hadith book logo

তাফসীরুল কুরআন বিল কুরআন

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৩৫৮

অধ্যায়- ৩ : কিয়ামতের ভয়াবহতা

সিঙ্গায় ফুৎকারের মাধ্যমে কিয়ামত শুরু হবে :

وَنُفِخَ فِى الصُّوْرِ فَصَعِقَ مَنْ فِى السَّمَاوَاتِ وَمَنْ فِى الْاَرْضِ اِلَّا مَنْ شَآءَ اللهُؕ ثُمَّ نُفِخَ فِيْهِ اُخْرٰى فَاِذَا هُمْ قِيَامٌ يَّنْظُرُوْنَ

শিঙ্গায় ফুৎকার দেয়া হবে, ফলে আল্লাহ যাদেরকে ইচ্ছা করেন তারা ব্যতীত আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর সবাই অজ্ঞান হয়ে পড়বে। অতঃপর আবার শিঙ্গায় ফুৎকার দেয়া হবে এবং তৎক্ষণাৎ তারা দন্ডায়মান হয়ে তাকাতে থাকবে। (সূরা যুমার- ৬৮)

ব্যাখ্যা : তিনবার সিঙ্গায় ফুঁক দেয়া হবে। প্রথম ফুঁক হবে فَزَعٌ (ফাযা‘উন) তথা ভীতি সৃষ্টিকারী। দ্বিতীয় ফুঁক صَعْقٌ (সা‘আক) তথা সংজ্ঞা লোপকারী বিকট গর্জন। আর তৃতীয় ফুঁক হবে اَلْقِيَامُ لِرَبِّ الْعَالَمِيْنَ (আল কিয়ামু লি-রাবিবল আলামীন) তথা বিশ্ববাসীর প্রতিপালকের সামনে হাজির হওয়ার ফুঁক। প্রথম ফুঁকটি সাধারণ বিভীষিকা সৃষ্টি করবে এবং মানুষ হতভম্ভ হয়ে যাবে। দ্বিতীয় ফুঁকে সবাই মারা যাবে। তৃতীয় ফুঁকের পর সবাই জীবিত হয়ে আল্লাহর সামনে হাজির হবে।

হিংস্র প্রাণীরাও সমবেত হতে থাকবে :

وَاِذَا الْوُحُوْشُ حُشِرَتْ

যখন বন্য পশুগুলোকে একত্র করা হবে। (সূরা তাকভীর- ৫)

দুধের বাচ্চাকেও ভুলে যাবে :

يَاۤ اَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوْا رَبَّكُمْۚ اِنَّ زَلْزَلَةَ السَّاعَةِ شَيْءٌ عَظِيْمٌ – يَوْمَ تَرَوْنَهَا تَذْهَلُ كُلُّ مُرْضِعَةٍ عَمَّاۤ اَرْضَعَتْ

হে মানুষ! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় করো। নিশ্চয় কিয়ামতের প্রকম্পন এক ভয়ংকর ব্যাপার। যেদিন তোমরা এটা প্রত্যক্ষ করবে, সেদিন প্রত্যেক সত্মন্যদাত্রী তার শিশুকে দুধ পান করাতে ভুলে যাবে। (সূরা হজ্জ- ১, ২)

ব্যাখ্যা : এখানে যে ছবিটি আঁকা হয়েছে সেটি হচ্ছে, প্রথম ফুঁকের পর যখন ভয়ানক কম্পন শুরু হবে তখন লোকেরা এতই ভীত হয়ে যাবে যে, মায়েরা তাদের শিশু-সন্তানদেরকে দুধ পান করা থেকে ফেলে দিয়ে পালাতে থাকবে এবং নিজের সন্তানের কী হলো- এ কথা কারো মনে থাকবে না।

ভয়ে গর্ভবতীর গর্ভপাত হয়ে যাবে :

وَتَضَعُ كُلُّ ذَاتِ حَمْلٍ حَمْلَهَا

প্রত্যেক গর্ভবতী গর্ভপাত করে ফেলবে। (সূরা হজ্জ- ২)

মানুষ মাতাল হয়ে যাবে :

وَتَرَى النَّاسَ سُكَارٰى وَمَا هُمْ بِسُكَارٰى وَلٰكِنَّ عَذَابَ اللهِ شَدِيْدٌ

মানুষকে দেখবে মাতাল অবস্থায়, যদিও তারা মাতাল নয়। বস্তুত আল্লাহর শাসিত্ম খুবই কঠিন। (সূরা হজ্জ- ২)

মূল্যবান জিনিসের দিকেও কোন খেয়াল থাকবে না :

وَاِذَا الْعِشَارُ عُطِّلَتْ

যখন দশ মাসের গর্ভবতী উষ্ট্রী উপেক্ষিত হবে। (সূরা তাকভীর- ৪)

দ্বিতীয় ফুৎকারের সাথে সাথে সবাই মরে যাবে :

مَا يَنْظُرُوْنَ اِلَّا صَيْحَةً وَّاحِدَةً تَاْخُذُهُمْ وَهُمْ يَخِصِّمُوْنَ – فَلَا يَسْتَطِيْعُوْنَ تَوْصِيَةً وَّلَاۤ اِلٰۤى اَهْلِهِمْ يَرْجِعُوْنَ

তারা তো কেবল একটা বিকট শব্দের অপেক্ষায় রয়েছে, যা তাদেরকে পাকড়াও করবে এমন অবস্থায় যে, তারা নিজেদের মধ্যে ঝগড়ায় লিপ্ত থাকবে। তখন তারা অসিয়ত করতেও সক্ষম হবে না এবং নিজ পরিবারের লোকদের কাছে ফিরেও যেতে পারবে না। (সূরা ইয়াসীন- ৪৯, ৫০)

সারা বিশ্ব লন্ডভন্ড হয়ে যাবে :

فَاِذَا نُفِخَ فِى الصُّوْرِ نَفْخَةٌ وَّاحِدَةٌ – وَحُمِلَتِ الْاَرْضُ وَالْجِبَالُ فَدُكَّتَا دَكَّةً وَّاحِدَةً – فَيَوْمَئِذٍ وَّقَعَتِ الْوَاقِعَةُ

যখন শিঙ্গায় ফুৎকার দেয়া হবে এবং একটিমাত্র ফুৎকার। তখন পৃথিবী ও পর্বতমালাকে উত্তোলন করা হবে এবং একই ধাক্কায় চূর্ণবিচূর্ণ করে দেয়া হবে। অতঃপর যা সংঘটিত হওয়ার তা সংঘটিত হয়ে যাবে (অর্থাৎ কিয়ামত সংঘটিত হবে)। (সূরা হাক্কাহ, ১৩-১৫)

দিনটি বড়ই কঠিন হবে :

بَلِ السَّاعَةُ مَوْعِدُهُمْ وَالسَّاعَةُ اَدْهٰى وَاَمَرُّ

বরং কিয়ামত হচ্ছে, তাদের (আযাবের জন্য) একটি নির্ধারিত কাল এবং কিয়ামত হবে কঠিনতর ও তিক্তকর। (সূরা ক্বামার- ৪৬)