hadith book logo

তাফসীরুল কুরআন বিল কুরআন

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২৪১

অধ্যায়- ২ : তাওবা করার নিয়ম

খালিস নিয়তে তাওবা করতে হবে :

يَاۤ اَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا تُوْبُوْاۤ اِلَى اللهِ تَوْبَةً نَّصُوْحًاؕ عَسٰى رَبُّكُمْ اَنْ يُّكَفِّرَ عَنْكُمْ سَيِّئَاتِكُمْ وَيُدْخِلَكُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِيْ مِنْ تَحْتِهَا الْاَنْهَارُ

হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর নিকট তাওবা করো- একান্ত বিশুদ্ধ তাওবা। তাহলে তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের মন্দকর্মসমূহের (গোনাহগুলো) মোচন করে দেবেন এবং তোমাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন, যার তলদেশে নদীসমূহ প্রবাহিত হয়ে গেছে। (সূরা তাহরীম- ৮)

তাড়াতাড়ি তাওবা করতে হবে :

اِنَّمَا التَّوْبَةُ عَلَى اللهِ لِلَّذِيْنَ يَعْمَلُوْنَ السُّوْٓءَ بِجَهَالَةٍ ثُمَّ يَتُوْبُوْنَ مِنْ قَرِيْبٍ فَاُولٰٓئِكَ يَتُوْبُ اللهُ عَلَيْهِمْؕ وَكَانَ اللهُ عَلِيْمًا حَكِيْمًا

আল্লাহ কেবল তাদের তাওবাই কবুল করেন, যারা অজ্ঞতাবশত পাপ করে ফেলে, অতঃপর তাড়াতাড়ি তাওবা করে নেয়। আল্লাহ এসব লোকের তাওবাই কবুল করেন। আল্লাহ মহাজ্ঞানী ও প্রজ্ঞাময়। (সূরা নিসা- ১৭)

ব্যাখ্যা : মহান আল্লাহ এ আয়াতে বলেন, আমার ক্ষমার দরজা কেবল সেসব বান্দাদের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে, যারা ইচ্ছা করে নয় বরং অজ্ঞতার কারণে ভুল করে বসে। কিন্তু চোখের উপর থেকে অজ্ঞতার পর্দা সরে গেলে লজ্জিত হয়ে নিজের ভুলের জন্য ক্ষমাপ্রার্থী হয়। এমন বান্দা তার ভুল বুঝতে পেরে যখনই আল্লাহর দিকে ফিরে আসবে, তখনই সে তাওবার দরজা উন্মুক্ত দেখতে পাবে। কিন্তু যারা আল্লাহকে ভয় না করে সারা জীবন বেপরোয়াভাবে গোনাহ করতে থাকে এমনকি যখন মৃত্যুর ফেরেশতা সামনে এসে দাঁড়ায়, তখন আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে থাকে, তাদের জন্য কোন তাওবা নেই এবং তাদের গোনাহের কোন ক্ষমাও নেই।

মৃত্যু এসে গেলে তাওবা কবুল হয় না :

وَلَيْسَتِ التَّوْبَةُ لِلَّذِيْنَ يَعْمَلُوْنَ السَّيِّئَاتِۚ حَتّٰۤى اِذَا حَضَرَ اَحَدَهُمُ الْمَوْتُ قَالَ اِنِّيْ تُبْتُ الْاٰنَ وَلَا الَّذِيْنَ يَمُوْتُوْنَ وَهُمْ كُفَّارٌؕ اُولٰٓئِكَ اَعْتَدْنَا لَهُمْ عَذَابًا اَلِيْمًا

তাদের জন্য কোন তাওবা নেই যারা পাপকাজ করতেই থাকে, এমনকি যখন তাদের কারো নিকট মৃত্যু উপস্থিত হয় তখন বলে, আমি এখন তাওবা করছি। আর তাদেরও কোন তাওবা নেই, যারা কাফির অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে। এদের জন্য আমি যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছি। (সূরা নিসা- ১৮)

ব্যাখ্যা : মৃত্যুর পর তাদেরকে এ কথা বলা হবে না যে, এখন তোমরা তোমাদের রবের কাছে নিজেদের ভুল-ভ্রান্তি ও অপরাধগুলোর জন্য ক্ষমা চেয়ে নাও। কারণ সেটা হবে ফায়সালার সময়; ক্ষমা চাওয়ার সময় দুনিয়াতেই শেষ হয়ে গেছে। কুরআন ও হাদীস এ কথা পরিষ্কার জানিয়ে দিচ্ছে যে, এ দুনিয়াতেই তাওবা করতে হবে। কেননা আখিরাতে এর কোন সুযোগ থাকবে না। আবার দুনিয়াতেও এর সুযোগ শুধুমাত্র ততক্ষণ পর্যন্ত থাকবে যতক্ষণ না মৃত্যুর চিহ্নগুলো ফুটে ওঠে। যখন মানুষের নিশ্চিত বিশ্বাস হবে যে, তার শেষ সময় এসে গেছে তখন তার তাওবা গ্রহণ করা হবে না। মৃত্যুর সীমান্তে পৌঁছার সাথে সাথেই মানুষের আমলের সুযোগ শেষ হয়ে যায়, তখন শুধুমাত্র পুরস্কার ও শাস্তি পাওয়ার সময়টুকু অবশিষ্ট থাকে।

বার বার কুফরী করলে তাওবা কবুল হয় না :

اِنَّ الَّذِيْنَ كَفَرُوْا بَعْدَ اِيْمَانِهِمْ ثُمَّ ازْدَادُوْا كُفْرًا لَّنْ تُقْبَلَ تَوْبَتُهُمْ وَاُولٰٓئِكَ هُمُ الضَّآ لُّوْنَ

নিশ্চয় যারা ঈমান আনার পর কুফরী করেছে এবং সেই কুফরীকে আরো বৃদ্ধি করেছে, তাদের তাওবা কখনো কবুল করা হবে না; তারাই পথভ্রষ্টদের অন্তর্ভুক্ত। (সূরা আলে ইমরান- ৯০)