hadith book logo

তাফসীরুল কুরআন বিল কুরআন

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২০৮

অধ্যায়- ২ : যবানের হেফাজত করা

মানুষ যা বলে ফেরেশতারা তা রেকর্ড করে রাখেন :

اِذْ يَتَلَقَّى الْمُتَلَقِّيَانِ عَنِ الْيَمِيْنِ وَعَنِ الشِّمَالِ قَعِيْدٌ ‐ مَا يَلْفِظُ مِنْ قَوْلٍ اِلَّا لَدَيْهِ رَقِيْبٌ عَتِيْدٌ

স্মরণ করো, দু’জন লেখক তার ডানে ও বামে বসে সকল কর্ম লিপিবদ্ধ করে। মানুষ যে কথাই উচ্চারণ করে, তা লিপিবদ্ধ করার জন্য তৎপর প্রহরী তার নিকটেই রয়েছে। (সূরা ক্বাফ- ১৭, ১৮)

ব্যাখ্যা : অর্থাৎ এমন ধরনের ফেরেশতা নিযুক্ত করেন, যারা মানুষের প্রত্যেকটি কথা ও তৎপরতার উপর নজর রাখে। অতঃপর তারা তোমাদের প্রতিটি গতিবিধি লিপিবদ্ধ করে সংরক্ষণ করতে থাকে।

মানুষের খারাপ কথা বলা আল্লাহর পছন্দ নয় :

لَا يُحِبُّ اللهُ الْجَهْرَ بِالسُّوْٓءِ مِنَ الْقَوْلِ اِلَّا مَنْ ظُلِمَؕ وَكَانَ اللهُ سَمِيْعًا عَلِيْمًا

আল্লাহ মন্দ কথার প্রচারণা পছন্দ করেন না; তবে যার উপর যুলুম করা হয়েছে সে ব্যতীত। নিশ্চয় আল্লাহ সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ। (সূরা নিসা- ১৪৮)

ব্যাখ্যা : ইসলামের প্রাথমিক যুগে মুনাফিক, ইয়াহুদি ও মূর্তিপূজারী সবাই একই সঙ্গে সম্ভাব্য যাবতীয় উপায়ে ইসলামের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করার এবং ইসলাম গ্রহণকারীদের কষ্ট দেয়ার জন্য ওঠে পড়ে লেগেছিল। কাজেই মুসলিমদের মনে ক্রোধের অনুভূতি সৃষ্টি হওয়াই ছিল একটা স্বাভাবিক ব্যাপার। তাদের মনে এ ধরনের অনুভূতি সৃষ্টি হতে দেখে আল্লাহ বলেন, তোমাদের খারাপ কথা বলা ও অশ্লীল বাক্য উচ্চারণ করা আল্লাহর কাছে পছন্দনীয় কাজ নয়। তোমরা মাজলুম, এতে কোন সন্দেহ নেই। আর মাজলুম যদি যালেমের বিরুদ্ধে অশ্লীল কথা বলে, তাহলে তার সে অধিকার আছে। তবুও প্রকাশ্যে ও গোপনে সর্বাবস্থায় ভালো কাজ করে যাওয়া ও খারাপ কাজ পরিহার করাই উত্তম।

কাজের সাথে মিল নেই এমন কথা বলতে নেই :

يَاۤ اَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا لِمَ تَقُوْلُوْنَ مَا لَا تَفْعَلُوْنَ ‐ كَبُرَ مَقْتًا عِنْدَ اللهِ اَنْ تَقُوْلُوْا مَا لَا تَفْعَلُوْنَ

হে মুমিনগণ! তোমরা যা কর না তা কেন বল? আর যা কর না তা বলা আল্লাহর নিকট অতিশয় অসন্তোষজনক। (সূরা সাফ- ২,৩)

সঠিক ও হক কথা বলতে হবে :

يَاۤ اَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوا اتَّقُوا اللهَ وَقُوْلُوْا قَوْلًا سَدِيْدًا

হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। (সূরা আহযাব- ৭০)

সুন্দর কথা বলতে হবে :

وَقُلْ لِّعِبَادِيْ يَقُوْلُوا الَّتِيْ هِيَ اَحْسَنُؕ اِنَّ الشَّيْطَانَ يَنْزَغُ بَيْنَهُمْؕ اِنَّ الشَّيْطَانَ كَانَ لِلْاِنْسَانِ عَدُوًّا مُّبِيْنًا

আমার বান্দাদেরকে যা উত্তম তা বলতে বলো। নিশ্চয় শয়তান তাদের মধ্যে বিবাদ সৃষ্টির জন্য উস্কানি দেয়; নিশ্চয় শয়তান মানুষের প্রকাশ্য শত্রু। (সূরা বনী ইসরাঈল- ৫৩)

ভালো কথা কখনো কখনো সাদাকা থেকেও উত্তম হয় :

قَوْلٌ مَّعْرُوْفٌ وَّمَغْفِرَةٌ خَيْرٌ مِّنْ صَدَقَةٍ يَّتْبَعُهَاۤ اَذًى

ভালো কথা বলা এবং ক্ষমা প্রদর্শন করা ঐ দানের চেয়ে উত্তম যে দানের পরে কষ্ট দেয়া হয়। (সূরা বাক্বারা- ২৬৩)

কথা সংশোধন করা যাবতীয় আমল সংশোধনের উপায় :

يَاۤ اَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوا اتَّقُوا اللهَ وَقُوْلُوْا قَوْلًا سَدِيْدًا ‐ يُصْلِحْ لَكُمْ اَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوْبَكُمْؕ وَمَنْ يُّطِعِ اللهَ وَرَسُوْلَهٗ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيْمًا

হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। আল্লাহ তোমাদের আমলগুলোকে সংশোধন করবেন এবং তোমাদের গোনাহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে তো মহাসাফল্য লাভ করবে। (সূরা আহযাব - ৭০, ৭১)