hadith book logo

তাফসীরুল কুরআন বিল কুরআন

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৭৩

অধ্যায়- ১৪ : জেহারের বিধান

স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে তার মা-বোন অথবা গাইরে মাহরাম কোন মহিলার সাথে তুলনা করাকে জেহার বলে। জাহেলী যুগে এক ধরনের প্রথা ছিল যে, কোন ব্যক্তি যখন তার স্ত্রীর উপর রাগান্বিত হতো তখন তালাক শব্দ ব্যবহার না করে বলত, তুমি আমার নিকট আমার মায়ের মতো অথবা বোনের মতো। এর দ্বারা সে সম্পর্কচ্ছেদকে বুঝাত। জেহার মূলত ব্যক্তির নিয়তের উপর নির্ভর করে। এর দ্বারা সে যদি তালাক নিয়ত করে তবে তালাক প্রযোজ্য হবে। যারা নিজেদের স্ত্রীদের সাথে জেহার করে, অতঃপর যা বলেছে তা হতে অনুতপ্ত হয়ে ফিরে আসতে চায় তাদেরকে কাফফারা আদায় করতে হবে।

জেহারের কারণে স্ত্রী মা হয়ে যায় না :

وَمَا جَعَلَ اَزْوَاجَكُمُ اللَّآئِيْ تُظَاهِرُوْنَ مِنْهُنَّ اُمَّهَاتِكُمْ

তোমাদের স্ত্রীদের মধ্য হতে যাদের সাথে তোমরা জেহার কর, তিনি তাদেরকে তোমাদের মা বানিয়ে দেননি। (সূরা আহযাব- ৪)

اَلَّذِيْنَ يُظَاهِرُوْنَ مِنْكُمْ مِّنْ نِّسَآئِهِمْ مَّا هُنَّ اُمَّهَاتِهِمْؕ اِنْ اُمَّهَاتُهُمْ اِلَّا اللَّآئِيْ وَلَدْنَهُمْ

তোমাদের মধ্যে যারা স্বীয় স্ত্রীদের সাথে জেহার করে (তারা জেনে রাখুক), তাদের স্ত্রীগণ তাদের মাতা নয়। তাদের মাতা তো কেবল তারাই, যারা তাদেরকে জন্মদান করেছেন। (সূরা মুজাদালা- ২)

জেহার একটি মিথ্যা ও অশুভ উক্তি :

وَاِنَّهُمْ لَيَقُوْلُوْنَ مُنْكَرًا مِّنَ الْقَوْلِ وَزُوْرًاؕ وَاِنَّ اللهَ لَعَفُوٌّ غَفُوْرٌ

তারা তো একটি অসঙ্গত ও মিথ্যা কথাই বলছে। আর আল্লাহ অতীব গোনাহ মোচনকারী ও পরম ক্ষমাশীল। (সূরা মুজাদালা- ২)

জেহারের কাফফারা :

وَالَّذِيْنَ يُظَاهِرُوْنَ مِنْ نِّسَآئِهِمْ ثُمَّ يَعُوْدُوْنَ لِمَا قَالُوْا فَتَحْرِيْرُ رَقَبَةٍ مِّنْ قَبْلِ اَنْ يَّتَمَآسَّاؕ ذٰلِكُمْ تُوْعَظُوْنَ بِهٖؕ وَاللهُ بِمَا تَعْمَلُوْنَ خَبِيْرٌ ‐ فَمَنْ لَّمْ يَجِدْ فَصِيَامُ شَهْرَيْنِ مُتَتَابِعَيْنِ مِنْ قَبْلِ اَنْ يَّتَمَآسَّاؕ فَمَنْ لَّمْ يَسْتَطِعْ فَاِطْعَامُ سِتِّيْنَ مِسْكِيْنًاؕ ذٰلِكَ لِتُؤْمِنُوْا بِاللهِ وَرَسُوْلِهٖؕ وَتِلْكَ حُدُوْدُ اللهِؕ وَلِلْكَافِرِيْنَ عَذَابٌ اَلِيْمٌ

যারা নিজেদের স্ত্রীদের সাথে জেহার করে, অতঃপর (অনুতপ্ত হয়ে) যা কিছু বলে ফেলেছে তা হতে ফিরে আসতে চায় (তাদের জন্য বিধান হচ্ছে), তাদের একে অপরকে স্পর্শ করার পূর্বে একটি গোলাম আজাদ করে দেয়া। এ আদেশ দিয়ে তোমাদেরকে নসীহত করা যাচ্ছে। তোমরা যা কর, আল্লাহ তা সবিশেষ অবহিত। তবে যার এ সামর্থ্য নেই, সে একে অপরকে স্পর্শ করার পূর্বে ধারাবাহিকভাবে দু’মাস রোযা রাখবে। আর যে ব্যক্তি এতেও অসমর্থ হয়, সে ষাটজন মিসকীনকে খানা খাওয়াবে। এ নির্দেশ এজন্য যে, তোমরা যেন আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আনয়ন কর, এগুলো আল্লাহর নির্ধারিত সীমারেখা। আর (এসব সীমারেখা লঙ্ঘনকারী) কাফিরদের জন্য প্রস্তুত রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। (সূরা মুজাদালা- ৩, ৪)