hadith book logo

তাফসীরুল কুরআন বিল কুরআন

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২৬২

অধ্যায়- ৫ : শিরকে লিপ্ত হওয়ার কারণ

মানুষের ধারণা শরীকরা সহায়ক হবে :

وَاتَّخَذُوْا مِنْ دُوْنِ اللهِ اٰلِهَةً لِّيَكُوْنُوْا لَهُمْ عِزًّا ‐ كَلَّاؕ سَيَكْفُرُوْنَ بِعِبَادَتِهِمْ وَيَكُوْنُوْنَ عَلَيْهِمْ ضِدًّا

তারা আল্লাহ ব্যতীত অন্য ইলাহ্ গ্রহণ করে এজন্য যে, যাতে করে তারা তাদের সহায় হয়। কখনই নয়; অচিরেই তারা তাদের ইবাদাতকে অস্বীকার করবে এবং তাদের বিরোধী হয়ে যাবে। (সূরা মারইয়াম- ৮১, ৮২)

ব্যাখ্যা : عِزًّا (ইয্যান) শব্দের অর্থ হলো, সম্মান বা মর্যাদা। আরবদের ভাষায় ইজ্জত বলতে কোন ব্যক্তির এতবেশি শক্তিশালী ও ক্ষমতাধর হয়ে যাওয়াকে বুঝানো হয়, যার ফলে তার গায়ে কেউ হাত দেয়ার ক্ষমতা রাখে না। অর্থাৎ ঐ ব্যক্তি সম্মান ও মর্যাদার সর্বোচ্চ স্তরে অধিষ্ঠিত। সুতরাং এক ব্যক্তি অন্য ব্যক্তির জন্য ইজ্জতের কারণে পরিণত হওয়ার অর্থ হচ্ছে, প্রথম ব্যক্তি দ্বিতীয় ব্যক্তির এমন সহায়ক হওয়া, যার ফলে তার কোন বিরোধী তার মুকাবিলা করতে সাহস পায় না। আর মুশরিকরা তাদের শরীকদের ব্যাপারে এরকমই ধারণা পোষণ করে।

وَاتَّخَذُوْا مِنْ دُوْنِ اللهِ اٰلِهَةً لَّعَلَّهُمْ يُنْصَرُوْنَ

তারা আল্লাহ ব্যতীত অনেক ইলাহ্ গ্রহণ করেছে এ আশায় যে, হয়তো তারা সাহায্যপ্রাপ্ত হবে। (সূরা ইয়াসীন- ৭৪)

শরীকরা তাদেরকে আল্লাহর নিকটবর্তী করে দেবে :

وَالَّذِيْنَ اتَّخَذُوْا مِنْ دُوْنِهٖۤ اَوْلِيَآءَ مَا نَعْبُدُهُمْ اِلَّا لِيُقَرِّبُوْنَاۤ اِلَى اللهِ زُلْفٰى

যারা আল্লাহকে ছেড়ে অপরকে অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করেছে (তারা বলে) আমরা তাদের ইবাদাত এজন্য করি যাতে তারা আমাদেরকে আল্লাহর নৈকট্যে পৌঁছে দেয়। (সূরা যুমার- ৩)

ব্যাখ্যা : দুনিয়ার সকল কাফির ও মুশরিকরাও এ কথাই বলে থাকে যে, আমরা স্রষ্টা মনে করে অন্যান্য সত্তার ইবাদাত করি না। আমরা তো আল্লাহকেই প্রকৃত স্রষ্টা বলে মানি এবং তাঁকেই সত্যিকার উপাস্য মনে করি। যেহেতু তাঁর দরবার অনেক উঁচু, আমরা সেখানে কী করে পৌঁছতে পারি? তাই আমরা এসব দেবতাদেরকে মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করি, যাতে তারা আমাদের প্রার্থনা আল্লাহর কাছে পৌঁছে দেয়।

শরীকরা তাদের জন্য শাফা‘আত করবে :

وَيَقُوْلُوْنَ هٰۤؤُلَآءِ شُفَعَآؤُنَا عِنْدَ اللهِؕ قُلْ اَتُنَبِّئُوْنَ اللهَ بِمَا لَا يَعْلَمُ فِى السَّمَاوَاتِ وَلَا فِى الْاَرْضِؕ سُبْحَانَهٗ وَتَعَالٰى عَمَّا يُشْرِكُوْنَ

তারা বলে, এগুলো আল্লাহর নিকট আমাদের সুপারিশকারী। বলো, তোমরা কি আল্লাহকে আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর এমন কোন বিষয় সম্পর্কে সংবাদ দেবে, যা তিনি জানেন না? (জেনে রেখো) তিনি মহান ও পবিত্র। তার সাথে যাকে শরীক করা হয়, তা হতে তিনি অনেক ঊর্ধ্বে। (সূরা ইউনুস- ১৮)

আল্লাহ সম্পর্কে সঠিক ধারণা না থাকা :

قُلْ اَغَيْرَ اللهِ اَتَّخِذُ وَلِيًّا فَاطِرِ السَّمَاوَاتِ وَالْاَرْضِ وَهُوَ يُطْعِمُ وَلَا يُطْعَمُؕ قُلْ اِنِّۤيْ اُمِرْتُ اَنْ اَكُوْنَ اَوَّلَ مَنْ اَسْلَمَ وَلَا تَكُوْنَنَّ مِنَ الْمُشْرِكِيْنَ

বলো, আমি কি আসমান ও জমিনের স্রষ্টা আল্লাহ ব্যতীত অন্য কাউকে অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করব? অথচ তিনিই তো খাদ্য দান করেন, কিন্তু তাঁকে কেউ খাদ্য দান করে না। বলো, আমি এ ব্যাপারে আদেশপ্রাপ্ত হয়েছি যে, যেন আমি আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে প্রথম ব্যক্তি হই। আর তুমি কখনো মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না। (সূরা আন‘আম- ১৪)

وَاِنْ يَّمْسَسْكَ اللهُ بِضُرٍّ فَلَا كَاشِفَ لَهٗۤ اِلَّا هُوَ ؕ وَاِنْ يَّمْسَسْكَ بِخَيْرٍ فَهُوَ عَلٰى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيْرٌ ‐ وَهُوَ الْقَاهِرُ فَوْقَ عِبَادِهٖؕ وَهُوَ الْحَكِيْمُ الْخَبِيْرُ

যদি আল্লাহ তোমাকে কষ্ট দেন, তবে তিনি ব্যতীত তা মোচনকারী আর কেউ নেই। আর তিনি যদি তোমার কোন কল্যাণ করেন, তবে তিনিই তো সর্ববিষয়ে শক্তিমান। তিনি তাঁর বান্দাদের উপর পরাক্রমশালী, আর তিনি প্রজ্ঞাময় ও সর্বজ্ঞ। (সূরা আন‘আম- ১৭, ১৮)

مَا يَفْتَحِ اللهُ لِلنَّاسِ مِنْ رَّحْمَةٍ فَلَا مُمْسِكَ لَهَاۚ وَمَا يُمْسِكْ فَلَا مُرْسِلَ لَهٗ مِنْ ۢبَعْدِهٖؕ وَهُوَ الْعَزِيْزُ الْحَكِيْمُ

আল্লাহ মানুষের জন্য যে রহমত উন্মুক্ত করে দেন তা কেউ প্রতিরোধ করতে পারে না; আর যা তিনি বন্ধ করে দেন পরবর্তীতে তা কেউ উন্মুক্ত করতে পারে না। তিনি প্রতাপশালী ও পরম কৌশলী। (সূরা ফাতির- ২)