hadith book logo

তাফসীরুল কুরআন বিল কুরআন

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২৫৮

অধ্যায়- ১ : শিরক থেকে বেঁচে থাকা

আল্লাহ শিরক করতে নিষেধ করেছেন :

وَاعْبُدُوا اللهَ وَلَا تُشْرِكُوْا بِهٖ شَيْئًا

তোমরা আল্লাহর ইবাদাত করো এবং তাঁর সাথে কোনকিছুকে শরীক সাব্যস্ত করো না। (সূরা নিসা- ৩৬)

قُلْ اِنَّمَاۤ اُمِرْتُ اَنْ اَعْبُدَ اللهَ وَلَاۤ اُشْرِكَ بِهٖ

বলো, নিশ্চয় আমি আল্লাহর ইবাদাত করতে ও তাঁর সাথে শরীক না করতে আদিষ্ট হয়েছি। (সূরা রা‘দ- ৩৬)

وَقَالَ اللهُ لَا تَتَّخِذُوْاۤ اِلٰهَيْنِ اثْنَيْنِ اِنَّمَا هُوَ اِلٰهٌ وَّاحِدٌۚ فَاِيَّايَ فَارْهَبُوْنِ

আল্লাহ বললেন, তোমরা দুই ইলাহ গ্রহণ করো না; কেননা তিনিই একমাত্র ইলাহ। সুতরাং তোমরা আমাকেই ভয় করো। (সূরা নাহল- ৫১)

لَا تَجْعَلْ مَعَ اللهِ اِلٰهًا اٰخَرَ فَتَقْعُدَ مَذْمُوْمًا مَّخْذُوْلًا

আল্লাহর সাথে অপর কোন ইলাহ্ সাব্যস্ত করো না, নতুবা তোমরা নিন্দিত ও লাঞ্ছিত হয়ে পড়বে। (সূরা বনী ইসরাঈল- ২২)

فَاجْتَنِبُوا الرِّجْسَ مِنَ الْاَوْثَانِ وَاجْتَنِبُوْا قَوْلَ الزُوْرِ

তোমরা মূর্তিপূজার অপবিত্রতা বর্জন করো এবং মিথ্যা কথা হতে দূরে থাকো। (সূরা হজ্জ- ৩০)

ব্যাখ্যা : অর্থাৎ তোমরা মূর্তিপূজা থেকে এমনভাবে দূরে থাকো যেমন দুর্গন্ধময় ময়লা-আবর্জনা থেকে মানুষ নাকে কাপড় দিয়ে দূরে সরে আসে। অন্য কথায় বলা যায়, তা যেন এমন নাপাক ও ময়লা-আবর্জনায় পরিপূর্ণ, যার কাছে গেলেই মানুষ নাপাক ও নোংরা হয়ে যাবে। যেহেতু অত্র আয়াতে মূর্তিপূজার কাছে যেতেও নিষেধ করা হয়েছে, সেহেতু মূর্তিপূজার কাজে নিজেকে সংশ্লিষ্ট রাখা তথা মূর্তিপূজার কাজে আর্থিক অথবা শারীরিক সহযোগিতা করা, তাদের অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়া, তাদের সাথে আন্তরিক সম্পর্ক বিদ্যমান রাখা, তাদের অনুষ্ঠান থেকে কোনকিছু গ্রহণ করা ইত্যাদি সবকিছুই নিষিদ্ধ।

আল্লাহ শিরককে হারাম করে দিয়েছেন :

قُلْ تَعَالَوْا اَتْلُ مَا حَرَّمَ رَبُّكُمْ عَلَيْكُمْ اَلَّا تُشْرِكُوْا بِهٖ شَيْئًا

আপনি বলুন, এসো! তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের জন্য যা হারাম করেছেন তা আমি তোমাদেরকে পাঠ করে শোনাই। আর তা হলো, তোমরা তাঁর সাথে কোন শরীক স্থাপন করো না। (সূরা আন‘আম- ১৫১)

قُلْ اِنَّمَا حَرَّمَ رَبِّيَ الْفَوَاحِشَ مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَمَا بَطَنَ وَالْاِثْمَ وَالْبَغْيَ بِغَيْرِ الْحَقِّ وَاَنْ تُشْرِكُوْا بِاللهِ مَا لَمْ يُنَزِّلْ بِهٖ سُلْطَانًا وَّاَنْ تَقُوْلُوْا عَلَى اللهِ مَا لَا تَعْلَمُوْنَ

বলো, নিশ্চয় আমার প্রতিপালক (তোমাদের জন্য) যা কিছু হারাম করে দিয়েছেন তা হচ্ছে, প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য অশ্লীলতা, গোনাহ ও অন্যায়ভাবে বাড়াবাড়িমূলক কর্ম এবং কোনকিছুকে আল্লাহর শরীক করা, যার কোন প্রমাণ তিনি প্রেরণ করেননি। আর তিনি আল্লাহ সম্বন্ধে এমন কিছু বলা থেকেও নিষেধ করেছেন, যা তোমরা জান না। (সূরা আ‘রাফ- ৩৩)

মাতা-পিতা আদেশ করলেও শিরক করা যাবে না :

وَاِنْ جَاهَدَاكَ لِتُشْرِكَ بِيْ مَا لَيْسَ لَكَ بِهٖ عِلْمٌ فَلَا تُطِعْهُمَا

তারা (পিতামাতা) যদি আমার সাথে এমন কিছুকে শরীক করার জন্য তোমার উপর বল প্রয়োগ করে, যার সম্পর্কে তোমার কোন জ্ঞান নেই, তাহলে তুমি তাদের আনুগত্য করো না। (সূরা আনকাবূত- ৮)

লুক্বমান (আঃ) ছেলেকে শিরক করতে নিষেধ করেছেন :

وَاِذْ قَالَ لُقْمَانُ لِابْنِهٖ وَهُوَ يَعِظُهٗ يَا بُنَيَّ لَا تُشْرِكْ بِاللهِؕ اِنَّ الشِّرْكَ لَظُلْمٌ عَظِيْمٌ

স্মরণ করো, যখন লুক্বমান স্বীয় ছেলেকে উপদেশ প্রদান করে বলল, হে আমার ছেলে! আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করো না; নিশ্চয় শিরক হচ্ছে মহা অন্যায়। (সূরা লুক্বমান- ১৩)

কোন নবীই শিরককে সমর্থন করেননি :

وَاسْاَلْ مَنْ اَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ مِنْ رُّسُلِنَاۤ اَجَعَلْنَا مِنْ دُوْنِ الرَّحْمٰنِ اٰلِهَةً يُّعْبَدُوْنَ

তোমার পূর্বে আমি যেসব রাসূল প্রেরণ করেছিলাম তাদেরকে জিজ্ঞেস করে দেখো, আমি কি দয়াময় (আল্লাহ) ব্যতীত এমন কোন উপাস্য স্থির করেছিলাম, যাদের ইবাদাত করা যায়? (সূরা যুখরুফ- ৪৫)