে হবে। (সূরা ইয়াসীন- ২২)
ব্যাখ্যা : এ বাক্যটিতে সত্য প্রচারের সর্বোত্তম কৌশলের সমাবেশ ঘটানো হয়েছে। প্রথমাংশে তিনি বলেছেন, স্রষ্টার ইবাদাত করা প্রকৃতির দাবীর নামান্তর। অযৌক্তিক কথা যদি কিছু থাকে, তাহলে যারা মানুষ সৃষ্টি করেনি মানুষ তাদের উপাসনা করবে- এটাই অযৌক্তিক এবং যিনি তাকে সৃষ্টি করেছেন মানুষ তাঁর দাসত্ব করবে- এটা যৌক্তিক। দ্বিতীয়াংশে তিনি নিজের জাতির লোকদের মধ্যে এ অনুভূতি সৃষ্টি করেছেন যে, তোমাদের একদিন তো মরতেই হবে, তাহলে আল্লাহর দাসত্ব করতে তোমাদের আপত্তি কোথায়?
শিরকের অসারতা প্রমাণ করলেন :
اَاَتَّخِذُ مِنْ دُوْنِه ۤ اٰلِهَةً اِنْ يُّرِدْنِ الرَّحْمٰنُ بِضُرٍّ لَّا تُغْنِ عَنِّيْ شَفَاعَتُهُمْ شَيْئًا وَّلَا يُنْقِذُوْنِ – اِنِّۤيْ اِذًا لَّفِيْ ضَلَالٍ مُّبِيْنٍ
আমি কি আল্লাহকে ছেড়ে অন্য কাউকে উপাস্য হিসেবে গ্রহণ করব? যদি দয়াময় আল্লাহ আমাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে চান, তবে তাদের সুপারিশ আমার কোন উপকারে আসবে না এবং তারা আমাকে মুক্তও করতে পারবে না। যদি আমি এরূপ করি, তবে তো আমি স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে পতিত হব। (সূরা ইয়াসীন- ২৩, ২৪)
প্রকাশ্যে নিজের ঈমানের ঘোষণা দিলেন :
اِنِّۤيْ اٰمَنْتُ بِرَبِّكُمْ فَاسْمَعُوْنِ
আমি তো তোমাদের প্রতিপালকের প্রতি ঈমান এনেছি, অতএব তোমরা আমার কথা শুনো। (সূরা ইয়াসীন- ২৫)
ব্যাখ্যা : এ বাক্যে সত্য প্রচারের একটি সূক্ষ্ম কৌশল বলে দেয়া হয়েছে। সে ব্যক্তি তাদের অনুভূতিকে এভাবে সজাগ করেন যে, আমি যে রবের প্রতি ঈমান এনেছি তিনি কেবল আমারই রব নন বরং তোমাদেরও রব। তাঁর প্রতি ঈমান এনে আমি ভুল করিনি বরং ঈমান না এনে তোমরাই ভুল করছ।
পরে তিনি শহীদ হলেন এবং জান্নাতবাসী হলেন :
قِيْلَ ادْخُلِ الْجَنَّةَؕ قَالَ يَا لَيْتَ قَوْمِيْ يَعْلَمُوْنَ
তাকে বলা হলো, ‘‘জান্নাতে প্রবেশ করো।’’ সে বলল, আহা! যদি আমার সম্প্রদায় জানতে পারত।
(সূরা ইয়াসীন- ২৬)
ব্যাখ্যা : এটি সেই মুমিন ব্যক্তির উন্নত নৈতিক মানসিকতার একটি শ্রেষ্ঠতম আদর্শ, যারা তার হত্যাকর্ম সংঘটিত করেছিল তাদের বিরুদ্ধে তার মনে কোন ক্রোধ ও প্রতিশোধের স্পৃহা ছিল না। তিনি আল্লাহর কাছে তাদের জন্য কোন বদ্দু‘আ করেননি। বরং তিনি তাদের কল্যাণ কামনা করে চলেছেন। মৃত্যুর পর তার মনে যদি কোন আকাঙ্ক্ষা জন্মে থাকে, তাহলে তা ছিল কেবলমাত্র এতটুকু যে, হায়! আমার জাতি যদি আমার মৃত্যু থেকেও শিক্ষা নিয়ে সঠিক পথ অবলম্বন করত!
তিনি জাতির জন্য আফসোস করলেন :
قِيْلَ ادْخُلِ الْجَنَّةَ ؕ قَالَ يَا لَيْتَ قَوْمِيْ يَعْلَمُوْنَ – بِمَا غَفَرَ لِيْ رَبِّيْ وَجَعَلَنِيْ مِنَ الْمُكْرَمِيْنَ
তাকে বলা হলো, জান্নাতে প্রবেশ করো। সে বলল আহা! যদি আমার সম্প্রদায় জানতে পারত যে, আমার প্রতিপালক কেন আমাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন এবং আমাকে সম্মানিত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। (সূরা ইয়াসীন- ২৬, ২৭)
এ জাতিকে ধ্বংস করার জন্য কোন বাহিনীর প্রয়োজন হয়নি :
وَمَاۤ اَنْزَلْنَا عَلٰى قَوْمِه مِنْ ۢبَعْدِه مِنْ جُنْدٍ مِّنَ السَّمَآءِ وَمَا كُنَّا مُنْزِلِيْنَ
এরপর আমি তার সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আকাশ হতে আর কোন বাহিনী প্রেরণ করিনি এবং প্রেরণের প্রয়োজনও ছিল না। (সূরা ইয়াসীন- ২৮)
একটি বিকট আওয়াজ তাদেরকে শেষ করে দিল :
اِنْ كَانَتْ اِلَّا صَيْحَةً وَّاحِدَةً فَاِذَا هُمْ خَامِدُوْنَ
তা ছিল কেবল একটি মহাগর্জন, ফলে সাথে সাথে তারা নিথর ও স্থির হয়ে গেল। (সূরা ইয়াসীন- ২৯)
আফসোস এসব লোকদের জন্য :
يَا حَسْرَةً عَلَى الْعِبَادِۚ مَا يَأْتِيْهِمْ مِّنْ رَّسُوْلٍ اِلَّا كَانُوْا بِه يَسْتَهْزِئُوْنَ
আফসোস! সেসব বান্দাদের জন্য, যাদের কাছে এমন কোন রাসূল আসেনি, যাকে নিয়ে তারা ঠাট্টা-বিদ্রূপ করেনি। (সূরা ইয়াসীন- ৩০) হেদায়াত